প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞান সাধনা- পদার্থ বিজ্ঞান(প্রথম পর্ব)

0
152

 © পন্ডিত সুভাষ চক্রবর্তী

সূর্যের গতি ও দীপ্যমানতা সম্পর্কে ঋক্-বেদের ঋষি বলেছেন–
তরণিঃ বিশ্বদর্শতোজ্যোতিষ্কৃদসি সূর্য। বিশ্বমাভাসি রোচনম্।।(হে সূর্য ! তুমি মহান পথ ভ্রমণ কর, তুমি সকল প্রাণীর দর্শনীয়, জ্যোতির কারণ, ওই দীপ্যমান অন্তরীক্ষে প্রভা বিস্তার করছো।)।

“হিরণ্যগর্ভ- সূক্তে” সূর্যকে বলা হয়েছে–“সূর্য আত্মা জগতস্তস্থূষশ্চ”(সূর্য বিশ্বের সমস্ত জঙ্গম ওস্থাবর পদার্থের আত্মা বা অন্তর্নিহিত শক্তি)
ঋক্-ভাষ্যকার সায়নাচার্য লিখেছেন–সূর্যালোক অর্ধ নিমেষে ২২০২ যোজন পথ  ভ্রমণ করে।পথঃ– ১ যোজন= ৯ মাইল ১১০ গজ= ৯,৬০২৫ মাইল২২০২ যোজন= ২১,১৪৪ মাইল
সময়ঃ–১/২নিমেষ=১/৮.৭৫         =০.১১৪২৮৬ সেকেণ্ডএইভাবে আলোর গতি=১,৮৫,০১৬.১৬৯মাইল/সে:আধুনিক(১৯শতক)মূল্যায়ন:১,৮৬,০০০ মাইল/সেকেন্ড।আলোকের গতি সম্পর্কে ঋষিদের অন্তর্দৃষ্টির কী অসাধারণ দৃষ্টান্ত !!

পদার্থের উৎস :— 
সেই বিমূর্ত কারণ থেকে সৃষ্টি হল দেশ বা স্থান যা থেকে এলো বায়ু,বায়ু থেকে অগ্নি,অগ্নি থেকে জল, জল থেকে পৃথিবী বা মৃত্তিকা(দ্রঃ “তস্মাদ্ বা এতস্মাদ্ আত্মন আকাশঃ সম্ভূতঃ” তৈত্তিরীয় উপনিষদ)। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান সৃষ্টির এই পরম্পরাকে সাজিয়েছে এইভাবে—প্লাজমা(রক্তরস), বাষ্প, শক্তি, তরল, কঠিন। পদার্থ ও শক্তির পারস্পরিক রূপান্তরও স্বীকার করে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান। কার্যকারণঃ—বৈশেষিক দর্শনের মতে–“কারণাভাবাৎকার্যাভাবঃ…”১.২। কারণ >ঘটনা>কার্য । কারণ ছাড়া কার্য হতে পারে না। কিন্তু কার্যের অভাব মানে এই নয় যে কারণের অভাব। উদ্ধৃতিটি এই ঘটনাটিকে দৃষ্টান্ত সহ-যোগে সমর্থন করে–শক্তি  (যাতে ঘর্ষণ না হয় তার চেয়ে কম)প্রয়োগ করুন, পদার্থকেনড়াতে পারবেন না। এই ক্ষেত্রে, কারণ(শক্তি) আছে, কিন্তু কার্য(গতি) নেই।


চুম্বকের প্রকারভেদ :—

১২শ শতকের”রসার্ণব”গ্রন্থেপাতালঅধ্যায়ে(৬,৪০,৪১)বলা হয়েছে “ভ্রামকং চুম্বকং চৈব  কর্ষকং দ্রাবকং তথা…….রোমকান্তঞ্চ পঞ্চমম্”।

চুম্বক  ৫ প্রকার—১.ভ্রামকম্              ২.চুম্বকম ৩.কর্ষকম্ ৪.   দ্রাবকম্ ৫.রোমকম্। 

প্রত্যেক প্রকার আবার ৬টি ভাগে বিভক্ত—ক.একমুখী খ.দ্বি-মুখী গ.ত্রিমুখী ঘ.চতুর্মুখী ঙ.পঞ্চমুখী চ. বহুমুখী। এই ৫×৬= ৩০ প্রকার  চুম্বক ৩ ধরণের রঙের হয়–হলদে,লাল,কালো। অর্থাৎ চুম্বক ৯০ প্রকারের হয়।

একক এবং পরিমাপ :—–

পদার্থবিজ্ঞান হল একটি পরিমাণবাচক/মাত্রিক বিজ্ঞান। এর পদ্ধতি প্রায়শই পরিমাপকে অন্তর্ভূক্ত করে।এতে দরকার হচ্ছে “নির্ধারিতনীতি”কে সংজ্ঞা দেওয়া এবং তারপর বিভিন্ন পরিমাণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কটি প্রকাশ করা। ঐতিহাসিক-ভাবে পৃথিবীতে নানা দেশে মাত্রার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি যা বৈজ্ঞানিক কাজে ব্যবহৃত হয় তা হচ্ছে ক.F.P.S পদ্ধতি যা ব্রিটেনে এবং খ.C.G.S  এবং এর ব্যবহারিকপরিবর্তন, M.K.S.পদ্ধতি যা ফ্রান্সে ব্যবহৃত হয়।     

  ভারতীয় বৈজ্ঞানিকরাও একটি মাত্রা-পদ্ধতি প্রকাশ করেছেন। বাড়ি তৈরি,ধর্মীয় বেদী তৈরি ইত্যাদি বিষয়ে দৈর্ঘ্য পরিমাপের একটি পদ্ধতি যা প্রাচীন ভারতে  প্রচলিত ছিল।

(ক্রমশঃ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.