বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্তশ্রু কি কখনো মুছবে না!

0
141


© শ্রী রঞ্জন কুমার দে

আফগানিস্তানে তালিবানরা প্রায় ১১০০ বৎসর আগের গজনির সুলতান মাহমুদের সমাধিস্থল নিজেদের মতো সসম্মানে সংস্কারে হাত দিয়েছে, কারণ সুলতান মাহমুদ ১৭ বার ভারতের সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করে মন্দির ও দেবমূর্তি ধ্বংস করে দেবসম্পত্ত্বি লুটপাট করেছিলো।দুই দশক আগে এই তালিবানরাই ষষ্ঠ শতাব্দীর দুইটি বামিয়ান বৌদ্ধ মূর্তি ভেঙে দিয়েছিলো, তাই এখন আফগান মূর্তি শিল্পীরা নিরুপায় হয়ে তাঁদের শিল্পকর্ম মাটিতে পুঁতে ফেলছেন। ইসলামে নাকি এক টুকরো কাগজে ছবি এঁকে কিংবা মূর্তিতে জীবনদান করা অন্যায়, সেই সূত্র ধরে পাকিস্তানে গত দুই বৎসরে তিন বার মহারাজা রঞ্জিত সিংয়ের মূর্তি ভাঙ্গা হলো। সুদূর আরবে ৩৬০ টি মূর্তি ভাঙার আদর্শ বুকে নিয়ে ১৪০০ বৎসর পরও সেই ট্রেডিশন সমানে চলছে।

ওপার বাংলার দূর্গা উৎসবে প্রতি বৎসর জিহাদিরা মেতে উঠে মূর্তি ভাঙ্গার অকাল খুশিতে, ইন্টারনেটের আশীর্বাদে এইবার আর কোনভাবেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের নগ্ন চিত্র আর কোন শাকপাতা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় নি, কোন বাহানা আর খাপ খাচ্ছে না। কুমিল্লার নানুয়া দীঘির পূজা মণ্ডপে দেশে বিশৃংখলতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে মূর্তির কাছে কোরআন শরীফ রেখে দেওয়া হয়, পূজা কমিটির নজর আসতেই সেটা তাহারা প্রশাসনকে অবগত করে সরিয়ে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন মুখরোচক গুজব ভাইরাল হয়ে যায়, মুমিন ভাইরা তৌহিদী জনতাকে ধর্মের দোহাই দিয়ে ক্ষেপিয়ে তোলে, হিংসা ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাংলাদেশে।

সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে দিন দুপুরে দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করার প্রধান হাতিয়ার তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, সেটা কয়েকমাস পরপর পুনঃরাবৃত্তি হয়। তাই কুমিল্লার নানুয়া দীঘি নয়, সারা বৎসর জামাত আদর্শের ধর্মগুরুদের ওয়াজ-মাহফিলের বিষবাষ্পে দুর্গাপূজায় প্রতি বৎসরই শুরু হয় অকাল মূর্তি ভাঙ্গার হিংস্র প্রতিযোগিতা।

এবারও কুমিল্লার ঘটনার আগে তথা পূজার ঠিক সন্নিকটে কুষ্টিয়া সহ সুন্দরগঞ্জ ,মীরগঞ্জে মৌলবাদীরা দলবদ্ধ আক্রমণে দূর্গা পূজার সব কাঠামো ভেঙে ফেলে, উল্লেখ্য যে এই কুমিল্লার ঘটনার আগে গত ৬ মাসে কমপক্ষে অর্ধশতক মন্দির ও মূর্তি ভাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে।তাই বাংলাদেশের বর্তমান সংখ্যালঘু নির্যাতন কাকতলীয় নয় বরং একটা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

আজ পর্যন্ত ধর্মঅবমাননার যে কয়টা দলবদ্ধ আক্রমণ হয়েছিলো উপযুক্ত ভিডিও ফুটেজ,টেকনোলজি সাপোর্ট থাকা সত্ত্বেও সরকার দোষীদের কোনরকম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় নি। ওরা কোন সময় পাগল সেজে কিংবা আইনি ফাঁকে পার পেয়ে যাচ্ছে, যার ফলস্বরূপ এই কুমিল্লাতেই বারংবার মৌলবাদীরা হিংসার আশ্রয় নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এর আগেও গত বছরের ১লা নভেম্বর সেই কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় কোরবানপুর গ্রামে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ঘর মৌলবাদী মুসলিমরা দলবদ্ধভাবে জ্বালিয়ে দিয়েছিলো। অভিযোগ এই গ্রামের এক শিক্ষক বছর ৫৪ এর শঙ্কর দেবনাথ ফেসবুকে ফ্রান্সের শার্লি কার্টুন ইস্যুতে কমেন্ট করেছিলেন “স্বাগতম প্রেসিডেন্টের উদ্যোগকে”এবং সংখ্যাগুরুদের ভাবাবেগে এতে আঘাত লেগে যায়। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিল্ডিং বাড়ি দাউদাউ করে জ্বলতে দেখা গিয়েছিলো, কিন্তু আফসোস একজনও দোষীকে শাস্তি প্রদান তো দূরে থাক উল্টা গ্রামের তিন হিন্দু পুরুষকে কোমরে দড়ি বেঁধে, হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে কাঠগড়ায় খাড়া করা হয়।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে জুম্মার নামাজের শেষে দিনদুপুরে উগ্র মৌলবাদীদের দলবদ্ধ আক্রমনের ট্রেডিশনটা শুরু হয়েছিলো সম্ভবত ২০১২ সালের ২৯ শে সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শতবর্ষ পুরানো বৌদ্ধমূর্তি, মন্দির এবং তাঁদের ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে। তারপর একই কায়দায় ২০১৩ সালের ২রা নভেম্বর পাবনার সাঁথিয়ায় হিন্দুপল্লী বনগ্রামে সংখ্যালঘু বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা হয়। ৬ মাস যেতে না যেতেই ফের ২০১৪ সালের ২৭ শে এপ্রিল সেই কুমিল্লার হিন্দু অধ্যুষিত এক গ্রাম বাঘ সিতারামপুরে বাড়িঘর জ্বালানো ও লুটপাট হয়। ধর্ম অবমাননার গুজবে দলবদ্ধ আক্রমণে ২০১৬ সালের ২৯ শে অক্টোবর বহুলচর্চিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ৮ টি হিন্দুপাড়ায় ৩০০ টি বসতবাড়িতে ও ১০ টি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়। মৌলবাদীরা হয়তো এই ধ্বংশলীলায় সন্তষ্ট হতে পারে নি তাই ওরা ফের ৪ নভেম্বর একই জায়গায় আক্রমনে আবার ৬ টি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। একই কায়দায় ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বরে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ১৫ টি হিন্দু বাড়ি লুটপাট ও ভস্মিভূত হয়। ২০২০ সালে কুমিল্লার মুরাদনগরে এবং ২০২১ সালে সুনামগঞ্জের শাল্লায় অতি সামান্যতম কারণে হিন্দুদের ঘরবাড়ি এবং দেবসম্পত্ত্বি নষ্ট করা হয়েছিলো। বিভিন্ন পরিসংখ্যানমতে গত ৯ বৎসরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে ৩ হাজার ৬৭৯ টি হামলা হয়েছে।ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সাম্প্রদায়িকতা এবং সংখ্যালঘু নিপীড়ন বাংলাদেশের বাৎসরিক, কোন সময় ছমাসিক, ত্রয়মাসিকে উৎসবেও পরিণত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সেখানকার বিভিন্ন ওয়াজমাহফিল ও উপাসনাস্থলে মৌলবাদী ধর্মগুরুদের অমুসলিমদের প্রতি ঘৃণা ও দ্বেষের বাস্তবায়ন হচ্ছে বর্তমান উগ্রতা ও সাম্প্রদায়িকতা। সেই ধর্ম অবমাননার অভিযোগে উত্তম বড়ুয়া, রসরাজ দাস, টিটু রায়, রাজন দাস ,ঝুমন দাসদের কাঠগড়ায় খাড়া করলেও ওরা সবাই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলো কিন্তু ওঁদের পরিণীতি হয়েছিলো খুব ভয়াবহ।

সম্প্রতি কুমিল্লায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের উপরে যে তান্ডবলীলা হয়ে গেলো বাংলাদেশ পুলিশ ইকবাল হোসেন নামক এক যুবককে উপযুক্ত প্রমাণ সহকারে অভিযুক্ত করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকার বিএনপি, জামাতের ঘাড়ে দোষ দিয়ে পাশ কাটাতে পারে না, কারণ উপযুক্ত ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও সরকার সংখ্যালঘুদের উপর এরকম ভয়াবহ আক্রমণের একটাও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি খাড়া করতে পারে নাই। যার দরুণ ওরা বারংবার উৎসাহিত হচ্ছে,অপরাধীরা নিজেদের পাগল, মানসিক ভারসাম্যহীন, ভবঘুরে স্বীকারোক্তিতে বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বারংবার পার পেয়ে যায়।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকলেও অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। সংবিধানের ৪১ নং অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন,অবলম্বন ও প্রচারের পূর্ণ অধিকার দিয়েছে । প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়, উপসম্প্রদায় নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে সকল নাগরিককে ধর্মনিরেপক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশের দণ্ডবিধি ২৯৫ থেকে ২৯৮ ধারার আইনে ধর্ম অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অপরাধগুলো হলো ২৯৫ ধারায় যেকোন বিশেষ ধর্মবোধে অবমাননা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে উপাসনালয়ের ক্ষতি সাধন বা অপবিত্র করা,ধারা ২৯৫(ক) তে যে কোন বিশেষ ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করে উক্ত যেকোন ধর্মীয় অনুভূতিতে কঠোর আঘাত হানার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষাণাত্মক কাজ। ধারা ২৯৬ তে ধর্মীয় সমাবেশে গোলমালের চেষ্টা, ধারা ২৯৭ তে সমাধিস্থল ইত্যাদিতে অনাধিকার প্রবেশ, ধারা ২৯৮ তে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে শব্দ উচ্চারণ বা অঙ্গভঙ্গি। অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষীদের সর্বোচ্চ ২ বৎসরের সাজার বিধান রয়েছে।

কিন্তু আফসোস সংবিধান প্রণীত হওয়ার এতো বৎসর পার হলেও সংখ্যালঘু অত্যাচারের একটাও বিচার সুস্পষ্টভাবে হয় নি, অথচ বারংবার প্রমাণিত হয়েছে ভুয়ো ধর্মঅবমাননার অপবাদে দিনদুপুরে একদল উন্মাদ মৌলবাদী তৌহিদ জনতা জ্বালিয়ে দিয়েছে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের পর গ্রাম। আজকে রাজনৈতিক বিরোধী ও সরকার পক্ষ একে অপরের দিকে কাদা ছোড়াছুড়ি করে সংখ্যালঘু নিপীড়নের দায় ঝেড়ে ফেলছে। তবে এটাও সত্যি যে বাস্তবে সংখ্যালঘুদের কোন নিজস্ব দল নেই, কোন নেতা নেই ভারতের সংখ্যালঘুদের মত- আসাদুদ্দিন ওয়াসি কিংবা বদরুদ্দিন আজমলের মতো।

এর আগেও খালেদা জিয়ার আমলে সংখ্যালঘুদের করুণ দৃশ্যে উপস্থাপনা করতে বুদ্ধিজীবী লেখক শাহরিয়ার কবির তিন খণ্ডের বিশাল শ্বেতপত্র ,”বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের ১৫০০ দিন “প্রকাশ করেছিলেন, ফলস্বরূপ উনার ভাগ্যে জুটেছে মৌলবাদীদের দেওয়া নতুন নাম “মুরগি কবির”।২০০১ সালে খালেদা জিয়ার প্রত্যাবর্তনে টানা ১৫০ দিন ক্রমাগত হিন্দুদের উপর বিভিন্ন প্রকার নির্যাতনের পাশাপাশি সহস্রাধিক সংখ্যালঘু নারী ধর্ষণের প্রায় ২০০ জন নারীই ছিলো গণধর্ষনের শিকার। সেই সময় অসহায় এক মা তাঁর বাচ্চা মেয়ে পূর্ণিমার জীবন বাঁচাতে ধর্ষকদের পা চেয়ে ধরে বলেছিলেন,”আমার মেয়েটা ছোট, তোমরা একজন করে করে যাও!” ১৯৭৯ সালের স্বৈরাশাসক হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে-বিসমিল্লাহির-রহমানির রহিম,দয়াময় ,পরম দয়ালু, আল্লাহর নামে প্রভৃতি ধর্মীয় শব্দ সংযোজন করে। ১৯৮৮ সালে স্বৈরাচারী এই মৌলবাদী শাসক আবার সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীতে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম সংযোজন করে। ২০১১ সালের জুন মাসে আওয়ামীলীগ সরকার ১৯৭২ সনের মূল সংবিধানে ফেরার লক্ষ্যে সংবিধানের চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরেপক্ষতা ফিরিয়ে আনলেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহির রহমনির রহিম থেকে যায়। মৌলবাদীদের তুষ্টিকরণে হাসিনা সরকারকে বারংবার অসহায় হয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, যেগুলোর মধ্যে কওমি মাদ্রাসার দাওড়ায়ে হাদীসকে মাস্টার্সের সম্মাননা। হেফাজতে ইসলামের দাবিনুযায়ী ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা দ্রুতপঠনের পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, লালন শাহ প্রমুখ হিন্দু লেখকদের কবিতা ও প্রবন্ধ। তবে সেখানে স্থান করে দেওয়া হয়েছে আব্দুল হাকিম, গোলাম মোস্তফা, নজরুল ইসলামদের লেখা।

অনেকের মন্তব্য বাংলাদেশে হিন্দুরা সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে বেশি সুবিধাভোগী, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কেরাণী থেকে অফিসার পর্যন্ত হিন্দু চাকরিজীবীর সংখ্যা ৩ শতাংশেরও নীচে, উদাহরণস্বরূপ ২০০১ সালের বিসিএস পরিক্ষার ২০০৩ জনের মধ্যে মাত্র ২১৯ জন হিন্দু কর্মকর্তা ছিলেন। হিন্দুদের উপর আক্রমণ, অত্যাচার, নিপীড়ন বৎসরের প্রায় প্রতিদিনই ঘটে চলেছে, প্রভাবশালীর ভয়ে সবগুলোর কেস ডায়েরি হয় না বা মিডিয়ার নিষ্ক্রিয়তার সেগুলো চাপা পড়ে যায়।কিছুদিন আগেও ঢাকার তপন কর্মকারের প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাহাকে খুন করে, উনার বৌদিকে কয়েকজন মিলে গণধর্ষণ করে পাশের ডোবায় ফেলে চলে যায়। ২০১৯ এর ১৬ জুলাই সমাজকর্মী প্রিয়া সাহা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবগত করে বলেছিলেন,” I’m from Bangladesh.37 Millions Hindhus, Buddhists and Christians are disappeared.Please help for us Bangladeshi peoples”.সেদিন প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে শাসক, বিরোধী, মৌলবাদী সবাই একযোগে প্রতিবাদ করেছিলো কিন্তু আজ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতার নগ্ন চিত্র আবার প্রমাণ করে দিলো প্রিয়া ভুল ছিলেন না।

অষ্টমীর দিনে দূর্গা প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না, কুমিল্লার সাথে আক্রান্ত হলো ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,নোয়াখালী, চাঁদপুর, গাজীপুর,লক্ষীপুর আরো প্রভৃতি জেলা।জীবন দিতে হলো পার্থ দাস, যতন দাসদের;গণধর্ষণ করে হত্যা করা হলো ১০ বৎসরের এক হিন্দু নাবালিকাকে।কুমিল্লার রক্তের দাগ যখন মুছে যায় নি ,ধর্ষিতা মায়ের কান্না যখন শুকায় নি,ডোবা থেকে উদ্ধার লাশের সৎকার যখন সম্পূর্ণ হয় নি ,হানাদাররা তখন আবার রংপুরের পীরগঞ্জে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি সম্পত্তি জ্বালিয়ে ছাই করে দেয়।কুমিল্লার কোরআন রাখার অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে এখন পুলিশ জেরা করছে, তাহলে মুমিন ভাইরা ধর্ম অবমাননার অপবাদে হিন্দু সম্প্রদায়ের এতো বড় যে ক্ষতি করে দিলেন তাহা কি ফিরিয়ে দিতে পারবেন!তবে এতো কিছুর পরেও হিন্দু সম্রাট নরেন্দ্র মোদির নীরবতা সবাইকে বিষ্মিত করলো, কারণ উনি শুধু ভারতের হিন্দুদের অভিভাবক নয় বরং বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের হিন্দুদের শেষ অবলম্বন।

(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.