আসাম সরকারের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, হিন্দু বাঙালিদের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক বিদেশি মামলা প্রত্যাহার করার নির্দেশ



Updated: 07 August, 2025 2:58 pm IST

CAA, ২০১৯-এর দৌলতে হিন্দু বাঙালিরা সন্দেহভাজন বিদেশি মামলা থেকে রেহাই পাবার রাস্তা পেলেন। এ এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের আগে আসামে যেসব হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ও পার্সি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে যেসব মামলা বিচারাধীন রয়েছে, এগুলি প্রত‍্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসাম সরকার। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে গত জুলাই মাসে রাজ‍্যের গৃহ ও রাজনৈতিক বিভাগ এই নিয়ে এক উচ্চস্তরীয় বৈঠক করেছে। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল, CAA-র আওতায় যেসব মামলা আসতে পারে, সেগুলি প্রত‍্যাহার করা। অসম সরকারের এই পদক্ষেপে অনেকেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

         রাজ‍্যের গৃহ ও রাজনৈতিক বিভাগের অতিরিক্ত মূখ্য সচিব অজয় তিওয়ারির স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর বা এর আগে অসমে আগত CAA (সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন), ২০১৯-এ উল্লিখিত নির্দিষ্ট ছয়টি ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে CAA অনুসারে আর মামলা চালানোর দরকার নেই ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে। এই ধরনের মামলা প্রত‍্যাহার করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ১৭ই জুলাইয়ের বৈঠকের নির্যাসে এই কথা বলার পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, এই ব‍্যাপারে জেলাশাসক ও সিনিয়র পুলিশ সুপারদের উচিৎ, শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের মেম্বারদের সঙ্গে বৈঠক করা। সময়ে সময়ে এই ব‍্যাপারে পর্যালোচনা করতে জেলাশাসক ও সিনিয়র পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গৃহ ও রাজনৈতিক বিভাগের কাছে এই সংক্রান্ত পদক্ষেপ (অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট) জেলাশাসক ও সিনিয়র পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

         গৃহ ও রাজনৈতিক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অজয় তিওয়ারির স্বাক্ষরিত নোটিশে এও বলা হয়েছে, CAA-র আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে সংশ্লিষ্ট লোকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি সহযোগিতা করার কথাও বলা হয়েছে।

         উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আসাম সরকার নির্দেশ দিয়েছিল, CAA-র আওতায় যারা আসতে পারেন, তাদের মামলাগুলি (সন্দেহভাজন বিদেশি) ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে না পাঠানোর। সীমান্ত পুলিশকে এমন নির্দেশ দিয়েছিল রাজ‍্যের গৃহ ও রাজনৈতিক বিভাগ। রাজ‍্য সরকারের এ ফরমান সত্ত্বেও হিন্দু বাঙালিরা সন্দেহভাজন বিদেশি মামলা থেকে কোনও স্বস্তি পাননি। হিমন্ত সরকার ইতিমধ্যে গোর্খা ও কোচ রাজবংশীদের বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন বিদেশি মামলা প্রত‍্যাহার করার নির্দেশ জারি করেছে। ওই সময় হিন্দু বাঙালি নেতারা দাবি তুলেছিলেন, একইভাবে হিন্দু বাঙালিদেরও সন্দেহভাজন বিদেশি মামলা থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হোক। ২০১৯ সালে CAA সংসদে গৃহীত হলেও তা কার্যকর হয় ২০২৪ সালের মার্চ মাসে। CAA বিধি প্রণয়ন দীর্ঘ কয়েক বছর আটকে থাকে। এমন কথাও হামেশাই অনেকের মুখে উচ্চারিত হয়েছে। অসমে এখন অবধি CAA-র আওতায় আবেদন করে নাগরিকত্ব লাভ করেছেন দুইজন। এ সংখ‍্যা বাড়লেও দুই অঙ্ক ছাড়ায়নি। অনেকেই CAA-র যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। হিন্দু বাঙালিদের বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন বিদেশি মামলা প্রত‍্যাহার হলে তা এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হবে, এ কথা হলফ করে বলা যায়। জনসংঘের আমল থেকে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল, দেশভাগের শিকার হিন্দুরা হলেন শরণার্থী, অনুপ্রবেশকারী নন। হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেবার পক্ষে সব সময় সওয়াল করে আসছে বিজেপি।

          বিজেপির লিগ‍্যাল সেলের কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব বুধবার বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। হিন্দু বাঙালিদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে চলা মামলা প্রত‍্যাহার করা হবে। এমন স্পষ্ট নির্দেশ জারি করা হয়েছে।