পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পাশে থাকা ১৮টি হিন্দু মঠ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো ওড়িশা সরকার, নীরব দর্শক বিজেপি

0
124

পুরীর জগন্নাথ মন্দির এবং লিঙ্গরাজ মন্দিরের সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের অজুহাতে মন্দিরের আশেপাশে থাকা ১৮টি প্রাচীন মঠ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো ওড়িশার নবীন পট্টনায়েকের সরকার। আর সরকারের এই পদক্ষেপে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে ওড়িয়া সংস্কৃতি রক্ষায় যুক্ত লোকজনের মধ্যে।

ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাচীন মঠ ও লাইব্রেরি

পুরীর জগন্নাথ মন্দির এবং লিঙ্গরাজ মন্দিরের সৌন্দর্যায়নের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয় ওড়িশা সরকার। সেই মতো প্রয়োজন ছিল প্রচুর জমির। তারপরেই নিশানা করা হয় মন্দিরের আশেপাশে থাকা প্রাচীন মঠগুলিকে। বুলডোজার দিয়ে একে একে ভেঙে ফেলা হয় ১৮টি প্রাচীন মঠ। এদের মধ্যে একটি প্রাচীন শিখ মঠও রয়েছে।

৭০০ বছরের প্রাচীন রাধাবল্লভ মঠ, মনগু মঠ, এমার মঠ, বড় আখড়া, দক্ষিণ পার্শ্ব মঠ, উত্তর পার্শ্ব মঠ সমেত মোট ১৮টি মঠ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই মঠ গুলি প্রাচীন এবং এদের নির্মাণশৈলী প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যের আদলে নির্মিত হয়েছিল।

এছাড়াও এই মঠগুলি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু ছিল। তাছাড়া দূর দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা এইসব মঠ ও আখড়ায় আশ্রয় নিতেন।

ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাচীন গ্রন্থাগার

এমার মঠ-এর পাশে অবস্থিত ছিল ওড়িশার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রাচীন গ্রন্থাগার ‛রঘুনন্দন গ্রন্থাগার’। এই গ্রন্থাগার ওড়িয়া সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার এক জনপ্রিয় কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো। বলা হচ্ছে যে প্রাচীন সাহিত্য ও সংস্কৃতির ওপর বহু দুর্লভ পুঁথি রাখা ছিল এই গ্রন্থাগারে। এছাড়াও, কয়েক লক্ষ প্রাচীন পুঁথি সংরক্ষণ করে রাখা ছিল এই গ্রন্থাগারে। কিন্তু এই প্রাচীন রঘুনন্দন গ্রন্থাগারে বুলডোজার চালিয়েছে ওড়িশা সরকার। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েকশো বছরের প্রাচীন এই গ্রন্থাগার।

দেশের আইনও মানেনি ওড়িশা সরকার

পুরী জগন্নাথ মন্দিরের আশেপাশের মঠে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের আইনকেও তোয়াক্কা করেনি ওড়িশা সরকার। অন্তত এমনটাই জানাচ্ছেন ওড়িশার বহু আইনজীবী।

তাদের কথায় ওড়িশা সরকার দেশের তিনটি আইন – Land acquisition Act, Ancient Monuments Act এবং Places of Worship Act মানেনি। এই মঠগুলির সবগুলি ছিল প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন। পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষনের অনুমতি ছাড়া এইসব প্রাচীন স্থাপত্য ভাঙা সম্পূর্ণ বেআইনি।

এছাড়াও, Places Of Worship Act অনুযায়ী কোনো ধর্মীয় স্থান কোনোভাবেই ভাঙা যায় না। যদি সেই স্থানে ধর্মীয় উপাসনা এবং অনুষ্ঠান হতো, তার কোনরকম স্থান পরিবর্তন কিংবা বদল করা যাবে না। এক্ষেত্রে মঠগুলির মধ্যে নিয়মিত কীর্তন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পূজাপাঠ হতো। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করেই বুলডোজার চালিয়ে দিয়েছে ওড়িশা সরকার।

নীরব রাজ্যের বিজেপি নেতারা

ওড়িশা সরকারের এই অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে একটি শব্দও খরচ রাজ্যের বিজেপি নেতারা। এমনকি ওড়িশা থেকে জাতীয় স্তরে স্থান পাওয়া বিজেপি নেতারাও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। আর বিজেপি নেতাদের এই ভূমিকায় অবাক রাজ্যের ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা।

ওড়িশা থেকে উঠে এসে জাতীয় স্তরে জায়গা করে নিয়েছেন সম্বিৎ পাত্র। পাত্র বর্তমানে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র। তিনিও ওড়িশা সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নীরব। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকা ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্টে মঠ ভাঙ্গাকে সমর্থন করেছেন।

সৌন্দর্যায়নের কাজ কতটা এগিয়েছে?

সৌন্দর্যায়নের নামে মঠ ভেঙে ফেলে পুরী জগন্নাথ মন্দিরের আশেপাশে জমি খালি করলেও ঘোষিত প্রকল্পের কাজ একটুও শুরু হয়নি। মঠ ভেঙে ফেলার পর পড়ে থাকা জমিতে সবজি বাজার বসে গিয়েছে। মঠের জমিতে করা হয়েছিল গাড়ি পার্কিং। আশেপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই, অনেকটা অন্ধকার। মন্দির চত্বরে যথেষ্ট নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। কিন্তু যে সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের অজুহাতে ভেঙেও ফেলা হলো ১৮টি মঠকে, সেই কাজ একচুলও শুরু হয়নি।

Image credits: DOpolitics

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.