মা কালীর ভক্ত বিপ্লবী রাসবিহারী বসু

0
211

রাসবিহারী বসু- যার নামটাই ছিল ইংরেজদের বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ছিলেন আজন্ম বিদ্রোহী, রণক্লান্ত। স্বপ্ন দেখতেন শিকলের বাঁধনে আবদ্ধ মাতৃভূমিকে মুক্ত করার, স্বাধীন করার। স্বপ্ন দেখতেন কলকাতা থেকে লাহোর পর্যন্ত সেনা অভ্যুত্থানের। মাতৃভূমির মুক্তির স্বপ্নে বিভোর মানুষটি চেয়েছিলেন আজ যোদ্ধাদল গড়তে। জানতেন একাধিক ভাষা। ছদ্মবেশ ধারণ করতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। বহু বছর চেষ্টা করেও ইংরেজ তাঁর নাগাল পায়নি। 

রাসবিহারী ছিলেন গর্বিত বাঙ্গালী

১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ। রাসবিহারী তখন পড়েন চন্দনগরের ডুপ্লে কলেজে। একদিন সেই কলেজেই হইরই কান্ড ঘটে গেল। কারণ কলেজের ছাত্র রাসবিহারী বসু মারধর করেছেন ইতিহাসের শিক্ষক কামালুদ্দীন চৌধুরীকে। কারণ গর্বিত বাঙ্গালী রাসবিহারী বসু ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন ইতিহাস শিক্ষকের মন্তব্যে। কারণ কামালুদ্দীন চৌধুরী ক্লাসে ইতিহাস পড়ানোর সময় মন্তব্য করেছিলেন যে – “মাত্র সতেরোজন অশ্বারোহী নিয়ে বক্তিয়ার খিলজি এদেশ জয় করেছিলেন। কারণ নাকি বাঙ্গালীরা সব ভেড়ুয়া ছিল। শিক্ষকের এই মন্তব্য সহ্য হয়নি রাসবিহারীর। বাঙ্গালীর অপমানের প্রতিবাদে মারধর করেন কামালুদ্দীন চৌধুরীকে। এই অপরাধে রাসবিহারীকে কলেজ থেকে তাড়িয়ে দেন চারুচন্দ্র রায়। জিজ্ঞাসাবাদে রাসবিহারী জানান যে তিনি কামালুদ্দীন চৌধুরীকে বাঙালি মনে করেন না। পরে অবশ্য রাসবিহারী বসু ভর্তি হন কলকাতার কলেজে। 

স্বপ্ন দেখতেন মহাবিপ্লবের, ছিলেন ছদ্মবেশ ধারণে দক্ষ


সিঙ্গাপুর থেকে কবুল পর্যন্ত বিস্তৃত মহাবিপ্লবের পরিকল্পনা নিয়ে লাহোরে বিপ্লবীদের সমবেত হওয়ার কথা ছিল। ১৯/০২/১৯১৫ তারিখে সেই মত অনেক বিপ্লবী সমবেত হয়েছিলেন লাহোরের মোচি গেট এলাকায়। কিন্তু একজনের বিশ্বাসঘাতকতায় ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনা। ইংরেজ সৈন্য ঘিরে ফেলে সেই বাড়ি। উদ্দেশ্য ছিল রাসবিহারীকে ধরা। কিন্তু রাসবিহারী ছিলেন ঠান্ডা মাথার। তিনি হাজার চেষ্টা করেও সময়ে বাঁচাতে পারেননি অন্যান্যদের। কিন্তু বিপ্লবের স্বপ্নের মৃত্যু হতে দিতে পারেন না। সেই মুহূর্তেই ধরলেন কনৌজি ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশ। মাথায় টিকি, কপালে তিলক। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন – দাউদাউ করে পুড়ে যাচ্ছে বিপ্লবের স্বপ্ন। 

ছিলেন মা কালীর ভক্ত

রাসবিহারী বসু ছিলেন মা কালীর ভক্ত। প্রায়শই দক্ষিণেশ্বরে মা কালীর মন্দিরে পূজা দিতেন তিনি। এমনকি যখন ইংরেজ তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছে, তখনও তিনি ছদ্মবেশে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে পূজা দিয়ে এসেছেন। এমনকি জাপানে যাওয়ার পূর্বেও পূজা দিয়েছিলেন মা কালীর পায়ে। এই তথ্য পাওয়া যায় নারায়ণ সান্যাল লিখিত ‛আমি রাসবিহারীকে দেখেছি’ বইতে। 

১৯১৫ সালের ১২ই মে তারিখ ছিল রাসবিহারী বসুর জাপানে যাওয়ার দিন। রাসবিহারী বসু নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। জামাকাপড় নেওয়ার পাশাপাশি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা নিলেন একটি। একটি স্বামী বিবেকানন্দের ফটো নিলেন। সঙ্গের দুটি পিস্তলের একটি দিলেন লাট্টুকে, একটি গিরিজবাবুকে। 

জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি অস্ত্র না নিয়েই যাবেন?

রাসবিহারী উত্তর দিলেন, একেবারে নিরস্ত্র হয়ে যাচ্ছেন না তিনি। জানালেন, গতকাল দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে গিয়েছিলেন। মায়ের প্রসাদী ফুল নিয়ে এসেছেন। বুক পকেট থেকে একটি রাঙা জবা বের করে দেখালেন। 

রাসবিহারী ছিলেন জন্মযোদ্ধা। তাঁর প্রিয় কবিতা ছিল ব্রাউনিঙের ‛Prospice’।

আবৃত্তি করে শোনালেন:-

 “I was ever a fighter, so- one fight moreThe best and the last!

তথ্যসূত্র: –

“আমি রাসবিহারীকে দেখেছি”- নারায়ণ সান্যাল

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.