কুমিল্লার কালী মন্দিরে বোমা হামলা: পূজারত ভক্তদের মাঝে আতঙ্ক, তিনজন আহত



Updated: 11 March, 2026 8:56 am IST

কুমিল্লা মহানগরীর বাগানবাড়ি ঠাকুরপাড়া এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় সাপ্তাহিক শনি পূজা চলাকালীন কালীগাছ তলা কালী মন্দিরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় আচার চলাকালীন এই বিস্ফোরণে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২৮ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা চলাকালীন হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হলে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী (৪৮)সহ স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল বারেক এবং জিহাদ আহত হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটের দিকে এক মুখোশধারী ব্যক্তি একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করে। কিছু সময় পর সে ব্যাগটি মন্দির প্রাঙ্গণে রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। অল্পক্ষণ পরই সেই ব্যাগে রাখা বিস্ফোরক থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

মন্দির কমিটির সভাপতি সজল কুমার চন্দ জানান, পূজা চলাকালীন হঠাৎ বিস্ফোরণে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আহত পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী বলেন,
“বিস্ফোরণের পর আমার সামনে সাদা একটি বস্তু এসে পড়ে। প্রথমে ভেবেছিলাম গাছ থেকে কিছু পড়েছে। কিন্তু পরে ধোঁয়া দেখে সবাই বুঝতে পারে এটি বোমা ছিল। কারা বা কেন এই কাজ করেছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”

স্থানীয়দের দাবি, মন্দির থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা পাশের একটি বৌদ্ধ মন্দির এবং একটি বেসরকারি অফিসের সামনে আরও দুটি হাতে তৈরি বোমা (ক্রুড বোমা) বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই বিস্ফোরণে আবদুল বারেক এবং জিহাদ আহত হন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এবং কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল আনোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও কারণ খতিয়ে দেখতে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞ দলকে তলব করা হয়েছে। বর্তমানে মন্দির প্রাঙ্গণ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে কর্ডন করে রাখা হয়েছে এবং পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট করার এই অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

If you love our work, you can help us by contributing a small amount of your choice. 

UPI: hinduvoice@upi

Please SCAN this QR code to send your contribution
Please SCAN this QR code to send your contribution.