মিমকে সমর্থন! মুসলিম ভোট কি পাবে সি পি এম?

0
435

© পবিত্র রায়

সম্প্রতি সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন আব্বাস সিদ্দিকি তথা মিম সাম্প্রদায়িক দল নয়।আব্বাস সিদ্দিকি বহুজনের কথা বলেছেন।এইমত একটি উবাচ দেখে হঠাৎ করে যেন একটা চপেটাঘাত খেয়ে চুপ হতে বাধ্য হলাম।কি বলা যায়, আর কি বলা যায়না,সেটাই ভেবে উঠতে পারছি না।তবে মনে হচ্ছে ভূপেশ গুপ্ত,জ্যোতি বসুদের যৌবনের রাজনীতি ফিরিয়ে এনেছেন বর্তমান কমিউনিস্ট নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র।

প্রথমেই সূর্য বাবুর ‘বহুজন’ শব্দ নিয়ে কিছু কথা বলতে হয়।বহুজন অর্থে বাংলা ব্যাকরণ হিসেবে দু’য়ের অধিক হলেই বহু হিসেবে গণ্য হয়। সূর্য বাবু কি তিন বা আরও বেশি কিছু লোকের হয়ে কথা বলাকে বহু জনের হয়ে কথা বলাটা হিসেবে ধরছেন ? আর যদি তা না হয়, তাহলে কাদের উদ্দেশ্য করে বহুজনের হয়ে কথা বলা ধরেছেন ?

মিম সাম্প্রদায়িক দল নয় বলেছেন সূর্যকান্ত মিশ্র। একে তো সূর্য বলে কথা! তার কথা মান্য না করে পারা যায়! বলছিলাম কি আসাদুদ্দিন ওয়েসি ১৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ সরিয়ে নিলে মুসলমানরা সারা ভারতের হিন্দুদের সাবাড় করতে সক্ষম এটা কি অসাম্প্রদায়িক মানুষের অসাম্প্রদায়িক উক্তি ? মিম যে একটা উগ্র সাম্প্রদায়িক মুসলিম দল,সেটা ভারতের সবাই জানে।পশ্চিমবঙ্গে এসে এতগুলো রাজনৈতিক দল থাকা সত্ত্বেও পীরগিরি করে মুসলমান জনতাকে কব্জায় রাখার চেষ্টা করা আব্বাস সিদ্দিকির সাথে জোট করতে গেলেন অসাম্প্রদায়িক হওয়ার ঠেলায় ! জিতলে ওরা কি বহুজন হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের হয়েই শুধু কথা বলবে না ? সূর্যকান্ত মিশ্রের ভাবনায় কি হিন্দু হত্যা,মুসলমানদের হয়ে অন্যায় ওকালতি ও পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি করলেই কি অসাম্প্রদায়িক দল হওয়া যায়?

একটু ইতিহাসের দিকে তাকানো যেতে পারে।দেশ বিভাগের প্রাক্কালে এই দলটি সরাসরি মেতে উঠেছিল মুসলিমদের দাবির সমর্থনে।এমনও স্লোগান এরা দিয়েছিল যে তাতে বলা হয়েছিল ‘আগে পাকিস্তান দিতে হবে,তারপর ভারত স্বাধীন হবে’। ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট হিন্দু হত্যা শুরু করার ডাক দেওয়া মুসলিম লিগের সভায় জ্যোতি বসু সশরীরে উপস্থিত থাকায় বুঝা যায় হিন্দু হত্যা,লুণ্ঠন,সম্পত্তি ধ্বংসকরণে প্রত্যক্ষ সমর্থন ছিল কমিউনিস্টদের। দেশ বিভাগের প্রাক্কালে হিন্দু ও মুসলিমদের এক বৈঠকে সুরাবর্দি হিন্দু সমর্থন দেখানো ও বেশি সমর্থনের আশায় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি জ্যোতি বসুকে আমন্ত্রণ জানালে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বেঁকে বসেন ও বলেন ‘জ্যোতি বসু কোন্ দলের হয়ে আসছে’? তখন জ্যোতি বসুকে সেই সভা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় সুরাবর্দি। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর হিন্দু- মুসলিমদের এক মিটিংয়ে থাকার জন্য দাবি জানায় কমিউনিস্টরা।যতদূর মনে পড়ছে,তাতে করে মন্ত্রী সুবোধ কান্ত সহায় ছিলেন সেই সভার উদ্যোক্তা।সুবোধ বাবু স্পষ্ট জানিয়ে দেন,এই সভায় আসতে হলে আগে জানাতে হবে তাঁরা কোন্ পক্ষের-এখানে সেকুলারগিরির কোনও জায়গা নেই কমিউনিস্টদের উদ্দেশ্য ছিল সেই সভায় যোগদান করে মুসলিমদের পক্ষ নিয়ে বিষয়টিকে গুলিয়ে দেওয়া। এই দু’বার ঘাড় ধাক্কা খাওয়ার পরও এঁদের সম্বিত ফেরেনি,সুস্থ জ্ঞান নিতে এঁরা অপারগ পূণরায় সেই এক এবং অদ্বিতীয় মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা তোষণের খেলায় মেতে উঠেছে – ঠিক ১৯৪৬ সালকে অনুকরণ করে।ইতিহাস কি আবার ঘুরে আসছে ?

সূর্য বাবুদের উত্তরসূরিরা মুসলিম সাম্প্রদায়িকতায় ইন্ধন দিয়ে দেশটাকে ভাগ করেছে।২২ শতাংশ মানুষের জন্য ২৯ শতাংশ জমি দিয়ে মুসলিম দেশ বানাতে সাহায্য করেছে।তারপরও এদেশে তাঁদের কমবেশি ৩৫ শতাংশ মানুষকে রেখে তোষণ করে আবারও নতুন এক সমীকরণের সৃষ্টি করে চলেছেন।নতুন করে মিমকে সমর্থন করে কিছু মুসলিম ভোট পাওয়ার আশা করলেও সেটা জুটবে বলে মনে হয়না।মুসলিম ভোটাররা এতটা বোকা নয়। তাঁরা জানে তাঁদের আসল মিত্র আব্বাস-ওয়েইসি জোট।উল্টে বামফ্রন্ট-কংগ্রেসের বেশ কিছু হিন্দু ভোট অসাম্প্রদায়িকতা দেখিয়ে আব্বাস- ওয়েইসি জোট পেয়ে যাবে। যতই ওদের।সাথে সূর্যবাবু-অধীর চৌধুরীরা জোট।করুন না কেন,মুসলিম জোটের সাম্প্রদায়িক কোনও ভোটই তাঁরা পাবে না।বিগত বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস- বামপন্থী জোটের মত অবস্থা হবে।মাঝে পড়ে বামপন্থীদের বদান্যতায় আব্বাস- মিম জোট বিধান সভায় বেশ কয়েকটি আসন নিয়ে ঢুকে যেতে পারে।এরপর শুরু হবে মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার নগ্ন রূপ। সেই নগ্ন রূপ চলে আসবে সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে। ৩০ শতাংশ মুসলিম আলাদা মুসলিম ভূমি পাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগে থেকে মুসলিম এলাকায় শুরু করবে হিন্দু নিধন,ধর্ষণ,গৃহদাহন প্রভৃতি নতুন করে শুরু হবে এথনিক ক্লিনজিং। তারপর সরকার তাদের সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে।সূর্য বাবুরা কি আগের মত করেই বলবেন ‘মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশ দিয়ে দেওয়া হোক’ যেমন বলতেন কাশ্মীরিদের হয়ে ? সূর্য বাবুর বিলক্ষণ মনে রাখা উচিত দেশে এক নাথুরামের মৃত্যু হলেও বহু নাথুরাম জন্ম নিয়ে নিয়েছে।

(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

Image credit: News18

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.