একুশের দেওয়াল লিখন স্পষ্ট, এখনই বিধানসভা ভেঙে দিক সরকার

0
248

© পবিত্র রায়


ঘাসফুলে ভাঙন অব্যাহত। শুভেন্দু দল ছাড়ার পর হতে বিভিন্ন কোণ থেকে আক্রমণ ধেয়ে আসছে। তৃণমূলে ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ, কোচবিহার যুব তৃণমূলের নীতীশও একই রাস্তায়, দুর্গাপুরে চন্দ্রশেখরও ইস্তফা দিলেন, হাওড়ার প্রাক্তন ছাত্রনেতা সুজিত সামও বিজেপি’র হাত ধরতে চলেছেন। একসময় বিভিন্ন দল থেকে এমনি ভাবেই তৃণমূলে আসার স্রোত অব্যাহত ছিল সেদিন, তৃণমূলে ছিল জোয়ার। আর আজ? মমতার কথামতো তৃণমূল দলে  সত্যিই ভাঁটা লেগেছে।      

একটু ইতিহাসের দিকে তাকানো যাক। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর দেখা গেল বামফ্রন্ট সর্ব সাকুল্যে ১৫ টি আসন পেয়েছে।বিরোধীরা পেয়েছে ২৭ টি আসন। ক্ষমতার মোহে অন্ধ বামপন্থীরা তখনও বুঝতে পারল না যে জনসমর্থন আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাঁরা প্রতিটি লোকাল কমিটিতে রিপোর্ট নিতে থাকল ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে।  সমস্ত লোকাল কমিটিই প্রায় বিপুল জয়ের ইঙ্গিত দিল। খুশিতে ডগমগ আলিমুদ্দিন অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার গঠনের নেশায় ২০১১ সাল পর্যন্ত সরকার টেনে নিয়ে গেল। আর দলের প্রতি এই সময়ে জনগণের অনাস্থা আরও প্রকট হয়ে উঠল। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর গো হারা  হেরে গেল বামফ্রন্ট। হারার পরেও বামপন্থীদের দেখে মনে হচ্ছিল না যে তারা এই হারকে বিশ্বাস করেছে।তপন, শুকুর, মজিদদের উপর ভর করা বামপন্থীরা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর এখন সাত শতাংশ ভোটে ঠেকেছে। ওই সময় অর্থাৎ ২০০৯ সালে লোকসভা ভোটে হারার পর যদি বামপন্থীরা নিজেদের দিকে জন সমর্থন নেই মেনে নিয়ে রাজ্য সরকার ভেঙে দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে যেত,তাহলে গো হারা হওয়ার পরিবর্তে এক শক্তিশালী বিরোধী দল হয়ে বিধান সভায় বিরাজ করতে পারত। সেখান থেকে ক্ষমতায়  ফিরে আসার সম্ভাবনাও থাকত। অধিক চতুরতার ফলে আজ ফিরে আসা তো দূরের কথা, অস্তিত্বহীনতার ভয়ে কাঁপছে দলটা।অপরিপক্ক রাজনীতি একেই বলে বোধ করি।    

  বর্তমানে মমতা ব্যানার্জির বিভিন্ন কথায় বুঝতে পারা যাচ্ছে যে উনি মন থেকে ভেঙে পড়ছেন। আমি যা করে গেলাম,কেউ করতে পারবে না, এরা নেবে হিন্দুভোট-ওরা নেবে মুসলিম ভোট জাতীয় কথাগুলো কিন্তু মমতাদেবী দেওয়াদের লিখন পড়তে পেরেছেন বলেই ধরতে হয়। প্রশ্ন হলো, উনি দেওয়ালের লিখন পড়তে পেরেছেন মেনে নিলে বলতে হয় উনি ব্যবস্থা কি নিয়েছেন ? মুকুল, জিতেন্দ্র, অর্জুন, শুভেন্দু  – দলের প্রথম সারির নেতাগণ  দল ত্যাগ করে ত্যাগ করার রাস্তা আরও প্রশস্ত করল বলেই মনে হয়। এতদিন সামান্য বিরোধিতা করলেই নিজ দলের সদস্যদেরও জেল বন্দী করতে আটকায়নি। বিরোধী দলের নেতা- কর্মীদের উপর বিনা কারণে মানসিক রোগগ্রস্তের মত ব্যবহার করে জেলের ঘানি টানিয়েছেন। এবার যেভাবে লাইন লাগিয়ে দলত্যাগ শুরু হয়েছে,তাতে কি করবেন ? গড়বেতার রাস্তায়, বারাকপুরে জয় শ্রীরাম ধ্বনি শুনে গাড়ি থেকে নেমে তাড়া করার মত ব্যবহার করবেন, না’কি জেলে ঢোকাবেন? জেলে ঢোকানোর সম্ভাবনা কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, সে ভয় শুভেন্দুরও আছে। রাজ্যপালকে সেকথা জানানোয় রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে দিয়ে সংযত থাকতে অনুরোধও করেছেন। তবে যত বেশি পুলিশি ভয় ও জেলে ঢোকানোর ব্যবস্থা করে ঔদ্ধত্য দেখাবেন, তত বেশি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মত সপ্ত পাতালের অন্যতম রসাতলে যেতে থাকবেন, একথা হলফ করেই বলা যায়। 

  মমতার এখন কী করা উচিত ? যেভাবে ভাঙন চলছে,ভবিষ্যতে হয়ত আরও বড় হয়ে ভাঙন দেখা দেবে। এই ভাঙন ঠেকাতে বালির বাঁধ হলেও তো কিছু একটা বাঁধ দেওয়া দরকার ! মমতা যদি পূর্ণ মেয়াদ শেষে নির্বাচনে যেতে চান, তাহলে বাঁধ দেওয়ার মত বালিও পাওয়া না যেতে পারে। খুব সম্ভবত দলটা নির্বাচনে যাওয়ার আগেই অস্তিত্ব হীনতায় চলে যেতে পারে। মমতা যখন বুঝতেই পেরেছেন দেওয়া লিখন, তখন সেটা মেনে নিয়ে ক্ষমতায় আসার খোয়াব ছেড়ে শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ হয়ে আগামী বিধানসভা আলোকিত করার চেষ্টা করুন। তাহলে বামপন্থী দের মত সাত শতাংশে নেমে লম্ফঝম্প করতে হবে না। আর যদি তা না করে পূর্ণ মেয়াদ শেষে নির্বাচনে যান, তাহলে বুথ পিছু কর্মী দিতেও অসুবিধায় পড়তে পারেন। এইমত ভাঙনের ফলে মাঝপথে যদি কংগ্রেস- বামপন্থী জোট দ্বিতীয় হয়ে উঠে আসে, তাহলে কিন্তু ভবিষ্যতে ফিরে আসার সম্ভাবনাও বাতিল হয়ে যাবে। একটি দল যার বয়স মাত্র বাইশ বছর, ধূমকেতুর মতো উদয় হয়ে উল্কার মতো পতনের দিকে ধেয়ে চলেছে স্রেফ মেধাহীন রাজনীতি ও চুড়ান্ত পারিবারিক ক্ষমতায়নের ফলে।এখনও যদি মমতা সরকার ভেঙে দিয়ে নির্বাচনে যান, তাহলে আমরা একটা শক্তিশালী বিরোধীপক্ষ পাব।আর যদি দেরী করে বা মেয়াদ পূর্ণ করে নির্বাচনে যান, তাহলে আমরা পাব সম্পূর্ণ জ্বলে যাওয়া এক উল্কার ভস্ম বিশেষ।

( মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.