অনাহারে দিন কাটানো প্রান্তিক পরিবারের মুখে হাসি ফেরালো ‛হিন্দু সংহতি’

0
45

লক ডাউনে বেজায় সমস্যায় পড়েছেন প্রান্তিক ও দরিদ্র হিন্দু পরিবারগুলি। অভাবের তাড়নায় এক প্রকার অনাহারেই দিন কাটছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রান্তিক মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে সেইসব পরিবারগুলোর কাছে চাল, ডাল, ডিম, সোয়াবিন ইত্যাদি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে ‛হিন্দু সংহতি’। এমনই একটি ঘটনার সংবাদ এলো দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা থেকে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট বিধানসভার অন্তর্গত হিলি ব্লকের পাঞ্জুল অঞ্চলের ডুমরণ গ্ৰাম। প্রায় ষাট বছরের বিধবা বৃদ্ধা মিনতি মালোর পাঁচ জনের সংসার। ছেলে চঞ্চল মালো। প্রায় মাসখানেক আগে ঘটা একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। এখনো পা ঠিক হয় নি। বৌমা শিউলি মালো এবং ১০ ও ৫ বছরের দুই নাতনি নন্দিনী মালো এবং টুশু মালো। এমনিতেই পরিবারের আয় খুব সামান্য ছিলো। লকডাউনের ফলে সেটা আরো সামান্য হয়ে গিয়েছে। পাশেই জাতীয় সড়ক। পতিরাম থেকে হিলি হয়ে বিভিন্ন ট্রাক পন্যসামগ্ৰী নিয়ে বাংলাদেশ যায়। যে লরিগুলি পাথর নিয়ে যায় সেগুলিই এই মালো পরিবারের রোজগারের মূল উৎস। চমকে উঠছেন? এটাই সত্যি।

প্রতি ট্রাক থেকে কয়েকটা পাথর পড়তে পড়তে যায়। ১০ ও ৫ বছরের দুই নাতনিকে নিয়ে মিনতি দেবী প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘোরেন ওই পড়ে যাওয়া পাথরগুলি কুড়োতে।সারাদিনে যা পাথর সংগ্ৰহ হয়, সেগুলি বস্তাবন্দি করে, বিক্রি করে যে সামান্য অর্থ আয় হয় তা দিয়ে কোনমতে একবেলা খাবার সংস্থান হয়।কোন কোনদিন হয়তো দুবেলা খাবারের অর্থ জোগাড় হয়। এভাবেই দিন চলছে। “ভারত পোর্টাল” এবং “স্টার সংবাদ, বুনিয়াদপুর” এ ছবি সহ খবরটি দেখানোও হয়েছিলো। তার পরেও হিলি থানা থেকে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ২০০ গ্ৰাম সোয়াবিন, ১/২ কেজি করে তেল ও ডাল ছাড়া আর কোন জায়গা থেকে কোন সহযোগিতা তাদের কাছে পৌঁছায় নি।

পোর্টাল নিউজের ওই খবরটি ফেস বুকের মাধ্যমে গতকাল হিন্দু সংহতির সাধারণ সম্পাদক রজত রায়ের নজরে আসে। তিনি ওই খবরটা যে সাংবাদিক করেছেন তাকে ফোন করে বিষয়টি সম্পূর্ণ শুনে নেন। তারপর পাঞ্জুল অঞ্চলের হিন্দু সংহতির কার্যকর্তা বাপী বর্মণ, মিলন বর্মনদের বলেন যে ওই পরিবারের অবস্থা সম্পূর্ণ যাচাই করে তাদের বাড়ীতে ১৫ দিন চলার মত খাদ্যসামগ্ৰী পৌঁছে দিতে। সেই অনুযায়ী আজ বাপী বর্মণ, মিলন বর্মণরা মিনতি মালোর বাড়ীতে গিয়ে ১৫ জুন অর্থাৎ লকডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের পরিবারের দুবেলা পেট ভরে খাবার মত চাল, ডাল, আলু, ডিম, সোয়াবিন, তেল, নুন ও বিস্কুট (বাচ্চা দুটির জন্য) দিয়ে আসেন।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.