রোগ সারানোর নামে দরিদ্র ও অতি চালাক হিন্দুদেরকে যেভাবে খ্রিস্টান মিশনারীরা ধর্মান্তরিত করে

0
203

✍️ সব্যসাচী

কিছুদিন পূর্বে একটি ভিডিও খুব ভাইরাল হয়েছিল। তাতে দেখা যাচ্ছিল খৃষ্টান মিশনারী বাজিন্দার সিংহ এবং একটি বালক গান গাইছে। এতে প্রচুর বিতর্ক তৈরী হওয়ার পাশাপাশি অনেক হাসির মিম তৈরী হয়েছিল।
ভিডিওটা একটি ধর্মান্তরকরণ ইভেন্ট উপলক্ষে তোলা হয়েছিল। সেখানে উক্ত বালককে হাউ হাউ কাঁদতে দেখা যাচ্ছিল। তখন প্যাস্টর বাজিন্দার সিংহ তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “তোমার বোন কি আগে কথা বলতে পারত? তখন বালক মাথা নেড়ে বলেছিল, “না।” তখন বাজিন্দার সিংহ তাকে জিজ্ঞাসা করে, “এখন কি সে কথা বলতে পারছে?” তখন বালক ইতিবাচক উত্তর দেয়. সে সময়ে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজছিল, “মেরা ইয়েশু ইয়েশু।”
বলা বাহুল্য যে, এই মিউজিক ভিডিও অগণিত মেমে বানাতে প্ররোচিত করেছিল, বিশেষ করে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের। কিন্তু একই সাথে খৃস্টান মিশনারীদের উদ্দেশ্য ও বিধেয় নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন উঠেছিল বৈকি। অনেকেই ভিডিও দেখে মন্তব্য করেছিল, “খৃস্টান মিশনারীরা আজকাল বলপূর্বক ধর্মান্তরকরণের ঘৃণ্য কার্যকলাপে জড়াচ্ছে নাকি?”
সন্দেহ নেই প্রশ্নটা ন্যায্য। কিন্তু তথাকথিত সেকুলাররা এই প্রশ্নে আশ্চর্য রকম নিরবতা অবলম্বন করেছেন। কিন্তু এটা সত্য যে, মিশনারীরা ধর্মান্তরকরণকে একটা শৈল্পিক ব্যবসার পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যাকে মাফিয়া গ্যাঙের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এই কাজে সবচেয়ে অগ্রসর হচ্ছে এভানজেলিস্ট সংগঠন, অনেক বিদেশী খৃস্টান সংগঠন এভানজেলিস্টদের সাহায্য করে চলেছে। তারা প্রত্যেক সুযোগে নিরীহ হিন্দুদের অবৈধ পন্থায় বোকা বানিয়ে খ্রিস্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করে চলেছে এবং শেষ তিন দশক জুড়ে দারুণ ভাবে সফল হয়েছে। তারা এই কাজে কুসংস্কারকে বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করেছে।

আমরা ইউটিউব ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে দেখেছি এই ধরণের আপাতদৃষ্টিতে ‘হাস্যকর’ ঘটনা ঘটছে এভানজেলিস্ট ইভেন্টে। এই জন্য আমরা এদের ট্রোলিং করেছি, এদের কার্যকলাপকে বিশুদ্ধ কুসংস্কার বলে তকমা দিয়েছি। কিন্তু একইসাথে আমরা এটাও বোঝার চেষ্টা করি নি যে, এরা আপাতদৃষ্টিতে হাস্যকর প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে চলেছে। শেষ তিন বছরে এদের কারণে ভারতে খৃষ্টানদের সংখ্যা চিন্তাজনক ভাবে বেড়েছে। সুতরাং আমরা যতই এদের কার্যকলাপ দেখে হাসি না কেন, বাস্তবে শেষ হাসিটা তারাই হাসছে। এবিষয়ে তাদের প্রধান অস্ত্র হচ্ছে হিন্দুদের দারিদ্র্য। মুখ্যত দরিদ্র হিন্দুদের এরা টার্গেট করে থাকে এবং বিভিন্ন ধরণের প্রলোভন দেখিয়ে। এসব কাজে এদের বিন্দুমাত্র লজ্জা বা আইনের ভয়। যদিও ভারতে বলপূর্বক ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে আইন আছে, কিন্তু এরা জানে সঠিক জায়গায় চাপ দিলে কোনও রাজনীতিবিদের ক্ষমতা হবে না এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। সবচেয়ে বড় কথা, এরা কোনও গ্রামে গঞ্জে শুধু নয়; কলকাতা, চেন্নাই, মুম্বাই বা দিল্লির মত মেট্রোতেও একই জিনিস করছে।

এরকম অগণিত ভিডিও আছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে মিশনারীদের দ্বারা কিভাবে হিন্দুদের বোকা বানাবার কাজ সফল ভাবে চলছে এবং ধর্মান্তরকরণকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

১. প্যাস্টর খারাপ কিডনিকে সারিয়ে তুলছে মহামতি জেসাসের ‘কৃপায়!’

মুম্বাইয়ের সান্টা ক্রুজের বাসিন্দা পুষ্পা দিওয়াদকর বহু বছর ধরে বিভিন্ন অসুখে ভুগছিলেন, সাথে তার দুটো কিডনিই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এই সময়ে পুষ্পা একজন প্যাস্টরের দেখা পান, যিনি দাবি করেছিলেন জেসাসের কৃপায় যেকোনো অসুখ সারিয়ে তুলতে পারেন; এমনকি খারাপ হয়ে যাওয়া কিডনি অবধি। এটা শোনার পর পুষ্পা আশার আলো দেখেছিলেন : হয়তো তার অসুখ এবার সারবে।


এরপর স্টেজে পুষ্পা উঠলেন, সাথে তার স্বামী কমলও। তাদের পাশে দুটো সাদা পোশাক পরিহিত নান ছিলেন। স্টেজে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজছিল ‘ইয়ে হোশলা।’ স্টেজে উঠে পুষ্পা বললেন, “আমি বহু বছর যাবত নানান অসুখে ভুগছি, আমার দুই কিডনিই খারাপ।”
একটু থেমে পুষ্পা বলতে লাগলেন, “আমি কিছুকাল ধরে আর ওষুধ খাচ্ছি না। ভাবছি এমনিতেই তো মরে যাব, আর ওষুধ খেয়ে কি হবে?”
তখন প্যাস্টর হাসলেন, “জেসাসের কৃপা পেলে তোমাকে সরিয়ে দেব। তুমি কি রেডি আছ?”
পুষ্পা বললেন, “হ্যাঁ।”
এরপর শুরু হল নাটকীয় মুহূর্ত। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজছিল “ওহহহহহহ শাকারারারা রারারার!” প্যাস্টর স্টেজে লাফ মেরে উঠে পড়লেন। তারপর দুবার হাততালি মেরে বললেন, “দুই চোখ বুজে ফেলো। আর হ্যাঁ, হাতজোড় করে জেসাসকে স্মরণ করতে ভুলো না।” সে সময়ে বিকট সুরে বাজছিল : “শাকারারারা রারারার!” সেখানে উপস্থিত সবাই দেখল কিভাবে পুষ্পা চৈতন্য হারিয়ে দড়াম করে মেঝে পড়ে যাচ্ছেন। এবং একইসাথে তার স্বামী কমলকে প্যাস্টরের সমর্থকরা অভদ্রের মতন ধাক্কা মারতে মারতে সতেজ থেকে নামিয়ে দিচ্ছেন।

এবার প্যাস্টর অবিকল জেসাসের মত ভঙ্গি করে পুষ্পার পেট থেকে ঠিক দুই হাত ওপরে হাত দুটো ঠিক জাদুকরের মতন ঘড়ির কাঁটার মত করে ঘোরাতে লাগলেন প্রায় পাঁচ মিনিট জুড়ে। ভাবখানা যেন জেসাসের কৃপায় তার কিডনি সেরে যাবে। প্যাস্টর বললেনও তাই, “তোমার কিডনি কিছুক্ষণ বাদেই সেরে যাবে। এতদিন ধরে হুইলচেয়ারে বসে থাকার যে কষ্ট পাচ্ছ, তার নিরাময় ঘটবে।”

এরপর দুই নান এসে পুষ্পাকে ধরে দাঁড়াতে সাহায্য করল। সবাই বিস্ফারিত চোখে দেখল – মিরাকল! যে পুষ্পা কিছুক্ষণ আগেও দাঁড়াতে পারছিল না, তিনিই এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছেন।
পুষ্পাকে উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছিল। তিনি তিড়িংবিড়িং করে লাফিয়ে উঠলেন, তার মুখে তখন শুধুই “জেসাস কিওরস মি!” শোনা যাচ্ছিল। দর্শকরা কাণ্ড দেখে হাততালি দিয়ে উঠছিল। সবাই ভাবছিল সত্যি সত্যিই প্যাস্টর পুষ্পাকে সারিয়ে তুলেছে।

২. জেসাস অন্ধ বালিকাকে সারিয়ে তুললেন!

এবার বাজিন্দার সিংহের কার্যকলাপ প্রকৃত অর্থেই বিজ্ঞানের ঊর্ধ্বে ছিল। তিনি নিজেকে বরাবরই জেসাস প্রেরিত দূত হিসাবে গণ্য করতেন। এবং সেটা প্রকাশ্যে বলতেনও। তিনি এবার স্থির করলেন, তার অলৌকিক ক্ষমতা একটা অন্ধ বালিকাকে সারাবার কাজে ব্যবহার করবেন।


অনেকেই জানেন না যে, বাজিন্দর একবার গ্রেফতার হয়েছিলেন একজন মহিলাকে ধর্ষণের দায়ে। তিনি এককালে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন, কিন্তু বেশিদিন ডাক্তারি করেন নি। তার বদলে তিনি ধর্ম ব্যবসায় নেমে পড়েছিলেন এবং তাতে বেশ সফলও হন। খৃষ্টান হওয়ার সুবাদে তিনি একের পর এক এভানজেলিস্ট প্রোগ্রামে যান এবং সস্তা ম্যাজিক দেখিয়ে ধর্মান্তরকরণের ‘ব্যবসা’ চালাতে থাকেন। এই সময়ে তিনি দাবি করেছিলেন একটি অন্ধ বালিকাকে সারিয়ে তুলবেন।

বালিকা জন্মান্ধ ছিল, এমনি ছিল প্যাস্টর বাজিন্দর সিংহের দাবি। তিনি এও দাবি করেছিলেন জেসাসের কৃপায় বালিকা অবশ্যই সেরে উঠবে।
স্টেজে উঠে তিনি তার দাবি মতই যা যা বলেছিলেন, তা করতে সফল হয়েছিলেন। তার অভিভাবকরা বালিকা আবার চক্ষুষ্মান হয়ে উঠেছে দেখে আনন্দে বলে উঠেছিলেন, “যিশুবাবার জয় হোক।” সে সময়ে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বেজে উঠছিল, “হালেলুইয়া।” অভিভাবকদ্বয়ও সুরে সুর মিলিয়ে বলে ওঠেন, হালেলুইয়া!
নিঃসন্দেহে এই ঘটনায় বাজিন্দর সিংহের খ্যাতি বেড়ে যায়। কেননা তিনি যা করেছিলেন, সবই ক্যামেরার সামনে। ফলে তার কীর্তি সবার কাছে পৌঁছে যায়।

৩. জেসাসের কৃপায় এইডস সেরে গেল!

আধুনিক সমস্যার উত্তর আধুনিক পদ্ধতিতেই করতে হবে। অনেকের মতে, বিজ্ঞান ‘সমাধান’ করতে পারে না এমন সমস্যা নেই । অর্থাৎ বিজ্ঞান হচ্ছে সর্বরোগহর। কিন্তু আজও ঘটে অঘটন। এমন অনেক কিছুই ঘটে থাকে, যার কোনও প্রাকৃতিক সমাধান নেই। উদাহরণ হিসাবে কালান্তক রোগ এইডস এর কথা বলা যেতেই পারে। এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে হাজার হাজার বিজ্ঞানই তাদের গবেষণাগারে এইডস রোগের ওষুধ তৈরী করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সম্পূর্ণ সফল হয় নি। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, এইডস একটি সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ।


কিন্তু বাজিন্দার সিংহের ব্যাপারই আলাদা। তিনি একটি ভিডিওতে দাবি করেছেন “আমি জেসাসের দূত হিসাবে গ্যারান্টি দিয়েই বলতে পারি, আমার পক্ষে এইডস রোগ নিরাময় কোনও অসম্ভব ব্যাপার নয়।” তার দাবি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি বোধহয় এমন কোনও রোগ নেই; যার নিরাময় করতে তিনি অক্ষম। যদিও বাজিন্দার দাবি করেছিলেন যে, দরিদ্রদের রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে তিনি এই কাজ করছেন, বাস্তবে ইহাও ছিল একটি আদ্যোপান্ত ধর্মান্তরকরণের উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলক কার্যকলাপ। যার মধ্যে ব্ল্যাক ম্যাজিক থাকলেও বিজ্ঞানের নামগন্ধও নেই।
বাজিন্দার সিংহ জলন্ধরে একটি এভানজেলিস্ট প্রোগ্রামে একটি পাঞ্জাবি দম্পতিকে নাকি এইডস রোগ সারিয়েছিলেন স্রেফ তাদের মুখ স্পর্শ করেই! সে সময়ে স্টেজে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজছিল, “শাকারারারা রারারারারা,” তা শুনতে শুনতে “হালেলুইয়া” স্লোগান দিতে দিতে বাজিন্দার সিংহ বলেন, “যা, ভাল হয়ে গেলি। এইডস নামে ঐ শয়তান তোদের দেহ হতে পালিয়েছে।”
এই কথা শুনে এইডস রোগে আক্রান্ত দম্পতির আনন্দাশ্রু চলে আসে। তারা রোগমুক্তির আনন্দে নাচতে নাচতে বলতে থাকেন, “হালেলুইয়া!”
এক কথায় আধুনিক বিজ্ঞান যা করতে অক্ষম, তা করতে সক্ষম দ্য গ্রেট বাজিন্দার সিংহ।

৪. ধর্মান্তরকরণের মহাযুদ্ধ

এরপরের ভিডিও দেখুন। এবার সাধারণ বিজ্ঞানের নিয়মকে ‘চ্যালেঞ্জ’ জানানো হচ্ছে অদ্ভুত সব উপায়ে। এবার একটামাত্র রোগী নয়, চেন্নাইয়ের একটি চার্চের প্যাস্টর জর্জ মিনিস্ট্রিস একটি এভানজেলিস্ট প্রোগ্রামে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি একসাথে অসংখ্য রোগীকে সারিয়ে তুলবেন। এবং এও বলছেন তার নাকি একসাথে অনেক রকম রোগে ভোগা ব্যক্তিকে নিরাময় করার ক্ষমতা আছে।


এরপর যা হল, তা চমকপ্রদ। স্টেজে বেশ কয়েকটি বিভিন্ন মারণ অসুখে ভুক্তভোগী রোগীকে স্ট্রেচারে করে এনে মেঝেতে শুইয়ে দেওয়া হল। জর্জ মিনিস্ট্রিস নাটকীয় ভঙ্গিতে ঘুরে ঘুরে বলছেন, “হালেলুইয়া! হালেলুইয়া!” আর হাত বোলাচ্ছেন ‘রোগীদের’ সর্বাঙ্গে। এইভাবে এক সময়ে দেখা গেল রোগীরা স্ট্রেচার থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে। ঠিক এই ভাবে জর্জ মিনিস্ট্রিস বিজ্ঞান ও ‘তথাকথিত’ যুক্তিবাদীদের ব্যঙ্গ করতে লাগলেন। তিনি এইভাবেই দরিদ্র হিন্দুদের সস্তা ম্যাজিক দেখিয়ে বোকা বানিয়ে ধর্মান্তরকরণের ন্যক্কারজনক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। কিন্তু যুক্তিবাদীদের মুরোদ নেই তার কাজকে চ্যালেঞ্জ জানাবার।
নিচের ভিডিও দেখুন। কয়েকটি মহিলা ‘রোগী’ সুস্থ হবার পর কিভাবে গড়াগড়ি দিচ্ছে, জর্জ মিনিস্ট্রিসের কৃপায় সুস্থ হবার প্রমাণ দিতে! ভিডিও দেখলে না হেসে পারবেন না। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও হাসির নয়। একটি বিশুদ্ধ কুসংস্কারকে কিভাবে ধর্মের নামে প্রোমোট করে ধর্মান্তরকরণকে কাজে লাগানো আয়, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ ঐ ভিডিও। এতেই শেষ নয়, কয়েকটা প্রতিবন্ধী পুরুষকে দেখা যাচ্ছে তারা ক্রাচ, হুইল চেয়ার ছেড়ে স্টেজে রীতিমত নাচতে শুরু করেছে। ভিডিওতে একেবারে শেষে দেখা যাচ্ছে প্যাস্টর যতবার হাত দিয়ে নাগিন ড্যান্সের ভঙ্গিতে দোলাচ্ছেন, মহিলারা ততই বানরের মত মুখে হুপহাপ শব্দ করে লাফাচ্ছে। দেখে মনে হবে, যেন তারা এক একটা লেজকাটা বানর।
কেউই জানে না, এই ভিডিওর বিষয়বস্তু কি আসল নাকি পুরোটাই সাজানো। যদি জর্জ মিনিস্ট্রিসের এমন ক্ষমতা সত্যিই থাকে, তবে তিনি কেন শুধুই এভানজেলিস্ট প্রোগ্রামেই এমন ক্ষমতার প্রদর্শন করে থাকেন, কেনই বা তিনি বড় বড় হাসপাতালে তার ক্ষমতা দেখিয়ে রোগী সারাচ্ছেন না। এতে তো পয়সা ও সময়ের অপচয় দুইই কমবে।

৫. যুবা ‘জেসাস’ ও তার অলৌকিক ক্ষমতা

শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ নয়, সাথে কচি কচি বাচ্চারাও সস্তা ম্যাজিকের আড়ালে নোংরা ধর্মান্তরকরণের কার্যকলাপ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। যদিও ভারতীয় আইনে নাবালক ও নাবালিকাদের ধর্মান্তরকরণ করা গুরুতর অপরাধ।


নিচের ভিডিও দেখুন। অঙ্কিত রাম বাবু নামে একজন প্যাস্টরকে দেখা যাচ্ছে। তিনি ও তার পিতা রাম বাবু দুজনেই এভানজেলিস্ট প্যাস্টর। দুজনের নামে অনেকগুলি ফৌজদারি অপরাধের মামলা চলছে। দুজনেই বহুকাল ধরে ধর্মান্তরকরণের র‍্যাকেট চালাচ্ছে অন্ধ্র প্রদেশে। দুজনের পেছনে অন্ধ্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই রাজশেখর রেড্ডি ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডির আশীর্বাদ আছে বলে শোনা যায়। অস্বাভাবিক নয়। দুই মুখ্যমন্ত্রীই ছিলেন খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী। ভিডিওতে দুই মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদধন্য অঙ্কিতকে দেখা যাচ্ছে কিভাবে স্পর্শ করে রোগ সারাবার নামে ভণ্ডামি করতে।
বয়সে যুবা অঙ্কিত একেবারে লাইভ স্টেজে একটি নাবালককে স্পর্শের মাধ্যমে কর্কট রোগ ‘নিরাময়’ করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলছেন, “হে পরমপিতা! তুমি নাবালক ও তার পিতার কষ্ট সারিয়ে দাও। আশা করি তোমার কৃপায় এদের সারিয়ে তুলতে পারব।” একটু থেমে অঙ্কিতবাবু বলতে লাগলেন, “আমেন, আমেন!”
ভিডিও ভাল করে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে যে, বয়স কম হতে পারে, কিন্তু এই ম্যাজিকের আড়ালে ধর্মান্তরকরণের ব্যবসায় সে বেশ অভিজ্ঞ। সে যুবা বয়স থেকেই কয়েকশ রোগীকে নিরাময় করেছে বলে দাবি করে। মজা হচ্ছে, প্রায় সব এভানজেলিস্ট ঠিক একই ‘পদ্ধতিতে’ রোগ সারাবার ‘নাটক’ করে থাকে। স্পর্শের মাধ্যমে রোগ নিরাময় করার যে নাটকের আয়োজন এইসব এভানজেলিস্টরা করে থাকে, তাতে কোনও নতুনত্ব নেই, বৈচিত্র্য নেই। যদিও এরা দাবি করে থাকে, জেসাসের কৃপায় এরা এমন কোনও রোগ নেই, যা সারাতে অক্ষম।

৬. স্লো মোশন এক্সোরসিজম

ইংরেজি ভাষায় এক্সোরসিজম শব্দের বঙ্গানুবাদ অনেকটাই ‘ভূতে পাওয়া’ গোছের। নিচের ভিডিও দেখুন, বুঝবেন আমি ঠিক কি বলতে চাইছি।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটি মহিলা কিভাবে চোখ উলটে মুখ বেঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে যেন তাকে ভূতে পেয়েছে। প্যাস্টরের স্পর্শে তার ভূতে পাওয়া যেন সেরে যাচ্ছে, এমনটাই দেখা যাচ্ছে ভিডিওতে। ভিডিওর নাম দেওয়া যেতে পারে — স্লো মোশন এক্সোরসিজম। কেননা পুরো ঘটনা দক্ষিণী সিনেমার মত নাটকীয় রকম ধীরে ধীরে ঘটছে। টুলে বসে মহিলা অনেকটা নাগিন ড্যান্সের মত ভঙ্গিতে প্রায় নাচতে নাচতে সে কিভাবে হস্তদ্বয় খুব আস্তে আস্তে আঘাত করে চলছে। তার অদ্ভুত ভঙ্গিমা দেখে দর্শকরা খুবই বিস্মিত বোধ করছে। কেউ কেউ বলে উঠছে, “কি ব্যাপার রে ভাই, মেয়েটাকে ভূতে পেয়েছে নাকি?” মহিলাটি এমনভাবে বেঁকেচুরে দেহকে মোচড় দিতে শুরু করেছে, যেন নিজেই নিজেকে দড়ি দিয়ে বাঁধবে। এইসব করার ফাঁকে সে বলে চলছে, “হালেলুইয়া!”এইভাবে ধীরে ধীরে শরীরকে বাঁকাতে বাঁকাতে এক সময়ে টুল থেকে পড়েই গেল। তারপরেও সে না থেমে গড়াতে লাগল, যেন গড়াগড়ি খাওয়া আলুর বস্তা।


কিছুক্ষণ এভাবে চলার পর মহিলা হঠাৎ স্থির হয়ে গেল। তারপর স্বাভাবিক ভাবে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “আমেন।” বোঝা গেল, সে ‘ভাল’ হয়ে গিয়েছে।
দর্শকরা প্রথমে মহিলার অবস্থা দেখে বিস্মিত পরে ব্যাপারটা বুঝতে পেরে হাততালি দিয়ে উঠল। কেউ কেউ বলল, “প্যাস্টরের হাতে যাদু আছে মাইরি। কিভাবে সারিয়ে দিল!”
বাস্তবে কি হয়েছিল, সেটা মোটামুটি ম্যাজিকের কলাকৌশল জানা লোক মাত্রেই বুঝবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বোঝা কঠিন। খৃষ্টান মিশনারীরা এভাবেই রোগ সারাবার নাম করে অতি নিচুমানের ম্যাজিক থুড়ি হিপনোটিজম করে থাকে। এবং এভাবে রোগ ‘সারিয়ে’ তাকে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করে। এরা দেশ জুড়ে প্রতিদিন অগণিত হিন্দুকে খৃষ্টান বানাচ্ছে। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দল বা সরকার এদের অপকীর্তি নিয়ে মুখ খোলার সাহস পায়না পাছে ভোটব্যাঙ্ক বিগড়ে যায়। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে এমন ঘটনা বেশি ঘটছে। উত্তরপূর্বাঞ্চল, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিসগড় ইত্যাদি রাজ্যেও এই প্রকার কুসংস্কার মারফত ধর্মান্তরকরণের খেলা চলছে। কিন্তু বড় বড় হিন্দু সংগঠন এবিষয়ে নীরব। দেখলে মনে হয়, তাদের কিছুই এসে যায় না, কেউ ধর্মান্তরিত হলে। তারা অন্যান্য অপ্রয়োজনীয়, গুরুত্বহীন বিষয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছে।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.