আলিপুরদুয়ার: ভিনধর্মী প্রেমিকার পরিবারের হুমকির পরেই হিন্দু কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার, ছেলেকে খুন করার অভিযোগ মায়ের

0
104

পাশের গ্রামের এক মুসলিম সহপাঠীর প্রেমে পড়েছিল আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট থানার অন্তর্গত দক্ষিণ খয়েরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সৌমিত্র বর্মণ(১৭)। এই বছরই উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছিল সে। স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষা নিয়ে জীবনে আরও এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু তাঁর আগেই শ্মশানের ধারে উদ্ধার হলো তাঁর মৃতদেহ। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, আগেই হুমকি দিয়েছিল মুসলিম বান্ধবীর পরিবার, আর তাঁরাই খুন করেছে সৌমিত্রকে। অভিযোগের ভিত্তিতে মুসলিম বান্ধবীর বাবাকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

হুমকি দেয় মুসলিম বান্ধবীর পরিবার

জানা গিয়েছে, দক্ষিণ খয়েরবাড়ির পাশের গ্রাম ইসলামাবাদ। সেই গ্রামেই বাড়ি ওই মুসলিম বান্ধবীর। তাঁরই প্রেমে পড়েছিলেন সৌমিত্র। কিন্তু প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন ওই মেয়েটি। আর তারপরেই সৌমিত্র মেয়েটির নামে ফেসবুকে প্রোফাইল খোলে। পরে অবশ্য প্রোফাইলের নাম পাল্টে দেয় এবং ছবিও মুছে দিয়েছিল সে। আর তা জানার পরেই ওই কিশোরের বাড়িতে উপস্থিত হন বান্ধবীর বাবা-মা।

শ্মশানে উদ্ধার মৃতদেহ

সৌমিত্রর পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার কিশোরীর বাবা-মা বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে যান। ছেলেকে সাবধান করে দেওয়ার কথা বলেন। এদিকে মেয়েটির বাবা-মা আসার কথা শুনে বাড়ি ফেরেনি সে। তারপরেই শনিবার সকালে বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে উত্তর দেওগাঁওয়ের শ্মশান থেকে সৌমিত্র বর্মণের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহ উদ্ধারের খবরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ভিড় করেন প্রচুর মানুষ।

ছেলেকে খুন করা হয়েছে, অভিযোগ মায়ের

মৃতদেহ উদ্ধারের খবর শুনে ছুটে আসেন সৌমিত্রর পরিবারের লোকজন। তাঁরা দেখেন যে সৌমিত্রর মৃতদেহ মাটিতে পড়ে রয়েছে। তাঁর গলায় পাটের আঁশ জড়ানো। আর পাটের আঁশের একপ্রান্ত পাশের সেগুন গাছে বাঁধা। ছেলের দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা। তাঁর অভিযোগ, মুসলিম বান্ধবীর বাবা-ই তাঁর ছেলেকে খুন করেছে। স্থানীয়দের কথায়, পাট যে উঁচুতে বাঁধা ছিল তাতে এটা মনে হচ্ছে যে ওই কিশোরকে খুন করে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার মুসলিম বান্ধবীর বাবা

ইতিমধ্যেই মাদারিহাট থানায় কিশোরীর পরিবারের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন সৌমিত্রর জেঠু সুকেশ বর্মণ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বান্ধবীর বাবাকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে এলেই এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.