নদীয়া: তেহট্টে মন্দিরের ৩০ বিঘা জমি দখল করে কবরস্থানের নির্মাণ

0
3246

মন্দিরের ৩০ বিঘা সম্পত্তি জোর করে দখল করে কবরস্থানের নির্মাণ করা হলো নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার অন্তর্গত বার্নিয়ার ঘোষ পাড়া এলাকায়। শুধু তাই নয়, জমির চারপাশে নির্মাণ করা হলো উঁচু পাঁচিল। আশ্চর্যনকভাবে সেই পাঁচিলের রং নীল-সাদা। স্থানীয় হিন্দুদের অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশের মদতে মন্দিরের জমি দখল করে কবরস্থান বানানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ঘোষ পাড়ার এক বাসিন্দা মন্দিরের জন্য জমি দান করেছিলেন। সেই মন্দিরে প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে পূজা-অর্চনা হত। এমনকি স্থানীয় হিন্দু মহিলারা ওই জমির পাশে থাকা পবিত্র অশ্বত্থ গাছের তলে ধুপ-বাতি দিতেন। কিন্তু লক ডাউনের সময় স্থানীয় মুসলিমদের একাংশ একদিন মৃতদেহ নিয়ে এসে ওই জমিতে কবর দেওয়ার চেষ্টা করে। হিন্দুরা বাধা দেওয়ায় সেদিনের মতো চলে গেলেও হাল ছাড়েনি মুসলিমরা। তাঁরা দাবি করে যে বহুদিন আগে নাকি ওই জমিতে কবর দেওয়া হয়েছিল। সেইমত মুসলিমরা ওই জমিতে পাকার কবরের মত কাঠামো নির্মাণ করে। হিন্দুদের শত প্রতিবাদেও কান দেয়নি প্রশাসন।

তারপর হঠাৎই ওই মন্দিরের ৩০ বিঘা জমির চারপাশ ঘিরে ইঁটের পাঁচিল তুলে দেওয়া হয়। পাঁচিলের রং করা হয় নীল-সাদা। কবরস্থানের গেটে গ্রীলও লাগানো হয়। এমনকি পাঁচিল এমনভাবে ঘিরে দেওয়া হয়, যে পাশের ঘোষপাড়ার হিন্দু বাসিন্দাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি মন্দিরে যাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যায়। পরে এনিয়ে হিন্দু বাসিন্দারা প্রশাসনের উচ্চ স্তরে গেলে দেখা যায় ওই জমি মুসলিমদের নয়। এমনকি সরকারি নথিপত্রে ওই জমি কবরস্থান হিসেবে উল্লিখিত নয়। তাহলে কার মদতে মন্দিরের জমি দখল করে কবরস্থান বানানো হলো? স্থানীয়দের অভিযোগ, শাসক দলের নেতাদের মদতে এবং প্রশাসনের যোগসাজসে মন্দিরের জমি কবরস্থানে পরিণত করা হয়েছে। তবে বর্তমানেওই জমিতে কবর দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তবে হিন্দু বাসিন্দাদের দাবি, মন্দিরের জমি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকে।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.