কয়েকটি ভয়াবহ হিন্দু গণহত্যা

0
426

© ভীতু বাঙালি

পূর্বে ঘটে যাওয়া-

নোয়াখালী গণহত্যা: ১৯৪৬ সালের অক্টোবর- নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গের নোয়াখালীর জেলার স্থানীয়দের দ্বারা সংঘটিত ধারাবাহিক গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ আর জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ ঘটনা। নোয়াখালী জেলার রামগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, রায়পুর, লক্ষীপুর, ছাগলনাইয়া ও সন্দ্বীপ থানা এবং ত্রিপুরা জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর,, লাকসাম ও ও চৌদ্দগ্রাম থানার অধীনে সর্বমোট ২০০০ বর্গমিটার এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হিন্দুদের উপর এই নোয়াখালী গণহত্যা শুরু হয় ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর লক্ষীপূজোর দিন এবং চার সপ্তাহ ধরে অব্যাহত ছিলো। নিহতের সংখ্যা ছিলো ১ লাখের বেশি। হাজার হাজার হিন্দু যুবতী-নারী ধর্ষিত হয় এবং অনেক হিন্দু নারী পুরুষদের জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়। বেঁচে যাওয়া ৫০-৭৫০০০ হিন্দুদের কুমিল্লা, চাঁদপুর, আগরতলা ও অন্যান্য জায়গায় অস্থায়ী শিবিরগুলোতে আশ্রয় দেয়া হয়েছিলো। কিছু এলাকায় হিন্দুদের স্থানীয় মুসলিম নেতাদের অনুমতি নিয়ে চলাফেরা করতে হতো। জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতদের কাছ থেকে জোর করে লিখিত রাখা হয়েছিলো স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়েছে। হিন্দুূেরকে ঐসময় মুসলিম লীগকে চাঁদা দিতে হতো যাকে বলা হয় জিজিয়া কর। ( ভারতবর্ষে একসময় প্রচলন ছিলো) শুধুমাত্র ত্রিপুরাতেই ৯,৮৯৫টি ধর্মান্তরকরণের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছিলো, নোয়াখালীতে যার সংখ্যা অগণিত। বেঁচে যাওয়া বেশিরভাগ হিন্দু পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং আসামে চলে যায়।

তদন্তের ফলাফল নিয়ে লুকোচুরি: ১৯৪৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার একটি অর্ডিন্যান্স পাশ করে সেখানে বলা হয়, দাঙ্গা বিষয়ক কোনো ঘটনা প্রকাশ করা যাবে না। যেসকল বিষয় সংযুক্ত থাকলে যেকোনো বিবৃতি, বিজ্ঞাপন, সংবাদ বা মতামত নিষিদ্ধ হবে। সেগুলো হলো-
১. যেসকল স্থানে দাঙ্গা হয়েছিলো সেকল স্থানের নাম।
২. যে উপায়ে ভিক্টিমদেরকে মারা বা নির্যাতন করা হয়েছে।
৩. যেসকল সম্প্রদায় নির্যাতন করেছে এবং নির্যাতিত হয়েছে তাদের নাম।
৪. যেসকল স্থান বা মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে।

এডওয়ার্ড সিম্পসন নামের এক অবসর প্রাপ্ত বিচারককে এই গণহত্যার তদন্তের ভার দেয়া হয়। কিন্তু তার জমা দেয়া রির্পোট প্রাদেশিক সরকার আটকে রাখে। আটকে রাখা রির্পোটের সামান্য সারাংশ সোহরাওয়ার্দীর সচিব মথুরার মাধ্যমে স্টেটম্যান পত্রিকার কাছে পাচার হয়ে যায়। পত্রিকার সম্পাদক ঐ রির্পোট থেকে স্পর্শকাতর বিষয়সমূহ বাদ দিয়ে ১৩ই নভেম্বর একটি লেখা প্রকাশ করেন।

১৯ই মার্চে মুসলিমরা বিভিন্ন জায়গায় গোপন মিটিং করে এবং কোনোভাবে বেঁচে থাকা হিন্দুদেরকে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দিতে শুরু করে। ১৯৪৭ এর ২৩ সেপ্টেম্বর গোলাম সরোয়ার সোনাপুরে বিশাল জনসভায় সব মুসলিমদের যোগ দিতে আহ্বান জানান। তারা সেদিনকে পাকিস্তান দিবস হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেন।
ঐ সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় ইউনুস মিয়া নামক এক বক্তা হিন্দু সমাজের তীব্র সমালোচনা করে। সমালোচনায় সে হিন্দুদেরকে ছুতমার্গ, পর্দা প্রথা না করা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশদগার করে এবং হিন্দুদের সাথে সকল প্রকার সামাজিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক বর্জনের আহ্বান করে।
১৯৪৭ সালেরর ১৩-ই মে তারিখে চট্রগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ইলিয়াম ব্যারেট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পি.ডি. মারটিনকে একটি গোপন নথি প্রেরণ করে। সেখানে বলা ছিলো, বাংলার প্রাদেশিক সরকার সুক্ষ্মভাবে হিন্দু নিধনে সহায়তা করছে। নথিতে আরও ছিলো- মুসলিমরা দল বেঁধে হিন্দুদের উপর আক্রমণ করে এবং জিনিসপত্র লুট করে। পথিমধ্যে হিন্দুদের বাজার করে আনা খাদ্য-মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। বাগান আর জমি থেকে ফল, সবজি- শষ্য নিয়ে যায়। হিন্দু মেয়ে-নারীদের ধর্ষণের প্রকাশ্য হুমকি দেয়া হতো। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের মালাউন, কাফের বলে সসম্বোধন করতো মুসলিমরা।

সীতাকুণ্ড হত্যাকান্ড: ১৯৫০ সালের ১৫-ই ফেব্রুয়ারি হিন্দু তীর্থযাত্রীদের উপর সংঘটিত হত্যাকান্ডকে নির্দেশ করে। সমগ্র পূর্ব বাংলা, আসাম ও ত্রিপুরা থেকে আগত তীর্থযাত্রীরা শিবরাত্রি উপলক্ষে চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাওয়ার পথে সীতাকুণ্ড রেলস্টেশন এলাকায় সশস্ত্র আনসার ও মুসলিমদের আক্রমণের শিকার হয়। ১৪ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাবেলায় চাঁটগায় অবস্থিত সমস্ত তীর্থযাত্রীদের হত্যা করা হয়। ১৫ তারিখ সকালে সীতাকুণ্ডের রেলস্টেশনে তীর্থযাত্রীরা নামার সাথে সাথে সকলকে হত্যা করা হয়। ট্রেনের প্রতিটা কামরায় ঢুকে ঢুকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। স্টেশনের আশেপাশে যতগুলো হিন্দুদের বাড়ি ছিলো সবগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিলো।

আগষ্ট ১৯৪৯- জানুয়ারি ১৯৫০ এর নৃশংসতা: ১৯৪৯ এর আগষ্ট থেকে প্রায় ৩মাস ধরে চলতে থাকে অমুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর নৃশংস বর্বরতা। আগষ্ট মাসে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার এবং বড়লেখা পুলিশ স্টেশনের অধীন এলাকায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়, আনসার বাহিনী পুলিশের সহায়তায় হিন্দু গণহত্যা চালায়। গ্রামের পর গ্রামে অগ্নিসংযোগ করা হয়, হিন্দু যুবতীদের পুলিশ সদস্যরা ধর্ষণ করে। এর কিছুদিন পরই বরিশাল জেলার হিন্দুরা আক্রমণের শিকার হয়। রাজশাহী বিভাগের একজন ফাদার রির্পোট করেন- সেখানকার সাঁওতাল গ্রামের অধিবাসীদের নির্যাতন করা হচ্ছে, সাঁওতাল নারী-যুবতীদের আটকে রেখে ধর্ষণ করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের ১০তারিখ সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায় রাজশাহীর পুঠিয়া ও আশেপাশের এলকাগুলোতে লুটপাট চালায় আর সেসব বাড়িঘর দখল করে।

কালশিরা হত্যাকান্ড: ১৯৪৯ সালের ২০ ডিসেম্বর তৎকালীন খুলনা জেলার বাগেরহাট উপজেলার মোল্লাহাট পুলিশস্টেশনের আওতাধীন জয়দেব বর্মের বাড়িতে এক কম্যুনিস্ট সদস্য লুকিয়ে আছে এই অভিযোগ করে শেষরাতে চারজন পুলিশ সদস্য অভিযান চালায়। কিন্তু অভিযানে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ সদস্যরা জয়দেবের বউকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তার স্ত্রীর চিৎকার শুনে জয়দেব আর তার আত্মীয়রা ক্ষিপ্ত হয় পুলিশের উপর। তারা পুলিশের উপর হাত তুলে এবং একপর্যায়ে একজন পুলিশ সদস্য মারা যায়। পরেরদিন জেলা পুলিশ সুপারিন্টেন্ড সশস্ত্র পুলিশ কন্টিনজেন্ট এব আনসার বাহিনী সহযোগে কালশিরা এবং এর আশেপাশের হিন্দু গ্রামগুলোতে নির্দয় আক্রমণ শুরু করে। তারা স্থানীয় মুসলিমদের উৎসাহ দিতে থাকে যেন তারা হিন্দুদের ঘর বাড়ি লুট আর অগ্নিসংযোগ করা হয়। হিন্দুদের সব মন্দির একেবারেই ধ্বংস করে দেয়া হয়, সবকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। অনেককে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়। খুলনার ৩০,০০০ হিন্দু প্রাণের ভয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

ঢাকা: ১৯৫০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য মুখ্যসচিব পূর্ব পাকিস্তানের প্রদেশ মুখ্যসচিব আজিজ আহমেদের সাথে একটি বৈঠকের জন্য ঢাকায় আসেন। ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে যখন মিটিং শুরু হচ্ছিলো তখন রক্তমাখা কাপড় পড়া এক মহিলাকে উপস্থিত করা হয়। গুজব রটানো হয়, এই মহিলাকে কোলকাতায় ধর্ষণ করা হয়। সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি ঘোষণা করে মিছিল বের করে হিন্দু বিদ্বেষী স্লোগান দিতে শুরু করে। দুপুরে মিছিল থেকে বক্তারা হিন্দু বিদ্বেষ বক্তব্য দেয়। মিছিল শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হত্যা, অগ্নিসংযোগ আর ধর্ষণ। যেখানে হিন্দু পাওয়া যাচ্ছিলো সেখানেই হত্যা করা হয়েছিলো তাদের। হিন্দু মালিকানাধীন সব ধরণের দোকান গুদামে পুলিশের উপস্থিতিতে লুটপাট চালানো হয়েছিলো। ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতগামী ৬০জন হিন্দুকে হত্যা করা হয় কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে। ২৮ তারিখ সম্পূর্ণ দিঘালী বাজার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। কালীগঞ্জ থানার পারুল্লা গ্রামের সব হিন্দুদের বাড়ি লুটপাট করা হয়। খোসলা, গজারিয়া, কাবাব চর, চর সিন্দুর, পলাশ, সদরচর গ্রামগুলোতে প্রতিটা হিন্দুর বাড়ি লুট করে মুসলিম সম্প্রদায়রা। একটি সূত্র থেকে জানা যায়, প্রথম দুদিনের মধ্যে নৃশংসতার শিকার কমপক্ষে ২০০ জনের মরাদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং ৮০,০০০ হিন্দু বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

বরিশাল: পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকারের প্রেস নোট অনুসারে দুই অজ্ঞাত যুবক গুজব ছড়াতে শুরু করে যে, শেরে বাংলা এ কে ফজলুর হক ও তার ভগ্নিপতিকে কোলকাতায় খুন করা হয়। এই গুজবের রেশ ধরে সন্ধ্যা নেমে আসার আগেই কমপক্ষে ৮জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে যখন বরিশালের গৌরনদী, ঝালকাঠি, নলছিটি সাব-ডিভিশন গুলোতে হিন্দুদের উপর ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেদিন ছিলো ডিসেম্বরের ১৬তারিখ। আইন প্রয়োগকারী সব ধরণের সংস্থাকে নিস্ক্রিয় করে রাখা হয়। বরিশালের এই গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন বরিশাল জেলার মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ উদ্দীন মোহাম্মদ। ১৮তারিখ স্থানীয় মুসলিমরা তাকে হত্যা করে। তার জীবন দান নিয়ে কবি জসীম উদ্দীন একটি কবিতা লিখেছেন। পরবর্তীতে সরকার আলতাফ উদ্দীনের পরিবারের জন্য ৫০বিঘা খাস জমি প্রদান করেন।
নিজের এলাকা ছেড়ে আশ্রয় নেয়া হিন্দুদেরকে থানার কম্পাউন্ডারের মধ্যই হত্যা করা হয়। এই ঘটনাটি মুলাদি হত্যাকান্ড নামে পরিচিত।
একজন হিন্দু স্কুল শিক্ষককে তারই মুসলিম ছাত্ররা জ্যান্ত আগুনে পুড়িয়ে কাবাবের মতো করে ফেলে এবং তার জ্বলন্ত আগুনের চারপাশে ছাত্ররা আনন্দ করে শিক্ষক হত্যা উদযাপন করছিলো। বাবগঞ্জ থানার অন্তর্গত মাধবপাশা গ্রামে প্রায় ৩০০ হিন্দুকে ধাওয়া করে আটক করে মুসলিমরা। এরপর তাদেরকে দাঁড়ি দিয়ে সারিবদ্ধ করে বেঁধে দা দিয়ে সবার মাথা কেটে নেয়া হয়। মাধবপাশা জমিদার বাড়িতে ২০০ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয় এবং আরও ৪০ জনকে চরমভাবে আহত করা হয়।
ভোলা শহর থেকে মেঘনা তীরবর্তী ইলিশা স্টিমারঘাট প্রায় ৭কি.মি. দূরে। ১৯৫০ সালের ১৬ ডিসেম্বর এস.এস. সীতাকুণ্ড চট্রগ্রাম যাবার পথে ইলিশা ঘাটে নোঙ্গর করলো। স্টিমারের নাবিকদল হিন্দু যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে যায়। আনুমানিক রাত ৮টার দিকে অনেক মুসলমান লঞ্চে উঠে হিন্দুদের হত্যা করে এবং মৃতদেহগুলো নদীতে নিক্ষেপ করে। কমপক্ষে ৩০-৩৫ জন হিন্দু সে ঘটনায় মারা যায় এবং আহত অবস্থায় ৩জন হিন্দু বেঁচে গিয়েছিলো।
বরিশালের সে সময়কার মুসলিম প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বরিশালে বেশ কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয় এবং ২০০০ হিন্দুর আর কোনো হদিস মেলেনি। তথ্যচিত্র নির্মাতা সুপ্রিয় সেন বলেন, ৬,৫০,০০০ জন হিন্দু বরিশাল থেকে ভারতে পালিয়ে যায় এবং ঐসব শরণার্থী যাত্রাপথেও হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়।

চট্রগ্রাম: ১২-ই ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে হিন্দু গগণহত্যা শুরু হয়। ফজলুল কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে আনসার বাহিনী হিন্দুদের কচুকাটা করতে শুরু করে। হিন্দু পাড়া আর মহল্লাগুলো দাউ দাউ করে আগুনে জ্বলছিলো। চাঁটগা, নেয়াপাড়া, চৌধুরী হাট, পটিয়া, বোয়ালখালী, সীতাকুণ্ড এসব এলাকায় হিন্দুদের উপর ব্যাপক হত্যাকান্ড, ধর্ষণ, লুট আর অগ্নিসংযোগ হয়। পাহাড়তলীতে ট্রেন থামিয়ে ট্রেনের সমস্ত হিন্দু যাত্রীদের কুপিয়ে হত্যা করেছিলো মুসলিম সসম্প্রদায়ের লোকেরা। পূর্ব বাংলার গণপরিষদের সদস্য নেলী সেনগুপ্ত পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকে চট্রগ্রামের হিন্দু গণহত্যা নিয়ে চিঠি লেখেন। একদিন চট্রগ্রামের কয়েকজন বৌদ্ধ সসম্প্রদায়ের লোকদের কুপিয়ে আহত করা হয়। যাদের মধ্যে একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর। অনেক বৌদ্ধ মঠ ধ্বংস করে দেয় মুসলিম সসম্প্রদায়। ফটিকছড়ি আর রাউজানে অনেক বৌদ্ধ সসম্প্রদায়ের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। নোয়াখালীতে বারিক মিয়া নামের একজন সম্মানিত ম্যাজিস্ট্রেটের ছেলে রহমত আলী, রেণুবালা নামের একজন হিন্দু বিবাহিত নারীকে জোর করে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করে।

সিলেট: সিলেটে হিন্দু গণহত্যা এক দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করে। ২০৩টি হিন্দুগ্রাম সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয় এবং ৮০০ মন্দির ধ্বংস করে দেয়া স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠী। ধামাই, বারাধামী, পুবঘাট, বরইতলী গ্রামের প্রায় ৫০০টি মণিপুরি পরিবার প্রচন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় আক্রমণের ফলে।
সিলেটে গণভোটের সময় সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো হয় যে, হিন্দুরা যেহেতু পাকিস্তানের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে সেহেতু তারা পাকিস্তানের দুশমন। ১৯৫০ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি বাজ্ঞে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করে। সিলেটের মুসলিমরা আশা করেছিলো আসামের ককরিমগঞ্জও পাকিস্তানের অংশ হবে কিন্তু তা ভারতের হলো। সিলেট বার এসোসিয়েশনের কিছু আইনজীবী আর ককরিমগঞ্জের কিছু মোক্তার হুমকি দেয় তারা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। ১০ তারিখ এলাকার কিছু মুসলিমরা বন্দরবাজারে বিশাল একটি পোষ্টার টাঙায়। লাঠি এবং অস্ত্র হাতে হিন্দুরা একজন মুসলিমের গলায় দড়ি বেধে নিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি ছবি ঐ পোষ্টারে আঁকা ছিলো যেটির শিরোনাম ছিলো হিন্দুস্থানের মুসলমানের ওপর হিন্দুদের নির্যাতন।
লামডিং ( আসামের একটি নদী) কোলকাতায় মুসলমানদের রক্তের নদী প্রবাহিত হচ্ছে এমন একটি গুজব ছড়ানো হয়। স্থানীয় মুসলিমরা অতি উৎসাহে এর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার শপথ নেয়। পরেরদিন ১১ তারিখ গোবিন্দ পার্কে আয়োজিত মিছিলে হিন্দুদের রক্তের জন্য হুঙ্কার করে এলকার মুসলিমরা। ১৫তারিখ থেকে শুরু হয় ধর্ষণ-লুট-গণহত্যা। পরিবারের সবাইকে পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে সবাইকে জের করে ধর্মান্তরিত করা হয়। এরপর মুসলিমরা আজমতপুর, দাসপাড়া, নাসিয়াগঞ্জ এবং মাহেশপুর গ্রামে ঝাপিয়ে পড়ে। সিলেট থেকে ৬মাইল দূরে নওগ্রামের গরুচরণ ধরের পরিবারের উপর আক্রমণ করা হয়। পুরো গ্রাম লুটপাট আর অগ্নিসংযোগ করা হয়। পাশের গ্রামের অশ্বিনী কুমার দে’র এক মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরের দিন ধর্ষিত, বিকৃত ও জ্ঞানশূন্য মেয়েটির লাশ বাড়িতে পাঠানো হয়। ১৫তারিখ ঢাকা দক্ষিণের ভরত দত্তের দুজন অবিবাহিত মেয়েকে ধর্ষণ করে ১৮ তারিখ মেয়েদুটিকে বাড়িতে ফেরত দেয়। পুলিশের সাহায্যে অসংখ্যা মেয়েকে সিলেট সদরে ধর্ষণ করা হয়।
এরপর সিলেটের গঙ্গাজল গ্রামে আক্রামণ হয়। এখানেও ধর্ষণ, লুট আট অগ্নিসংযোগ হয়। অনেককে মেরে মেরে ধর্মান্তরিত করা হয়। হবিগঞ্জ সাব ডিবিশনের চুনারঘাট এলকাট কেতন দাস, অশ্বিনী নাথ, বীরেন্দ্র নাথসহ নাম না জানা আরও অনেক হিন্দু পরিবারের সকল সদস্যদের নির্মমভাবে ঘৃণ্য উপায়ে ধর্মান্তরিত করে। গোপালগঞ্জে হিন্দুদের ধরে সবাইকে গরুর মাংস খাওয়ানো হয়েছিলো আট পিটিয়ে আহত করে ধর্মান্তর করা হয়। বিমল স্মৃতিতীর্থ নামক একজন হিন্দু পন্ডিত ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃত জানালে তাকে পা দিয়ে মাড়িয়ে কুপানো হয়। সব ব্রাহ্মণদের মাথার টিকি টেনে ছিঁড়ে ফেলা হতো।
সুনাইতা এবং কর্মা গ্রামের মেয়েদের উপর চালানো হয় বীভৎস নির্যাতন। তাদের সিথির সিঁদুর পা দিয়ে মাড়িয়ে মুছে দেয়া হয় এবং পা দিয়ে চাপ দিয়ে শাঁখাপলা ভাঙা হয়।
মারকুল নামের একটি গ্রাম পুরোপুরো লুট করা হয় এবং গ্রামের সকল অধিবাসীদের জোর করে ধর্মান্তর করা হয়। শুকনাল নামক এক ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাকে পুলিশ বেয়নট দিয়ে কুপিয়ে জখম করে এবং লাথি মেরে মেরে থানা থেকে বের করে দেন।

রাজশাহী: ২৮ই ফেব্রুয়ারি কোলকাতাগামী আসাম মেইল ট্রেনে জঘন্যভাবে আক্রমণ করে মুসলিম সসম্প্রদায়ের লোকেরা। এদিনে আবার রাজশাহী জেলার হিন্দুদের উপর নেমে আসে নির্দয় আক্রমণ। তানোর, নাচোল, গোমস্তাপুর থানার অধীন গ্রাম এলাকাগুলোতে ব্যাপকভাবে নির্যাতন, হত্যা, লুট আর ধর্ষণ শুরু হয়। যাকে বলে গণহারে ধর্ষণ। নির্যাতনের বীভৎসতা সহ্য করতে না পেরে হাজার হাজার হিন্দু নর নারী ভারতের মালদহ জেলায় পালিয়ে যায়। পালানোর পথেও তারা নির্যাতিত, ধর্ষিত হতো। পাকিস্তান আানসার বাহিনী বিভিন্ন অজুহাতে হিন্দু মহিলাদের ধরে নির্যাতন করতো। পশ্চিম দিনাজপুর এবং রাজশাহী জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্টস বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন, পাকিস্তান অথরিটি বাঙ্গালি হিন্দু, সাঁওতাল এবং উপজাতিদের দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবেন। এজন্য বিপুল সংখ্যক বালোচ সৈন্য বালুরঘাট সীমান্তের কাছে নিয়োগ করা হয়।

ময়মনসিংহ: এখানে ১১ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমানতালে চলতে থাকে গণহত্যা। লক্ষণপুর, মুচেরের চর, ঝাঁকাটা, ভতসনা, সাপমারি এসব গ্রামের হিন্দুদের উপর গণহত্যা শুরু হয়। আটকাপাড়া, ফিরোজপুরসহ আরও অনেক এলকার হিন্দুদের একই অবস্থা বরণ করতে হয়েছিলো।
কুমিল্লা- ময়মনসিংহ রুটের আখাউড়া ও ভৈরববাজারের মধ্যকার যাত্রাপথের সকল হিন্দু যাত্রীদের খুঁজে খুঁজে পাশবিক উপায়ে হত্যা করা হয়। সেদিন ছিলো ১২ তারিখ। লন্ডন ইকোনোমিস্ট এবং ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ান পত্রিকার সাংবাদিক তায়া জিঙ্কিন রিপোর্ট করেন, আশুগঞ্জ থেকে মময়মনসিংহগামী একটি ট্রেন মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত ভৈরব সেতুতে থামতে বাধ্য করে। সশস্ত্র মুসলিম জনতা সেতুর উভয় পাশ দিয়ে আক্রমণ করে। যারা নদীতে লাফ দিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলো তাদেরকে ইটপাটকেল মেরে মেরে ফেলা হয় এবং অনকে যাত্রীকে নদীতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়। পিয়েরে ডিলানি নামক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বরাতে জানা যায়, সেদিন প্রায় কমপক্ষে ২০০০ হিন্দুকে হত্যা করা হয়। সেদিন সরাচর নামক রেলস্টেশনে সব হিন্দুযাত্রীদের হত্যা করা হয়।

যশোর: যশোরে ১০ মার্চ থেকে শুরু হয় মিছিল আর হুমকি। ঝিনাইদহ সাব ডিবিশনে হিন্দুদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। তেঘারি নামক একটি গ্রামের সকল হিন্দু ভারতে পাড়ি জমায়। যাত্রাপথে অনেক হিন্দু নারীকে ধর্ষণ করা হয়। ইছামতি নদী পার হওয়ার সময় পাকিস্তানী সীমান্তরক্ষী গুলি করে অনেককেই হত্যা করে।

হিন্দু নেতাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, অনেককে জেলে বন্দী রাখা হয়। পূর্ব বাংলার আইনসভার সিলেট জেলার সদস্য( এম.এল.এ) সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস একটি জজনসভায় গণহত্যা এবং হিন্দুদের ঘরবাড়ি লুট, অগ্নিসংযোগ এবং নারী ধর্ষণের নিন্দা জানালে তাকে ১১ মার্চে গ্রেফতার করা হয়। জেলে ঢুকানোর আগে তাকে হাতকড়া পড়িয়ে জনসম্মুখে রাস্তা দিয়ে টানতে টানতে পেটানো হয় কঠিনভাবে। ২৩শে মার্চ জমিদার মোহনীকর এবং প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা কৃপেশ চন্দ্রসহ ৩০জন হিন্দু নেতাকে মৌলভীবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়।

মুলাদি হত্যাকান্ড: মুলাদি নদীবন্দর ও আশেপাশের এলাকায় সংঘটিত হত্যা কান্ড। ১৯৫০ সালে ১৭-২০ ফেব্রুয়ারি পুলিশ, সেনাবাহিনী, আনসার ও স্থানীয় মুসলিম জনতার দ্বারা হওয়া গণহত্যা। কয়েক হাজার হিন্দু আর খ্রিষ্টান নিহত হয় এতে। জিন্নাহ ক্লাবের মুসলিম নেতারা জড়িত ছিলেন এতে।

ফেব্রুয়ারি ১৮ তারিখের একটা ঘটনা: ১৮তারিখ শনিবার সকালে হিন্দুরা তাদের লুট হয়ে পুড়ে যাওয়া ঘরে ফিরে আসে। কারণ থানা থেকে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এসব জেহাদিদের পরিকল্পনা ছিলো। হিন্দুরা আস্তে আস্তে থানায় এসে ভিড় হতে শুরু করলো
পুলিশের সামনে সব পুরুষ আর কিছু নারীদের হত্যা করা হয়। বাঁচিয়ে রাখা কিছু নারী আর যুবতীদের থানার ওসি, আনসাররা ধর্ষণ করে। এরপর স্থানীয় মুসলিম জনগণ কাফের মেয়েগুলোকে গনিমতের মাল হিসেবে নিজেদের মাঝে ভাগ করে নেয়।

খয়রাবাড়ি গগণহত্যা: ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩ সালে আসামের খয়রাবাড়িতে বাঙালি হিন্দুদের উপর গগণহত্যা চালানো হয়। সরকারীভাবে নিহতের সংখ্যার হিসাব নেই। ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে গগণআন্দোলন করে খয়রাবাড়ি গণহত্যাতে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দুদের জন্য ববরাদ্দকৃত অর্থসাহায্য বাতিল করে দেয়া হয়।

আরও কিছু গণহত্যার নাম-

মান্দাই গণহত্যা
বাগবের গণহত্যা
হোজাই গণহত্যা
গোরেশ্বর গণহত্যা
নিচলামারি গণহত্যা
তিনসুকিয়া গণহত্যা

১৯৬৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের দাঙ্গা: পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি হিন্দুদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার জন্য তাদের উপর চালানো হয় এক নির্মম অমানবিক গণহত্যা। এক মিথ্যা গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে এই গণহত্যার সূচনা করা হয়।
হিন্দুদেরকে পায়ে জুতো পরতে, মাথায় ছাতা ব্যবহার করতে, রিকশায় চড়তে বাধা দেয়। ২ জানুয়ারি বিশাল মিছিল করে মুসলিমরা। মিছিল থেকে উচ্চস্বরে আসতে থাকে, হিন্দু হত্যা করো। সেনহাটি, মহেশ্বপাশা, পাবলা, চন্দনীমহল, দৌলতপুরসহ আশেপাশের হিন্দুপ্রধান জনবসতির উপর প্রবল আক্রমণ শুরু হয়। টানা চারদিন গণহত্যা, ধর্ষণ, লুট চলে। খুলনা শিপইয়ার্ড, দাদা কোম্পানি, ইস্পাহানী কোম্পানি, কাটা কোম্পানি, সোলম্যান কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার মুসলিম শ্রমিকরা হিন্দুদের উপর জঘন্য জিঘাংসাবৃত্তি চরিতার্থ করে। লোপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এদেরকে অস্ত্র সরবারহ করার ব্যবস্থা করে এই পাশবিক হিন্দু নিধনে সহায়তা করে। সেদিন খুলনা লঞ্চঘাটে প্রায় ৩০০ হিন্দুকে হত্যা করা হয়। ৪ জানুয়ারী মোংলায় হিন্দু হত্যাকান্ড বিস্তার লাভ করে।
বাগেরহাটের রামপালে আব্দুস সবুর খান আরও তিনটি জনসভা করে। সেখানে হিন্দু নিধনের বর্ণনা সম্বলিত প্রচারপ্রত্র বিলি করতে শুরু মুসলিমরা। হিন্দুদের পাকিস্তান ত্যাগের হুমকি দেয়া শুরু করে। আব্দুস সবুর খান অন্য একটি জনসভায় ঘোষণা করেন যে, হিন্দুদের পিঠ থেকে চামড়া তুলে পায়ের জুতো বানাবেন। জানুয়ারী ১৪ ও ১৫ তারিখে চট্রগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ থেকে আগত ঢাকাগামী ট্রেনের সকল হিন্দু যাত্রীদের টঙ্গী ও তেজগাঁও নামতে বলা হয়। সবাইকে কুপিয়ে, গলাকেটে হত্যা করা হয় সেদিন।নবাবপুর রোডের পুরোহিতের বাড়িতে ঢুকে রাধা-কৃষ্ণ মন্দির ধ্বংস করা হয় এবং পুরোহিতের গলা কেটে হত্যা করা হয়। তার পরিবারের বাকি ৪ সদস্যদের এভাবে হত্যা করা হয়। ১৫ জানুয়ারী প্রকাশ্যে দিবালোকে রামকৃষ্ণ মিশন আক্রমণ করে মুসলিমরা। সেখানে ২জনকে হত্যা করা হয়।

জামাত-ই- ইসলামের অনুগত মুসলিম শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে হিন্দু শিক্ষার্থীদের ভারতীয় অনুচর আখ্যা দিয়ে সাধারণ মুসলিমদের মাঝে ঘৃণার চাষ শুরু করে।
সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ট্রাকে ভরে ভরে এনে মাটি চাপা দেয়া হতো। এভাবে শতশত লাশ গুম করা ফেলা হয়েছিলো। রায়েরবাজারে প্রতিটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং ৯৬ জনকে হত্যা করা হয়। অনেক হিন্দু মহিলাকে নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণের পর ধর্ষণ করা হয় এবং নাবালক মেয়েদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। জাতিগত এই নির্মূল অভিযান চালানোর পর ঐ এলাকার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জাফরাবাদ। দেয়ালে দেয়ালে লিখে দেয়া হতো- হিন্দু হত্যা করো, হিন্দু মারোয়াড়ীদের হত্যা করো।
শুধুমাত্র ঢাকাতেই ১,০০,০০০ হিন্দু সর্বস্ব হারিয়ে আকাশের নিচে দিন কাটিয়েছিলো।

নারায়ণগঞ্জ: আদমজী গ্রুপের ম্যানেজার জনাব করিম ১৩-১৪ দুদিন পাট কল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন এবং পরিকল্পিতভাবে গুজব রটিয়ে দেয় যে, তার ভাইকে কোলকাতায় খুন করা হয়েছে। ১৩ জানুয়ারী রাত ২০ তারিখ পর্যন্ত লাগাতার ধর্ষণ, হত্যা আর অগ্নিসংযোগ চলে। ১৩ জানুয়ারী রাতে ৭০০ হিন্দুকে হত্যা করা হয়। শত শত হিন্দু যুবতী-নারীকে জঘন্যভাবে ধর্ষণ করে বিজয়োল্লাস করে মুসলিম জনতা। লক্ষীনারায়ণ কটন মিলে সকাল হতে শ্রমিক জড়ো হতে লাগলো। সেখানে প্রায় ৩০০০ হিন্দু শ্রমিক জড়ো হয়। মুসলিম জনতা দল বেধে সেখানে তাদের উপর আক্রমণ চালায়। বিকেলে পুলিশ আসে ঐ কটন মিলের সামনে। পুলিশ দেখে আরও কিছু হিন্দু প্রাণ বাঁচাতে জড়ো হতে লাগলো। পুলিশের সামনেই তাদের হত্যা করা হয়।
আলেকচিত্র সংগ্রহের জন্য নটরডেম কলেজের অধ্যাপক রিচার্ড নোভাক আসেন কিন্তু মুসলিম জনতা তাকে আদর্শ কটন মিলের সামনে হত্যা করে।
নরসিংদীতে কমপক্ষে ৩৫০টি বাড়ি লুট আর অগ্নিসংযোগ করা হয়। মুরাপাড়ার প্রতিটি বাড়ি ছাই করে দেয়া হয়। সেদিন সেখানে ১৭ জন হিন্দু মহিলাকে জ্বলন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিলো।

তথ্যসূত্র –

. মেমোয়ারস অব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উইদ অ্যা ব্রিফ অ্যাকাউন্ট অব হিজ লাইফ এন্ড ওয়ার্ক
. Fatal Flow in communal Violence Bill
. The Great calcutta killings and Noakhali Genocide
. Processing of the Bengal Legislative Assembly
. দ্বিখণ্ডিত মাতা, ধর্ষিতা ভগিনী
. While Memory serves
. দেশ বিভাজনের অন্তরালে
. Communalism in Bengal; From Famine to Noakhali
. The Transfer of Power
. বঙ্গভঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ
. দ্বিজাতিতত্ত্ব ও বাঙালি
. Noakhali Tipperah Tragedy
. A Lagacy of Forced conversion, Imperialism and slavery
. (Press realease) Government of Bengal
. BENGAL (DISTURBACES)
. বাংলাদেশের ইতিহাস
. নোয়াখালী গান্ধী মিশন ডায়েরি
. The Lagacy of the flight of Hindus in Bangladesh.
. Testimonies on Violence Against Hindus in East Bengal
. Encyopaedia of Bangladesh
. Democracy and Nationalism on Trial; A Study of East Pakistan.
. Time of Revolution ; Ila Mittra, the Santals and Tebhaga Movement.
. Frontier Riots- Hindreds Reported Killed
. The dagger: Dominating Interists Class War in East Bengal
. The matic choronology of Mass Violence in Pakistan
. Illegal Migration and Underclared Refugees- Idea of West Bengal at Stake.
. রক্তরঞ্জিত ঢাকা বরিশাল।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.