বাংলাদেশ: চুরির অভিযোগে হিন্দু মহিলাকে গাছে বেঁধে মারধর, দুধ খেতে না পেয়ে শিশুর কান্না

0
463

চুরির অভিযোগে হিন্দু মহিলাকে গাছে বেঁধে মারধর, দুধ খেতে না পেয়ে ৬ মাস বয়সী শিশুর কান্না।

এমনই ঘৃণ্য, বর্বরোচিত ঘটনাটি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক আদিবাসী
নারীর সাথে ঘটেছে গত শনিবার।

জানাযায়, উপজেলার সাগরদিঘীর ইউনিয়নের মালিরচালা গ্রামের নারায়ন বর্মনের স্ত্রী সন্ধ্যা রানীর ২ ছেলে ১ মেয়ে সন্তান রয়েছে। গ্রামের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে তার ছোট ছেলে পলাশও (৮) খেলাধুলা করতো, এবং ঘুড়ি উড়াতো। কিন্ত, ঘটানাটির ১৫ দিন আগে মনিরুল ইসলাম ভূইয়ার বাড়ি থেকে ঘুড়ি তৈরির জন্য পত্রিকা নিয়ে আসে এবং তার সন্তানদের সঙ্গে ঘুড়ি উড়ায়। হঠাৎ মনিরুলের বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও টাকাপয়সা সহ মূল্যবান কাগজপত্র চুরি যায়। তারপর, গত ৩রা জানুয়ারি পলাশকে তারা ধরে নিয়ে যায় এবং মারধর করে ও মালামাল চুরি করে তার মায়ের কাছে জমা দিয়েছে এই ধরণের কথা বলতে বলে। তা-না হলে তার মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়াও হয়। ভয়ে পলাশ স্বীকারোক্তি দেয়।

এরপরে, গত শনিবার সন্ধ্যা রানীর বাড়িতে ঢুকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে খুকি বেগম এবং সুমা আক্তার। একপর্যায়ে তাকে বাড়ি থেকে ধরে এনে করিম ভূইয়ার বাগানে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মনিরুল ইসলাম ভূইয়া (৮০), তার দুই ছেলে মোস্তফা ভূইয়া (৪৫) ও সজিব ভূইয়া (৪০) মিলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এরপরে, স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এরপর, গতকাল রোববার সন্ধ্যা রানী বর্মন বাদি হয়ে ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলাও করেন।

কিন্তু, মামলা করার পর সন্ধ্যা রানী এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অপরাধীরা অনবরত হুমকি দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী মহানন্দ চন্দ্র বর্মন বলেন, প্রায় চার ঘণ্টা সন্ধ্যা রানীকে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় সন্ধ্যা রানীর ৬ মাসের শিশু সন্তান অনবরত কান্নাকাটি করেছে। এর মাঝে শিশুটিকে তারা তার মায়ের বুকের দুধও খেতে দেয়নি। পরে দুই বন্ধুর সহযোগিতায় সন্ধ্যা রানীকে উদ্ধার করি। এখন পর্যন্ত সে আমার বাড়িতেই আছে।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.