✍️ শ্রী সুদীপ্ত পাত্র
মনে খুব প্রশ্ন জাগে ভারতবর্ষের মার্কসবাদী বুদ্ধিজীবী ও ইতিহাসকাদের মধ্যে যে ভারতবিদ্বেষ ও ভারতের প্রতি অবজ্ঞা ও হেও প্রতিপন্ন করার মানসিকতা দেখা যায় তার কারণ কি? এসব খুঁজতে খুঁজতে “মার্কসবাদ” এর জনক এর ভারতের প্রতি মনোভাব ও মন্তব্য সম্পর্কে কিছু তথ্য পেলাম। কার্ল মার্কস ভারতকে, তার সভ্যতাকে সমাজব্যবস্থাকে কি চোখে দেখতেন?ভারতে ব্রিটিশ শাসন ও অত্যাচার এর বিষযে তার মতামত কী ছিল? উৎসটিকে (মার্কসবাদের স্রষ্টা)একটু ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে “ডালপালা ও শাখা-প্রশাখা” কে বুঝতে সুবিধা হবে এবং বর্তমান মার্কসবাদীদের “মানসিকতা” বুঝতে সুবিধা হবে।
কার্ল মার্কসের ভারত ভাবনা: সনাতন কাঠামো ধ্বংসের পক্ষে যুক্তি:
১৮৫৩ সালে মার্কিন সংবাদপত্র New-York Daily Tribune-এ ভারতের ব্রিটিশ শাসন নিয়ে কার্ল মার্কসের লেখা প্রবন্ধগুলি—বিশেষত “The British Rule in India” এবং “The Future Results of British Rule in India”—মার্কসীয় ভারত-তত্ত্বের প্রধান ভিত্তি।
ভারতের ইতিহাসকে “স্থবির” ও “অপরিবর্তনশীল” আখ্যা:
মার্কস হেগেলীয় দর্শন ও ইউরোকেন্দ্রিক (Eurocentric) দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাবাধীন হয়ে ভারতকে এমন এক ভূখণ্ড হিসেবে দেখেছিলেন, যার নিজস্ব কোনো সক্রিয় ইতিহাস নেই। তাঁর মতে, এশীয় সমাজব্যবস্থা (Asiatic Mode of Production) হাজার বছর ধরে অপরিবর্তিত ও জড়বৎ ছিল।
গ্রাম্য সমাজ ও ভারতীয় দর্শনের প্রতি তীব্র অবজ্ঞা ও অবমূল্যায়ন:
ভারতীয় স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামীণ সমাজকে তিনি কোনো শান্তিপূর্ণ আদর্শ কাঠামো হিসেবে দেখেননি। তাঁর ভাষায়, এই সমাজ মানবমনকে ক্ষুদ্রতম পরিমণ্ডলে আটকে রেখেছিল, মানুষকে অন্ধ কুসংস্কার ও প্রকৃতির দাসে পরিণত করেছিল এবং মানুষের আত্মশক্তিকে খর্ব করেছিল। বানর ও গরুর পুজোকে তিনি অবক্ষয় ও বর্বরতার প্রতীক বলে কটাক্ষ করেছিলেন।
ব্রিটিশ ধ্বংসযজ্ঞকে “ইতিহাসের অচেতন হাতিয়ার” বলা:
মার্কস স্পষ্টভাবেই লিখেছিলেন যে, ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্য ছিল নিকৃষ্টতম স্বার্থপরতা ও শোষণ। কিন্তু মার্কসীয় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের দৃষ্টিতে সনাতন সামন্ততান্ত্রিক ও যৌথ সামাজিক কাঠামো ভেঙে পুঁজিবাদ কায়েম না হলে সমাজতন্ত্রে পৌঁছানো অসম্ভব। তাই তিনি লেখেন:”England has to fulfill a double mission in India: one destructive, the other regenerating the annihilation of old Asiatic society, and the laying of the material foundations of Western society in India.” অর্থাৎ, প্রাচীন এশীয় সমাজব্যবস্থা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ছিল ইতিহাসের এক অনিবার্য, নির্মম এবং প্রয়োজনীয় “অচেতন হাতিয়ার” (unconscious tool of history)।
ভারতীয় মার্কসবাদী বুদ্ধিজীবী ও ইতিহাসবিদদের মনোভাব:
মার্কসের এই দৃষ্টিভঙ্গি স্বাধীনোত্তর ভারতের মার্কসবাদী ঐতিহাসিক, অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠান ও বামপন্থী বুদ্ধিজীবী মহলে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির মূল্যায়নে এটি এক নেতিবাচক ও অবজ্ঞাপূর্ণ ধারা তৈরি করে:
১.ভারতীয় সভ্যতা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের শ্রেণীকরণ:
মার্কসীয় তত্ত্বে ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা মূলত “শ্রেণি শোষণের হাতিয়ার” এবং “জনগণের আফিম”। ভারতীয় ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি—যেমন বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত বা গীতা—বামপন্থী ইতিহাস চর্চায় মূলত আধিপত্যকামী ব্রাহ্মণ্যবাদ, পুরুষতন্ত্র ও নিপীড়নমূলক সামাজিক শোষণের দলিল হিসেবেই চিত্রিত হয়েছে। এর অন্তর্নিহিত দর্শন, নান্দনিকতা বা নৈতিক মহিমা সেখানে উপেক্ষিত বা তুচ্ছজ্ঞান করা হয়েছে।
২.জাতিভেদ প্রথার একমাত্রিক উপস্থাপন:
সনাতন সমাজব্যবস্থার গতিশীল রূপ, বহুত্ববাদ এবং বিভিন্ন যুগে গড়ে ওঠা সমন্বয়ী ঐতিহ্যকে অগ্রাহ্য করে বামপন্থী গবেষকেরা গোটা ভারতীয় ইতিহাসকে কেবল “উচ্চবর্ণ বনাম নিম্নবর্ণের অন্তহীন সংঘাত” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এর ফলে ভারতীয় সমাজের সামগ্রিক রূপটি এক অবদমিত, অন্যায়কারী কাঠামো হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।
৩. মধ্যযুগীয়(মুসলিম শাসন)ধ্বংসযজ্ঞের প্রতি সহনশীলতা বনাম সনাতন ঐতিহ্যের কাঠগড়া:
দিনদয়াল উপাধ্যায়, সীতারাম গোয়েল বা রামস্বরূপের মতো জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদদের অভিযোগ ছিল, বামপন্থী ঐতিহাসিকরা (যাঁদের মধ্যে আলিগড় বা জেএনইউ ঘরানার ইতিহাসবিদদের নাম উল্লেখ করা হয়) ভারতে বিদেশি আগ্রাসকদের মন্দির ধ্বংস, গণহত্যা ও সাংস্কৃতিক বিনাশকে “অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কৌশল” হিসেবে স্বাভাবিকীকরণ করার চেষ্টা করেছেন। অথচ সমান্তরালভাবে প্রাচীন ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ত্রুটিকেও অতিরঞ্জিত করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।
৪. ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ও জীবনধারার প্রতি অবজ্ঞা:
বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সংস্কার, পূজা-পার্বণ, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রতীকগুলিকে “প্রতিক্রিয়াশীল” (reactionary) বা “পশ্চাৎপদ” বলে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা যায়। তাঁদের দৃষ্টিতে এগুলো প্রগতির পথে বাধা, যা ভেঙে নতুন সামাজিক বিন্যাস তৈরি করা প্রয়োজন।
ভিন্ন ব্যাখ্যা ও প্রতিযুক্তি:
এই সমালোচনার বিপরীতে মার্কসবাদী শিবিরের বুদ্ধিজীবীদেরও নিজস্ব আত্মপক্ষ সমর্থন রয়েছে:
তাঁদের দাবি, মার্কস ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং সামাজিক উৎপাদন সম্পর্কের ভিত্তিতে সমাজ পরিবর্তনের বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম হিসেবে ব্রিটিশ উপনিবেশকে বিশ্লেষণ করেছিলেন।
পরবর্তীকালে মার্কস নিজেই তাঁর রাশিয়ান নোটবুক এবং অন্যান্য চিঠিপত্রে (যেমন ১৮৮১ সালে ভেরা জাসুলিচকে লেখা চিঠি) স্বীকার করেছিলেন যে, ইউরোপের বাইরে সমাজের বিকাশ কেবল একই রৈখিক ধারায় নাও চলতে পারে।
তাঁদের মতে, তাঁদের কাজ ভারতীয় ঐতিহ্যের অন্ধ বিরোধিতা নয়, বরং ঐতিহ্যের নামে চলা কুসংস্কার, বর্ণভেদ ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণকে উন্মোচিত করে একটি শোষণহীন ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক সমাজ গঠন করা।
সারসংক্ষেপে, কার্ল মার্কস প্রাচীন ভারতীয় সনাতন কাঠামো ভেঙে ফেলাকে আধুনিকীকরণ ও বৈপ্লবিক উত্তরণের জন্য একটি ঐতিহাসিক আবশ্যকতা হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। এই তাত্ত্বিক ভিত্তি থেকেই পরবর্তীকালে বহু বামপন্থী ইতিহাসবিদ ও বুদ্ধিজীবীর লেখায় ভারতীয় ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও সনাতন সমাজব্যবস্থাকে মূলত একটি অবক্ষয়িত ও ধ্বংসযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে দেখার এক ধারাবাহিক ধারা তৈরি হয়েছিল।
মার্কসবাদী শিবিরের আত্মপক্ষ সমর্থনের এই যুক্তিগুলি বাইরে থেকে প্রগতিশীল ও তাত্ত্বিকভাবে সুবিন্যস্ত মনে হলেও, গভীর ঐতিহাসিক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এগুলির মৌলিক স্ববিরোধ ও অন্তঃসার শূন্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নিচে প্রতিটি যুক্তির সুনির্দিষ্ট খণ্ডন ও অসারতা তুলে ধরা হলো:
১. দাবি: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা বিশ্লেষণ ছিল “ব্যক্তিগত বিদ্বেষহীন বিজ্ঞানসম্মত ঐতিহাসিক নিয়ম”
পাল্টা যুক্তি ও অসারতা:
ইউরো-কেন্দ্রিকতার অন্ধত্ব: মার্কস ১৮৫৩ সালে নিউ ইয়র্ক ডেইলি ট্রিবিউন-এ ভারতের ব্রিটিশ শাসন নিয়ে লিখতে গিয়ে হেগেলীয় “ইউরো-সেন্ট্রিক” (Eurocentric) দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে বের হতে পারেননি। তিনি ভারতকে একটি “ইতিহাসহীন সমাজ” এবং এর জনগণকে “জড়ভরত ও নিষ্ক্রিয়” (passive) হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন, যা কোনো বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা নয়, বরং ঔপনিবেশিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রচারের প্রতিধ্বনি।
উপনিবেশবাদের লুটতরাজকে নৈতিক বৈধতা দেওয়া: মার্কস দাবি করেছিলেন যে ব্রিটিশ শাসন ভারতে “দ্বৈত ভূমিকা” পালন করছে—একটি ধ্বংসাত্মক এবং অন্যটি পুনর্গঠনমূলক। কিন্তু ঐতিহাসিক বাস্তবতায় দেখা গেছে, ব্রিটিশরা ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প, জলসেচ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাম অর্থনীতিকে ধ্বংস করে কোনো শিল্পবিপ্লব ঘটায়নি, বরং ভারতকে নিজেদের কাঁচামাল রপ্তানিকারক ও সমাপ্ত পণ্যের বাজারে পরিণত করেছিল। ধ্বংসকে “ঐতিহাসিক আবশ্যকতা” বলে চালানো উপনিবেশের শোষণকে তাত্ত্বিকভাবে সাদা করার নামান্তর।
ঐতিহাসিক অজ্ঞতা: মার্কস লন্ডনে বসে মূলত ব্রিটিশ প্রশাসক ও প্রাচ্যবিদদের (Orientalists) নথিপত্রের ওপর নির্ভর করেছিলেন। ভারতের অভ্যন্তরীণ সামাজিক গতিশীলতা, বাণিজ্য নেটওয়ার্ক বা বিজ্ঞানচর্চা সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল অসম্পূর্ণ। ফলে এটিকে “বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ” বলা ইতিহাস বিকৃতির সামিল।
২. দাবি: “১৮৮১ সালে জাসুলিচকে লেখা চিঠিতে মার্কস রৈখিক ধারার বাইরে বিকল্প বিকাশের কথা স্বীকার করেছিলেন”
পাল্টা যুক্তি ও অসারতা:
বিলম্বিত ও অপর্যাপ্ত সংশোধন: ভেরা জাসুলিচকে লেখা চিঠি বা রাশিয়ান নোটবুক মূলত রাশিয়ার গ্রামীণ সাম্যবাদী কাঠামো নিয়ে লেখা হয়েছিল। এতে ভারতের জন্য তাঁর ১৮৫৩ সালের ধ্বংসাত্মক মূল্যায়নকে আনুষ্ঠানিকভাবে খণ্ডন বা পরিমার্জন করা হয়নি।
তত্ত্বের অচলতা ঢাকতে সুবিধাবাদ: যখন মার্কসের মূল ভবিষ্যৎবাণী (যে উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলোতে প্রথম শ্রমিক বিপ্লব ঘটবে) ব্যর্থ হতে শুরু করে, তখনই কেবল এই বিকল্প ব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। যদি সমাজ বিকাশ একরৈখিক না-ই হয়, তবে ভারতের মতো প্রাচ্য সমাজের ক্ষেত্রে জোর করে “দাস সমাজ — থেকে — সামন্তবাদ– থেকে —পুঁজিবাদ”-এর পাশ্চাত্য ছাঁচ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল কেন?
ভারতীয় মার্কসবাদীদের দ্বিচারিতা: মার্কস ব্যক্তিগত চিঠিতে যা-ই লিখে থাকুন না কেন, ভারতের মূলধারার মার্কসবাদী তাত্ত্বিকরা স্বাধীনতার পরও কয়েক দশক ধরে ভারত সমাজকে কেবল “সামন্ততান্ত্রিক ও স্থবির” ছাঁচে ফেলেই বিচার করেছেন। ফলে ব্যক্তিগত চিঠির অজুহাত দিয়ে তাঁর মূল লেখার ধ্বংসাত্মক প্রভাব মুছে ফেলা যায় না।
৩. দাবি: “ঐতিহ্যের অন্ধ বিরোধিতা নয়, বরং কুসংস্কার ও শোষণ উন্মোচন করে আধুনিক সমাজ গঠন”
পাল্টা যুক্তি ও অসারতা:
‘মাথা ব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলা: সমাজের কুসংস্কার দূর করার অজুহাতে ভারতীয় ঐতিহ্যের দর্শন, জ্ঞানতত্ত্ব, পরিবেশবান্ধব জীবনধারা এবং আধ্যাত্মিক সম্পদকেও বাতিল বা অবক্ষয়ী বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্বামী বিবেকানন্দ বা শ্রী অরবিন্দ ঐতিহ্যের ভেতর থেকেই সংস্কার ও আধুনিকতার পথ দেখিয়েছিলেন, সেখানে মার্কসবাদীরা সংস্কারের বদলে সম্পূর্ণ বিলোপ বা ধ্বংস কেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখেছেন।
আত্মগ্লানি ও হীনম্মন্যতা তৈরি: ঐতিহ্যের ইতিবাচক দিকগুলোকে (যেমন বহুত্ববাদ, দার্শনিক তর্কবিতর্ক বা ‘লোকায়ত’ বিজ্ঞানের বিকাশ) সুপরিকল্পিতভাবে অবহেলা করা হয়েছে। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শেখানো হয়েছে যে ভারতের অতীত কেবলই অন্ধকার ও শোষণের ইতিহাস—যা কোনো গঠনমূলক সমাজ গঠন নয়, বরং সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে।
অন্য ঐতিহ্যের প্রতি নীরবতা: একই দেশে ঐতিহ্যের নামে চলা অন্যান্য ধর্মীয় বা সামাজিক অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে মার্কসবাদী শিবিরের অবস্থান প্রায়শই আপসকারী বা নীরব, যা প্রমাণ করে যে তাদের তথাকথিত “কুসংস্কারবিরোধী আধুনিকতা” সর্বজনীন নয়, বরং রাজনৈতিক সুবিধাবাদী।
৪. দাবি: “সনাতন কাঠামো ভাঙা আধুনিকীকরণের জন্য ঐতিহাসিক আবশ্যকতা ছিল”
পাল্টা যুক্তি ও অসারতা:
আধুনিকতার ভুল সংজ্ঞা: আধুনিকীকরণ মানেই পাশ্চাত্য কাঠামো বা সমাজতান্ত্রিক বলশেভিক মডেল গ্রহণ করা নয়। জাপান বা পরবর্তীকালে এশিয়ার বহু সমাজ তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সফল আধুনিকীকরণ করেছে। ভারতের স্বকীয় আধুনিকীকরণের সম্ভাবনাকে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদই নষ্ট করেছিল, অথচ মার্কসবাদীরা সেই ব্রিটিশ আঘাতকেই “ঐতিহাসিক আশীর্বাদ” হিসেবে দেখেছিলেন।
সমাজতাত্ত্বিক বিপর্যয়: প্রাচীন ভারতীয় সনাতন কাঠামো কখনোই অনড় বা অপরিবর্তনীয় ছিল না; সময়ের সাথে সাথে ভক্তি আন্দোলন, জৈন-বৌদ্ধ ধারা প্রভৃতির মাধ্যমে তা প্রতিনিয়ত পুনর্গঠিত হয়েছিল। একটি জীবন্ত ঐতিহ্যকে “অবক্ষয়িত ও ধ্বংসযোগ্য” বলে রায় দেওয়া মার্কসীয় তত্ত্বের পূর্বনির্ধারিত ছকের অন্ধ প্রয়োগ ছাড়া কিছু নয়।