আলিপুরদুয়ার: বনবস্তির দরিদ্র শিশুদের পড়ানোর স্বীকৃতি, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন সুসারি তিরকি

0
31

 ছোটবেলায় পরিবারে অর্থাভাব দেখেছেন তিনি। পড়াশোনা করে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও অভাবের কারণে বেশিদূর এগোয়নি। কম বয়সে বিয়ে হয়েছিল চা বাগানের কর্মীর সঙ্গে। কিন্তু শিক্ষার স্বপ্ন ছাড়েননি আলিপুরদুয়ার জেলার সুসারি তিরকি। নিজের প্রথাগত শিক্ষা অল্প থাকলেও চা বাগানের শ্রমিকদের সন্তান ও বনবস্তির শিশুদের পড়াতেন। সম্বল বলতে নিজের স্বল্প শিক্ষা। আর এইভাবেই বহু শিশুকে অক্ষরজ্ঞান, খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। তাঁর সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন সুসারি তিরকি। 

নিজে উচ্চশিক্ষিত না হলেও হাল ছাড়েননি সুসারি। চা বাগান ও বনবস্তির বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষায় হাতেখড়ি দিয়েছেন সুসারি। এর পাশাপাশি শিশুদেরকে পরিবেশকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন তিনি। খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে, বড়ো হয়ে কিছু করার স্বপ্ন দেখানোর কাজও করে গিয়েছেন নিরন্তর। তাঁর কাছে আসা কিশোর-কিশোরীদের জীবনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন জুগিয়েছেন তিনি। আর তাঁর সেই ব্যতিক্রমী অবদানকে সম্মান জানিয়ে এ বছরে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে সম্মানিত করতে চলেছে ভারত সরকার। আগামী ২৯শে সেপ্টেম্বর স্বয়ং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।

তাঁর স্বামী কালচিনি চা বাগানে কাজ করতেন। দেখতেন ছোট ছোট শিশুরা স্কুল থেকে, শিক্ষার আলো থেকে বহু দূরে। তাদের জন্য কিছু করতে চাওয়া থেকেই এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন। তারপর ২০০৯ সাল থেকে এ বস্তি, ও বস্তি ঘুরে ঘুরে নিরন্তর পড়িয়ে গিয়েছেন বনবস্তির শিশুদের। অক্ষরজ্ঞান, পরিবেশের জ্ঞান, ছড়ার মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনেছেন বহু শিশুকে। আজ তাঁর সেই পরিশ্রম স্বীকৃতি পাওয়ায় খুশি তিনি। সুসারি জানিয়েছেন, ‛আমি শুধু ওদের মধ্যে স্বপ্ন গড়ে দেওয়ার কাজ করে গিয়েছি’। 

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.