বাংলাদেশ: হবিগঞ্জে হিন্দু পাড়ায় ইসলামিক জনতার হামলা, নির্বিচারে ভাঙচুর ও লুটপাট

0
128

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরে ইসলামিক মৌলবাদীদের হামলার ঘটনা অব্যাহত। এবারে হবিগঞ্জের হিন্দু পাড়ায় হামলার ঘটনা ঘটলো। মৌলবাদীদের হামলায় ৮-১০ টি হিন্দু বাড়িতে নির্বিচারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। সময়মতো পুলিশ এসে ইসলামিক জনতাকে ছত্রভঙ্গ না করলে আরও বড়ো ঘটনা ঘটতে পারতো।

ঘটনার সূত্রপাত

হবিগঞ্জের হিন্দু সাংবাদিক সুশান্ত দাশগুপ্ত আমার হবিগঞ্জ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন। ওই পত্রিকায় লাগাতার হিন্দু নির্যাতনের ঘটনায় খবর প্রকাশ করতেন তিনি। কয়েকদিন আগেই একটি হিন্দু মন্দিরের জমি দখলের ঘটনার খবর প্রকাশ করেছিলেন সংবাদ পত্রে। তার কারণেই ইসলামিক মৌলবাদীদের টার্গেটে পরিণত হন তিনি। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল ইসলামিক মৌলবাদীরা। এমনকি তাঁর ওপর হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কা করেছিলেন তিনি।

হামলার বিবরণ

গত সোমবার বেলা ১ টার দিকে “সচেতন নাগরিক সমাজ” নামে একটি  সংগঠন “দৈনিক আমার হবিগঞ্জ” পত্রিকা বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং সেই মিছিল থেকে এই তান্ডব চালানো হয় বলে জানা গেছে। হামলা চলাকালীন সময়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিম ও জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি মহিবুর রহমান মাহিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে কয়েকশো ব্যক্তি নোয়াবাদ, শংকরের মুখসহ দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার অফিসের প্রবেশদ্বারে আশেপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়।  জমায়েতের একপর্যায়ে তারা পত্রিকা অফিসে হামলার উদ্দেশ্যে আসতে থাকে, পথিমধ্যে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সুশান্ত দাস গুপ্ত’র শ্বশুরের  বাসায় হামলা চালায়। এসময় তারা বিভিন্ন দরজা জানালা, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে লুটপাট চালায়। এমনকি কয়েকটি বাড়ির জলের ট্যাংক ও পাইপ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।  আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পর লুটপাট করা হয় মূল্যবান স্বর্ণালাকার, নগদ টাকা, ব্যাংকের চেকসহ ঘরের মূল্যবান  জিনিসপত্র। এসময় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক ওই বাসার ছাদের উপর আশ্রয় নেন।  প্রায় আড়াই ঘন্টা ব্যাপী এই হামলা চলে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় আশেপাশের বেশকিছু হিন্দু বাড়িতেও হামলা এবং ভাঙচুর চালায়।

হিন্দু পাড়ায় এই হামলায় সরাসরি যুবলীগের একাধিক নেতা-কর্মী সরাসরি জড়িত ছিল। শুধু তাই নয়, হবিগঞ্জের মেয়র  আতাউর রহমান সেলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের ভূমিকা

মৌলবাদীদের হামলার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। কিন্তু সংখ্যায় কম থাকায় উন্মত্ত ইসলামিক মৌলবাদীদের থামানো পুলিশের পক্ষে সম্ভব ছিল না। পরে আশেপাশের থানা থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে পৌঁছায়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া হয়। তাতেও দমানো যায়নি মৌলবাদী জনতাকে। তখন ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। তারপর এলাকা ছেড়ে পালায় দাঙ্গাবাজরা। ততক্ষনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে। পরে বিজিবির একটি দল হবিগঞ্জে এসে পৌঁছায়।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.