কেরালা: যৌন নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে ভিডিও পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায়, আত্মহত্যা হিন্দু যুবকের; গ্রেপ্তার অভিযুক্ত মুসলিম তরুণী শিমজিথা মুস্তফা



Updated: 24 January, 2026 1:13 am IST

হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করেছিলেন শিমজিথা মুস্তফা নামে এক মুসলিম তরুণী। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই অপমানবোধ থেকে আত্মহত্যা করেন এক হিন্দু যুবক। কিন্তু প্রাথমিকভাবে সেই ভিডিওতে যৌন নির্যাতনের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর তারপরেই অভিযুক্ত মুসলিম তরুণীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনে থানায় FIR দায়ের করেছে ওই হিন্দু যুবকের পরিবার। ঘটনা বামশাসিত কেরালার কোঝিকোড়ের।
জানা গিয়েছে, ওই হিন্দু যুবকের নাম দীপক। গত ১৬ই জানুয়ারি তারিখে কেরালা রাজ্য পরিবহনের বাসে যাতায়াত করছিলেন তিনি। ওই বাসে মুসলিম তরুণী শিমজিথা মুস্তফাও যাচ্ছিলেন। বাসে খুব ভিড় ছিল। পরে শিমজিথা মুস্তফা একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন যে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁর শরীরে স্পর্শ করেছে ওই যুবক। সেই ভিডিও ভাইরাল হয় এবং অনলাইনে ট্রোলিং – এর শিকার হন ওই যুবক।
সেই ভাইরাল ভিডিওর শুরুতে দেখা যায় যে শিমজিথা মুস্তফা বাসে দাঁড়িয়ে ভিডিও রেকর্ড করছেন। ভিডিওর প্রথমের দিকে দেখা যাচ্ছে যে ভিড় বাসে শিমজিথার থেকে কয়েক ফুট দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দীপক। পরের অংশে দেখা যাচ্ছে যে দীপকের একদম কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছেন শিমজিথা। শিমজিথা ক্যামেরা ঘুরিয়ে দীপকের কনুইয়ের দিকটা দেখাতে থাকেন যে কিভাবে কনুই তাঁর শরীর স্পর্শ করেছে। যদিও বাসের ঝাঁকুনিতে কনুই নড়ছিলো এবং দীপকের ধারণা ছিলনা যে পাশের কেউ ভিডিও রেকর্ড করছে, ফলে দীপক সে সময় সতর্ক হতে পারেননি।
প্রথম ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সোস্যাল মিডিয়ায় আরও একটি ভিডিও পোস্ট করে শিমজিথা মুস্তফা দাবি করেন যে দীপক তাকে ইচ্ছা করেই স্পর্শ করেছেন।
এদিকে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর যথেষ্ট বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন দীপক। দীপক তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের ঘটনার কথা জানিয়ে বলেন যে বাসে ভিড় ছিল এবং অনিচ্ছাকৃত কারণে তাঁর কনুই হয়তো লেগে যেতে পারে। পরের দিন অর্থাৎ ১৮ই জানুয়ারি সকালে নিজের ঘর থেকে দীপকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
দীপকের আত্মহত্যার পরই তাঁর মা থানায় শিমজিথা মুস্তফার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কোঝিকোড় মেডিকেল কলেজ থানার পুলিশ শিমজিথাকে জেরাও করেছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর পাশাপাশি কেরালার মানবাধিকার কমিশন আলাদা করে একটি কমিটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
(The above piece is written based on a report published by OpIndia. You can read the original report HERE )