লম্পট আকবর! কিরণ দেবী রাঠোরের কাছে হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন

0
33

© সব্যসাচী

আকবর কি চরিত্রহীন ছিলেন?
তিনি কি জীবন বাঁচাতে কিরণ দেবী রাঠোরের কাছে প্রাণভিক্ষা করেছিলেন?

কিরণ দেবী রাঠোর! পাশের চিত্রে তার বীরত্বের নিদর্শন দেখা যাচ্ছে। তিনি আকবরের বুকে বাম পা দিয়ে চেপে ধরে ছুরি মারতে যাচ্ছেন। এই তৈলচিত্র এখন জয়পুর যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। কিরণ দেবী রাঠোর রাজস্থানের মানুষের কাছে শ্রদ্ধা পান এহেন বীরত্বের জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সমগ্র দেশ জুড়ে ইনি সেভাবে পরিচিত নন। তিনি আকবরকে যেভাবে হেয় করেছেন, ইতিহাসে তার তুলনা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এক সময়ে এমন অবস্থা হয়েছিল যে, রীতিমত হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা করতে হয়েছিল আকবরকে। তিনি কিরণ দেবীকে শ্লীলতাহানি করতে গিয়ে এহেন বিপাকে পড়ে গিয়েছিলেন। যদি কিরণ দেবী তাকে ক্ষমা না করতে, নিঃসন্দেহে বলা যায় ১৫৭০ দশকেই ভারত ইসলামিক শাসন মুক্ত হত। কিন্তু কিরণ দেবী রাঠোর তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন প্রাচীন হিন্দু সমরনীতি মেনে। সেটাই ছিল ভারতের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভুল।

প্রাচীন ভারতে মহিলারা মোটেই অবলা ছিল না। তারা বহুবার যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন পুরুষের চেয়ে তারা কম যান না।ঋগ্বেদে ‘বিষপাল’ নামে একটি যোদ্ধা রাণীর উল্লেখ আছে, যার বীরত্ব দেখে দেবতারা নাকি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। বিষপাল যুদ্ধে ডান পা খুইয়েছিলেন এবং তিনি এতে হাল না ছেড়ে একটি কাঠের পা লাগিয়ে আবার যুদ্ধ করতে শুরু করেন।এরকম উদাহরণ পরবর্তীকালেও পাওয়া যায়। কিন্তু দ্বাদশ শতকের শেষদিকে ভারতে ইসলামিক অনুপ্রবেশের পর থেকেই নারীদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ আমলে কিছুটা সে দুরবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠেছিল। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে বহু নারী অংশ নিয়েছেন, অনেকেই কারাবরণ করেছেন, ফাঁসিতে ঝুলেছেন।

ভারতের ইতিহাস গ্রন্থগুলিতে আকবরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মহান রাজা হিসাবে দেখানো হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যিনি চিত্তোর দুর্গে ৪০০০০ নিরস্ত্র নারীপুরুষকে হত্যার আদেশ দিতে পারে, তার ধর্মের লোক নন বলে, তাকে কিভাবে মহান বলা যায়? যিনি এভাবে কসাইয়ের মত মনোভাব দেখান তাকে নিশ্চয়ই ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ‘পরধর্মসহিষ্ণু’ প্রজাকল্যাণগামী রাজা বলা চলে না। ভারতের বামপন্থি ইতিহাসবিদরা যত রকম ভাবে পারা যায়, তার বর্বর, ধর্মান্ধ আচরণকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মধ্যযুগীয় ইতালীয় লেখক ও পর্যটক নিকোলো মানুচ্চি তার ‘হিস্টোরি অফ দ্য মুঘল ডাইনাস্টি’ গ্রন্থে লিখেছেন, “১৬৫৭ সালে তিনি একটি নীতি গ্রহণ করেন, যার ফলে প্রত্যেক রাজপুত রাজ্যের শাসক তার মেয়েকে মুঘল অভিজাতকে বিবাহ দিতে বাধ্য থাকত।” একই ধরণের বক্তব্য রেখেছেন ফরাসি ইতিহাসবিদ ফ্রাঙ্কোইস ক্যাট্রোউ।

হুমায়ুন জীবিত থাকাকালীন একটি উৎসব চালু করেছিলেন : কুহস রুজ অর্থাৎ আনন্দের দিন। যা মীনা বাজার নামক স্থানে পালিত হত। এই উৎসব শুধু নারীরা পালন করতে পারত এবং জনসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। অর্থাৎ কেবল মুঘল অভিজাত ও রাজপরিবারের মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে পারতেন। এখানে মুঘল অভিজাত ছাড়াও, মুঘল মন্ত্রীসভার সদস্য, সেনাবাহিনীর পদাধিকারী ও রাজপুত কন্যারা এতে যোগ দিত। হারেমের রক্ষিতারাও উৎসবে যোগ দিত বৈকি। মীনা বাজারে সেদিন দোকানপাট খোলা থাকত বটে, কিন্তু মহিলারাই কেবল সেদিন দোকানে গিয়ে কেনাবেচা করার অধিকার পেতেন। নয়দিন ধরে চলত কুহস রুজ, মেয়েরা সব সাধারণ জিনিস অতিশয় চড়া দামে কিনতে বাধ্য হতেন। তবে উৎসবের তৃতীয় দিনে পুরুষরা উৎসবে যোগ দেবার অধিকার পেয়েছিল আকবরের আমলেই। তৃতীয় দিন সাধারণত পার্সিদের নববর্ষ ‘নওরোজ’ দিবসের দিন পড়ত। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী ছিলেন ইরানের মেয়ে, হুমায়ুন ইরান থেকে ভারতে ফিরে এই উৎসব চালু করেন স্ত্রীর কথায়।
বলা হয় কুহস রুজ দিবস উপলক্ষে জাকাত আদায় করা হত। কিন্তু নিকোলো মানুচ্চি বলেছেন এই উৎসবের উদ্দেশ্য ছিল অতীব কদর্য। তিনি কয়েকবার মীনা বাজারে যাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন একজন বিদেশী হয়েও, তার মতে, “এই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য ছিল সুন্দরী মেয়েদের দেখে পছন্দ করে তাদের হারেমে নিয়ে আসার বিশেষ ফন্দি হিসাবে।” ১৬১৫ সালে ব্রিটিশ পর্যটক থমাস কোরিয়াতও লিখেছেন, “শাহ জাহান কুহস রুজ থেকে বহু হিন্দু, খৃষ্টান, জৈন ও মুসলিম মেয়েদের পছন্দ করে তাদেড় নিজের হারেমে তোলার ব্যবস্থা করেছেন।” অর্থাৎ নিজেদের যৌনতৃপ্তির ব্যবস্থা পাকা করতে মুঘল শাসকরা যে কুহস রুজের আয়োজন করতেন, তাতে সন্দেহ নেই।

বিকানেরের কিংবদন্তি অনুসারে কিরণ দেবী রাঠোর ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিংহের ভাই শক্তি সিংহের জ্যেষ্ঠ কন্যা। মেবারের রাজা মহারাজা দ্বিতীয় উদয় সিংহের মৃত্যুর পর সিংহাসনের দখল নিয়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। উদয় সিংহের জ্যেষ্ঠ পুত্র মহারানা প্রতাপ সিংহ নিজেকে মেবারের রাজা হিসাবে ঘোষণা করলে শক্তি সিংহ ক্রুদ্ধ হন এবং সিংহাসন দখল করার মানসে আকবরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। আকবর তাকে মীর উপাধি দেওয়ার পাশাপাশি তাকে মেবার সিংহাসনে বসার সুযোগ করে দেবার প্রতিশ্রুতি দেন। এইভাবে আকবর মেবার রাজ্য দখলের অসৎ অভিসন্ধি আঁটেন। কিন্তু যখন শক্তি সিংহ বুঝতে পারেন আকবরের আসল অভিসন্ধির কথা, তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং হলদিঘাটের যুদ্ধে নিজের দলকে মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নির্দেশ দেন।

কিরণ দেবী রাঠোর পিতার ইচ্ছা মেনে বিকানেরের রাজকুমার পৃথ্বীরাজ রাঠোরকে বিবা হরেন। তার বিবাহের কিছুদিন বাদে ১৫৭১ সালে কিরণ দেবী রাঠোরের শ্বশুর মহাশয় বিকানেরের রাজা কল্যাণমল আকবরের দাসত্ব স্বীকার করে নেন এবং সামন্তরাজা হতে রাজি হন। এরপর আকবরের ইচ্ছায় নবরত্নের একজন হন পৃথ্বীরাজ। তিনি মুঘল সেনাবাহিনীর রাজস্থান বিভাগের সেনাধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত হয়েওছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, মহারানা প্রতাপ সিংহের দূর সম্পর্কের একজন ছিলেন কিরণ দেবী ও তার স্বামী। কিরণ দেবী রাঠোর তার স্বামীকে নিয়ে আগ্রায় থাকতেন।

১৫৭২ সালে আগ্রা দুর্গের কাছে মীনা বাজারে কুহস রুজ উৎসব শুরু হল। আগেই বলেছি যে, উৎসবের নিয়ম অনুসারে নওরোজের দিন ছাড়া বাকি দিনগুলিতে কোনও পুরুষ মীনা বাজারে ঢুকতে পারতেন না। কিন্তু ধুরন্ধর আকবর মুসলিম মহিলা সেজে ভেতরে ঢুকে পড়লেন। ঢুকে সর্বত্র ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। একজন পাক্কা লম্পটের দৃষ্টিতে মেলায় থাকা হিন্দু ও মুসলিম নারীদের দিকে তাকাতে লাগলেন। আকবরের ব্যক্তিগত ইতিহাসবিদ আবুল ফজল তার ‘আকবরনামায়’ বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন আকবর সেদিন কি কি করেছেন। তার মতে, আকবরের মত লম্পট নাকি সমগ্র ভারতে একটাও ছিল না। তিনি নাকি বিশেষ করে রাজপুত মেয়েদের সৌন্দর্যের তারিফ করেছিলেন। আবুল ফজল লিখেছেন, মহিলা সেজে ঘুরতে ঘুরতে একসময়ে আকবরের চোখ পড়ে গেল কিরণ দেবী রাঠোরের ওপর। তাকে দেখেই কামার্ত আকবর চিন্তা করতে লাগলেন, ‘এই নারীকে আজকের রাতে বিছানায় পেলে কেমন হয়?’

শুধু চিন্তা করাই নয়, তিনি মেয়েলি গলায় কিরণ দেবী রাঠোরকে জিজ্ঞাসাও করেছিলেন, “আপনি কে? আপনি কোথায় থাকেন? আপনার স্বামী কি করেন?” ইত্যাদি।
কিরণ দেবী রাঠোর কিন্তু আকবরকে ঠিকই চিনে ফেললেন। তিনি মুসলিমদের একেবারেই পছন্দ করতেন না। কিন্তু স্বামী ও শ্বশুর মহাশয় যেহেতু আকবরের অধীনে, তাই নীরবতা পালন করাই শ্রেয় মনে করেছিলেন। কিরণ দেবী রাঠোর মুঘলদের তরফে রাজপুত রাজনীতিতে নাক গলানো, চিত্তোরে হামলা চালানো, হলদিঘাটের যুদ্ধে অংশ নেওয়া : কোনওটাই ভাল চোখে দেখেন নি। তার ওপর রানা প্রতাপের আত্মীয় হবার কারণে তার মধ্যে আকবরের প্রতি বিদ্বেষ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কিরণ দেবী রাঠোর নিজে রাজপুত বংশে জন্মাবার জন্য গর্ববোধ করতেন।

রপর কিরণ দেবী রাঠোর আকবরকে সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। তখন লম্পট আকবর না সরে গিয়ে উলটে তার হাত ধরে তার দৈহিক ও মৌখিক সৌন্দর্যের তারিফ করে তাকে বলেন, “আমি তোমাকে এক রাতের জন্য একান্ত আপন করে পেতে চাই। তুমি কি তাতে রাজি আছ?”

তখন ক্রুদ্ধ হয়ে কিরণ দেবী রাঠোর জিজ্ঞাসা করেন, “আকবর! তুমি কি জানো আমি কে?” একটু থেমে বলেন, “তোমার চরম শত্রু প্রতাপ সিংহের আত্মীয়া আমি। তুমি কি ধারণা করো আমি তার শত্রুকে এত সহজে ছেড়ে দেব? দেখছই তো আশপাশে কেউই নেই। এই দেখো!” বলেই কিরণ দেবী রাঠোর যা করলেন, তার জন্য আকবর একেবারেই তৈরি ছিলেন না।
চারপাশ নির্জন দেখে কিরণ দেবী কোমর থেকে একটি ছোট অথচ তীক্ষ্ম ছুরি বের করেই এক লাথি মেরে আকবরকে চিৎপাত করে তার বুকে বাম পা রেখে ছুরি ঠেকিয়ে ব্যঙ্গ করে বলতে থাকেন, “কি হে মহামতি আকবর! এখনও কি আমাকে পাওয়ার শখ আছে, নাকি মিটেছে?” প্রায় একই সময়ে চার ‘আটজন মুসলিম মহিলা ঘটনাস্থলে এসে পড়েন। তারা চুপচাপ এই দ্বৈরথ দেখছিলেন, কিন্তু মুসলিম হয়েও আকবরকে বাঁচাতে কিরণ দেবী রাঠোরকে আক্রমণও করেন নি বা ছেড়ে দেবার জন্য অনুরোধও করেন নি। সম্ভবত তাদেরও রাগ ছিল লম্পট আকবরের ওপর। তারা উলটে হাততালি দিতে থাকেন কিরণ দেবীর প্রতি উদ্দেশ্য করে। তখন ছুরি একেবারে গলায় সামান্য চাপ দিয়ে অল্প রক্ত বের করে উচ্ছ্বসিত কিরণ দেবী রাঠোর বলতে থাকেন, “ওহে, আকবর! শুনে রাখো, আমি সে যে মহিলা নই, মেবারের রাজকুমারী। আমি হাতের সামনে পড়লে যেকোনো শত্রুকে বধ করব, এই শিক্ষাই পেয়ে এসেছি প্রতাপ সিংহের কাছে। আমি কখনই আত্মসমর্পণ করব না। সে শিক্ষা আমি পাইনি। আমরা দরকারে জৌহরে ঝাঁপ দেব, তবুও মুঘলদের হাতে ধরা দেব না।”

তখন আকবর প্রাণভিক্ষা করতে বাধ্য হলেন, তিনি বললেন, “আমাকে ছেড়ে দাও।” তখন ব্যঙ্গ করে ‘আটজন মুসলিম মহিলাদের সামনেই বললেন, “ছেড়ে দিতে পারি, তবে একটাই শর্ত। কুহস রুজ উৎস চিরকালের মত বন্ধ করে দিতে হবে।” তখন আকবর বললেন, “তাই হবে।” তারপর কিরণ দেবী আরেকবার বুকে লাথি মেরে বললেন, “জানোয়ার! তোকে এবারের মত ছেড়ে দিলাম। এক মিনিট মীনা বাজারের কোথাও যেন তোকে না দেখি। দেখলেই কিন্তু হত্যা করব।” আকবর ভয়ে এলাকা ত্যাগ করলেন। তিনি আর কোনওদিন কোনও রাজপুত মহিলার পেছনে লাগার সাহস দেখাতে পারেন নি।

এরপর কিরণ দেবী রাঠোর তার স্বামীকে ঘটনাটা বলে অনুরোধ করেন অতি দ্রুত মুঘলদের সঙ্গ ত্যাগ করে প্রতাপ সিংহের ফৌজে যোগ দেবার জন্য আবেদন করলেন। আকবরের কুকীর্তি জানার পর অসন্তুষ্ট হয়ে পরদিনই কাউকে কিছু না বলে সপরিবারে আগ্রা ত্যাগ করে পৃথ্বীরাজ প্রথমে বিকানেরে পরে প্রতাপ সিংহের ফৌজে যোগ দিলেন। কিরণ দেবী রাঠোরও সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। শোনা যায় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দিয়েছিলেন।

বিখ্যাত মধ্যযুগীয় কবি গিরিধর আসিয়া তার ‘সাগাতসিংহ রসো’ কাব্যগ্রন্থে এবিষয়ে চার চরণ লিখেছিলেন :
“কিরণ সিংহানি সি চাধি
উর পর খিঁচ কর কাটার
ভিখ মাংতা প্রাণ কি
আকবর হাত পসার।”

তথ্যসূচি:

১. মহারানা প্রতাপ সিংহ : ভবন সিংহ রানা
২. হিস্টোরি অফ দ্য মুঘল ডাইনাস্টি ইন ইন্ডিয়া : ফ্রম ইটস ফাউন্ডেশন বাই ট্যামারলেন, ইন দ্য ইয়ার অফ ১৩৯৯, টু দ্য আসেসন অফ আওরঙ্গজেব : নিকোলো মানুচ্চি
৩. দ্য নওরোজ ইন্সিডেন্ট : সুরন্য সেনগুপ্ত

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.