পাল্টা মার খাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাই হিন্দিভাষীরা বিদ্বেষের শিকার

0
637

© অমিত মালী

হঠাৎ করে রাজ্যে হিন্দি বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বাঙালি আবেগ উস্কে দিয়ে সুক্ষভাবে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা চলছে যে যাতে করে বাংলা আবেগে ভেসে গিয়ে বাংলা ভাষায় কথা বললেই যেন সবাইকে বাঙালি বলে ধরে নেওয়া হয়। এই হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা সংগঠনগুলির দাবি এই যে বাংলায় থাকতে হলে বাংলা ভাষায় কথা বলতে হবে। কিন্তু হঠাৎ করে এমন কি হলো যে হিন্দির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে হবে? 

পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসার একটা বড় অংশ হিন্দিভাষীদের হাতে। এছাড়াও, নানা পেশার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ কয়েক পুরুষ ধরে এই পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করেন। কিন্তু তাঁরা কোনোদিন এই রাজ্যে বসবাসকারী বাঙালিদের বিরুদ্ধে কোনোরকম বিদ্বেষ ছড়ানো কিংবা বাঙালির স্বার্থে আঘাত করার চেষ্টা পর্যন্ত করেননি। কিন্তু কাদের প্ররোচনায় এমন হিন্দি বিরোধিতা করছেন কিছু মানুষ? এতে লাভ কার? কিংবা লোকসান কার? 

রাজ্যের বাংলা ভাষায় প্রচুর আরবি এবং উর্দু শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে। আর তার ফলে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র ও শরৎচন্দ্র-এর মত কালজয়ী সাহিত্যের ভাষাকে দূষিত করা হচ্ছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোনোদিনই মুখ খুলতে দেখা যায়নি এদের। 

কিংবা রাজ্যের একাধিক অঞ্চলে হঠাৎ করেই উর্দু ও আরবি ভাষার রমরমা বেড়ে চলেছে। উর্দু ও আরবি ভাষায় ব্যানার ও সাইনবোর্ড চোখে পড়ছে। এমনকি উর্দু ভাষার শিক্ষক নিয়োগ করতে হচ্ছে একাধিক স্কুলে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোনদিন মুখ খুলতে দেখা যায়নি এদের। কখনও উর্দু সাইনবোর্ডের ওপরে কালী মাখানো হয়নি। কিংবা কখনও উর্দুভাষী ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে হেনস্থা করার ঘটনা ঘটেনি। সেরকম হলেও হয়তো এদেরকে বেধড়ক মার খেতে হতো। কিংবা তার থেকেও খারাপ কিছু ঘটনা ঘটতে পারতো। তাই উর্দুর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না এই বাংলা পক্ষ কিংবা জাতীয় বাংলা সম্মেলনের কাপুরুষরা। 

হিন্দিভাষীরা সফট টার্গেট, তাই বারবার এরাই আক্রমণের শিকার হয়। হিন্দিভাষীদের টার্গেট করলে মার খাওয়ার ভয় নেই, তাই এই ঘটনা হয় বারবার। এ রাজ্যে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে, বাঙালির সুখ দুঃখ সঙ্গী হয়ে আজ তাদেরকে এভাবে হেনস্থা করা আসলে এ রাজ্যের ঐতিহ্যে কালো দাগ। এর যারা এ কাজ করছেন, তাঁরা যদি সত্যিই বাঙালি হয়ে থাকেন, তাহলে প্রতিবাদ করুন বাংলা ভাষায় আরবি-উর্দু অনুপ্রবেশের, প্রতিবাদ করুন উর্দু আগ্রাসনের, প্রতিবাদ করুন যে অঞ্চলে বাঙালিকে ঘরছাড়া হতে হয় অনুপ্রবেশকারীদের চাপে। যদি না করতে পারেন, তাহলে আপনারা পাতি দুষ্কৃতী কিংবা ক্রিমিনাল ছাড়া কিছুই নয়। 

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.