রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও বাবাসাহেব আম্বেদকর

0
436

অনুবাদ: শ্রী সূর্য শেখর হালদার

মূল লেখা টি ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয় theprint.in সাইটে 14 এপ্রিল 2020 তারিখে। লেখক শ্রী অরুন আনন্দ, CEO , ইন্দ্রপ্রস্থ বিশ্বসংবাদ কেন্দ্র।

অনুবাদক : শ্রী সূর্য শেখর হালদার

এই বৎসর ( 2020)
শ্রী দত্তপন্থ ঠেংরিজীর জন্ম শতবর্ষ পালিত হচ্ছে। তিনি ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একজন অন্যতম ভাবাদর্শিক কার্যকর্তা এবং ভারতীয় মজদুর সংঘ (BMS) , স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ (SJM) সহ এক ডজনেরও বেশি সংঘ প্রভাবিত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। BMS হল দেশের সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন আর স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ হল এমন একটি শাখা সংগঠন যা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় অর্থনীতির ভাগ্য নির্ধারণকারী নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে।

দত্তপন্থ ঠেংরিজী সংঘের একজন অন্যতম প্রগতিশীল কার্যকর্তা হলেও জীবন যাপনে খুব সাধারন ছিলেন। তাই খুব কম জনই জানেন যে সেই চল্লিশের দশক থেকেই তিনি ছিলেন সংঘ এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। বাবাসাহেব আম্বেদকর ঠেংরিজীকে মহারাষ্ট্রের বান্দারা আসন থেকে
উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পরামর্শ দেন। ঠেংরিজী তাঁর ডঃ আম্বেদকর আউর সামাজিক ক্রান্তি কি যাত্রা ( डॉक्टर अंबेडकर और सामाजिक क्रांति की जात्रा) গ্রন্থে বাবাসাহেব এর সঙ্গে আরএসএস কার্যকর্তাদের বৈঠকের বিশদ বর্ণনা দেন। এই গ্রন্থের মূল বিষয় হচ্ছে ঠেংরিজীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের সঙ্গে সংঘের যোগাযোগ।

একজন তরুণ আর.এস.এস. প্রচারক রূপে দত্তপন্থ ঠেংরিজী ছিলেন বাবা সাহেবের নয়নের মণি। বাবাসাহেব নিজে সিডিউলড কাস্ট ফেডারেশন এর চেয়ারম্যান থাকাকালীন ঠেংরিজীকে এই সংগঠনের সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করেন। বান্দারা আসনে উপনির্বাচনের সময় ঠেংরিজী হন বাবা সাহেবের চিফ ইলেকশন এজেন্ট। এই বিষয়ে ঠেংরিজী লিখেছেন যে তৎকালীন সরসঙ্ঘচালক পরম পূজনীয় শ্রী গুরুজীর ( শ্রী মাধবরাও সদাশিব গোলওয়ালকরজী ) নির্দেশে সেসময় আরএসএসের স্বয়ংসেবকগণ দিনরাত এক করে বাবাসাহেবকে নির্বাচনী যুদ্ধে জেতানোর জন্য পরিশ্রম করেন। বাবাসাহেব যদিও নির্বাচনে পরাজিত হন, নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করার সময় তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁর প্রাপ্ত সর্বমোট ভোট সমস্ত সিডিউলড কাস্ট জনজাতির ভোটারের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি । অর্থাৎ অনেক সংখ্যক উচ্চবর্ণের ভোটারও তাঁর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই ফলাফলে তিনি যথেষ্ট সন্তুষ্ট হয়েছিলেন।

বাবাসাহেবের বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে দুইদিন পর, তাঁর নির্বাচনী যুদ্ধে পরাজয়ের পরে বাবাসাহেব সিডিউলড কাস্ট ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নাগপুরে এক বৈঠকে বলেন যে বান্দারা উপনির্বাচনের ফলাফল বুঝিয়ে দিচ্ছে উচ্চবর্ণের আর নিম্নবর্ণের হিন্দুদের মধ্যে কোন মেরুকরণের অস্তিত্ব আর নেই। এই কারণে আম্বেদকর উপলব্ধি করেন যে ফেডারেশনের জাতিবাদী নাম পরিবর্তন করা উচিত। তিনি এই সময় তার
সিডিউলড কাস্ট ফেডারেশনের নাম পরিবর্তন করে রিপাবলিকান পার্টি নামক একটি সংগঠন গড়ে তোলার পক্ষে জোরদার সওয়াল করেন।

1952 সালের সাধারণ নির্বাচনে আম্বেদকরের সিডিউলড কাস্ট ফেডারেশন এবং ভারতীয় জনসংঘ প্রাক-নির্বাচনী আঁতাত করে এবং মধ্যপ্রদেশে একযোগে নির্বাচনী লড়াই করে।

আরএসএসের সংগ্রহশালা অনুযায়ী আম্বেদকরের সঙ্গে আরএসএস-এর প্রথম যোগাযোগ ঘটে 1935 সালে। তিনি এই বছর প্রথমবারের জন্য মহারাষ্ট্রের পুনে নগরে অবস্থিত আরএসএসের শিক্ষণ শিবিরে যান। কোন কাজের জন্য তিনি পুনের নিকট দাপলি নামক একটি স্থানে আরএসএস এর শাখা দর্শনে যান। 1939 সালে একটি আরএসএসের শিক্ষণ শিবিরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং সেখানে তিনি আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা পরম পূজনীয় ডাক্তার জীর ( ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারজী) সঙ্গে মিলিত হন। সেখানে
পাঁচশোরও বেশি আরএসএস স্বয়ংসেবক গণবেশে (আরএসএস স্বয়ং সেবক দের ইউনিফর্ম )উপস্থিত ছিলেন । আম্বেদকর এটা দেখে খুব খুশি হন যে শিক্ষণ শিবিরে জাতপাতের ভিত্তিতে কোনরকম বিভেদ করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র আরএসএস সংগ্রহশালা তেই যে এই তথ্য আছে সেটা নয়, বিভিন্ন আরএসএস কার্যকর্তা বারংবার আম্বেদকরের এই শাখা সফরের কথা উল্লেখ করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল এটা প্রমাণ করা যে আরএসএস এর নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে আম্বেদকরের চিন্তাভাবনার যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

1948 সালের 30 জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকান্ড ঘটে। এরপর তৎকালীন কংগ্রেস সরকার আরএসএস কে অকারণ নিষিদ্ধ করে।
1949 সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমরা দেখি তৎকালীন সরসঙ্ঘচালক পরম পূজনীয় শ্রীগুরুজী দিল্লিতে আম্বেদকরের নিকট যাচ্ছেন আরএসএস এর উপর নিষেধাজ্ঞা তোলার ব্যাপারে তাঁর অবদান স্মরণ করে তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাতে।

এরপর 1953 সালের জুন মাসে আরএসএস কার্যকর্তা মোরপন্ত পিংলে এবং বালাসাহেব শাঠে ঔরঙ্গাবাদে আম্বেদকর এর সঙ্গে মিলিত হন সেখানে আম্বেদকর আরএসএস এর বিস্তার সম্পর্কে বিশদ তথ্য জানতে চান। আম্বেদকর সেই কার্যকর্তাদের আরো বলেন যে তাঁরা যদি হিন্দু সমাজকে একত্রিত করতে চান, তাহলে তাঁদের এই সংগঠনের (আরএসএস )বিস্তারকে ত্বরান্বিত করতে হবে। কারণ পিছিয়ে পড়া জাতির সদস্যরা বেশিদিন অপেক্ষা করতে অপারগ। তাই আরএসএস কে দ্রুত কাজ করতে হবে।

বাবাসাহেব ঠেংরিজীকে পরে বলেন যে নিম্নবর্গের মানুষদের যদি দ্রুত সঠিক দিশা এবং উদ্ধারের রাস্তা দেখানো না যায়, তাহলে তাঁদের করুণ অবস্থার জন্য তাঁরা এতটাই ক্ষুব্ধ হবেন যে তাঁরা কমিউনিস্টদের তুরুপের তাস হয়ে উঠবেন । এই ঘটনা স্মরণ করে ঠেংরিজী তাঁর
বইতে লেখেন : “তপশিলি উপজাতির মানুষ আর কমিউনিস্টদের মধ্যে বাধা হয়ে দাড়িয়ে ছিলেন স্বয়ং আম্বেদকর।”

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.