ব্যক্তি ও বর্ণ বিভাগ: স্বামীজি ও ডাক্তারজীর অভিমত

0
146

© শ্রী সূর্য শেখর হালদার

আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি যে ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয়, বৈশ্য আর শুদ্র চারটি পৃথক বর্ন আর পিতার উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা এই বর্ন লাভ করেছি। কিন্তু সনাতন জ্ঞান বলছে এগুলি একেকটা গুণ। একই মানুষের মধ্যে এই গুণ গুলি বর্তমান থাকে। অর্থাৎ একই ব্যক্তি একই অঙ্গে কখনো ব্রাহ্মণ ,কখনো ক্ষত্রিয়, কখনো বা বৈশ্য বা শূদ্র।

আসুন এই সম্পর্কে স্বামীজি কি বলেছেন সেটা দেখা যাক :

“সত্ত্ব রজঃ তম যেমন সকলের মধ্যেই আছে- কোনোটা কাহারো মধ্যে কম, কোনোটা কাহারো মধ্যে বেশি ; তেমনি ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র হবার কয়টা গুণও সকলের মধ্যেই আছে। তবে এই কয়টা গুণ সময়ে সময়ে কম বেশি হয় । আবার সময়ে সময়ে এক একটা প্রকাশ পায়। একটা লোক যখন চাকরি করে, তখন সে শূদ্রত্ব পায়। যখন দু’পয়সা রোজগারের ফিকিরে থাকে, তখন বৈশ্য; আর যখন মারামারি ইত্যাদি করে তখন তার ভিতর ক্ষত্রিয়ত্ব প্রকাশ পায় । আর যখন সে ভগবানের চিন্তায় বা ভগবৎ- প্রসঙ্গে থাকে, তখন সে ব্রাহ্মণ! এক জাতি থেকে আরেক জাতি হয়ে যাওয়াও স্বাভাবিক । বিশ্বামিত্র আর পরশুরাম- একজন ব্রাহ্মণ ও অপর ক্ষত্রিয় কেমন করে হলো? “
স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনাবলী (প্রথম সংস্করণ) নবম খন্ড: পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪১০

এবার দেখা যাক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা পরম পূজনীয় শ্রী ডাক্তারজীর এই বিষয়ে অভিমত কি ছিল :

সাল ১৯৩৬ l পুনে শাখা l সংঘের মকর সংক্রান্তি অনুষ্ঠানে এসেছেন ডঃ ভীমরাও রামোজি আম্বেদকর l উপস্থিত পরম পূজনীয় ডাক্তারজী l বাবাসাহেব ডাক্তার জী কে জিজ্ঞাসা করলেন, সকল স্বয়ং সেবক কি ব্রাহ্মণ?

ডাক্তার জী উত্তর দিলেন হ্যাঁ, এরা যখন সংঘের ভাবাদর্শের কথা প্রচার করে তখন এরা ব্রাহ্মণ l যখন সাখাতে ব্যায়াম বা খেলা করে তখন ক্ষত্রিয় l যখন সংঘের বিভিন্ন কাজের হিসাব নিকাশ করে তখন এরা বৈশ্য আর যখন শিবিরে স্বছ তার কাজ করে তখন এরা শূদ্র l

বাবাসাহেব বিমোহিত হলেন l

এর অর্থ এই যে আমরা সবাই একই অঙ্গে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য আর শূদ্র l মাথা, হাত, দেহ আর পা সব নিয়েই একটা শরীর l চারটি র কোনটা বাদ গেলে আমরা আর সম্পূর্ণ থাকতে পারবো না l তাই ভেদাভেদ নয় ঐক্যই পৌছতে পারবে আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে l

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.