জেনে নিন কাফের, মুশরিক, মালাউন, মুনাফেক, গনিমতের মাল ইত্যাদি শব্দের অর্থ

0
4186

© শ্রী রাজা দেবনাথ

কাফের : কাফের শব্দটি ‘কুফর’ থেকে এসেছে। ‘কুফর’ শব্দের অর্থ হচ্ছে অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা অথবা গোপন করা। বাংলাতে ‘কাফের’ শব্দের অর্থ করা হয় অবিশ্বাসী।

যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত দ্বীন ইসলাম বা ইসলামের কোন অংশকে, ক্বুরানুল কারীম (কোরান) বা এর কোন আয়াত, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম অথবা কোন একজন নবী অথবা রাসূলকে অস্বীকার করে, ইসলামি আকিদাহ বা এর মৌলিক কোন ধর্মীয় বিশ্বাস বা অকাট্য দলিল দিয়ে প্রমানিত ইসলামের কোন বিধি-বিধানকে অস্বীকার করে, অবিশ্বাস করে, প্রত্যাখ্যান অথবা এইগুলো নিয়ে হাসি-ঠাট্টা বা অবজ্ঞা করে, কিংবা মানে না… নিঃসন্দেহে সে ব্যক্তি একজন কাফের। (যেহেতু এরা ইসলামের পথে ফিৎনা বা ফ্যাসাদ তৈরি করে, বাধা দেয় তাই) কাফের হত্যা জায়েজ (বৈধ) এবং চির জাহান্নামী (নরকের কীট), সে কোনদিন জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবেনা। অনন্তকাল সে জাহান্নামে কঠিন শাস্তি পেতে থাকবে।

উদাহরণ : নিজে চিন্তা করুন। না বুঝলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চিন্তা করুন।

মালাউন : মালাউন শব্দটি আরবী শব্দ, যার অর্থ অভিশপ্ত বা আল্লাহর অভিশাপপ্রাপ্ত অথবা আল্লাহর রহমত থেকে বিতারিত।

উদাহরণ : নিজে চিন্তা করুন। না বুঝলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চিন্তা করুন।

মুশরিক : ‘শিরক’ শব্দের অর্থ হচ্ছে কাউকে শরিক বা অংশীদার বানানো। যে ব্যক্তি শিরক পাপ করে তাকে মুশরিক বলা হয়, বাংলাতে ‘মুশরিক ’ শব্দের অর্থ করা হয় ‘অংশীবাদী’। মুশরিক বলা হয় তাকে, যে কোন কিছুকে আল্লাহর অপ্রতিদ্বন্দ্বী একক সত্ত্বা, মর্যাদা বা ক্ষমতার সমান বা অংশীদার বলে বিশ্বাস করে, মনে করে অথবা দাবী করে।

অর্থাৎ আল্লা বা ঈশ্বর এক, কিন্তু যারা এই এক ঈশ্বরের (তেত্রিশ কোটি দেবদেবী) শরিক বানিয়ে তাদের আরাধনা করে, তারা অবশ্যই শিরক পাপী বা মুশরিক।

মুশরিকেরা চির জাহান্নামী, সে কোনদিন জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবেনা। অনন্তকাল সে জাহান্নামে কঠিন শাস্তি পেতে থাকবে।

উদাহরণ : নিজে চিন্তা করুন। না বুঝলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চিন্তা করুন।

মুনাফেক : ‘নিফাক’ অর্থ কপটতা, ভন্ডামি বা দ্বিমুখী নীতি। যার মধ্যে নিফাক থাকে তাকে মুনাফেক বলা হয়। যে ব্যক্তি মুখে নিজেক ঈমানদার, মুসলমান বলে দাবী করে কিন্তু যার অন্তরে ঈমান নেই, যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম আল্লাহর নাযিল করা একমাত্র সত্য ধর্ম, ক্বুরানুল কারীম (কোরান) আল্লাহর বাণী, নবী মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, এগুলো বিশ্বাস করেনা বা এগুলো নিয়ে সন্দেহ করে, তাকে মুনাফেক বলা হয়।

উদাহরণ : ইসলামের মধ্যে থেকেও যারা ‘সেকুলারিজম’ বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ মতবাদে বিশ্বাসী, যারা ইসলামের নামায, রোযা, হজ্জ, কোরবানি মানে কিন্তু ‘শরিয়াহ’ বা আল্লাহর আইন দিয়ে ক্বুরান হাদীস দিয়ে দেশ পরিচালনা করা, আইন- আদালত ও বিচার করাকে অস্বীকার করে, মুসলমান নাম নিয়ে হিজাব-পর্দাকে কটাক্ষ করে তারা মুনাফেক।

মুর্তাদ : ‘রিদ্দা’ অর্থ হচ্ছে পূর্বের অবস্থানে প্রত্যাবর্তন করা বা ফিরে যাওয়া। যে ব্যক্তি একবার ইসলাম ধর্ম কবুল করে মুসলিম হয়ে অথবা পূর্বে মুসলিম থাকার পরে কুফুরী অথবা শিরক করে অথবা ইসলামকে অস্বীকার করে পুনরায় কাফের হয়ে যায়, তাকে মুর্তাদ বলা হয়।

মুর্তাদ’কে হত্যা করতেই হবে এবং একজন ইসলাম ধর্মাবলম্বী – যিনি আল্লার পথে এই কাজ সুসম্পন্ন করতে পারবেন, মৃত্যুর পর তিনি জান্নাতুল ফেরদৌসের (শ্রেষ্ঠ স্বর্গ, যেখানে হুরেদের বাস) সেখানে সসম্মানে স্থান পাবেন।

অন্যদিকে কোন মুসলমান যদি সারা জীবন নামায রোযা করে কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে কাফের হয়ে মুর্তাদ অবস্থায় মারা যায়, কোন সন্দেহ নেই সে ব্যক্তি চির জাহান্নামী, সে কোনদিন জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবেনা। অনন্তকাল সে জাহান্নামে কঠিন শাস্তি পেতে থাকবে।

উদাহরণ : যে ব্যক্তি মুসলমানদের ঘরে মুসলমান
হিসেবে বেড়ে উঠে কিন্তু পরবর্তীতে নাস্তিক হয়ে
যায় বা অন্য ধর্ম গ্রহন করে, তবে সে মুর্তাদ হয়ে যাবে। তসলিমা নাসরিন, বা সলমন রুশদির দিকে তাকান।

ফাসেক : ‘ফিসক’ শব্দের অর্থ হচ্ছে
অবাধ্যতা। বাংলাতে ‘ফাসেক’ শব্দের অর্থ করা হয় পাপীষ্ঠ। যে ব্যক্তি নিয়মিত কবীরাহ গুনাহতে
লিপ্ত থাকে অথবা প্রকাশ্যে আল্লাহর নিষিদ্ধ ঘোষিত হারাম কাজ করতে অভ্যস্ত এবং তোওবা করে পাপ কাজ থেকে ফিরে আসেনা, তাকে ফাসেক বলা হয়।

উদাহরণ : নিচের প্রত্যেকটা –
– যে ব্যক্তি পিতা-মাতার অবাধ্য বা তাদের হক্ক আদায় করেনা
– যে ব্যক্তি কোন ওযর ছাড়া জামাতে শরীক হয়না
– যে ব্যক্তি দাড়ি মুন্ডন (শেইভ) করে
– যে ব্যক্তি টাখনুর নিচে কাপড় পড়ে
– যে ব্যক্তি ঘরের নারীদেরকে হিজাব-
পর্দার আদেশ করেনা
– যে নারী হিজাব-পর্দা করেনা, পর পুরুষদের সাথে চলা-ফেরা করে
– যে নারী স্বামীর অবাধ্য, স্বামীকে কষ্ট দেয়
ইত্যাদি।

গনিমতের মাল : ‘গনিমত’ অর্থ লব্ধি বস্তু। ইসলামী পরিভাষায় অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে শত্রুদের যা কিছু (পুরুষ, মহিলা ও শিশুরাও) মুসলিম বাহিনীর হস্তগত হয়, তাকে গনিমত বা গনিমা বলা হয়। গনিমতের মাল সর্বপ্রথম বদরের যুদ্ধে মুসলিমদের হস্তগত হয়। ঐ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী কাফের-মুশরিকদের পরাজিত করে এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্র, উট, ঘোড়া প্রভৃতি অস্থাবর জিনিসপত্র লাভ করে। সেই সাথে সত্তর জন লোককে বন্দি করা হয়। তখন গনিমতের বণ্টন সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা জেনে রাখা যে, তোমরা যা কিছু গনিমন্ত হিসেবে লাভ করেছ তার পাঁচ ভাগের একভাগ অভাবগ্রস্তদের জন্য।’-সূরা আনফােল, আয়াত : ৪১ আয়াত। এ বিধান অনুযায়ী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধে লব্ধ গনিমতের মাল পাঁচ ভাগের চারভাগ মুসলিম সেনাবাহিনীর লোকদের মধ্যে বণ্টন করেন এবং বাকি এক ভাগ আল্লাহর পথে ব্যয় করেন।

তথ্যসূত্র : বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা।

(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.