কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ শিলা স্মারক নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ

0
469

© শ্রী সূর্য শেখর হালদার

ভারতের যে কজন মনীষী মাতৃভূমিকে জানার জন্য ভারত পরিভ্রমণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম স্বামী বিবেকানন্দ। তিনি কলকাতা থেকে যাত্রা করে হরিদ্বার , ঋষিকেশ , দিল্লি, রাজস্থান, সৌরাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ইত্যাদি প্রদেশের মধ্য দিয়ে আড়াই বছর ব্যাপী পরিভ্রমণ করে ভারতের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে কন্যাকুমারীতে এসে উপস্থিত হন। স্বামীজি তখনও খ্যাতি লাভ করেননি। মুষ্টিমেয় কিছু অনুরাগীর কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনে ভারতবাসীর দারিদ্র্য আর লাঞ্ছনা তাঁর হৃদয়কে বেদনা সাগরে পরিণত করেছিল। দক্ষিণের সমুদ্রতটে বিপুল সাগরের দিকে তাকিয়ে করুন হৃদয়ে তিনি ভাবছিলেন যে মাতৃভূমির দুঃখ মোচনের জন্য এক সন্ন্যাসীর কি করা উচিত । ভাবতে ভাবতেই তিনি এসে দাঁড়ালেন সমুদ্রের ধারে অবস্থিত কন্যাকুমারী মন্দিরে। কন্যাকুমারী দর্শন করে তিনি দেখলেন এক থেকে দেড় ফার্লং দূরে পরপর দুটি শিলাখণ্ড প্রবল সমুদ্রস্রোতের মধ্যেও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একটি বড়, আরেকটি ছোট। তাঁর মনে উঠল আবেগের ঢেউ । দুর্বার বেগে তিনি জলে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং প্রবল সমুদ্রস্রোতের আঘাত সহ্য করে, সন্তরণ করে তিনি উঠলেন সেই শিলাখণ্ডতে। শিলাখণ্ডে তিনি উত্তর মুখে উপবিষ্ট হলেন এবং চোখ মেলে মাতৃভূমিকে দেখতে লাগলেন । তারপর তিনি নয়ন মুদে ধ্যানস্থ হলেন। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, লাঞ্ছনা দেখে তাঁর হৃদয়ে যে ব্যথা জেগেছিল, তা থেকে পরিত্রাণের পথ অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে তিনি ধ্যানস্থ হলেন। তাঁর বয়স তখন মাত্র ৩০। সমুদ্রের ধারের কিছু মৎস্যজীবী দেখলেন এক তরুণ সন্ন্যাসী শিলায় বসে ধ্যান মগ্ন হয়ে রয়েছেন। তাঁরা নৌকা নিয়ে শিলার কাছে এসে তাঁকে প্রণাম করে কিছু ফল ও কাঁচা নারকেল রেখে গেলেন।

দিনের বেলা প্রচন্ড সূর্যের তাপে, রাত্রে নক্ষত্ররাজির স্নিগ্ধ আলোকে, সমুদ্রের প্রবল বাতাস উপেক্ষা করে, উত্তরমুখী হয়ে ভারতের দিকে মুখ করে ধ্যান করতে লাগলেন তিনি। ভারতের হিন্দু সমাজের পুনরুত্থান কিভাবে হবে সেই পথ অনুসন্ধান করাই ছিল তাঁর ধ্যানের উদ্দেশ্য। তিন দিন ধরে তিনি ধ্যানস্থ ছিলেন। এই তিন দিনের ধ্যান তাঁকে তাঁর জীবনের কর্মের দিশা দেখাতে পেরেছিল। এরপর তাঁর প্রথম পদক্ষেপ ছিল শিকাগো ধর্ম সম্মেলনে পৌঁছে ভারতের সনাতন ধর্মের গৌরব গাথাকে তুলে ধরা। এরপর লঙ্কার বেঁচে ছিলেন আর মাত্র ৯ বৎসর। আর এই ৯ বছরে তিনি সারা বিশ্বকে ভারতের অতীত ইতিহাস জানিয়ে, ভবিষ্যতের পৃথিবীতে ভারতের স্থানকে সুউচ্চে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই
কন্যাকুমারীতে স্বামীজীর কাটানো এই তিন দিন ভারতের ইতিহাসে এক সুবর্ণক্ষণ ছিল একথা বলা যায়।

ভারতীয় ইতিহাসের এই সুবর্ণক্ষণকে স্মরণ করেই কন্যাকুমারীতে বিবেকানন্দ শিলা স্মারক নির্মাণের প্রয়াস চলছিল। এই শিলা স্মারক নির্মাণ কখনোই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রত্যক্ষ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কিন্তু ১৯৬২ সাল থেকেই দেশের নানা প্রান্তে এই চিন্তাভাবনা চলছিল। এই সময়ে এরূপ চিন্তাভাবনার জন্ম হবার কারণ ছিল ১৯৬৩ সাল ছিল স্বামীজীর জন্মশতবর্ষের বৎসর। ১৯৬২ সালের নভেম্বর মাসে কেরালাতে মন্নাথ পদ্মনাভনের অধ্যক্ষতায় তৈরি হয়
‘ বিবেকানন্দ স্মারক সমিতি ‘। সেই সময় কেরলে সংঘের প্রান্ত প্রচারক ছিলেন শ্রী দত্তাজী দিদোলকর। তিনিও ঐ শিলাতে বিবেকানন্দ স্মারক স্থাপনের কল্পনা করেন। স্মারক হিসেবে কেরালার ঐ সমিতি ঐ শিলাতে একটি ছোট চবুতরা তৈরি করে। সেই সঙ্গে স্বামীজি স্মরণে একটি ছোট ফলক নির্মিত হয়। কিন্তু এই কাজে বাধা আসে কেরালার উগ্র খৃষ্টান আর কমিউনিস্টদের তরফ থেকে। খ্রিষ্টানরা অযৌক্তিকভাবে দাবি করেন এই শিলা খ্রিস্টান সন্ন্যাসী সেন্ট জেভিয়ার্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য সেন্ট জেভিয়ার্স ছিলেন এক পর্তুগিজ খ্রিস্টান সন্ন্যাসী। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি খ্রীষ্টধর্ম প্রচারের কাজে রত ছিলেন। গোয়ার বিখ্যাত চার্চ বোম ব্যাসিলিকাতে সেন্ট জেভিয়ার্সের মৃতদেহ এখনো কফিনবন্দি অবস্থায় শায়িত আছে। কিন্তু এই শিলার সঙ্গে তাঁর কিরূপ সম্পর্ক ছিল সেটা কেউই বলতে পারেন নি। যাইহোক খ্রিস্টানরা শুধুমাত্র কথা বলেই চুপ ছিল না: তাঁরা শিলা স্মারক ফলক ভেঙে সেখানে ক্রস বসিয়ে দেন। কিছুদিন বাদে সংঘের স্বয়ংসেবকরা ওই স্থান থেকে ক্রস উঠিয়ে দেন এবং এর ফলে খ্রিস্টানদের সঙ্গে বিবাদ ও সংঘর্ষ শুরু হয়। রাজনৈতিক নেতারা এবং কেরল সরকার ও চুপচাপ বসে থাকেন। এমতাবস্থায় মান্নাথ পদ্মনাভন নাগপুরে এসে তৎকালীন
সংঘসরসঞ্চালক পরম পূজনীয় শ্রী গুরুজীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে সব কথা বিশদে বলেন।

এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক পরম পূজনীয় শ্রীগুরুজী ছিলেন
শ্রীরামকৃষ্ণের অন্তরঙ্গ শিষ্য তথা স্বামীজীর সতীর্থ সন্ন্যাসী ও গুরুভাই শ্রীমৎ স্বামী অখন্ডানন্দজীর মন্ত্র শিষ্য। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলাতে অবস্থিত সারগাছি আশ্রমে থেকে স্বামী অখন্ডানন্দের অমৃতলোক যাত্রার দিন পর্যন্ত তাঁর একনিষ্ঠ সেবক ছিলেন শ্রীগুরুজী। সুতরাং স্বামীজীর আদর্শ প্রচারে তাঁর যে বিশেষ আগ্রহ থাকবে সে কথা বলা বাহুল্য মাত্র। দূরদর্শী
শ্রীগুরুজী এই কাজের গুরুত্ব অনুভব করলেন এবং বুঝতে পারলেন সংঘের কোন এক কার্যকর্তাকে জীবন সমর্পণ করে নেমে পড়তে হবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য। তিনি এই কাজের জন্য তিনি চয়ন করলেন শ্রীএকনাথ রানাডেকে। একনাথজী ইতিমধ্যেই প্রায় ২৬ বৎসর সংঘের সংগঠন তৈরি করেছেন এবং সেই সময় তিনি সংঘের সহ কার্যবাহের গুরু দায়িত্ব পালন করছিলেন। শ্রীগুরুজীর একনাথজীকে দায়িত্ব দেওয়ার কারণ ছিল
একনাথজীর ব্যক্তিত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তাঁর তত্ত্বজ্ঞান। ইতিমধ্যেই তিনি হিন্দিতে উত্তিষ্ঠত জাগ্রত এবং ইংরেজিতে রাইজিং কল টু হিন্দু নেশন নামে স্বামী বিবেকানন্দের উপর দুটি সুন্দর বই লিখে ফেলেছিলেন। পরবর্তী কালের ঘটনা প্রবাহ প্রমাণ করে
শ্রীগুরুজীর স্বামীজীর শিলা স্মারক স্থাপনের কাজে ব্যক্তি চয়ন কোনভাবেই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না।

একনাথজী কাজে নেমেই উপলব্ধি করলেন এই কাজে সফল হবার জন্য সমাজের বিভিন্ন মানুষ, রাজনৈতিক নেতা এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে। এই সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সাংস্কৃতিক মন্ত্রী ছিলেন হুমায়ুন কবীর। তিনি যে এই কাজে সহমত হবেন না, এটা জানাই ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও একনাথজী তাঁর সঙ্গে কথা বললেন। হুমায়ুন কবীর একনাথজীকে সরাসরি না বলতে পারলেন না। বিবেকানন্দ শিলা স্মারক তৈরীর স্থানটি (কন্যাকুমারী) কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে নয়: রাজ্য সরকারের অধীনে – এই কথা বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। সেই সময় মাদ্রাজ প্রদেশের (বর্তমান তামিলনাড়ু) রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের নেতা তথা প্রাক্তন স্বাধীনতা সংগ্রামী এম. ভক্তবৎসলম। প্রাথমিকভাবে তিনি শিলা স্মারক তৈরীর পক্ষপাতী ছিলেন এবং রাজ্যের সংস্কৃতি দপ্তর বিবেকানন্দ শিলা স্মারক নির্মাণের অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু হুমায়ুন কবীরের মনোভাব জানতে পেরে ভক্তবৎসলম এই কাজ থেকে পিছিয়ে এলেন। তিনি যুক্তি দেখালেন শিলার উপর কোন স্মারক তৈরি হলে এই স্থানের নৈসর্গিক দৃশ্য নষ্ট হবে। একনাথজী মাননীয়
মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন যে স্বামী বিবেকানন্দ ভারতের এক শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই কোটি কোটি হিন্দু চান এই শিলা স্মারক তৈরি হোক। এখানে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী কিম্বা তাঁর ইচ্ছা অপ্রাসঙ্গিক। ভক্তবৎসলম এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বলেন যে রাজ্যের কোথায় কি হবে তা সরকারের বিষয়। এই বিষয়ে অন্য কারো কথা বলার প্রয়োজন নেই।

এরপর একনাথজী সারা দেশ ঘুরে বিভিন্ন বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে শিলা স্মারক তৈরির ব্যাপারে আলোচনা করেন। বহু বিশিষ্ট মানুষ এবং সাধারণ মানুষ চাইছিলেন যে এই শিলা স্মারক নির্মিত হোক। মহারাষ্ট্রের এমপি ডক্টর আনে এই বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত নেহেরু এবং মাদ্রাজের মুখ্যমন্ত্রী ভক্তবৎসলমকে চিঠি লেখেন। তিনি তাঁর চিঠিতে কন্যাকুমারীকে এক পবিত্র স্থান বলে উল্লেখ করেন এবং শিলা স্মারক তৈরীর পক্ষে আবেদন জানান। একনাথজীর উদ্যোগে লোকসভাতেও শিলা স্মারক তৈরির ব্যাপারে প্রশ্ন ওঠে। রাজ্য সরকার তখনও স্মারক তৈরীর ব্যাপারে বাধা আছে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু একনাথজী তখন ব্যক্তিগতভাবে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা আরম্ভ করলেন এবং বিবেকানন্দ শিলা স্মারক নির্মাণের একটি আবেদনপত্রে সকলের স্বাক্ষর চাইলেন। জাতীয় কংগ্রেস, দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাঘাম, সমাজতন্ত্রী, কমিউনিস্ট এবং এমনকী মুসলিম লীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৩২৩ জন সংসদ সদস্য এই আবেদনে স্বাক্ষর করলেন। এই বিশেষ তারিখ ছিল ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৩। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে পশ্চিমবঙ্গের ২৮ জন সাংসদ এই আবেদনপত্রে সই করেছিলেন এবং এনাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত, ভূপেশ গুপ্তের মতো কমিউনিস্ট নেতারা। যাইহোক সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ যখন শিলা স্মারক তৈরীর পক্ষে মতামত দিলেন, তখন কেন্দ্র সরকার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিলেন, এবং রাজ্য সরকার ও নির্মাণের পক্ষে মত দিতে বাধ্য হলেন।

পরবর্তী প্রশ্ন ছিল বিবেকানন্দ শিলা স্মারক নির্মাণের খরচ কোথা থেকে পাওয়া যাবে? এক্ষেত্রেও অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করলেন একনাথজী। স্বামী বিবেকানন্দের ছোট অথচ সুন্দর ছবিসহ একটি কুপন প্রকাশ করলেন। কুপনের দাম ছিল মাত্র এক টাকা। ময়দানে নামলেন সারাদেশের স্বয়ংসেবকগণ আর তাঁদের উদ্যোগে সাধারণ জনসাধারণের থেকে মাত্র দুই মাসে সংগৃহীত হল ৩০ লক্ষ টাকা । তৎকালীন সময়ে একেকটি শিলার খরচ ছিল পাঁচশত টাকা। এবার
একনাথজী সারাদেশের বিভিন্ন সংস্থার কাছে আবেদন জানালেন শিলার ব্যয়ভার বহনের জন্য। বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় গুলির পক্ষ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেল। এছাড়াও একনাথজী সাক্ষাৎ করলেন দেশের বিভিন্ন ধনী শিল্প সংস্থাদের সঙ্গে। মুখে তাদের থেকে কিছু না চাইলেও, এইরূপ কাজে যে সকলের যোগ দিয়ে ধন্য হওয়া উচিত – এই কথা তিনি জানিয়ে দিলেন তাঁদের। এতেও অপূর্ব সাড়া পাওয়া গেল। এইভাবে ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা সংগৃহীত হল। শিলা স্মারক তৈরীর কাজ আরম্ভ হল ১৯৬৪ সালের অক্টোবর মাসে, আর
সম্পূর্ণতা লাভ করল ১৯৭০ সালে। তৎকালীন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি উদ্বোধন করলেন বিবেকানন্দ শিলা স্মারক। উপস্থিত থেকে সেই সময়ের তামিলনাড়ু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি।

বিবেকানন্দ শিলা স্মারক স্থাপনেই এই কাজ কিন্তু সমাপ্ত হয় নি। এরই সঙ্গে তৈরি হলো বিবেকানন্দ কেন্দ্র নামে এক সেবামূলক সংস্কৃতিক সংস্থা। গ্রামীণ, বনবাসী মানুষদের সেবা করাই এই সংস্থার মুখ্য উদ্দেশ্য। এই কাজের জন্য সংঘের নিবেদিতপ্রাণ কার্যকর্তা শ্রী একনাথ রানাডেকে অত্যন্ত কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছিল। খ্রিস্টানদের নানা চাতুর্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবুও তিনি কিন্তু হার মানেননি। দীর্ঘ একটানা পরিশ্রমে তাঁর তার দেহ আস্তে আস্তে ভেঙে পড়ে। ১৯৮২ করে তিনি অমৃতলোকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তবে তিনি তাঁর শেষ জীবনে বিবেকানন্দপুরমের বেলা ভূমিতে বসে ত্রিধারা সমুদ্রে বিবেকানন্দ স্মারক শিলাকে দেখতেন।

আজকের দিনে এই ঐতিহাসিক ঘটনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আজ ভারতবাসী এক যুগ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বলে শ্রীরাম জন্মভূমি অযোধ্যাতে নির্মিত হচ্ছে ভব্য রাম মন্দির। বিগত প্রায় ৫০০ বছরের সংগ্রাম আজ সাফল্যের মুখ দেখতে চলেছে। ভব্য রাম মন্দির নির্মান কল্পেও প্রয়োজন প্রচুর অর্থের। কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নির্মিত শ্রীরাম জন্মভূমি ট্রাস্ট এই মন্দির তৈরীর দায়িত্বে রয়েছেন এবং এই ট্রাস্ট স্থির করেছেন যে কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ শিলা স্মারকের মতোই সাধারণ জনমানুষের অর্থে তৈরি হবে ভব্য রাম মন্দির। আর কিছুদিনের মধ্যেই আসতে চলেছে সেই সময়, যখন সংগৃহীত হবে ভব্য রাম মন্দির নির্মাণের অর্থ। যাঁরা কন্যাকুমারীর স্মারক তৈরিতে অনুদান দেবার সুযোগ পাননি, তাঁদের সম্মুখে এক অভূতপূর্ব সুযোগ। নিশ্চিতভাবে এবারেও প্রত্যেক ভারতবাসী ভব্য রাম মন্দির তৈরিতে অনুদান দিয়ে নিজেদের এক ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করবেন।

🚩 জয় শ্রীরাম🚩

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.