পশ্চিম মেদিনীপুর: মুসলিম যুবতীকে বিয়ে করায় হিন্দু যুবকের পরিবারকে একঘরে করলো গ্রামেরই হিন্দুরা, পাশে দাঁড়ালো ‛হিন্দু সংহতি’

0
67

এক মুসলিম যুবতীকে বিয়ে করায় এক হিন্দু যুবকের পরিবারকে মধ্য যুগীয় কায়দায় বয়কট করার ঘটনা সামনে এলো। যদিও ওই মুসলিম যুবতী বিয়ের পরে স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছে। তারপরেও তাকে বয়কট, একঘরে করে রেখেছে গ্রামেরই হিন্দুরা। শুধু এখানেই থেমে থাকেনি তাঁরা, বিশেষ আলোচনা চেয়ে বৈঠকের ডাকও দিয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের বেনাসুলি এলাকার অন্তর্গত নয়াগ্ৰামের তফশিলী হিন্দু যুবক শঙ্কু চালকের (পিতা- রবীন্দ্রনাথ চালক) সাথে আড়াই বছর পূর্বে স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলো পার্শ্ববর্তী গ্ৰামের রেহানা খাতুন। হিন্দু গৃহবধূ হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছিলো। বিবাহের পর তারা শঙ্কুর কর্মক্ষেত্র গোয়াতে চলে যায়। মাস দুয়েক পূর্বে তারা নয়াগ্ৰামে ফিরে আসে। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।

বর্তমানে কিছু হিন্দু বিরোধী শক্তি তাদের সমাজের কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে শঙ্কুর পরিবার এবং জ্ঞাতিগুষ্টিদের একঘরে করে রাখার প্রয়াস চালাচ্ছে। সনাতনি সমাজের অংশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা মুসলমান থেকে হিন্দু গৃহবধূ হওয়া সেই মেয়েটিকে যেন ওখানকার হিন্দু সমাজ গ্ৰহণ না করে সেটার জন্যে বহু রকম প্রচেষ্টা হিন্দু বিরোধী শক্তিরা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিষয়টি জানা মাত্রই হিন্দু সংহতির দুজন সাধারণ সম্পাদক মুকুন্দ কোলে এবং সাগর হালদার কলকাতা থেকে মেদিনীপুরে পৌঁছে যান। সঙ্গে ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার হিন্দু সংহতির বিশিষ্ট কার্যকর্তা প্রসেনজিৎ দাস। তাঁরা শঙ্কু এবং তার স্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। প্রয়োজনীয় সাহায্য তাদের হাতে তুলে দেন। এটাও জানিয়ে আসেন যে ভবিষ্যতে তাদের পাশে সর্বতোভাবে থাকবেন।

তবে এই আধুনিকতার যুগে এমন ঘটনা বিরল। কারণ সমাজে যখন ধর্মীয় হানাহানি বন্ধে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপনে সমাজের বিশিষ্ট জনেরা যখন ধর্মীয় ভেদাভেদ দূর করার কথা বলছেন, তখন এক মুসলিম যুবতীকে বিয়ে করায় এমন বয়কট মধ্যযুগীয় বর্বরতার সামিল বলে মনে করছেন অনেকে।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.