পাকিস্তান: ২০২০ সালে পাকিস্তানে ধ্বংস হওয়া ও আক্রান্ত মন্দিরের তালিকা

0
341

© শ্রী সূর্য শেখর হালদার

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিকভাবে ভারতে সংখ্যালঘুদের উপর হওয়া অত্যাচারের অভিযোগ জানিয়ে ভারতকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু কদাচিৎ তিনি নিজের দেশের দিকে তাকিয়ে দেখেন। পাকিস্তান এমন একটা দেশ যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যেমন হিন্দু, শিখ ও খ্রিস্টানগণ রীতিমতো অস্তিত্বের সংগ্রাম করে চলেছেন। পাকিস্তানে হিন্দু মেয়েদের বিশেষত নাবালিকাদের বলপূর্বক অপহরণ, ধর্ষণ এবং বিবাহ যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেটা রীতিমতো আশংকার ব্যাপার। কিন্তু তবুও পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার মাত্র 2.14% হিন্দু জনতার উপর নাশকতামূলক আক্রমণ বিন্দুমাত্র কমেনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি, ব্যবসা এবং মন্দিরের উপর আক্রমণ ক্রমশই এই প্রতিবেশী দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত 2020 সাল থেকে কিভাবে হিন্দু মন্দির গুলির উপর আক্রমণ চলছে তার একটি বিবরণ তুলে ধরার চেষ্টা করা হল।

পাঞ্জাব প্রদেশে আক্রান্ত গণেশ মন্দির

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গণেশ মন্দির ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। রহিম ইয়ার খান জেলার ভোঙ শহরে মুসলিম জনতা মন্দিরটি আক্রমণ করে।

লাঠি, পাথর এবং ইট নিয়ে স্থানীয় এলাকার ধর্মীয় সংখ্যাগুরু মুসলিমরা এই আক্রমণ সংঘঠিত করে। মন্দিরের একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং বিগ্রহ অপবিত্র করা হয়।

ইসলামাবাদে নির্মীয়মাণ মন্দির ভাঙচুর

বিগত বছরের জুলাই মাসে ইসলামাবাদ শহরে নির্মীয়মান শ্রীকৃষ্ণের একটি মন্দির ভাঙচুর করা হয় । এটি ইসলামাবাদের প্রথম হিন্দু মন্দির হতে যাচ্ছিল । কিন্তু এই মন্দিরের বাউন্ডারি দেওয়াল ভেঙে দিলে Capital Development Authority মন্দির নির্মাণ বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য যে মন্দিরের প্রাচীর গুলি স্থানীয় মুসলিমরাই ভেঙে দেয় । প্রথমে নগর কর্তৃপক্ষ মন্দির নির্মাণ অনুমোদন করে এবং তারা মন্দির নির্মাণের জন্য তহবিল গঠন করে। কিন্তু পরে তারাই আবার বলে যে সরকারি তহবিল থেকে কোন নির্মাণ হলে, সেটি Council of Islamic Ideology দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য এটি হল সরকার অনুমোদিত একটি সংস্থা যারা সরকারকে ধর্মীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে। এখন হিন্দু পঞ্চায়েত তাদের নিজেদের খরচে এই মন্দির নির্মাণ চালাচ্ছে।

দেশবিভাগের পূর্বে নির্মিত হনুমান মন্দির ভাঙচুর

বিগত বছরের আগস্ট মাসে খবর পাওয়া যায় যে এটি নির্মাণ সংস্থা দেশবিভাগের পূর্বে নির্মিত একটি হনুমান মন্দির ধ্বংস করে দেয়। এটি পাকিস্তানের লিয়ারির ঘটনা। স্থানীয় হিন্দুরা বলেন যে ওই নির্মাণ সংস্থা কথা দিয়েছিল যে নির্মাণের জন্য কোন মন্দির ভাঙ্গা হবে না।

ছবি: ধ্বংস হওয়া হনুমান মন্দির

কিন্তু 16 আগস্ট 2020 দেখা যায় যে মন্দিরটি ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন যে নির্মাণ সংস্থাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের ঠকিয়েছে। তিনি আরো বলেন,
” আমরা চেষ্টা করেছিলাম মন্দিরে প্রবেশ করার , কিন্তু নির্মাণ সংস্থার মালিক আমাদের বাধা দেয়।”

মন্দিরের চারপাশে যে 18টি হিন্দু পরিবার বাস করে , তারা জানায় যে ছোটবেলা থেকেই তারা এই মন্দিরে আসা-যাওয়া করত।

শ্রীরাম মন্দির আক্রমণ

গত বছরের অক্টোবর মাসে সিন্ধ প্রদেশের নগরপার্কারের রাম মন্দিরে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। দুষ্কৃতীরা হিংলাজ মাতার বিগ্রহের মাথা ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মন্দির অপবিত্র করে । দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা যায়নি।

পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার বিষয়ক মুখপাত্র শ্রীমতি আনিলা গুলজার বলেন যে সিন্ধ প্রদেশের
428টি মন্দিরের মধ্যে আর মাত্র 20টি মন্দির অবশিষ্ট আছে।

খাইবার পাখতুনিস্তান প্রদেশের মন্দির ভাঙচুর

গত বছর ডিসেম্বর মাসে শতাধিক পাকিস্তানি জনতাকে খাইবার পাখতুন প্রদেশের একটি হিন্দু মন্দির পড়াতে এবং ভাঙতে দেখা যায়। যে মন্দিরটা আক্রান্ত হয়, সেটি হল কারক’স তেরি ইউনিয়ন কাউন্সিলে অবস্থিত কৃষ্ণ মন্দির । শতাধিক বাসিন্দা মন্দিরের ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং তারপর হাতুড়ি অন্যান্য যন্ত্রপাতি সহযোগে মন্দিরের দেয়াল ভাঙ্গে। তথ্য সূত্র অনুযায়ী মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল গুরু শ্রী পরমহংস দয়াল এই স্থানে 1919 খ্রিস্টাব্দে সমাহিত হলে। তবে মুসলিম বাসিন্দারা 1947 সালে দেশ ভাগের পর মন্দিরটি বন্ধ করে দেয়। 2015 সালে মন্দিরটি খোলা হয় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলে।

দুঃখজনক ঘটনাটি হল খাইবার পাখতুন প্রদেশের সরকার এই বছরের জুলাই মাসে 350 জন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলা তুলে নেয়। এরা সবাই মন্দির পোড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল। সরকারের দাবি যে হিন্দু জনতা ঐ অভিযুক্তদের ক্ষমা করে দিয়েছে।

রাওয়ালপিন্ডিতে 100 বছরের পুরনো মন্দির আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা

পাকিস্তানের সৈন্য শিবির যেখানে রয়েছে , সেই রাওয়ালপিন্ডি শহরে এই বছরের মার্চে মাসে একদল উন্মত্ত জনতা একটি 100 বছরের পুরনো মন্দির আক্রমণ করে । মন্দিরটিতে তখন সংস্কার কার্য চলছিল। 12 জন উন্মাদ জনতার একটি দল মন্দিরের মধ্যে বলপূর্বক প্রবেশ করে এবং মন্দিরের প্রধান দরজা, দোতলার আরেকটি দরজা এবং সিঁড়ি ভেঙে দেয়।

মাতা রানি ভাটিয়ানী দেবী মন্দিরে আক্রমণ

গত বছর জানুয়ারি মাসে উন্মত্ত মুসলিম জনতা সিন্ধ প্রদেশের থারপারকারের মাতা রানি ভাটিয়ানী দেবী মন্দির আক্রমণ করে। আক্রমণকারী জনতা কিছু পবিত্র পুস্তকে আগুন লাগিয়ে দেয়। খবরে প্রকাশ উন্মাদ জনতা দেবীর বিগ্রহ অপবিত্র করে এবং বিগ্রহের মুখে কালি লাগিয়ে দেয়।

ইন্ডিয়া টুডে’র একটি সংবাদ অনুযায়ী পাকিস্থানে 365 টি হিন্দু মন্দিরের মধ্যে মাত্র 13টি নিয়ন্ত্রণ করে Evacuee Trust Property Board।
65টি মন্দিরের দায়িত্ব রয়েছে ধর্মীয় কারণে আক্রান্ত, অসহায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর। আর বাকি গুলি জমি মাফিয়ারা ইতিমধ্যেই অধিকার করেছে।

Image credits: OpIndia

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.