আসাম: শোণিতপুরে বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ৩টি বস্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন

0
125

আসামে পুনরায় বিজেপির সরকার গঠিত হয়েছে। আর তারপরেই রাজ্যজুড়ে জোরদার অভিযান শুরু হয়েছে বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে। অনুপ্রবেশকারীদের বস্তি আছে, এমন খবর পেলেই জেসিবি নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন প্রশাসনের কর্তারা। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বস্তি।

এবার শোণিতপুর জেলার তিনটি বস্তি জেসিবি দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন। জানা গিয়েছে, ওই বস্তি তিনটিই ছিল বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের। গত ১৮ই এপ্রিল ওই বস্তি উচ্ছেদের অভিযান চালানো হয়।

অনুপ্রবেশকারীদের বস্তি উচ্ছেদ

জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে শোণিতপুর জেলার চতিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের জামগুড়িহাট এলাকার তিনটি গ্রামে উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রশাসন। ওইদিন বিকেলে নদুয়ার সার্কেল অফিসার অক্ষয়দীপ কাকতি বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে এলাকায় পৌঁছে যান। সঙ্গে ছিল জেসিবি। তা দিয়ে একের পর এক বস্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। চৌকিখাট, দিঘলী চাপরী, লালটাপ গ্রামে অভিযান চালায় প্রশাসন। তিনটি গ্রামের বস্তিগুলি ভেঙে ফেলা হয়। বাড়িগুলি বাঁশের বেড়ার হওয়ায় ভাঙতে তেমন বেগ পেতে হয়নি প্রশাসনকে।

জানা গিয়েছে, ৩টি বস্তির মোট ৫০০টি ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি যে ওই বস্তিগুলি বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকাররীদের। বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। তাদের দাবি, আমরা বাংলাদেশি নই। এনআরসি তালিকায় আমাদের নাম রয়েছে। আমরা মুসলিম বলেই সরকার আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে উচ্ছেদ করেছে।

উচ্ছেদের বিরোধিতায় সিপিআইএম-এআইইউডিএফ

বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদের বিরোধিতা কাছে আসাম সিপিআইএম এবং বদরুদ্দীন আজমলের দল AIUDF। রাজ্যে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছে সিপিআইএম। দলের রাজ্য কমিটির সম্পাদক দেবেন ভট্টাচার্য এক বিবৃতি জারি করে বলেন, এই উচ্ছেদ অভিযান অমানবিক ও জনবিরোধী। কোভিড মহামারিতে রাজ্য যখন বিধ্বস্ত, তখন মিথ্যা অভিযোগ তুলে গরিব মানুষদের উচ্ছেদ করা হলো সরকারের স্বৈরাচারী পদক্ষেপ। এদিকে একই ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে বদরুদ্দীন আজমলের দলও। তাদের অভিযোগ, হাইকোর্টের উচ্ছেদ বিরোধী নির্দেশ থাকা সত্বেও মুসলিম পরিবারদের উচ্ছেদ করছে আসাম সরকার।

Image credit: NENow

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.