দলিত খ্রিস্টানদের কেন সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া উচিত নয়

0
419

© অমিত মালী

বিগত বেশ কিছু ধরে, বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে যে ‛দলিত খ্রিস্টান’ সম্প্রদায়কে সংরক্ষণের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তাদের আরও দাবি, সেই সংরক্ষণ দিতে হবে SC/ST এবং OBC ক্যাটাগরিতে। যদিও এইসব দাবিকে দেশের চার্চগুলি মোটেও পাত্তা দেয়না, কারণ চার্চের দাবি এই যে খ্রিস্টানদের মধ্যে কোনো জাতপাতের ব্যাপার নেই। যদিও এই দাবি সত্য নয়। যাইহোক খ্রিস্টানদের মধ্যে কিছু সংস্থা ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানদের সংরক্ষণের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। 

একটা কথা জেনে নেওয়া দরকার। ‛দলিত খ্রিস্টান’ কারা? SC/ST জাতের মানুষেরা, যাদেরকে দেশের এলিট ক্লাস দলিত আখ্যা দেয়, অপ্রিয় হলেও সত্যি এই যে খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। আর তাঁরাই দলিত খ্রিস্টান। কিন্তু ধর্মান্তরিত হওয়ার ফলে অনেকেই সংরক্ষণের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই, চার্চ সরাসরি দাবি না করলেও খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে সেই দাবি উঠছে। 

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে দলিত খ্রিস্টানদের সংরক্ষণের আওতায় আনার দাবিতে গত জানুয়ারি, ২০২০ মাসে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। সেই পিটিশন দায়ের করেছে ‛National Council of Dalit Christians’। যদিও সুপ্রিম কোর্ট এখনও এই বিষয়ে কোনো রায় দেয়নি, তবে এ নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক হিন্দু সংগঠন আপত্তি তুলেছে। কারণ তাদের আশঙ্কা, দলিত খ্রিস্টানদের সংরক্ষণের আওতায় আনলে দলিত হিন্দু অর্থাৎ SC/ST হিন্দুরা সংরক্ষণের অধিকার থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হবেন। 

কিন্তু দলিত খ্রিস্টানদের সংরক্ষণ দেওয়ার এই দাবি, এর কি কোনো আইনি বৈধতা রয়েছে? 

১৯৫০ সালের Constitution Order( Scheduled Castes)-এর তৃতীয় অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং শিখ সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া মানুষেরা কেবলমাত্র SC/ST কোটায় সংরক্ষণ-এর সুবিধা পাবেন। Constitution Order( Scheduled Castes), ১৯৫০ অনুচ্ছেদের বাক্যটি তুলে ধরছি- “No person who professes a religion different from the Hindu(the Sikh or the Buddhist) religion shall be deemed to be a member of Scheduled Caste.”এই নির্দেশের অর্থ হলো এই যে SC/ST বংশোদ্ভূত মুসলিম এবং খ্রিস্টানরা SC/ST-দেওয়া সরকারি চাকরি, স্কুল-কলেজে সংরক্ষণের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার দাবি করতে পারে না। তাদের দাবি করার কোনো অধিকারও নেই। পাশাপাশি, কারওর বিরুদ্ধে SC/ST Attrocities Act আইনের ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে না। 

খ্রিস্টানদের মধ্যে জাতিভেদ প্রথা

খ্রিস্টান মিশনারীরা যখন হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করার জন্য ব্রেনওয়াশ করে, তখন এটা বোঝায় যে খ্রিস্টানদের মধ্যে কোনো জাতপাত কিংবা জাতিভেদ নেই। কিন্তু বাস্তবে এটা মিথ্যা কথা। ভারতীয় খ্রিস্টানদের মধ্যে ব্যাপক জাতপাত ও ভেদাভেদ রয়েছে। ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানরা পূর্বে যে জাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেই জাতের বলে নিজেকে পরিচয় দেয়।  এই জাতপাত দক্ষিণ ভারতে খুব প্রকট। এমন ঘটনা দেখা গিয়েছে, উঁচু জাতের খ্রিস্টান পরিবার নিচু জাতের খ্রিস্টান পরিবারের সঙ্গে বিবাহ সম্পর্কে আবদ্ধ হতে অস্বীকার করেছে। ফলে যে হিন্দু জাতপাতের ভেদাভেদের দোহাই দিয়ে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়, কিন্তু ধর্মান্তরিত হওয়ার পরেও সেই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। 

কেন ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানদের সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না?

বর্তমানে খ্রিস্টান সমাজে জাতপাতের শিকার অনেক ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান ব্যক্তি পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছেন। কিন্তু যদি সংরক্ষণ খ্রিস্টানদের দেওয়া হয়, তাহলে ভারতে ধর্মান্তরণের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং ফেরার কোনো রাস্তা থাকবে না। ফলে দেশে হিন্দুর সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে। আর তা এই দেশের ভবিষ্যতের পক্ষে বিপজ্জনক। অন্যদিকে একজন হিন্দু জাতপাত আর ভেদাভেদের দোহাই দিয়ে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয় জাতপাতহীন, ভেদাভেদহীন জীবন কাটানোর উদ্দেশ্যে। তাছাড়া, সে ধর্মান্তরিত হয় নিজের ইচ্ছায়। ফলে তাঁর সংরক্ষণের দাবি করার কোনো অধিকার নেই। তাই হিন্দুর স্বার্থ সুরক্ষায়, SC/ST হিন্দুদের সংরক্ষণের সুবিধা কেড়ে নেওয়ার যে চক্রান্ত খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা করা হচ্ছে, তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে পুরো হিন্দু সমাজকে। তবেই হিন্দু বাঁচবে, দেশ বাঁচবে। 

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.