মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী: এক অসামান্য সমাজ সংস্কারক

0
304

© পবিত্র রায়

ভারতবর্ষে যুগের প্রয়োজনে বারে বারে বহু মহামানবের জন্ম হয়েছে সমাজকে সুস্থ করে তোলা ও সঠিক পরিচালনা করার জন্য। আমরা সেইসব মানুষের জীবনী নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে মহামানবের স্তরে স্থান দিয়েছি। ভারতে যখন দয়ানন্দ সরস্বতী তাঁর মত করে সমাজ সংস্কার করার চেষ্টা করছেন, তখন এই বঙ্গ প্রদেশেও চলছে এক কথায় বাঙালি রেনেসাঁ। বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, শ্রীরামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, রামমোহন – সে তালিকা নিতান্তই ছোট নয়।হ্যাঁ, তার মধ্যে সামান্য সময়ের জন্য কলকাতায় এলেও আলাদা ভাবেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এই মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী।
   

 দয়ানন্দ সরস্বতীকে অনেকেই প্রচলিত হিন্দু ধর্মের বিপরীত মনে করেন।আসলেও তাইই ছিলেন তিনি।তিনি ছিলেন সঠিক বৈদিক আচারের পক্ষে। অবৈদিক কোনও ক্রিয়া তাঁর কাছে ছিল অগ্রহণযোগ্য।এই মহামানব গুজরাট রাজ্যের কাঠিয়াবাড় এলাকার পুরাতন মৌর্ভি নামক রাজ্যের রাজধানী মৌর্ভির নিকটস্থ টঙ্কারা গ্রামে ১৮২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।দয়ানন্দর পূর্ব নাম মূলজী শঙ্কর। তাঁর  পিতার নাম কর্ষণজী ও পিতামহের নাম লালজি ত্রিপাড়ি – উদীচী শ্রেণীর ব্রাহ্মণ। বেদানুরাগী ও ধর্মভীরু কর্ষণজী ছিলেন উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী – যথেষ্ট ভূসম্পত্তির অধিকারী ছিলেন। মূলজী শঙ্করের আট বছর বয়সে উপনয়ন সংস্কার করার পর সান্ধ্য উপাসনা শিক্ষা প্রদান করেন। দশ বছর বয়সে মূলজী যজুর্বেদ মুখস্থ করেন।চৌদ্দ বছর বয়সে সারাদিন উপবাস করে শিবরাত্রিতে প্রহরে প্রহরে শিবপূজা করছিলেন।এমনই এক সময়ে তিনি প্রত্যক্ষ করেন শিবলিঙ্গের উপর বসে একটি নেংটি ইঁদুর নির্ভয়ে আতপ চাল খেয়ে চলেছে,আর এই দৃশ্য তাঁকে মূর্তিপূজার প্রতি বিতৃষ্ণা এনে দেয়। আঠার বছর বয়সে বোনের মৃত্যু,উনিশ বছর বয়সে কাকার মৃত্যু তাঁকে সংসার সম্পর্কে বিবাগী বানিয়ে তোলে। বাইশ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন ও ব্রহ্মচর্য গ্রহণ করে ‘শুদ্ধ চৈতন্য ব্রহ্মচারী’ নামে কমণ্ডলু ধারণ করে নর্মদা প্রদেশের চানোদ-কল্যাণী নামক স্থানে শৃঙ্গেরি মঠ থেকে আগত পূর্ণানন্দ সরস্বতীর নিকট সন্যাসাশ্রমে দীক্ষিত হয়ে দয়ানন্দ সরস্বতী নাম ধারণ করেন, বয়স তখন শুধুই চব্বিশ বছর।  
 

 পরমানন্দ পরমহংসের নিকট বেদান্তসার, কৃষ্ণ শাস্ত্রীর নিকট ব্যাকরণ,কাশীর রাম নিরঞ্জন শাস্ত্রীর নিকট কৌমুদী ও ন্যায় শাস্ত্র, জ্বালানন্দ পুরী ও শিবানন্দ গিরির নিকট যোগাভ্যাস, কোনও এক রাজপন্ডিতের নিকট জ্যোতিষ ও তন্ত্রশাস্ত্র শিক্ষা করেন। প্রকৃত যোগিজির ও জ্ঞানের অন্বেষণে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের প্রায় সমস্ত দুর্গম তীর্থ পরিভ্রমণ করেছিলেন।এইভাবে সতের বছর অতিবাহিত করার পর ৩৯ বছর বয়সে ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে  মথুরায় ব্রহ্মবিৎ ও বৈদিক পন্ডিত স্বামী বিরজানন্দের নিকট এসে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে তাঁর নিকট পাণিনী, মহাভাষ্য, উপনিষদ, মনুস্মৃতি,ষড়দর্শন,বেদ ও বেদাঙ্গ অধ্যয়ন করেন।এই বিরজানন্দ স্বামী তখনকার ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ বেদজ্ঞ পন্ডিত ছিলেন।অধ্যয়ন শেষে গুরুর নিকট থেকে বিদায়কালে দয়ানন্দজী  প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন এই বলে যে তিনি সারাজীবন সত্য শাস্ত্রের উদ্ধারে কৃত সঙ্কল্প থাকবেন, অবৈদিক মিথ্যা মতবাদের  খন্ডন করবেন ও বৈদিক ধর্মের প্রচারে জীবন অর্পণ করবেন তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞা সারাজীবন অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন।
   

  বৈদিক ধর্ম প্রচার করার উদ্দেশ্যে তিনি আগ্রা,কানপুর,ঢোলপুর,জয়পুর,আজমীর, হরিদ্বার প্রভৃতি স্থান পরিভ্রমণ করেন।বিশেষ কিছু স্থানে সেখানকার বিখ্যাত পন্ডিত, মৌলানা ও পাদ্রিদের সাথে শাস্ত্র বিচার ও বিতর্কে জয়ী হয়ে দিগ্বিজয়ীরূপে কাশীতে উপস্থিত হলে কাশীর পন্ডিতগণ প্রমাদ গুনলেন,কারণ আগে হতেই দয়ানন্দ সরস্বতীর সুনাম তাঁদের কর্ণগোচর হয়েছিল। কাশী তথা কাশীর পন্ডিতদের সম্মানরক্ষায় স্বয়ং কাশীরাজ এগিয়ে এলেন।১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৬ নভেম্বর,মঙ্গলবার অপরাহ্ন ৩ ঘটিকায় এক বিতর্ক সভা ও শাস্ত্র বিচারের আয়োজন করলেন আনন্দবাগ নামক জায়গায় । প্রচুর শ্রোতার সাথে তখনকার কাশীধামের বিখ্যাত পন্ডিতদের মধ্যে উপস্থিত হলেন পন্ডিত বালশাস্ত্রী, শিবসহায় শর্মা, মাধবাচার্য, বামনাচার্য,দেবী দত্ত শর্মা, বিশুদ্ধানন্দ সরস্বতী,অম্বিকা দত্তের ন্যায় ৩০ জন লব্ধ প্রতিষ্ঠিত পন্ডিত – সভাপতির আসনে উপবেশন করলেন কাশীরাজ স্বয়ং। একদিকে ৩০ জন লব্ধ প্রতিষ্ঠিত পন্ডিত,অন্যদিকে একা নিশ্চল পর্বতসম দয়ানন্দ সরস্বতী। বিচারের বিষয় নির্দিষ্ট হল ‘মূর্তিপূজা বেদানুকুল কি না’। সমস্ত পন্ডিতকে পরাজিত করে বিজয়ী হলেন দয়ানন্দ সরস্বতী। চিল চিৎকার করতে করতে কাশীর পন্ডিতগণ সভা ত্যাগ করলেন।
 

   তৎকালীন বাংলার পন্ডিত তথা মাসিক ‘প্রত্নকমর নন্দিনী’ পত্রিকার মালিক সত্যব্রত সামশ্রয়ী উপস্থিত ছিলেন।তিনি তাঁর পত্রিকায় দয়ানন্দ সরস্বতীর বিজয় ঘোষণা করেন। এছাড়া ‘রোহিলাখন্ড সমাচার’,লাহোরের ‘জ্ঞানদায়িনী পত্রিকা’,কলকাতার ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ ও ‘পাইওনিয়ার’ পত্রিকায় কাশীর শাস্ত্র বিচারের প্রকৃত বিবরণ প্রকাশের সাথে দয়ানন্দ সরস্বতীর বিজয় ঘোষণা করে। কাশীর হিংসুটে পন্ডিতেরা নির্বিচারে এইমত পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না।তাঁরা সংস্কৃতে ‘দয়ানন্দ পরাভূতি’ ও হিন্দিতে ‘দুর্জন মতমর্দন’ নামক পুস্তক ছাপানোর সাথে নামহীন বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে দয়ানন্দর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে থাকলেন। দয়ানন্দ সরস্বতী এরপর ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি এলাহাবাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।শাস্ত্র বিচার সভায় উপস্থিত ছিলেন ‘ভূপ্রদক্ষিণ’ প্রণেতা ব্রাহ্মসমাজী ব্যারিস্টার চন্দ্রশেখর সেন।তিনি দয়ানন্দকে কলকাতা যাওয়ার নিমন্ত্রণ জানালে দয়ানন্দ সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন-কারণ আগে হতেই তাঁর কলকাতা যাওয়ার ইচ্ছে ছিল বেদ ভিত্তিক হিন্দুধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে। 
   

ডুমরাও, পটনা, জামালপুর, মুঙ্গের ও ভাগলপুর পরিভ্রমণ ও বৈদিক মতবাদ প্রচার করে ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর তিনি কলকাতা উপস্থিত হলেন। চন্দ্রশেখর সেন দয়ানন্দজিকে হাওড়া স্টেশনে অভ্যর্থনা করে সঙ্গে করে নিয়ে পাথুরিয়াঘাটার রাজা যতীন্দ্র মোহন ঠাকুরের গৃহে উপস্থিত হন।যতীন্দ্র মোহনের ভ্রাতা সৌরেন্দ্র মোহন ঠাকুর বরাহনগরের সন্নিকটে নৈনান নামক জায়গায় একটি বাগানবাড়ি বানিয়েছিলেন।এই বাগানবাড়িতে মহর্ষিজির থাকার ব্যবস্থা করে দেন যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর। এই বাড়িতেই কলকাতার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ দয়ানন্দের নিকট গিয়ে নানা বিষয়ের আলোচনা তথা জটিল সব প্রশ্ন করতেন।এইসব ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মহেশ ন্যায়রত্ন-যিনি ছিলেন সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ। আরও ছিলেন তারানাথ বাচস্পতি, পন্ডিত রাজনারায়ণ গৌড় ও অন্যান্য আরও অনেকে।এইস্থানে অবস্থান কালে শ্রীরামকৃষ্ণ একদিন উপস্থিত হয়ে তাঁর বক্তব্য শুনে এসে উপহাস করে বলেছিলেন, ‘সামান্য ঈশ্বর শক্তি এলেও কথায় যেন বৈখরী ছুটছে’-সামনে বসে তর্ক তো দূরের কথা,সামান্য কথা বলারও সাহস দেখাতে পারেননি। দয়ানন্দের যুক্তি ও বিচারে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর,ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার, সিটি কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ চন্দ্র মিত্র,আদি ব্রাহ্মসমাজের হেমচন্দ্র চক্রবর্তী,দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রাজনারায়ণ বসুর মত সুবিখ্যাত ব্যক্তিগণও দয়ানন্দের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন।দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে দয়ানন্দজি ১১ মাঘ এক মাঘোৎসবে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে উপস্থিত হন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ও তাঁর পূত্রগণ দয়ানন্দের সাথে কথাবার্তায় খুবই প্রীত হন।নববিধান নামক ব্রাহ্মসমাজের প্রবর্তক কেশব চন্দ্র সেন দয়ানন্দের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল  হয়ে পড়েন।দয়ানন্দের একটা অভ্যাস ছিল তিনি সংস্কৃত ভাষায় বক্তৃতা করতেন ও কৌপীন পরিধান করতেন।কেশবচন্দ্রের অনুরোধে তিনি হিন্দিতে বক্তৃতা করা শুরু করেন, কৌপীন বাদ দিয়ে সাধারণ বস্ত্র পরিধান শুরু করেন।১৮৭২ খ্রিস্টাব্দের ৯ জানুয়ারি তারিখে দয়ানন্দ কেশব চন্দ্রের লিলি কটেজ নামক গৃহে বক্তৃতা প্রদান করেন,২৩ ফেব্রুয়ারি বক্তৃতা করেন গোরাচাঁদ দত্তের বাড়িতে ও ৯ মার্চ বক্তৃতা করেন বরাহনগর নৈশ বিদ্যালয়ে। 
   

 বাংলার বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা করে তিনি হুগলি হয়ে ভাগলপুর যাত্রা করেন ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ এপ্রিল তারিখে। চারমাস কাল বঙ্গে অবস্থান কালে বাংলার কোনও পন্ডিত সম্মুখ সমরে তর্ক যুদ্ধে জিততে না পারলেও কাশীর পন্ডিতদের রাস্তা ছাড়লেন না।কলকাতা সিনেট হলে এই সব পন্ডিতগণ দয়ানন্দ বিরোধী এক সভার আয়োজন করলেন-যাঁর মুখ্য উদ্যোক্তাগণ ছিলেন  মহেশচন্দ্র ন্যায়রত্ন, তারানাথ বাচস্পতি, রসময় বিদ্যালঙ্কার, নবদ্বীপের পন্ডিত ভূষণচন্দ্র তর্করত্ন।এই সভায় ৩০০ জন পন্ডিত উপস্থিত হয়েছিলেন।দয়ানন্দের অনুপস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে সভা হচ্ছে বলে সেই সভায় পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উপস্থিত হতে অস্বীকার করেন। দয়ানন্দ সরস্বতী যাতে করে বৈদিক হিন্দু ধর্মের প্রচার ও প্রসার স্তব্ধ না হয়ে পড়ে,তারজন্য ১৮৭৫ খৃস্টাব্দের ৭ এপ্রিল সর্বপ্রথম আর্যসমাজ স্থাপন করেন।
     

দয়ানন্দ ভারতবর্ষ থেকে ধর্মবিরোধ দূর করার জন্য সমস্ত ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে এক সম্মেলনের আয়োজন করেন দিল্লীতে।সেই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের কেশব চন্দ্র সেন, স্যার সৈয়দ আহমদ,হরি দেশমুখ,লালা অলখধারী,নবীন চন্দ্র রায়, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রভৃতি ব্যক্তিগণ। সবাই মতামত দিলেও ঐকমত্যে পৌঁছান গেল না।সম্মেলন বিফল হল।এরপর তিনি দিল্লি থেকে মীরাট গমণ করেন ও মীরাট থেকে যান চাঁদাপুর।এই চাঁদাপুরের এক মেলায় মুন্সি প্যারেলালের উদ্যোগে ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ তারিখে হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিস্ট মতের আলোচনার জন্য এক বিরাট সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেই সম্মেলনে খ্রিস্টান পক্ষে যোগদান করেন চারজন পাদ্রী-স্কট, নোবেল, পার্কার ও জনসন। মুসলমান পক্ষে যোগদান করেন দু’জন মৌলবী-মোহাম্মদ কাসেম ও আব্দুল মনসুর,বৈদিক ধর্ম বা হিন্দুধর্মের পক্ষে অংশ গ্রহণ করেন মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী। এরপর শাস্ত্র বিচার শুরু হলে মৌলবী ও পাদ্রিরা টিকতে না পেরে সভাস্থল পরিত্যাগ করেন হিন্দু ধর্মের বিজয় ঘোষিত হয়।
   

 দয়ানন্দ ভেবেছিলেন তাঁর বৈদিক মতবাদ ও বেদ বিরোধী মূর্তিপূজা ব্রাহ্মরাই টেনে নিয়ে যেতে পারবেন।কিন্তু তিনি দেখতে পান ব্রাহ্ম মতবাদের মধ্যেই বহু মতবিরোধ বর্তমান।নবীন চন্দ্র রায় ও পন্ডিত অমরনাথের নিমন্ত্রণে তিনি লাহোর গমণ করেন।দয়ানন্দের বক্তৃতায় রক্ষণশীল হিন্দুরা অখুশি হল,ব্রাহ্মরাও খুশি হতে পারল না । ব্রাহ্ম সমাজের যে অংশ দয়ানন্দের কথা বা সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন,তাঁরা বৈদিক হিন্দুধর্ম গ্রহণ করে আর্যসমাজী হলেন।প্রসঙ্গত লাহোরে কোনও হিন্দু বাড়িতে আর্য সমাজের সভা করার জায়গা না দিলেও ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দের  ২৪  জুন ডা. রহিম খাঁ তাঁর বাড়িতে আর্য সমাজের  প্রথম অধিবেশন করার জায়গা দিলেন।
   

  মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী ভারতবর্ষকে নানাবিধ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন দেখতে পেয়েছিলেন। ধর্ম,পরকাল ও মুক্তির নামে এক শ্রেণীর মানুষ দেশবাসীকে শোষণ করছে।পূজার নামে জীব হত্যা করে মন্দির কলুষিত,স্ত্রী ও শূদ্রদের বেদ জ্ঞানারোহণ থেকে বঞ্চিত রেখে জাতিকে হীন করে তুলছে।গুরুবাদ, অবতারবাদ ও পুরোহিত বাদের কঠোর সমালোচক ছিলেন তিনি। মুসলমানগণ একটি কথা বলে থাকে এই বলে যে অথর্ববেদে নাকি হযরত মোহাম্মদের আগমণ সম্পর্কে লিখিত আছে।এই মিথ্যার জবাব প্রথম দয়ানন্দজিই প্রদান করেন।তিনি বলেন এইমত কোনও কথা অথর্ব বেদে নেই। এইমত কথা আল্লাহোপনিষদে লেখা আছে। এই বইটি আকবরের সময় লেখা হয়,যার মধ্যে কিছু সংস্কৃত জানা ব্যক্তি সংস্কৃত ও আরবি মিশ্রণে এই কথাগুলি লেখে।আরও বলেন ইল্লে-কুল্লে সংস্কৃত ভাষা নয়। 
   

 আজকের দিনে আমরা যে ধর্মীয় কুসংস্কার ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করছি,সেই কুসংস্কার ঝেড়ে ফেলার শাস্ত্রীয় প্রমাণ সহকারে প্রথম শুরু করেন মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী – একথা অমান্য করা যায়না।এই মহর্ষি তাঁর প্রগাঢ় জ্ঞানভাণ্ডারের পরিচয় রেখে ও জাতিকে বৈদিক মতের সঠিক ব্যাখ্যা জানিয়ে ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০ অক্টোবর, মঙ্গলবার ৫৯ বছর বয়সে আজমীরে দেহত্যাগ করেন এক উপাসনান্তে।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.