একুশের বিধানসভা নির্বাচন- তোষণ রাজনীতি, জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির লড়াই

0
286

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনীতি এক অদ্ভুত মোড়ে দাঁড়িয়ে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই হতে চলেছে, একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের তোষণ রাজনীতি ও অন্যদিকে বিজেপির জাতীয়তাবাদী রাজনীতি। এর মধ্যেই ঢুকে পড়েছে কট্টর মুসলিম রাজনৈতিক দল আসাউদ্দিন ওয়াইসি দল মিম ও এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আব্বাস সিদ্দিকী।
আর এর ফলে বাংলার আকাশে বাতাসে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে খুব একটা সুবিধা হবে না কোনো সেক্যুলার তকমা লাগানো রাজনৈতিক দলের।
ভোট কার্যত পশ্চিমবাংলায় হতে চলেছে একদিকে হিন্দু মুসলিম দলিত ঐক্য নাম নিয়ে আব্বাস সিদ্দিকী ও অন্যদিকে বিজেপি জাতীয়তাবাদী ও হিন্দুত্ববাদের নামে বিধানসভা ভোট। এই লড়াইয়ের ফলে বঙ্গ রাজনীতি সরগরম হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যেই।

অনুমান করা হচ্ছে যে, আব্বাস সিদ্দিকী ও আসাদউদ্দিন ওয়াইসির জোট কমপক্ষে 40 টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। তাছাড়া, আরও একাধিক সিটে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখবে এই জোট। তাহলে পশ্চিমবঙ্গের গদি সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে যেকোনো রাজনৈতিক দলের।
এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হলো আব্বাস সিদ্দিকী পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে ফেলেছে সেক্ষেত্রে কোন সেকুলার রাজনৈতিক দল মুসলিম ভোট নিজের ঘরে তুলতে পারবে না। অনুমান করা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে ধর্মের ভিত্তিতে লড়াই হবে এবং আগামী দিনে সংখ্যালঘুরাই রাজনৈতিক ময়দানে ধারক-বাহক হয়ে উঠবে। তবে হিন্দু ভোটাররা যদি।ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেয় তবে এই ছবির পরিবর্তন হতে পারে।

এই বিধানসভার লড়াইয়ের ময়দানে বিজেপি কতটা হিন্দুত্ববাদী সংগঠন দের কাছে টেনে নিতে পারে সেটাই বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। যদিও গতকালই আমরা দেখতে পেয়েছি সিংহবাহিনী বলে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিজেপিতে যুক্ত করেছেন। কিন্তু সবথেকে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে বড় স্বতন্ত্র হিন্দু সংগঠন যার নাম হিন্দু সংহতি।
এই হিন্দু সংগতির কেন্দ্রীয় সভাপতি ঘোষণা করে দিয়েছেন তারা পৃথক ভাবে রাজনৈতিক দল ঘোষণা করে রাজনৈতিক ময়দানে নামবেন।

এক্ষেত্রে বিজেপির বিরাট ক্ষতি হতে পারে বলে সম্ভাবনা করা যাচ্ছে। পশ্চিমবাংলার কমবেশি 30 থেকে 35 টি বিধানসভা কেন্দ্র হিন্দু সংহতি খুবই প্রভাব আছে। হিন্দু সংহতি নিজে রাজনৈতিক ময়দানে খুব একটা সুবিধা না করতে পারলেও বিজেপির হিন্দু ভোট কেটে সর্বনাশ করে দিতে পারে। অন্যদিকে ওর রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল শিবসেনা বিধানসভা নিবাচনে 100 আসনে প্রার্থী দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শিবসেনা সেভাবে প্রভাব বিস্তার না করতে পারলেও বিজেপির ঘরের ভোট কাটতে সক্ষম হবে।আগামীর বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন যদি এক ছত্র তলে না আসে তাহলে খুবই ভয়ংকর দিন আসছে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল বিজেপির।
আগামী দিনের কোন পথে রাজনীতি যাবে আমাদের চোখ থাকবে অবশ্যই।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.