Hindu Voice Team:
প্রথম বারের জন্য, পাঠ্য পুস্তকে ‘জরুরি অবস্থা(Emergency)’ নিয়ে বিশেষ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করলো NCERT(National Council of Educational Research and Training)। এই অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নবম শ্রেণির সোশ্যাল সায়েন্স বইতে। নতুন প্রকাশিত বইতে ষষ্ঠ অধ্যায়ে জরুরি অবস্থা বিষয়টি রয়েছে।
NCERT -এর তরফে জানানো হয়েছে যে কম বয়স থেকে ছাত্রছাত্রীদের দেশের সাংবিধানিক ইতিহাস, গনতন্ত্রের ইতিহাস ও রাজনৈতিক ইতিহাস সম্বন্ধে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
তবে অতীতে যে সিলেবাস ছিল, তাতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পলিটিকাল সায়েন্স বইতে জরুরি অবস্থা নিয়ে একটা অধ্যায় ছিল। সেই অধ্যায়ে মূলত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছিল জরুরি অবস্থা দেশের রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও জনমানসে কেমন প্রভাব ফেলেছিল। নতুন প্রকাশিত বইতে নবম শ্রেণিতে জরুরি অবস্থার অন্তর্ভুক্তির ফলে কম বয়স থেকেই ছাত্রছাত্রীরা সে বিষয়ে সচেতন হতে পারবে, তাই এমন উদ্যোগ।
NCERT -এর তরফে আরও জানানো হয়েছে যে ‘জাতীয় শিক্ষা নীতি – ২০২০’ অনুযায়ী সিলেবাসে বহু বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আরও নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ছাত্রছাত্রীরা পড়াশুনা ছাড়াও যাতে অন্য দক্ষতা অর্জন করতে পারে, তা মাথায় রেখে সিলেবাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ২০২৬ সালে সিলেবাসে জরুরি অবস্থার অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। এই বছর তার ৫১ বর্ষপূর্তি। ১৯৭৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে জারি ছিল জরুরি অবস্থা। জরুরি অবস্থাকে স্বাধীন ভারতের গনতন্ত্রের ইতিহাসে এক ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আজও গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনার সময় জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ সর্বপ্রথম উঠে আসে।
জরুরি অবস্থার সময়, সাধারণ মানুষের বহু অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরেও নেমে এসেছিল আঘাত। এমনকি নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে তার প্রভাব ভারতের গনতন্ত্রের উপরে দেখা গিয়েছিল।
(The above piece is written based on a report published by OpIndia. You can read the original report HERE )