তালেবানের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে জঙ্গিগোষ্ঠীদের আরো উৎসাহ যোগাবে

0
64

© শ্রী রঞ্জন কুমার দে

দুই দশক পেরিয়ে আফগানিস্তানে আবার তালেবানি পদধ্বনি নিশ্চিত কায়েম হতে চলছে।মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো-বাইডেন সম্প্রতি ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার দিন নির্ধারিত করার সিদ্ধান্তে তালেবানরা এতোটাই উজ্জীবিত হয়ে পড়েছে যে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তাহারা দেশটির ৮৫ শতাংশ এলাকা কব্জা নিজেদের করে নিয়েছে।তালেবানদের এই প্রত্যাবর্তনে সবচেয়ে আশঙ্কিত এবং অখুশি দেশটির সাধারণ জনগণ ,কারণটা যে অতীত খুবই নির্মম।তালেবান শাসনে তাদের গবাদি পশুর মতো দিন অতিবাহিত করতে হতো, তালেবানি আইন প্রাক-ইসলামিক পশতুন আদিবাসী রীতি ও সৌদি মাদ্রাসার পৃষ্টপোষকতার ওয়াহাবি ভাবাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত আইনে পুরুষদের দাঁড়ি রাখা ও মহিলাদের হিজাব পরিধান বাধ্যতামূলক ।প্রতিবন্ধকতা ছিলো টেলিভিশন দেখায়, গান শোনায় এবং সিনেমায়, ১০ বছর বয়সী মেয়েদের পড়ালেখা নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলো তালেবানি সেই সরকার।সামান্য চুরির অপরাধে ঘোষিত হতো মৃত্যুদণ্ড।২০০১ সালে তালেবান নিধনে মার্কিন ন্যাটো সৈন্য হামলার গোলা-বারুদে জঙ্গিদের সাথে সেই আফগানি কয়েকলাখ সাধারণ জনতার জীবন দিতে হয়, তাহারা অনেকে হয়ে যায় বাস্তুহারা এবং প্রতিবেশী দেশের রিফুজি।
১৯৯৬ সালে তালেবানরা প্রথমে আফগানিস্তান শাসনে পদার্পন করেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নজিবুল্লাকে প্রকাশ্যে লেম্পপোস্টে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে দেওয়া হয়,পরের শাসন ব্যবস্থার কথা আগেই উল্লেখ করেছি।কিন্তু তাদের এই সুখ ক্ষণস্থায়ী ছিলো,২০০১ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বরে আমেরিকার টুইন টাওয়ারে আল-কায়দা জঙ্গিক্রমন করলে মার্কিন প্রশাসন তালেবানকে আফগানিস্তানে আশ্রয়স্তিত সেই দোষী আল-কায়দাদের তাঁদের কাছে সমঝে দিতে আহ্বান জানায় কিন্তু তালেবান সেটা অস্বীকার করায় খুব শীঘ্রই মার্কিন-ন্যাটো যৌথ সামরিক আক্রমণে খুব শীঘ্রই তাহারা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যায়।উল্লেখ্য যে , এই ৫ বৎসরের তালেবান সরকারের শুধু পাকিস্তান, ইরান এবং সৌদি সরকারের স্বীকৃতি ছিলো।মার্কিন-ন্যাটোর উপস্থিতিতে আফগান সরকারের আমলে মানুষ তুলনামূলক সুখী থাকলেও দীর্ঘ দু-দশকে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটে।স্থানীয় তালেবানরা ক্রমশঃ সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সচেষ্ট থাকে।পাকিস্তান, ইরান পরাজয়ী তালেবানদের অর্থ, অস্ত্র সহ রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে পরোক্ষ মদত করতে থাকে।সেই সঙ্গে বিশাল আফিম চাষের অর্থ,বিভিন্ন রকম তোলাবাজিতে তাহারা বিগত বিশ বৎসরে ব্যবধানে ফুলেফেঁপে উঠে।তৎকালীন সময়ে প্রত্যকটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরমাণু শক্তিধর মুরব্বি রাষ্ট্রগুলি জঙ্গিবাদ নির্মূলে বদ্ধপরিকর থাকলেও কালের বিবর্তনে আজ তাহারাই লাল কার্পেটে তালেবানদের সাথে গোল টেবিল বৈঠক করছে।জন বাইডেন মার্কিন ন্যাটোর ২০ বৎসরের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের আকস্মিক ইতি টানায় স্বাভাবিক প্রশ্নমুখী, কিন্তু বাইডেন সহজভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন আমেরিকার ছেলেদের (সৈন্যদের) তিনি আর মৃত্যুঝুঁকিতে রাখতে পারেন না, তবে স্থানীয় সাধারণ আফগান নাগরিক মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তে খুব বিচলিত।বাইডেনের যুক্তিতে ৭৫ হাজার তালেবানি সদস্য কোনভাবেই তিন লাখ আফগান নিরাপত্তা কর্মীর সামনে হুমকিস্বরূপ হতে পারে না।মার্কিনদের হয়ে কাজ করা এমন আফগান কর্মীদের জন্য ২৫০০ অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, সেনা প্রত্যাহারের পরেও আফগানিস্তানে বিশেষ নিরাপত্তায় প্রায় ৬৫০ থেকে হাজার মার্কিন সেনা সচেষ্ট থাকবে।আমেরিকার সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপে তাঁদের দেশের অধিকাংশ মানুষ আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের স্বপক্ষে ছিলো।বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তালেবানদের সাথে যুদ্ধবিরতির সন্ধি স্থাপন করে গিয়েছেন।২০০১ সালের পর আফগানিস্তানে প্রায় ৩০০০ মার্কিন সেনা নিহত হন এবং ২০,৬৬০ সেনা আহত।দীর্ঘ বিশ বৎসরে তালেবানদের উৎখাতে অন্ততপক্ষে দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে।এতো আত্মত্যাগের পরও আমেরিকার পিঠ দেখানো তথা সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে নিঃসন্দেহে তাঁদের পরাক্রমতা আবার প্রশ্নবিদ্ধ হলো!তবে আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে বিভিন্ন জেহাদি এবং মুজাহিদীন গোষ্ঠী তথা আল-কায়দা, তালেবান, লস্কর-ই-তৈয়বা,আইএসআইএস,বোকো হারাম প্রভৃতি সকল এই জাতীয় জঙ্গি সংগঠন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অরাজকতার নতুন লাইসেন্স রিনিউ করলো। উল্লেখ্য যে ১৯৭১ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনামে মিত্রদের এবং ১৯৭৫ সালে চীন সমর্থিত উগ্র কমিউনিস্ট খেমাররুজদের হাতে কম্বোডিয়াকে এরকম আমেরিকা কার্যত একা ছেড়ে এসেছিলো যাহার পরিণাম খুব নৃশংসতর হয়েছিলো।
বাইডেন প্রশাসন প্রকাশ্যে তালেবানদের অস্তিত্বকে স্বীকার না করলেও তাঁদের নিজেদের বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রে অনুমান তালেবানরা অন্তত ৬ মাসের মধ্যে শাসনে ফিরছে।আশ্চর্যজনকভাবে রাশিয়া, চিনের মতো শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোও সামান্য ধর কষাকষিতে তালেবানদের সকল চাহিদায় নত মস্তকে জি হুজুর করতে বাধ্য হচ্ছে।১৯৭৯ সালে রুশ আফগান আক্রমণ করে মোটামুটি ৯ বৎসর তাঁদের সেনা সেখানে অবস্থান করলেও তৎকালীন সময়ে পাক-মার্কিন দ্বৈত সাজেশে সেখান থেকে ফিরতে হয়েছিলো।এখন তালেবান শঙ্কায় রুশ ইতিমধ্যে উত্তরী আফগানিস্তানে মাজার-ই-শরীফে নিজেদের বানিজ্যিক দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা করে দিয়েছে।রাশিয়া চায় না আফগান ইস্যুতে শুধু আমেরিকাই হস্তক্ষেপ করুক, রুশও আফগান সমঝোতায় নিজেদের ভাগিদারী চাইছে।রুশ তালেবান প্রত্যাবর্তনে এজন্য চিন্তিত যে আফগানিস্তান যেন ইসলামী কট্টরপন্থার গড় না হয়ে যায়! রাশিয়া সীমান্ত সরাসরি আফগানে না লাগলেও মধ্যে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান সীমান্ত উভয় দেশের ঘাঁ ঘেঁষাঘেঁষি।তাই আফগানিস্তানে মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদী শক্তি আচানক মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে মধ্যে এশিয়ার এই মুসলিম দেশগুলো প্রভাবিত হতে পারে এবং রাশিয়ার জন্য হতে পারে হুমকিস্বরূপ।তবুও তালেবান নেতৃত্ব বারংবার রাশিয়াকে আশ্বস্ত করছে যে তাদের বুটের ছাপ আফগানিস্তানের বাইরে পড়বে না এবং তাদের মাটি প্রতিবেশী কোন মধ্যে এশিয়ার দেশের হিতের বিপরীতে ব্যবহৃত হবে না। তাই রাশিয়াও ঘোষণা করেছে এরকম হলে তাহারাও আফগানিস্তানে তালেবান ইস্যুতে কোনরকম হস্তক্ষেপ করবে না, তার মানে এই দাঁড়ালো যে তালেবানরা কয়েকটিমাত্র শর্তপূরণে আফগানিস্তান জঙ্গিবাদের পুরো আঁতুরঘর বানালেও রাশিয়ার কোন দায়বদ্ধতা থাকলো না!আল-কায়দার উপদ্রবে চীন এই কারণে এতো চিন্তিত যে তাদের আশঙ্কা সিনজিয়াং প্রান্তে সংখালগু উইগো সম্প্রদায়ের সক্রিয় আলগাবাদী সংগঠন ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট (ETIM) প্রতিবেশী তালেবানদের আশ্রয়স্থলে শরণাপন্ন হতে পারে এবং বেড়ে যেতে পারে জঙ্গিবাদ।উল্লেখ্য যে চীন আফগানিস্তানকে Bolt and Road Initiative (BRI) এর আওতায় এনে সেখানে বৃহত্তর নিবেশে আগ্রহী।তালেবান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে চীনকে অকৃত্রিম বন্ধু আখ্যায়িত করে খুব তাড়াতাড়ি আফগান পুনঃনির্মানে চীনের হস্তক্ষেপ চায় এবং চীনকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে কোনভাবেই সিনজিয়াং থেকে উইগুর আলগাবাদীদের আফগানিস্তান প্রবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।মূলত রাশিয়া, চীনকে নিজেদের গোটে টানার তালেবানদের মুখ্য উদ্দেশ্য এই যে আমেরিকাকে চতুর্মুখী কোণঠাসা, তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হাসিল করা এবং অবশ্যই আর্থিক সহযোগিতা। পাকিস্তান মার্কিন প্রশাসনকে আফগানিস্তানে তালেবান নিধনে সামরিক সহযোগিতা করেছিলো সত্যি কিন্তু সেটা পাকিস্তানের একান্ত বাধ্যবাধকতা ছিলো, কারণ তৎকালীন বুশ প্রশাসন পাকিস্তানকে সরাসরি দুইটির একটি পছন্দ বেছে নিতে বলেছিলো। সেই প্রথম প্রস্তাবে আমেরিকাকে সামরিক সহায়তার বিনিময়ে আর্থিক অনুদান এবং দ্বিতীয়তে আফগানিস্তানে মার্কিন আক্রমণের সঙ্গে পাকিস্তানকেও ধুলিষ্যতের হুমকি। তাই অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও পাক সরকারকে কিছুটা বেকফুটে গিয়ে তালেবানদের বিপরীতে কাজ করতে হয়েছিলো।পাক-তালেবানদের মৌলিক আদর্শ মূলত একই, উভয়ই কট্টর ইসলামী মৌলবাদে বিশ্বাসী এবং কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ঘোর বিরোধী।তাই অনুমান করা যাচ্ছে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং পাক-মার্কিন শান্তি চুক্তি অবসানে আইএসআই এর তালেবান পৃষ্ঠপোষকতা সার্বজনীনভাবে দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা।যদিও পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জামাত-উল-দাওয়া জঙ্গি সংগঠনে আইএসআই এর সহায়তায় আফগানিস্তানে তালেবানদের হাত শক্ত করেছে সত্যি কিন্তু আফগানিস্তানের তহরিক-এ-তালেবানের প্রবক্তা সুহেল শাহীন পাকিস্তানকে তালেবানের উপর তানাসাহি এবং জবাবদিহিতায় সাফ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।উদাহরণস্বরূপ তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান (TTP)এই জুলাই মাসে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন সমিত ১৫ জন সেনাসদস্যকে মৃত্যুকোলে পৌঁছে দেয়।২০০৭ সালে ১৩টি জঙ্গি সংগঠন মিলে এই তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের আত্মপ্রকাশের মুখ্য উদেশ্য ছিলো শরিয়া আইনের ভিত্ত্বিতে পাকিস্তানকে আরো কট্টর ইসলামিক শাসনে উপস্থাপিত করা।

ভারত এমনিতেই পাকিস্তানের জঙ্গিবাদের অনুপ্রবেশে জর্জরিত, তারমধ্যে আফগানিস্তানে তালেবানি পদধ্বনিতে গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো কাজ করছে।ভারতের বৃহত্তর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অভিলাষ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং ভূ -রাজনৈতিক স্বার্থে আফগানিস্তানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।বিগত দু-দশকে আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারে ভারত প্রায় চারশোরও বেশি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পে ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা ছাড়াও সেখানে দিলারাম-জারাঞ্জ মহাসড়কের ২১৮ কি.মি. দীর্ঘ রাস্তা তৈরী করে দিয়েছে ভারত।কাবুলের নতুন আফগান পার্লামেন্ট ভবনটিও ভারত তৈরী করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলজির নামকরণে উভয়দেশের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের নিদর্শন হয়।মধ্যে এশিয়ার বাজারের গুরুত্ব অনুভব করে ভারত আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে ইরান এবং মধ্যে এশিয়ার সাথে দুটি পাইপলাইন তৈরীর পরিকল্পনায় ছিলো।তবে সাময়িক পরিস্থিতিতে বাজার এবং নিবেশের চেয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ভারতকে বেশি উদ্বিগ্ন করছে, সেজন্য ইতিমধ্যে ভারত তাদের প্রায় ৫০০ জন কর্মীকে অপহরণের ভয়ে ফেরত এনে নিয়েছে।কাশ্মীর লাদাখ ইস্যুতে এমনিতেই ভারত প্রতিবেশি পাকিস্তান এবং চীনের সাথে ওহি-নকুল সম্বন্ধে, তারমধ্যে আফগানিস্তান শত্রু রাষ্ট্রে পরিণত হলে ভারত সত্যি অনেক খারাপভাবে কোণঠাসা হওয়ার সম্ভাবনায়।কারণ অতীতে তালেবান আমলে আফগানিস্তানকে জঙ্গিবাদের আঁতুরঘর তৈরি করে মুজাহিদিনরা কাশ্মীরে এসে জঙ্গি তৎপরতা চালাতো, সেটার পুনঃরাবৃত্তি আবার হতে চলেছে কিনা সন্দেহ!১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বহুলচর্চিত কান্দাহারে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স বিমান অপহরণে পাকিস্তানের আইএসআই এবং তালেবান সরকারের যৌথ সাজেস ছিলো।২০০৮ সালে কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে হামলা এবং ২০১৪ সালের ২৩শে মে মাসে হেরাতে ভারতীয় কনস্যুলেটে হামলার পেছনে তালেবানের সর্বোচ্চ শক্তিশালী অংশ হাক্কানি নেটওয়ার্কের স্পষ্ট ভূমিকা ছিলো।তাই তালেবান বর্তমানে যে হিংসার রাস্তায় পুনঃবার আফগানিস্তানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের চেষ্টা করছে ভারত সেখানেই বিদেশি দেশগুলোর কাছে আপত্তি জানাচ্ছে।

মূলত তালেবান এবং আফগান সরকারের নীতি ও আদর্শ সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।আফগান সরকার উদারবাদী ইসলামিক গণতন্ত্র, ধর্মীয় অল্পসংখ্যক এবং মহিলাদের অধিকারের নৈতিক বিচারধারার আদর্শে বিশ্বাসী।বিপরীত প্রান্তে তালেবানরা কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে ইসলামিক শাসন এবং শরিয়া আইন স্থাপনে অঙ্গীকারবদ্ধ।তাই তালেবানরা আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটা অঞ্চল দখল করেই স্থানীয় ধার্মিক নেতাদের কাছ থেকে সেখানকার অমুসলিম ১৫ বৎসরের মেয়ে যাদের বিবাহ হয় নি এবং ৪৫ বৎসরের বিধবা মহিলাদের ডাটা জানতে চেয়েছে কারণ তাহাদের লড়াকু তালেবানদের সাথে ধর্মান্তরিত করিয়ে বিবাহ করানোর জন্য।দখলকৃত এলাকায় তালেবানরা নারীদের শিক্ষা, চলাফেরায় স্বাধীনতা এবং পোশাক পরিচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা, পুরুষদের বাধ্যতামূলক দাড়ি প্রভৃতি বিষয়ে একঝাঁক নির্দেশনা জারি করে প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে।দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এইসব উত্তর ও মধ্যে আফগানিস্তানের নারীরা তাই অস্ত্র হাতে উঠিয়ে রাজপথে তালেবান উত্থানের বিরোধিতায়।কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কোনভাবেই অন্ধকার যুগের বিচারধারার তালেবান জঙ্গি গোষ্ঠীর সমর্থক হতে পারে না।তালেবানরা এতোই হিংস্র এবং ভারত বিদ্বেষী যে ভারতীয় চিত্রসংবাদিক দানিশ সিদ্দিকীকে গুলিতে ঝাঁজরা করে তাঁর পকেট থেকে ভারতীয় মুসলিম পরিচয়পত্র পাওয়ার পর সেই শবের মাথার উপর একটি গাড়ি চালিয়ে দেয়।যাহারা ভারতে বসে শুধু ধর্মের পরিচয়ে তালেবানদের নৈতিক সমর্থন করছে তাদের কাছে দানিশ সিদ্দিকী একটি স্পষ্ট উদাহরণ।কাবুলের গুরুদ্বারের করতা পরবানের অধ্যক্ষ গুরনাম সিং জানাচ্ছেন তালেবান আতঙ্কে সেখানকার পাঁচটির মধ্যে চারটি গুরুদ্বার ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে,অবশিষ্ট ১৫০ শিখ এবং হিন্দু সম্প্রদায় অসুরক্ষিত।কানাডার খালিস্তানপন্থি শিখ সংগঠন মাম্মিত সিংহ ভুল্লার ফাউন্ডেশন, খালসা এইড কানাডা, ওয়ার্ল্ড শিখ অর্গানাইজেশন ভারত সরকারের কাছে এই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার আর্জি নিয়ে সুরক্ষা ও নাগরিকত্বের অনুরোধ করছে।অথচ এরাই একসময় খালিস্তান মুভমেন্টকে হাওয়া দিতে CAA বিরোধী আন্দোলনে সর্বশক্তি দিয়ে যোগান দিয়ে আসছিলো।সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়া চার জঙ্গির তথ্যের ভিত্তিতে ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ বা হিন্দুস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সামনে রেখে বাংলাদেশের দুই জঙ্গি সংগঠন- জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি),আনসার আল-ইসলাম এবং ভারতের জামাতুল মুজাহিদিন ইন্ডিয়া (জেএমএস) এর মধ্যে যোগসাজেস পাওয়া গেছে।প্রকৃতপক্ষে এইসব প্রত্যেকটি জঙ্গি সংগঠনের সাথে আলকায়দা এবং তালেবানদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে যাহা অন্ততপক্ষে ভারতবর্ষের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।এমনবস্তায় তালেবানরা আন্তর্জাতিক স্তরে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা হাসিল করলে এশিয়া তথা সমগ্র বিশ্বের নিষিদ্ধ সব জঙ্গি সংগঠন তালেবান মডেল অনুসরণ করে প্রগতিশীল সবুজ পৃথিবীটাকে পৌঁছে নেবে অন্ধকার যুগের কালো অধ্যায়ে । সেদিন গৌণ স্বার্থে তালেবানদের ছাড়পত্র দেওয়া দেশগুলি হয়তো একটি ক্ষুদ্র গন্ডির বৃত্তে জড়াবস্তায় পড়ে রইবে!

Source: BBC NEWS
দৈনিক জাগরণ
প্রথম আলো
বাংলা ট্রিবিউন

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.