ভাড়ায় খাটা বাবু ও বুদ্ধিজীবী

0
1610

© দীপ্তাস্য যশ

কাল থেকে কোলকাতার বাবু বিবিদের খুব গোসা হয়েছে। পারলে একেবারে গোসা ঘরে ঢুকে খিল দেন। এনাদের খুব গোসা কারন কেন্দ্রীয় বাহিনী চারজন হাঙ্গামাকারীকে কাল জাহান্নমের রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছে। তাও আবার যদি সেই হাঙ্গামাকারীরা হিন্দু হতো নাহয় একরকম মেনে নিতেন বাবু বিবিরা। কিন্তু যেহেতু তারা হিন্দু নয় তাই গোসার একেবারে চূড়ান্ত হয়েছে বাবুদের। কাল থেকে বাবুদের একটাই প্রশ্ন কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালাল।

আহা গো সত্যিই মিষ্টি মিষ্টি চারটে দুধেল গাইকে এভাবে গুলি না চালিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উচিত ছিল কালিয়াচকের মতো থানা ছেড়ে পালানো বা টেবিলের তলায় লুকিয়ে পরা। তা না করে কিনা গুলি চালিয়ে দিল। আহা গো ভোটের দিন বুথ দখলই তো করতে গেছিল, ক্রিমিনাল তো আর নয়। গণতন্ত্র তো আর হিন্দুদের জন্য নয়। তাই ওরা বুথ ক্যাপচার করে, দু চারটে হিন্দুকে ভোটের নামে মেরে দিয়ে কোন দোষ তো করেনি। ওসব তো ওরা একটু আধটু করতেই পারে।
যদিও ঐ বুথেই কাল সকালে প্রথমে ঐ দুষ্কৃতিদের গুলিতে আনন্দ নামের একটি ছেলে মারা গেছে জীবনের প্রথম ভোট দিতে গিয়ে। ঐ বুথেই এক মায়ের গলায় দা ধরে তার কোল থেকে দেড় বছরের বাচ্ছাকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেছে। তবে তাতেও যখন হিন্দুদের ভোট দেওয়া থেকে আটকানো যায়নি তখন একেবারে নেত্রীর নির্দেশ মোতাবেক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাটারি, কুড়ুল এসব নিয়ে ঘিরে ধরে তাদের আক্রমন করা হয়। এরপরে কেন্দ্রীয় বাহিনী আট রাউন্ড ব্ল্যাংক ফায়ার করলেও এই সব নিষ্পাপ দুধেল গাইরা পিছিয়ে আসেনি। তারা কেন্দ্রীয় বাহিনীর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখনই চারজন দুধেল জাহান্নমে গেছে।
কথা হোল এই চারজন এবং আরও অজস্র দুধেল সকাল থেকে ওখানে যা যা করেছে সে নিয়ে কোলকাতার বাবু বিবিদের কোন বক্তব্য নেই। ওসব তো বঙ্গ জীবনের অঙ্গ। দুধেলরা তো ওসব করেই থাকে। যেমন এর আগে তসলিমাকে তাড়ানোর সময় করেছে, কিংবা ধূলাগর, বসিরহাট, তেলিনীপাড়ায় করেছে। বাবু বিবিদের কথা অনুযায়ী দুধেলরা যেহেতু “ছোট্ট” তাই তারা একটু আধটু দোষ করলেও তাদের বকাবকি করা উচিত নয়। আর যে ছেলেটি মারা গেল তাকে নিয়ে তো কিছু বলাই যাবেনা। একেবারে দন্ডনীয় অপরাধ। কারন ছেলেটি তো হিন্দু।

আমাদের আসলে মেনে নিতে হবে লকডাউনের সময় টিকিয়াপাড়াতে যে দুধেল লাথি কষিয়েছিল, তেলিনীপাড়ায় যে দুধেল পাগলা হয়ে ছুটে বেরিয়েছিল, সিরিয়াতে যে দুধেল ইয়েজদী মহিলাদের নিয়ে একটু খেলাধূলা করে, ফ্রান্সে যে দুধেল ভুল করে ছাগলের জায়গায় মানুষের গলায় কোপ দিয়ে ফেলে এরা সবাই আসলে খুবই শান্ত। এরা মোটেও ওরকম নয়। সব বিজেপি আরএসএস-এর চক্রান্ত। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাল উচিত ছিল বুথ, ইভিএম, নিজেদের সার্ভিস রাইফেল সব দুধেল গাইদের জিম্মায় করে দিয়ে। এমনকি তাতেও দুধেল গাইরা সন্তুষ্ট না হলে নিজেদের প্রাণ দিয়েও দুধেল গাইদের খুশি করা। দুধেলদের তেল মারাই তো আমাদের জাতীয় কর্তব্য।

আসলে কোলকাতায় টিভিতে, সংবাদপত্রে যেসব বুদ্ধিজীবীদের আমরা দেখতে পাই তার বাইরেও আরেক প্রকার বুদ্ধিজীবী আছে। এরা আগে লিটল ম্যাগাজিনের নামে বাংলা সাহিত্যের শ্রাদ্ধ করত। এখন রোজ সন্ধ্যেবেলা নিজের বাড়িতে বসে ওল্ড মংক খেয়ে স্কচ খেলাম বলে ফেসবুকে গল্প করে আর সমাজ, জাতির অধঃপতন নিয়ে নানাবিধ গম্ভীর আলোচনা ফেসবুকে করেন। আর মাঝে মাঝেই মীটু খান এদিক ওদিক ইন্টুমিন্টু করতে গিয়ে। 

এদের মাথায় অনেক বড় বোঝা। রাজ্যের মানুষকে শিক্ষিত করে তুলে বিজেপিকে আটকানো এনাদের ধ্যান এবং জ্ঞান এবং তার জন্য এনারা ফেসবুকে প্রাণপাত করে দেন। কিন্তু মুশকিল হয়েছে এনারা এককালে বাংলাদেশের কথা তুললে আলোচনা করতেন পদ্মা নদীর মাঝি আর ২১শে ফেব্রুয়ারির উৎসব নিয়ে। সাইবাড়ি, বানতলা, ধানতলা এসবই ছিল গুজব। আর সোনাখালি, দেগঙ্গা, সুটিয়ার তো এনারা কখনও নামই শোনেননি। সেখানের গণ ধর্ষনের ঘটনা তো দূরের কথা। কিন্তু এখন দিনকাল পালটে গেছে। এখন আর অশিক্ষিত ছোটলোকরা এদের মানেনা। মুখে মুখে তর্ক করে। এনারা এখন পূর্ণিমা শীলকে নিয়ে একটু আধটু মজা করতে গেলে অশিক্ষিত ছোটলোকগুলো সেখানে গিয়ে এদের চৌদ্দগুষ্ঠী উদ্ধার করে দেয়। তারা বসিরহাট, ধূলাগড় তুলে এদের সম্প্রীতির পিন্ডি চটকে দেয়। সবথেকে বড় কথা এই অশিক্ষিত ছোটলোক হিন্দুরা মোটেই দুধেল গাইদের বাড়ির আদরের ছোট ছেলের মতো করে ট্রিট করেনা। বরং তারা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মাথায় তুলে রাখে। ফলে বাবুবিবিদের গোসা হওয়াই স্বাভাবিক। ছোটলোক হিন্দুগুলো কি বাজে, সম্প্রীতি না দেখিয়ে বলছে, “বেশ করেছে শালাদের গুলি চালিয়েছে”। কেন বলবে? সম্প্রীতিদার এতো বড় দায় বাবু বিবিরা হিন্দুদের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছেন। বাবু বিবিদের কোন সম্মান নেই নাকি?  

তা বাবুবিবিদের গোসা হলেই আমরা আর কি করি। আমরা তো অশিক্ষিত ছোটলোক। শিক্ষা দীক্ষা আমাদের বিশেষ নেই। তাই আমরা ভাবি আহা কি ভালো হতো যদি বাংলাদেশেও এরকম একটা কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকত, তাহলে আর পূর্নিমা শীলের মাকে ধর্ষকদের এক এক করে আসতে অনুরোধ করতে হতোনা। আমরা ছোটলোকরা ভাবি আহা যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকত তাহলে ধূলাগড়ের মাকে ধর্ষিতা হতে হতোনা। কোন গুড়িয়াকে হারিয়ে যেতে হতোনা। কোন ইন্দ্রজিৎ দত্তকে মহরমের চাঁদা দিতে না পারার জন্য মার খেয়ে মরতে হতোনা। কোন রোহিত তাঁতিকে বোনের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে মরতে হতোনা। কামদুনির মেয়েটার সব স্বপ্ন মাঝপথে থেমে যেতনা।

তবে আমরা অশিক্ষিত ছোটলোক হলেও বুঝি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের সময় বাদে পাওয়া যায়না। বাকী সময় রাজ্য পুলিশ দিয়েই কাজ চালাতে হয়। তাই আমরা ভেবে বার করেছি, বিজেপিকে ভোট দিলে রাজ্য পুলিশটাই তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী হয়ে যাবে। আমরা তাই বিজেপিকেই ভোট দেব। সে বাবু বিবিদের যতোই গোসা হোকনা কেন।

বাবু বিবিদের তো আবার এমন অবস্থা তারা নিজেদের পছন্দের দলের নাম মুখে নিতেও লজ্জা পান। তারা আমাদের বলেন নো ভোট টু বিজেপি। আরে মশাই আগে যে দলকে সমর্থন করনে, লজ্জা না পেয়ে সেই দলের নাম আগে মুখে নেওয়ার মতো সক্ষম হন। তারপরে আমাদের জ্ঞান দিতে আসবেন। নাহলে ঐ যে বলেনা, বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বীচি, আপনাদের সেই হবে।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.