২রা নভেম্বর, ১৯৯০-এর অযোধ্যার নৃশংস হিন্দু গণহত্যা

0
592

© অমিত মালী

২রা নভেম্বর, ১৯৯০ অযোধ্যায় হিন্দু গণহত্যা 

কার্তিক পূর্ণিমার শুভদিনে সকাল ৯ টার সময় যখন হিন্দু সাধু এবং হাজার হাজার করসেবক, মহিলা ও প্রবীণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে, রাম জন্মভূমি সাইটের দিকে যাত্রা শুরু করলেন যেখানে বিতর্কিত কাঠামো দাঁড়িয়ে ছিল। সুরক্ষা বাহিনী, যাদের হিন্দুদের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা পথে বাধা দেওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল।

পুলিশ কর্মীরা যখনই হিন্দু ভক্তদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করত, তারা সেখানে বসে ভগবান রামের নাম উচ্চারণ করত এবং ভজন (ধর্মীয় গান) শুরু করে দিত। তাঁরা এগিয়ে যাওয়ার জন্য এক অদ্ভুত কৌশল অবলম্বন করেছিল। তাঁরা পথ আটকানো পুলিশকর্মীদের পা ছুঁয়েছিল।  প্রতিবার তাঁরা যখন পুলিশের পা স্পর্শ করতো, পুলিশরা পিছিয়ে যেত। তখন করসেবকরা একটু এগিয়ে যেতে।  এইভাবে নিরস্ত্র করসেবকরা এগিয়ে চলছিল। 

কিন্তু হঠাৎই হিংস্র হয়ে ওঠে পুলিশ। যদিও তখন ডিআইজির কাছ থেকে গুলি চালানোর আদেশ আসেনি। তার আগেই করসেবকদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। নিরীহ করসেবকদের ওপর নির্বিচারে লাঠি চালায় পুলিশ। কিন্তু তারপরেও করসেবকরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করেনি।

কিন্তু হঠাৎ করেই গুলি চালাতে শুরু করে পুলিশ।  বহু নিরীহ করসেবকদের এবং হিন্দু ভক্তকে লক্ষ্য করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। 
একাধিক রিপোর্টে প্রকাশ পুলিশ কর্মীরা রাম জন্মভূমির দিকে যাওয়ার পথের প্রতিটি গলি এবং রাস্তায় ওঁৎ পেতে ছিল এবং  হিন্দুদের টার্গেট করেছিল।  করসেবকদের দেখতে পেলেই গুলি করতো পুলিশ।  

২রা নভেম্বর, ১৯৯০ তারিখে হিন্দি দৈনিক জনসত্তা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল: রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরের এক করসেবক, যার নাম জানা যায়নি, তাকে নিরাপত্তা কর্মীরা গুলি করার সাথে সাথে সে মাটিতে পড়ে যায়। পড়তে পড়তে তিনি রক্ত ​​দিয়ে রাস্তায় “সীতারাম” লিখেছিলেন। করসেবক নিজের নাম লিখেছিলেন বা ভগবান রামের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও ভক্তি যা তাঁকে নিজের রক্তে “সীতারাম” লিখতে বাধ্য করেছিল, তা এখনও রহস্য থেকেই যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে একজন করসেবক মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরেও সিআরপিএফ কর্মীরা তার মাথায় সাতটি গুলি করেছিল।

২ নভেম্বর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত আরও বিশদ বিবরণ: 

পুলিশ কর্মীরা আহতদের কোনো সাহায্যের প্রস্তাব দেয়নি। তাছাড়া, আহতদেরকে সাহায্য করার জন্য অন্য কাউকে অনুমতিও দেওয়া হয়নি। করসেবকদের ওপর গুলি চালানোর জন্য পুলিশের কোনও পূর্ব লিখিত আদেশ ছিল না। আসলে, পুলিশ গুলি চালিয়ে যাওয়ার পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। 

আরও উল্লেখযোগ্য, কোনও করসেবককে পায়ে গুলি করা হয়নি। তাদের সবার মাথায় ও বুকে গুলি করা হয়েছিল। যার অর্থ পুলিশকর্মীরা আহত করার উদ্দেশ্যে নয়,  হত্যা করার ইচ্ছা নিয়ে গুলি চালিয়েছিল।

 তুলসী ক্রসিংয়ের রাস্তা করসেবকদের রক্তে ভিজে গিয়েছিল। 

কোঠারি ভাইদের দিগম্বর আখড়া থেকে টেনে এনে তাদের লক্ষ্য করে ঠান্ডা মাথায় গুলি চালানো হয়। রামচল গুপ্ত নামে এক ২৬ বছর বয়সী করসেবককে, পুলিশ কর্মীরা পেছন থেকে আক্রমণ করে। যখন তিনি বেশ কিছু ভক্তদের একটি দলকে রামজন্মভূমের দিকে পরিচালিত করেছিলেন। 

 পুলিশ কর্মীরা সশস্ত্র অবস্থায় দিগম্বর আখড়ায় প্রবেশ করে এবং সেখানে উপস্থিত সাধুদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু করে। থানার সামনের একটি হিন্দু মন্দিরের পুরোহিতকে গুলি করা হয়েছিল। আহত সাধুদের জন্য জল নিয়ে আসা অন্য এক সাধুকেও গুলি করে হত্যা করেছিল পুলিশরা। এই হত্যাকাণ্ডেই বীর কোঠারি ভাইরা প্রাণ হারান।

নভেম্বর 2, 1990-এ, কোঠারি ভাইদের সহ করসেবকদের একটি বিশাল দল হুনুমানগড়ির সামনে জড়ো হতে শুরু করেছিল। বজরং দলের বিনয় কটিয়ারের নেতৃত্বে করসেবকদের একটি দল মসজিদের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করেছিল কিন্তু পুলিশ তাকে থামিয়ে দেয়।

২রা নভেম্বর পুলিশের গুলিতে কতজন করসেবকের মৃত্যু হয়েছিল?

ঐদিনের ঘটনার পর একাধিক মিডিয়া তাদের রিপোর্টে মৃতের সংখ্যা আলাদা আলাদা লিখেছিল। পরের দিন, দৈনিক জনসত্তা লিখেছিল যে মৃত করসেবকের সংখ্যা ৪০, দৈনিক জাগরণ লিখেছিল ১০০ এবং দৈনিক আজ লিখেছিল মৃতের সংখ্যা ৪০০। যদিও সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৬।

আজ যখন দেশে শ্রী রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে হিন্দুদের মনে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়; তখন একথা আমরা যেন ভুলে না যাই যে এই মন্দিরের নির্মাণের পিছনে সেই সব করসেবকদের বলিদানের কথা, যারা মন্দিরের জন্য নিজেদের রক্ত ঝরিয়েছিলেন। আর একটি কথা মনে রাখা বিশেষ প্রয়োজন। হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্বেও, শুধুমাত্র নিজের মুসলিম ভোটব্যাংক বজায় রাখতে নিরীহ করসেবকদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। সেদিন যে সংবিধান ছিল, আজও সেই সংবিধান।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.