সারা বছরই নানাভাবে দূষণ হলেও দীপাবলির বাজির ওপরে কেন এত রোষ, উঠছে প্রশ্ন

0
46

রোশনী আলী নামে এক পরিবেশপ্রেমী মহিলার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট দীপাবলিতে সমস্তরকম বাজি নিষিদ্ধ করেছে। করোনা মহামারীর এই কঠিন সময়ে এমন রায়ে যথেষ্ট খুশি পরিবেশপ্রেমীরা। সেই সঙ্গে হয়তো বেশি খুশি মরশুমি পরিবেশপ্রেমীরা, যারা শুধুমাত্র দীপাবলি ও কালী পূজা এলেই পরিবেশ দূষণ নিয়ে আলোচনা করতে করতে খাওয়া ও ঘুম ত্যাগ করেন।

তবে এ দেশে যেহেতু গণতন্ত্র রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা অর্জন করে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা রয়েছে, তাই হাইকোর্টের রায় থাকা সত্বেও বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবার সময় এসেছে। সেই সব বিষয় একটু আলোচনা করা যাক।

পশ্চিমবঙ্গে বাজি(শব্দ) এবং আলো ছড়ানো আতশবাজি কারবারের সঙ্গে যুক্ত কয়েক লক্ষ মানুষ।তাঁরা সমস্ত আইন মেনেই বাজি ব্যবসা করে এসেছেন এতদিন। সারা বছর ধরে বাজি তৈরি হয়। আর শুধু চেয়ে থাকেন কালী পূজা কিংবা দীপাবলির দিনগুলির অপেক্ষায়। বাজি বিক্রি হলে হাসি ফুটে ওঠে তাদের মুখে। সন্তানরা নতুন জামা-কাপড় পায়। আজ হাইকোর্টের রায়ের ফলে সেই সব মানুষদের মাথায় হাত।

কয়েকজন বাজি তৈরির কারিগর ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে নানা বিষয় উঠে এলো। তাঁরা হাইকোর্টের রায়ে একটু ক্ষুব্ধ হলেও সেই রায় মেনে বাজি বিক্রি করবেন না বলে জানালেন। আবার কেউ কেউ আবার কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা ভাবছেন। তবে তাঁরা বলছেন, বাজি ব্যবসায়ী হিসেবে সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছেন। সমস্ত কাঁচামাল কিনেছেন জিএসটি দিয়ে। তারপরেও বাজি নিষিদ্ধ করায় হতাশ তাঁরা। শুধু তাই নয়, তাদের তৈরি বাজির মধ্যে অনেক পরিবেশবান্ধব বাজিও রয়েছে বলে তাদের দাবি।

অনেকে আবার বলছেন যে সারা বছর দূষণের ওপর নজর থাকে না কারওর। কল-কারখানার ধোঁয়া, বেআইনি কারখানার ধোঁয়া, পুরোনো গাড়ির ধোঁয়ায় দেদার বায়ুদূষণ হয়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে কলকাতার বাতাসের গুণমান তলানিতে ঠেকেছে। তারপরেও আছে জলাজমি ভরাট করে ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণ, গাছ কেটে শহরের বিস্তৃতি, সেই সঙ্গে গাছ না লাগানোর ফলে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু সেই সব নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের না করে বছর বছর কেন শুধু দীপাবলিকে টার্গেট করা হচ্ছে, সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে তার উত্তর এখনও অজানা।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.