নদীয়া: মুসলিম পরিবারের আপত্তি, কেড়ে নেওয়া হলো হিন্দুর উপার্জনের অধিকার

0
3272

গ্রামে মাত্র একটি মুসলিম পরিবার। আর তাঁরই আপত্তিতে এক হিন্দুর উপার্জন করার এবং স্বাধীনভাবে ব্যবসা করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হলো। এমনকি, ওই ব্যবসা চালু হলে গ্রামের বেশ কয়েকজন বেকার যুবকদের কাজ হত, উপার্জনের রাস্তা তৈরি হতো। এমনকি কলকাতা হাইকোর্টের রায় সত্বেও তা মানা হচ্ছে না। ঘটনা নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ থানার চাকুন্ডি গ্রামের।

জানা গিয়েছে, ওই গ্রামে মাত্র এক ঘর মুসলিম পরিবারের বসবাস। কিন্তু আশেপাশের গ্রাম মুসলিম অধ্যুষিত। ওই গ্রামের বাসিন্দা বুদ্ধদেব ঘোষ ২০১৭ সালে পশুপালন দপ্তরের কাছ থেকে শূকর পালন করার প্রশিক্ষণ নেন। সেই প্রশিক্ষণের শেষে তিনি সার্টিফিকেট পান। তারপর গ্রামে একটি শূকর পালন করার ফার্ম গড়ার উদ্যোগ নেন। সেইমত জমি কেনেন। শূকর পালন করার জন্য ঘর তৈরি করেন, ছাউনি তৈরি করেন। তারপর দূষণ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে অনুমতি নেন। কিন্তু গ্রামে শূকর পালন করার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে আপত্তি জানায় গ্রামের এক ঘর মুসলমান পরিবার এবং আশেপাশের গ্রামের মুসলমানরা। তাদের অভিযোগ, এতে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে। আর সেই অভিযোগ পেয়ে শূকর পালনের প্রকল্প বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

বুদ্ধদেব বাবু জানান, তিনি পুলিশের এই সিদ্বান্তের বিরুদ্ধে শূকর পালনের ফার্ম চালু করতে চেয়ে ২০১৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। সব কাগজপত্র দেখার পর কলকাতা হাইকোর্ট শূকর পালন চালু করার অনুমতি দেয়। সেই অনুমতির কপিসহ তাঁর উকিল থানায় চিঠি দেন। তারপরেও পুলিশ শূকর পালন ফার্ম চালু করার অনুমতি দেয়নি। পুলিশের যুক্তি, তাতে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে। এমনকি গ্রামের সব হিন্দু বাসিন্দা গণ স্বাক্ষর করে থানায় জমা দেন যে গ্রামে শূকর পালনের ফার্ম চালু হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তারপরেও আজও পর্যন্ত গ্রামে শূকর পালনের ফার্ম চালু করা যায়নি।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.