ধর্ম নির্ণয়ে বেদই প্রমাণ, পুরাণ-স্মৃতি সহায়ক মাত্র

0
38

© শ্রী কুশল বরণ চক্রবর্তী

বিভিন্ন কালের প্রভাবে এবং বিদেশি শাসনে এ গ্রন্থগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক কিছুই প্রবেশ করেছে। এ গ্রন্থগুলি ছিল হাতে লেখা পুঁথি। তাই লিপিকরদের দ্বারা সহজেই অনেক প্রক্ষেপণ হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। তাই মাঝেমধ্যেই শ্রুতি, স্মৃতি এবং পুরাণের বাক্যে বিরোধ দেখা যায়।বিভিন্ন কারণে বেদ স্মৃতি এবং পুরাণের মধ্যে যদি আপাত কোন বাক্যে বিরোধ দেখা যায়। তবে এর সমাধানকল্পে শ্রীকৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদব্যাস তাঁর রচিত ব্যাস সংহিতায় বলেছেন, সকল শাস্ত্রের বিরোধে একমাত্র বেদবাক্যই মান্য।

শ্রুতিস্মৃতিপুরাণানাং বিরোধো যত্র দৃশ্যতে।
তত্র শ্রৌতং প্রমাণন্তু তয়োর্দ্বৈধে স্মৃতির্ব্বরা।।
( ব্যাস সংহিতা :১.৪)

“শ্রুতি, স্মৃতি এবং পুরাণের মধ্যে যদি বিরোধ দেখা যায়, তবে শ্রুতি বা বেদের বাক্যটিই প্রমাণ এবং যেখানে স্মৃতি ও পুরাণের মধ্যে বিরোধ দেখা যায়, সেখানে স্মৃতির বিধানই মান্য।”

মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, পিতৃগণ, দেবগণ, এবং মনুষ্যগণের পক্ষে বেদ সনাতন চক্ষুঃস্বরূপ; বেদের জ্ঞানের আলোর মাধ্যমেই তাঁরা সত্যাসত্য নির্ণয় করে। বেদ পরমেশ্বর কর্তৃক প্রকাশিত অপৌরুষেয়। কোন মনুষ্যের বেদমন্ত্র প্রণয়ন করা সম্ভব নয়। বৈদিক মীমাংসাদিশাস্ত্রের মাধ্যমে অনন্ত বেদতত্ত্বকে কিছুটা অবগত হওয়া যায়। বেদকে অনুসরণ করে অনেক সহায়ক শাস্ত্র, রয়েছে। তবে শাস্ত্রসমূহ সম্পূর্ণ বেদানুগত হতে হবে। যে সকল অর্বাচীন স্মৃতি বেদবহির্ভূত বা বেদবিরুদ্ধ কুদৃষ্টান্তমূলক, তা সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ এই বেদবিরুদ্ধ কূটতর্ক প্রদর্শন করে জগতে হয়ত মানুষকে প্রতারিত করা যায়; কিন্তু মৃত্যুর পরে এ মিথ্যা কূটতর্ক সম্পূর্ণ নিষ্ফল করে অন্ধকারে পতিত করে। শাস্ত্র অবশ্যই বেদমূলক হতে হবে। বেদমূলক হলে তবেই সেই শাস্ত্রকে অনুসরণ করা যায়, নচেৎ নয়। কিন্তু পক্ষান্তরে যে সকল শাস্ত্র বেদমূলক নয়, সেই সকল শাস্ত্র উৎপত্তিমাত্রেই বিনষ্ট হয়।সেগুলো সকলই নিষ্ফল ও মিথ্যা।

পিতৃদেব-মনুষ্যাণাং বেদশ্চক্ষুঃ সনাতনম্।
অশক্যঞ্চাপ্রমেয়ঞ্চ বেদশাস্ত্রমিতি স্থিতিঃ।।
যা বেদবাহ্যাঃ স্মৃতয়ো যাশ্চ কাশ্চ কুদৃষ্টয়ঃ।
সর্বাস্তা নিষ্ফলাঃ প্ৰেত্য তমোনিষ্ঠা হি তাঃ স্মৃতাঃ।।
উৎপদ্যন্তে চ্যবন্তে চ যান্যতোইন্যানি কানিচিৎ।
তান্যর্বাক্কালিকতয়া নিষ্ফলান্যনৃতানি চ ৷৷
(মনুসংহিতা:১২.৯৪-৯৬)

“পিতৃগণ, দেবগণ, এবং মনুষ্যগণের পক্ষে বেদ সনাতন চক্ষুঃস্বরূপ; বেদ প্রণয়ন করা কারও পক্ষে সম্ভব নয় এবং মীমাংসাদিশাস্ত্র-নিরপেক্ষভাবে ঐ বেদশাস্ত্রের তত্ত্ব অবগত হওয়াও অসম্ভব, এটি স্থির সিদ্ধান্ত।”

যে সকল অর্বাচীন স্মৃতি বেদবহির্ভূত বা বেদবিরুদ্ধ এবং কুদৃষ্টান্তমূলক ; সেগুলো তমোগুণে উৎপন্ন বলে মৃত্যুর পরে পরলোকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ফল।

যে সকল শাস্ত্র বেদমূলক নয়, ঐগুলি উৎপত্তিমাত্রেই নষ্ট হয়; সেগুলো সকলই অর্বাচীন বলে নিষ্ফল ও মিথ্যা।”

ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে যে বেদই একমাত্র প্রমাণ এবং
পুরাণ-স্মৃতি সহায়ক মাত্র -এ বিষয়টি সুন্দর একটি উদাহরণ দিয়ে বলা যায়। যেমন বেদের মধ্যে বলা আছে, অন্নই ব্রহ্ম। বেদের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে তৈত্তিরীয় উপনিষদে সুস্পষ্টভাবে বিষয়টি আছে। সেখানে বলা আছে।

অন্নং ব্রহ্মেতি ব্যজানাৎ। অন্নাদ্ধ্যেব খল্বিমানি ভূতানি জায়ন্তে। অন্নেন জাতানি জীবন্তি। অন্নং প্রয়ন্ত্যভিসংবিশন্তীতি। তদ্বিজ্ঞায়।
(তৈত্তিরীয় উপনিষদ: ভৃগুবল্লী, ২)

“অন্নই ব্রহ্ম। অন্ন থেকেই সকল প্রাণীর উৎপত্তি এবং অন্নতেই সবাই বেঁচে থাকে। বিনাশকালে জীব অন্নাভিমুখে প্রতিগমন করে ও অন্নে বিলীন হয়।”

অন্নং ন পরিচক্ষীত৷ তদ্‌তম্। আপো বা অন্নম্। জ্যোতিরন্নাদম্। অপ্ সু জ্যোতিঃ প্রতিষ্ঠিতম্। জ্যোতিষ্যাপঃ প্রতিষ্ঠিতাঃ। তদেতদন্নমন্নে প্রতিষ্ঠিতম্। স য এতদন্নমন্নে প্রতিষ্ঠিতং বেদ প্রতিতিষ্ঠতি৷ অন্নবানন্নাদো ভবতি৷ মহান্ ভবতি প্রজয়া পশুভির্ব্রহ্মবচসেন। মহান্ কীৰ্তা ৷৷
(তৈত্তিরীয় উপনিষদ: ভৃগুবল্লী, ৮)

“এটাই ব্রত যে, তিনি অন্নকে উপেক্ষা করবেন না৷ জলই অন্ন, এবং তেজ অন্নভোক্তা; কারণ তেজঃপুঞ্জমধ্যেই জল অবস্থিত থাকে৷ আবার তেজই অন্ন, এবং জল অন্নভোক্তা; কারণ জলমধ্যেই তেজ অবস্থিত৷ সুতরাং এই পরস্পর নির্ভরশীল জল ও তেজোরূপ অন্নই অন্নেই অন্নে প্রতিষ্ঠিত৷ যে কেউ এই অন্নে প্রতিষ্ঠিত অন্নকে জানেন, তিনি অন্ন ও অন্নাদরূপে স্থিতিলাভ করেন; তিনি প্রচুর অন্নশালী ও অন্নভোজী হন। তিনি সন্তান, পশু ও ব্রহ্মণ্যতেজে মহীয়ান্ হয়ে কীর্তিতেও মহান হন৷”

অন্নাদ্বৈ প্রজাঃ প্ৰজায়স্তে।যাঃ কাশ্চ পৃথিবীং শ্রিতাঃ।
অথো অন্নেনৈব জীবস্তি। অথৈনদপি যন্ত্যস্ততঃ।
অন্নং হি ভূতানাং জ্যেষ্ঠম্। তস্মাৎ সর্বৌষধমুচ্যতে।
সর্বং বৈ তেঽন্নমাপ্লুবন্তি। যেঽন্নং ব্রহ্মোপাসতে।
অন্নং হি ভূতানাং জ্যেষ্ঠম্। তস্মাৎ সর্বৌষধমুচ্যতে।
অন্নাদ্ভূতানি জায়স্তে জাতান্যন্নেন বর্ধন্তে।
অদ্যতেঽত্তি চ ভূতানি। তস্মাদন্নং তদুচ্যতে ৷৷
(তৈত্তিরীয় উপনিষদ:ব্রহ্মানন্দবল্লী, ২)

“যত কিছু জীব আছে, তারা সকলে অন্ন থেকে জাত হয়, অন্নের দ্বারা জীবধারণ করে, এবং জীবনশেষে এই অন্নেই লীন হয়। কারণ অন্নই প্রাণিবর্গের অগ্রে জাত হয়েছিল৷ এই কারণেই অন্নকে সকল প্রাণীর সবৌষধ বলা হয়৷ যাঁরা অন্নকে ব্রহ্ম বা জীবের উৎপত্তি, স্থিতি ও লয়ের কারণ স্বরূপে উপাসনা করেন, তাঁরা সমুদয় অন্ন প্রাপ্ত হন। অন্ন ভূতবর্গের অগ্রে জাত বলে তাকে সর্বপ্রাণীর ঔষধস্বরূপ বলা হয়। অন্ন থেকেই ভূতবর্গ জাত হয় এবং জাত হয়ে অন্নের দ্বারা বর্ধিত হয়৷ তা ভূতবর্গের দ্বারা ভক্ষিত হয় এবং স্বয়ং ভূতবর্গকে ভক্ষণ করে বলে তা অন্ন নামে পরিচিত।”

তৈত্তিরীয় উপনিষদের ব্রহ্মানন্দবল্লীতে আমরা দেখতে পেলাম, সমস্ত জীবের জ্যেষ্ঠ অন্ন। তাই তাকে সর্ব ঔষধরূপ বলা হয়। অন্নকে ব্রহ্মভাবে যারা উপাসনা করেন, তারা অবশ্যই অন্নরূপ ব্রহ্মকে প্রাপ্ত হন।অন্নতেই জগতের সকল জীব জন্মগ্রহণ করে এবং অন্নতেই বর্ধিত হয়।অন্নকে ব্রহ্ম বলে, অন্নতেই সকল প্রাণী জীবিত থাকে, তাই অন্নের নিন্দা করতে নিষেধ করা হয়েছে মন্ত্রগুলিতে। অন্নকে অবহেলা করতে এবং পরিত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং অন্নের উপাসনা করতে বলা হয়েছে। কারণ অন্নতেই জগতের জীব জন্মগ্রহণ করে এবং অন্নতেই বর্ধিত হয়।

বৈদিক অন্ন সংক্রান্ত এ নির্দেশনা থাকার পরেও আমাদের কয়েকটি পুরাণে বিশেষ করে পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে প্রতি ১৫ দিনে একাদশীর দিনে পাপ সকল অন্নে বা খাদ্যে প্রবেশ করে। পুরাণকার এ কথাগুলো বলে, পাপপুরুষের একটি কাহিনী বর্ণনা করেছেন। পদ্মপুরাণের কাহিনীটি হয়ত নেই, কিন্তু এ ধরণের বাক্য আমরা স্কন্ধ পুরাণেও দেখি।স্কন্দ পুরাণ মহাভারতের মত বৃহৎ একটি গ্রন্থ। এটি একটি বৃহত্তম পুরাণ।এতে সারা ভারতবর্ষের তীর্থক্ষেত্রের মাহাত্ম্য বর্ণিত আছে। দুইএকটা ব্যতিক্রমী শ্লোককে বাদ দিলে এ পুরাণটি অসাধারণ। এ পুরাণটিকে পবিত্র তীর্থ সমুহের পূর্ণাঙ্গ একটি কোষগ্রন্থ বলা চলে। পুরাণটির বিষ্ণুখণ্ডে একাদশী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:

সর্বদৈকাদশী পুণ্যা বিশেষাৎ কার্তিকী স্মৃতা।
যানি কানি চ পাপানি ব্রহ্মহত্যাদিকানি চ।।
অন্নমাশ্রিত্য তিষ্ঠন্তি সম্প্রাপ্তে হরিবাসরে।
স কেবলমঘং ভুঙেক্ত যো ভুঙেক্ত হরিবাসরে।।
তস্মাৎ সর্বপ্রযত্নেন কুর্য্যাদেকাদশীব্রতম্।
ন কুর্য্যাদ্ যদি মোহেন উপবাসং নরাধমঃ।।
নরকে নিয়তং বাসঃ পিতৃভি সহ তস্য বৈ।
(স্কন্দ পুরাণ:বিষ্ণুখণ্ড, কার্তিকমাহাত্ম্য, ৩৩.৩২-৩৫)

” একাদশী সর্বদাই পুণ্যের, বিশেষত কার্তিকের একাদশী পুণ্যতরা।ব্রহ্মহত্যাদি যত পাপ আছে তা সকলই হরিবাসরে একাদশীর দিনে অন্নে আশ্রয় করে। সেদিন যারা অন্ন ভোজন করে তারা কেবল পাপই ভোজন করে। অতএব সর্বপ্রযত্নে একাদশীব্রত করবে। যে নরাধম মোহবশতঃ একাদশীতে উপবাস না করে, পিতৃগণ সহ তার নিয়ত নরকে বাস হয়।”

বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত একাদশী একটি শাস্ত্রীয় ব্রত। উপবাসই এর মুখ্যকর্ম। কিন্তু একাদশীকে কেন্দ্র করে এ পাপপুরুষের কাহিনী এবং তৎসংশ্লিষ্ট বাক্যগুলো প্রথমে শ্রুতি বাক্যকে লঙ্ঘন করেছে। এরপরে স্মৃতি প্রস্থান শ্রীমদ্ভগবদগীতাকে লঙ্ঘন করেছে। বেদে যেহেতু অন্নের নিন্দা করতে নিষেধ করা হয়েছে, অন্ন ব্রহ্মস্বরূপ। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, স্কন্দ পুরাণ, পদ্মপুরাণের পাপ প্রবেশের কথা বলে শ্রুতির বাক্যের অবহেলা করেছে। শ্রুতি এবং পুরাণের এ দুইপ্রকার বাক্য একসাথে গ্রহণ করা আমাদের সম্ভব নয়। কারণ, বাক্য দুটি বিপরীতধর্মী। বাক্যটি স্মৃতিকেও লঙ্ঘন করেছে, কারণ শ্রীমদ্ভগবদগীতাতে জগতের সকল খাদ্যকেই চারপ্রকার অন্ন বলা হয়েছে।

অহং বৈশ্বানরো ভূত্বা প্রাণিনাং দেহমাশ্রিতঃ।
প্রাণাপানসমাযুক্তঃ পচাম্যন্নং চতুর্বিধম্।।
( শ্রীমদ্ভগবদগীতা: ১৫.১৪)

“আমিই প্রাণিগণের উদরে বৈশ্বানর অগ্নিরূপে স্থিত হয়ে প্রাণ ও অপান বায়ুর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে চর্ব্য, চোষ্য, লেহ্য, এবং পেয় এ চতুর্বিধ অন্নকে পরিপাক করি।”

জগতের সকল খাদ্যই এ চার প্রকার অন্নের মধ্যে পরে। অন্নে যদি প্রতি ১৫ দিন পরপর একাদশীর দিনে পাপ প্রবেশ করে, তাহলে একগ্লাস জলও খাওয়া যাবে না; কারণ গীতা বা বেদান্তের ভাষ্যানুসারে জলও চতুর্বিধ অন্নের মধ্যে পেয়রূপ অন্ন। জলের মধ্যেও পাপ প্রবেশ করবে। তাই ব্রহ্মবৈবর্ত, পদ্মপুরাণ, স্কন্দ পুরাণ অনুসারে সেদিন জলও পান করা যাবে না। সেক্ষেত্রে অন্ন বলতে উল্লেখ পুরাণগুলি জগতের সকল খাদ্যকে না বুঝিয়ে ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, সরিষা এ পঞ্চ রবিশস্যকে বুঝিয়েছে। এতেই গীতার সাথে বিরোধ হয়েছে। কিন্তু ব্যাসদেব বলেছেন, শ্রুতি, স্মৃতি এবং পুরাণের মধ্যে যদি বিরোধ দেখা গেলে শ্রুতি বাক্যটিই প্রমাণ। এরপরে স্মৃতি ও পুরাণের মধ্যে বিরোধে স্মৃতিই বিধানই প্রমাণ ।

আমরা স্বাভাবিক সেন্সেও বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবতে পারি, এই যে অন্নে প্রতি একাদশীর দিনে পাপপুরুষ প্রবেশ করে এই পাপ পৃথিবীর কোথা থেকে প্রবেশ শুরু করে? যদি আমাদের অপর গোলার্ধে আমেরিকার দিনেরবেলা প্রবেশ করে, তবে সময়টি আমাদের রাত্রিবেলা হয়ে যাবে; আর ভারতবর্ষের দিনেরবেলা প্রবেশ করলে আমেরিকার রাত্রিকাল হবে।পাপপুরুষ কতক্ষণ খাদ্যে থাকবেন, সুর্যোদয় থেকে সুর্যাস্ত, নাকি অষ্টপ্রহর ২৪ ঘন্টা? তিনি কি একজন না বহু? তিনি কি শুধু মানুষের খাবারেই প্রবেশ করে, নাকি মনুষ্যেতর জীবজন্তুর খাবারেও প্রবেশ করে? বিষয়গুলি উল্লেখ্য পুরাণগুলোতে পরিষ্কার নয়।শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত নির্ণয় সম্পর্কে গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের প্রাণপুরুষ শ্রীচৈতন্যদেব বলেছেন:

প্রমাণের মধ্যে শ্রুতি প্রমাণ প্রধান।
শ্রুতি যেই অর্থ কহে সেই সে প্রমাণ।।
প্রণব সে মহাবাক্য ঈশ্বরের মূর্ত্তি।
প্রণব হইতে সর্ব্ববেদ জগৎ উৎপত্তি।।
(চৈতন্যচরিতামৃত : মধ্যলীলা, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ)

অখিল ধর্মের মূল বেদই সনাতন ধর্মের মূল এবং বেদের উপরেই সনাতন ধর্ম ও সভ্যতা সংস্থাপিত। তাই সকল প্রকার শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত নির্ণয়ে বেদবাণীই যে একমাত্র প্রমাণ- এ শিক্ষা শ্রীচৈতন্যদেবই আমাদের দিয়েছেন। এবং যুগপৎ দেখিয়েছেন ওঙ্কার (ওঁ) এ মহাবাক্যই ঈশ্বরের মূর্তিস্বরূপ। সেই ওঙ্কার হতেই সকল বৈদিক জ্ঞান এবং জগতের উৎপত্তি।

লেখক পরিচিতি:

শ্রী কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী
সহকারী অধ্যাপক,
সংস্কৃত বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.