আলিপুরদুয়ার: নেই সরকারি সাহায্য, বন্ধ পরীক্ষা, জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে সংস্কৃত টোল

0
78

নেই সরকারি সাহায্য। কর্মী নিয়োগও হয়না। পরীক্ষাও বন্ধ বহু বছর ধরে। ফলে জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার পলাশবাড়ীর প্রাচীন সংস্কৃত টোল। একসময় আশেপাশের জেলাজুড়ে সুনাম থাকলেও এখন আর ছাত্র ভর্তিও হয়না। ফলে অবহেলায় একাকী দাঁড়িয়ে আছে সংস্কৃত টোলটি।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৬ সালে সরকারি অনুমোদন পায় আলিপুরদুয়ার শহরের দ্বারিকানাথ চতুষ্পাঠি। প্রথমে তিন বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠে এই সংস্কৃত টোল। মাধ্যমিক পাশের পরেই এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ মিলতো। সংস্কৃত ব্যাকরণ, সাহিত্য, স্মৃতিশাস্ত্র, বেদ ইত্যাদি বিষয়ে পড়ানোর পাশাপাশি পৌরোহিত্য বিষয়ে ডিগ্রি মিলতো এখানে।

জানা গিয়েছে, প্রতিটি বিষয়ে তিন বছরের কোর্স করানো হতো এখানে। অদ্য(প্রথম বর্ষ), মধ্য(দ্বিতীয় বর্ষ) ও তীর্থ(তৃতীয় বর্ষ)- তিনটি ডিগ্রি অর্জন করতে হতো পড়ুয়াদের। তিন বছরের শেষে পড়ুয়ারা পেতেন ‛তীর্থ’ উপাধি। এই টোল থেকেই অনেকে কাব্যতীর্থ, ব্যাকরণতীর্থ ইত্যাদি উপাধি লাভ করেছেন।

কিন্তু বামফ্রন্ট আমলেই টোলের গুরুত্ব কমতে থাকে। সরকারি বরাদ্দ বন্ধ হওয়া শুরু হয়। তাছাড়া, টোল থেকে পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসার অনুমতি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে থাকে সংস্কৃত টোলটি। এদিকে নদীর ভাঙ্গনে টোলের অনেকটাই জমি চলে গিয়েছে। এদিকে সামান্য সরকারি সাহায্য মিলেছে। তৈরি হয়েছে টিনের ঘর। টোলের একজন শিক্ষক সরকারি ডিএ পান। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রী আর আসেন না পড়তে। কারণ ২০০৭ সাল থেকে টোলের পরীক্ষা বন্ধ।

এদিকে স্থানীয় লোকজন দাবি জানিয়েছেন যে এই ঐতিহ্যবাহী টোলের দিকে নজর দিক সরকার। জমি বরাদ্দ হোক, পাকা ভবন তৈরি হোক। পাশাপাশি নতুন শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ হোক। কিন্তু সরকারের নির্দেশ ছাড়াও তা যে সম্ভব নয়, তাও মেনে নিয়েছেন তাঁরা।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.