পশ্চিমবঙ্গে স্থান পেলেও আসামে বিজেপির সংকল্প পত্রে স্থান পেলো না CAA লাগু করার প্রতিশ্রুতি

0
266

© অমিত মালী

কয়েকদিন আগেই বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে নিজেদের ইস্তাহার তথা সংকল্প পত্র প্রকাশ করেছে আসামের বিজেপি। সেই সংকল্প পত্রে নানা রকম প্রতিশ্রুতি থাকলেও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন(CAA) লাগু করার কোনও প্রতিশ্রুতি নেই। আর যা ঘিরে আসামের বাঙালি ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বরাক উপত্যকার বাঙালি ভোটাররা যথেষ্ট ক্ষুব্ধ বিজেপির এই সংকল্প পত্র দেখার পর। তাদের অনেকেই বলছেন, যেহেতু আমাদের সামনে কোনও বিকল্প নেই, তাই ভোটটা হয়তো বিজেপিকেই দেব। কিন্তু অসমীয়া ভোটারদের খুশি করতে বাঙালি ভোটারদের উপেক্ষা করা মানে যায়না, বলছেন তাঁরা। 

আসামে প্রকাশিত বিজেপির সংকল্প পত্রে  NRC-কে সংশোধন করে উন্নততর রুপে লাগু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি অসমীয়া ভাষা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির রক্ষায় বিজেপির এই সংকল্প পত্র, এমন মন্তব্যও শোনা গিয়েছে বিজেপি নেতাদের মুখে। এমনকি, নামঘরগুলিকে বছরে ২ লক্ষ টাকা করে অনুদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে বিজেপির সংকল্প পত্রে। কিন্তু আসামের অত্যাচারিত, নিপীড়িত বাঙালিদের যে আইন স্বস্তি দিতে পারতো, সেই CAA-এর সম্বন্ধে একটি শব্দও নেই বিজেপির সংকল্প পত্রে। কিন্তু কেন এমনটা হলো? 

সারা দেশের একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে গিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব CAA লাগু করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাঁর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো আসামের হিন্দু শরণার্থীদের প্রধান দাবি ছিল CAA লাগু করার। দীর্ঘদিন CAA লাগু না হওয়ার কারণে বহু বাঙালি হিন্দু ডিটেনশন ক্যাম্পের যন্ত্রণাময় জীবন কাটিয়েছেন। কেউ বেঁচে ফিরেছেন। কেউবা মৃতদেহ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। যারা বেঁচে ফিরেছেন, তাদের আর বাঁচার মতো ইচ্ছে নেই। কারণ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করার আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাতে সর্বস্ব গিয়েছে তাঁর পরিবারের। আসাম জুড়ে এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি রয়েছে। ফলে বাঙালি হিন্দুর মধ্যে আশা জেগেছিল যে CAA লাগু হলে বিদেশি তকমা লাগার আশঙ্কা থাকবে না। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবেন তাঁরা। কিন্তু অসমীয়া পরিচয় যে হিন্দু পরিচয়ের তুলনায় অনেক বেশি মূল্যবান আসামের বিজেপি নেতাদের কাছে। তাই আসামের  বাঙালি হিন্দু শরণার্থীদের কাছে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন আপাতত শেষ। হয়তো বিজেপি ক্ষমতায় ফিরবে, আবার বাঙালিকে বিদেশি তকমা দিয়ে পুরে দেওয়া হবে ডিটেনশন ক্যাম্পের অন্ধকার কুঠুরিতে। আর আমরা শুধু কষ্ট পাবো, দুঃখ পাবো, আর অসহায়ের মতো বসে বসে নিজের মা-ভাই-বোনের ওপর হওয়া অন্যায় দেখতে থাকবো।  

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.