আসামে বিজেপির জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা, মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা

0
429

বিপুল আসনে জিতে আসামে ফের সরকারে আসতে চলেছে বিজেপি, এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। আর তাঁরা এর পুরো কৃতিত্ব দিচ্ছেন আসামের বিজেপির প্রভাবশালী নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। তাঁর ভোট প্রচারে দেওয়া বক্তব্য এবং ড্যামেজ কন্ট্রোলে খুশি আসামের সাধারণ ভোটাররা। আর তাই মনে করা হচ্ছে যে আসামে ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি।

কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অসমীয়া জাতি ও বাঙালি জাতির মনোভাবে বিভক্ত ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করতে সমর্থ হয়েছেন হিমন্ত। তিনি এবারের নির্বাচনের পূর্বে আসামের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে চষে বেড়িয়েছেন। সেইসঙ্গে অসমীয়া সভ্যতা ও সংস্কৃতির ওপর মিঞা মুসলিমদের যে আক্রমণ, তা তিনি বারবার তুলে ধরেছেন তাঁর বক্তব্যে। পাশপাশি অসমীয়া সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নামঘর ও বৈষ্ণব সত্রগুলির জন্য অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, NRC প্রক্রিয়ায় সংশোধন করা, বাঙালি ভোটারদের স্বার্থরক্ষা ইত্যাদি ইস্যুতে বিজেপির প্রতিশ্রুতি মন জয় করেছে ভোটারদের। তারওপর কংগ্রেসের জোটসঙ্গী বদরুদ্দীন আজমলের দল AIUDF নেতাদের হিন্দু বিরোধী সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের কারণে হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তার প্রমাণ রাজ্যের বিজেপির সভাগুলিতে সাধারণ জনগণের উপচে পড়া ভিড়ই তাঁর প্রমান।

তবে বিজেপির এই আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি তৈরি করা মোটেই সহজ ছিল না। কারণ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েক লক্ষ বাঙালি মানুষকে বিদেশি ঘোষণা করা, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হিন্দুদের ওপর মৌলবাদীদের আক্রমণ, হিন্দু মেয়েদের অপহরণ ইত্যাদি ঘটনায় সাধারণ ভোটাররা ব্যাপক ক্ষুব্ধ ছিলন বিজেপির ওপরে। কিন্তু সেটা বুঝতে পেরেই আসরে নামেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ড্যামেজ কন্ট্রোল করার অঙ্গ হিসেবে রাজ্যের হিন্দু ভোটারদের মনজয় করার চেষ্টা করতে এক গুচ্ছ পদক্ষেপ নেন তিনি। মাদ্রাসা বন্ধ করা, লাভ জিহাদের। বিরূদ্ধে কড়া অবস্থান, হিন্দুদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া, বাঙালিদের স্বার্থরক্ষায় NRC সংশোধনের প্রতিশ্রুতির ফলে ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করতে সমর্থ হন তিনি।

অন্যদিকে কংগ্রেস ও AIUDF-এর CAA বিরোধী অবস্থান এবং হিন্দু বিরোধী বক্তব্য কংগ্রেস সমর্থকদের অনেককেই বিজেপি মুখী করেছে। আর এবারের আসামের বিজেপির সরকারে ফেরা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এদিকে আসামের সাধারণ জনতা এবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন হিমন্তকে। তাঁর আভাসও মিলেছে এবারের নির্বাচনে। কারণ পূর্ব মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল তেমন প্রচার করেননি। অন্যদিকে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত চষে বেড়িয়েছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কারওর নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে জনতার উচ্ছাস ও সমর্থন বলে দিচ্ছে যে হিমন্ত এবার আসামের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.