বাংলাদেশ: চট্টগ্রামে উন্নয়নের নামে একাধিক মন্দির, শ্মশানসহ ১৫০ হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র

0
900

অপ্রয়োজনীয় স্বত্বেও উন্নয়নের নামে ৯টি মন্দির, ৭টি মহাশ্মশান, ২০টি পারিবারিক মহাশ্মশান সহ প্রায় ১৫০টির উপর হিন্দু পরিবারকে তাদের পৈতৃক বসতভিটা, জমিজমা থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র চলছে।


চট্রগ্রামের পটিয়া উপজেলায় প্রায় দেড় শতাধিক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারকে ভিটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে নতুন বাইপাস সড়ক করার অপচেষ্টা চলছে। এর আগে চট্রগ্রামের পটিয়ার ইন্দ্রপুল থেকে কচুয়াই গিরিশ চৌধুরী বাজার পর্যন্ত দুই লাইনের একটি বাইপাসের কাজ সম্পন্ন করে বর্তমানে গাড়ি চলাচল করছে, তা স্বত্বেও এই বাইপাসের পূর্ব পাশের (গিরিশ চৌধুরী) ৫০ ফুট দূরত্বে আরেকটি নতুন বাইপাস করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় বাইপাসটি হলে প্রায় দেড় শতাধিক হিন্দু ঘর-বাড়ি সহ ওই এলাকার প্রায় ৯টি মন্দির, ৭টি মহাশ্মশান, অসংখ্য পারিবারিক শ্মশান ভেঙে ফেলতে হবে। শুধু হিন্দুরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বললে ভুল হবে, উক্ত এলাকায় বহু সংখ্যক মুসলিমও বসবাস করেন, ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেই পরিবার গুলোও।

উল্লেখ্য, পটিয়ায় প্রথমে যে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয় তাতে প্রায় শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি, জমিজমা হারিয়েছে, তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ছিল হিন্দু পরিবার। উচ্ছেদ হয়েছে অনেকগুলো মসজিদ, মন্দির, শ্মশান। যানজট ও দুর্ঘটনা নিরসনের লক্ষ্যে প্রথম বাইপাসটি নির্মাণ করা হলেও প্রকৃত পক্ষে দুর্ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের স্বার্থে এলাকার লোকজন ভিটে বাড়ি হারিয়ে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি মেনে নিলেও আবারো যদি মাত্র ৫০ ফুট দূরত্বে পাশাপাশি কচুয়াই গ্রামের ওপর দিয়ে আরেকটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয় শত বৎসরের পৈর্তৃক বসত ভিটা হারিয়ে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে। সেই সাথে অনেকগুলো মন্দির, শ্মশান ধ্বংস হবে।

ছবি: প্রতিবাদে বিক্ষোভ হিন্দু জনতার

এই অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রতিরোধের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইতিমধ্যে গত ২২শে ফেব্রুয়ারি সোমবার এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিশেষ করে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্যোগে উক্ত স্থানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। হাজার হাজার হিন্দু নারী পুরুষ শিশুরা নিজেদের পৈতৃক বসতভিটা, জমিজমা, শ্মশান আর মন্দির রক্ষায় রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ওই এলাকার প্রতিটা পরিবার বর্তমানে উচ্ছেদ আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.