কারা গ্রহণ করবে হিন্দু সমাজ রক্ষার দায়িত্ব?

0
529

© তপন ঘোষ

“ কে লইবে মোর কার্য কহে সন্ধ্যা রবি ”
কবিগুরুর এই বিখ্যাত উক্তি দিয়ে এবারের লেখা শুরু করছি । বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের সংকটজনক অবস্থায় কবির এই লাইনটি কতটা প্রাসঙ্গিকতা একটু চোখ-কান খােলা রাখলেই বােঝা যায়। একবিংশ শতাব্দীর সূচনা থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ইসলামিকরণের কাজটা দ্রুত করতে চেয়েছে দেশে-বিদেশ থাকা বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ বা শহরের মতাে এখানে জঙ্গিহানাকেতারা হাতিয়ার করেনি। এখানে তাদের শক্তির মূল উৎস পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী সাধারণ সংখ্যালঘু সমাজ। ধর্মভীরু মুসলমানরা মসজিদ , মাজার বা মাদ্রাসায় যাবেই , আর সেখান থেকেই তাদের জেহাদী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। এটাই তাদের সংকল্প । পশ্চিমবঙ্গে তাই বােমা বিস্ফোরণ , গুলি চালনার দরকার নেই — এখানে সাধারণ মুসলমানরাই বােমা – গুলির কাজ করবে। এইভাবে তারা দার-উল-হার্ব পশ্চিমবঙ্গকে দার-উল-ইসলামে পরিণত করবে। 

  জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যাপারে তারা পশ্চিমবঙ্গে ত্রিমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে — ভােটব্যাঙ্ক তৈরি করে রাজনৈতিক দলগুলােকে নিজেদের নির্দেশ মতাে পরিচালনা করা , লাভ জেহাদের মাধ্যমে হিন্দুর মেয়েকে বিয়ে করে নিজের সমাজের জনসংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু সমাজের জনসংখ্যার উপর আঘাত হানা , আর ল্যান্ড জেহাদের মাধ্যমে হিন্দুর জমি দখল এবং খাস জমিগুলাে দখল করে মুসলিম কলােনী গড়ে তােলা। বলতে কোন দ্বিধা নেই যে গত ১৫ বছরে এ ব্যাপারে তারা অনেকটা সফল। পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জেলা — মালদা , মুর্শিদাবাদ ও দিনাজপুরে মুসলিমরা আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ। দক্ষিণ ২৪ পরগণার মগরাহাট বা উত্তর ২৪ পরগণার দেগঙ্গা পুরােপুরি ওদের হাতে চলে গেছে। আর যেখানেই মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সেখানে সাধারণ হিন্দুর উপর অত্যাচার বেড়ে গেছে । হিন্দুর ঘর-বাড়ি পুড়েছে , জমি দখল হয়ে গেছে , অসংখ্য হিন্দু মেয়ে সমাজ থেকে হারিয়ে গেছে , মঠ-মন্দির ভেঙেছে , ঠাকুর অপবিত্র করেছে । এরকম আরও ছােটো খাটো টোকা তারা হিন্দুদের গত ১৫ বছর ধরে দিয়ে চলেছে সংখ্যাটা কয়েক হাজার হবে। এগুলাে সবই তাদের বড় ম্যাচ খেলার আগে প্রস্তুতি। প্রতিপক্ষকে একটু বাজিয়ে নেওয়া। 
 

কিন্তু বড় ম্যাচ খেলার জন্য হিন্দুরা কতটা প্রস্তুত ? মনে হয় সিকিভাগও নয়। ভারতের বৃহত্তম অরাজনৈতিক হিন্দু সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের ব্যাপারে উদাসীন। তার সহযােগীদের অবস্থাও তথৈবচ । হিন্দু মঠ-মন্দির বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গেরুরাধারী সন্ন্যাসীরাও আজ সেকুলার হয়ে গেছে । ঠাকুরের ‘ যত মত তত পথ ‘ – এর অপব্যাখ্যা চলছে সর্বত্র । ক্ষমাই পরম ধর্ম আর সেই পরম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে সবার । তাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে মার খেলে , তাদের দ্বারা ভিটে-মাটি ছাড়া হলে, ঘর-বাড়ি পুড়ে আশ্রয়হীন হলে দ্রুত ত্রাণ নিয়ে হাজির হওয়াতে এদের জুড়ি মেলা ভার। প্রথমে কুম্ভীরাশ্রু প্রদর্শন, তারপর ত্রাণ দিয়ে পুনর্বাসন ব্যাস , সব দায়িত্ব পালন হয়ে গেল। সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। আবার যদি ঘরবাড়ি পােড়ায় , লুঠপাট চালায় ক্ষতি কী, আবার আমরা ত্রাণ নিয়ে হাজির হব। অথচ কক্ষনাে প্রতিবাদ প্রতিরােধের কথা বলবাে না। যা করলে এই অত্যাচার বন্ধ হবে, সেই পথ দেখাবাে না। “ ইটের বদলে পাটকেল ” এই প্রবাদটা বাঙালি বুদ্ধিজীবি থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই ভুলে গেছে। আর রাজনীতির নেতারা তাে আছেনই সবকিছু ধামা চাপা দেওয়ার জন্য। এদের সমবেত প্রচেষ্টায় বাঙালি হিন্দু আজ অনেকাংশেই নপুংসক-এ পরিণত হয়েছে। এটাই তাে চায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলি। তাদের দার-উল-ইসলামের পথ তৈরি করে দেবে এদেশের সেকুলার হিন্দুরাই। 

(লেখক হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাক্তন সভাপতি)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.