হিন্দু জাতির অধঃপতনের নেপথ্য চিত্র- তৃতীয় পর্ব

0
333

© পবিত্র রায়

 ঘটনা কাল ৩২১ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ। চন্দ্রগুপ্ত নিজের মাতা মুরিয়ার নামে মৌর্য বংশ প্রতিষ্ঠা করে মগধের সিংহাসনে সম্রাট ঘোষিত হয়ে উপবেশন করলেন ।  প্রধানমন্ত্রী বানালেন চাণক্যকে।মহাপদ্মানন্দের সময়কালে ক্রমশঃ স্তিমিত হতে থাকা ক্ষাত্রতেজকে পুনরায় জাগ্রত করার দিকে মন দিলেন যুগলবন্দি- প্রধানমন্ত্রী চাণক্য ও সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত।চাণক্য তাঁর নীতিমালা প্রকাশ করলেন তাঁর নীতির মূল সূত্র ছিল কোনও সাম্রাজ্যের আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাও নির্ভর করে মুখ্যতঃ সেই দেশের সামরিক শক্তির উপর।ক্ষাত্রতেজ ও শস্ত্রশক্তি যদি কিছু মাত্র ম্লান হয়ে যায়, তাহলে সমগ্র ধর্ম,বিজ্ঞান ও কলা-এমনকি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রজীবন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।ক্ষত্রিয়েরা যদি তাঁদের সুপ্রাচীন রাজধর্ম পালন না করেন বা ত্যাগ করেন,তাহলে সব ধর্মই নষ্ট হয়ে যায়।ভিত না থাকলে যেমন অট্টালিকা টেকে না,ঠিক তেমনই কোনও সাম্রাজ্যও উপযুক্ত সামরিক শক্তির অভাবে ভেঙে পড়ে সামান্য আঘাতেই।প্রধানমন্ত্রী চাণক্য ক্ষাত্রতেজের স্ফূরণ ঘটিয়ে গড়ে তুললেন এক মহাপরাক্রমশালী সেনাবাহিনী।মহাভারতের যুদ্ধ  ক্ষাত্রতেজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিলেও শেষ করতে পারেনি প্রমাণিত হল।ক্ষয়িষ্ণু সেই শক্তিকে আবারও তুলে আনলেন চন্দ্রগুপ্ত-চাণক্য যুগলবন্দি । গঠন করলেন এক এমন সামরিক বাহিনী যে ভারতের দিকে তাকানোর হিম্মত রইল না অন্য কোনও আক্রমণকারীর। এমনই শক্তি ছিল সেই সেনাবাহিনীর যে আলেকজান্ডারের প্রতিনিধি সেলুকাস চন্দ্রগুপ্তের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় শুধু নয়,সেলুকাস সাম্রাজ্যের কল্যাণার্থে স্বীয় দুহিতার সাথে চন্দ্রগুপ্তের বিয়ে দিয়ে  সম্পর্ককে ব্যক্তিগত স্তরে নিয়ে গেলেন। অবশ্য এবিষয়ে একটি ভিন্নমতও বর্তমান। ভিন্নমতটি হলো ওই গ্রিক কন্যাকে চন্দ্রগুপ্ত বিয়ে করতে পারেননি।কারণ কৌটিল্য শর্ত দিয়েছিলেন, ওই মহিলার গর্ভজাত সন্তান কখনো ভারতের সিংহাসনে বসতে পারবেন না,এই শর্তে চন্দ্রগুপ্ত বিয়ে করতে পারেন। সূত্রের মতে চাণক্যের দেওয়া এই শর্তের পর চন্দ্রগুপ্ত বিবাহ বাসনা ত্যাগ করেন। অন্য একটি সূত্র বলে ওই শর্তে রাজি হয়েই চন্দ্রগুপ্ত  বিয়ে করেন সেলুকাস তনয়াকে।আমার মতে তৃতীয় সূত্রটাই গ্রহণযোগ্য ।

  এবার একটু বর্তমান কালের অবস্থানে নিজেদের দিকে তাকান যেতে পারে।অনেকেই সোনিয়া ও রাহুলের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য তাবেদারি করেন তাঁরা কি একবারও চাণক্য সূত্র নিয়ে ভাববেন? সম্পূর্ণ এক ভারতীয় রক্ত ছাড়া চাণক্য গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে নিষেধ করেছেন,আর আমাদের কিছু রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষ ইতালীয় রক্তকে দেশের প্রধান আসনে বসাতে ব্যগ্র! কী’ই বা আর বলা যায়! আত্মঘাতী জাতির আদর্শ নমুনা হতে পারে বিষয়টি। 
   খ্রিস্ট পূর্ব ২৯৮ অব্দে চন্দ্রগুপ্তের মৃত্যু হলে সিংহাসনে আসীন হন তস্য পূত্র বিন্দুসার।উল্লেখ্য, চন্দ্রগুপ্তের সময় গ্রিক দূত মেগাস্থিনিস এসেছিলেন পাটলিপূত্রে।এই সময়ে তাঁর লেখায় বৌদ্ধ ধর্মের কোনওরূপ অস্তিত্ব বা উপস্থিতি স্বীকার করা হয়নি।বিন্দুসার ছিলেন পিতা চন্দ্রগুপ্তের সুযোগ্য উত্তরসূরি।ইতিহাসে দেখা যায়, তিনি দাক্ষিণাত্য জয় করেছিলেন।১৭ টি রাজ্য ও রাজধানীকে নিজের অধীনে এনে শক্তিশালী এক বৃহৎ সাম্রাজ্যের জন্ম দেন বিন্দুসার।কৌটিল্য ও চন্দ্রগুপ্তের নীতি ও ক্ষাত্রতেজের সঠিক স্ফূরণ দেখা যেতে থাকল বিন্দুসারের মধ্যে।২৫ বছর দেশ শাসন করার পর খ্রিষ্ট পূর্ব ২৭৩ অব্দে বিন্দুসার মৃত্যুবরণ করলে তাঁর পূত্র অশোক আপন জেষ্ঠ ভ্রাতাকে সরিয়ে নিজে সিংহাসনে উপবেশন করলেন।শুরু হলো বৌদ্ধ ধর্মীয়  আচরণ,বুদ্ধের আত্মঘাতী নীতির সঠিক প্রয়োগ ঘটতে থাকল আর ভারতবর্ষের ললাটে এক দীর্ঘ কালোছায়ার আগমণ ঘটে গেল।
     এক্ষেত্রে একটা কথা উল্লেখ করার বিশেষ প্রয়োজন । কথাটা হলো অশোকের সম্রাট হওয়ার আগে কমবেশি তিনশো বছরের মত বৌদ্ধধর্ম আবদ্ধ ছিল মগধ ও আশপাশ এলাকার মধ্যে। অর্থাৎ বিস্তার লাভ করতে পারেনি।ওই সময় পাঞ্জাব,সিন্ধু,গান্ধার এবং অন্যান্য প্রদেশের লোকেরা বৌদ্ধ ধর্মের নাম পর্যন্ত জানত না। 
     কলিঙ্গ যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানিতে সম্রাট অশোক বিচলিত হলেন।এরপরই তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন।একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, সম্রাট অশোক যতদিন বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেননি, ততদিন তাঁর মধ্যে পূর্ব পুরুষের ক্ষাত্রতেজের অভাব ছিল না।আর তার ফলেই তিনি কলিঙ্গ জয় করার জন্য সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন।আর বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করার পর একই ব্যক্তিকে দেখা যায় নিষ্প্রভ এক অঙ্গার মাত্র।একটি মতবাদ কীভাবে সর্বনাশের পথে নিয়ে যেতে পারে,এটা তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।  
     যাহোক,অশোক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করলেন।এবার শুরু হলো অহিংসা নামক সহিংসতা।অশোক দেশে বৈদিক ধর্মের অনুসরণ ও প্রচার নিষিদ্ধ করলেন, পশু বলি দেওয়া যজ্ঞ নিষেধ করা হল,শিকার এবং মৃগয়া চলে গেল নিষেধাজ্ঞার কবলে।আহারের নিমিত্ত মাছ,পশু,পাখি হত্যাও নিষিদ্ধ করা হল, মানুষের প্রাণ নাশকারী  পশুকেও হত্যা করা নিষিদ্ধ হল।একপ্রকার মানুষের জীবনের চাইতে পশুর জীবনের মূল্য অধিক হয়ে গেল।প্রচার করা হতে থাকল বুদ্ধের বাণী,’অক্রোধেন জয়েৎ ক্রোধম, অহিংসা পরমোধর্ম,মাং হিংসাৎ সর্ব ভূতানি, শস্ত্রবল মহাপাপঃ’।রাজকোষের অর্থ  খরচ তথা তছরুপ করে বৌদ্ধদের বিনা পয়সায়  থাকা- খাওয়ার বন্দোবস্ত করায় বহু নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুরা বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করতে থাকে। 
     চাণক্যের প্রবর্তীত নীতি ছিল, স্বীয় পিতা-মারা এবং রাজাজ্ঞা ব্যতীত কোনও  অল্প বয়স্কা স্ত্রী ভিক্ষু সংঘে প্রবেশ করতে পারবে না।স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য ভরণপোষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না করে কেউ ভিক্ষু হতে পারবে না।অশোক এই নীতি রদ করে দিলেন।ফলে দলে দলে মানুষ বিনা পয়সায় খাওয়া-থাকার লোভে ভিক্ষু সংঘে নাম লেখাতে থাকল।অশোক বাণী দিলেন,’শস্ত্র বিজয় অপেক্ষা ধর্ম বিজয় শ্রেষ্ঠ ‘। এরপর চাণক্যের বানানো চতুরঙ্গ সেনাবাহিনী ধ্বংস করে দিলেন খ্রিস্ট পূর্ব ২৩২ অব্দে অশোক মৃত্যুবরণ করার আগে দেশটিকে হীনবল তো করলেনই,উপরন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য  রেখে গেলেন এক নপুংসক রাজনীতি ও সমাজনীতি-যার ফল আমরা আজও ভোগ করে চলেছি।জাতির অবক্ষয়ের মূল কারণগুলির মধ্যে এটি একটি অন্যতম কারণ।সম্রাট অশোকের ক্লীব মতবাদ স্বরূপ বৌদ্ধ ধর্মকে গ্রহণ ও সেটাকে রাষ্ট্রযন্ত্রের তথা জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়ার ফল ভবিষ্যতে হয়ে উঠল চরম বিষময়।
     অশোকের মৃত্যুর পর বৌদ্ধ উত্তরাধিকারী।হিসেবে সম্রাট হলেন বৃহদ্রথ।দেশের ক্ষাত্র তেজ অশোক শেষ করেই মরেছিলেন।এই সময়ে ব্যাক্ট্রিয়ান গ্রিক বা এশীয় গ্রিক ডেমেট্রিয়স আলেকজান্ডারের চাইতে অতি হীনবল এক সেনাবাহিনী নিয়ে বিনা বাধায় হিন্দুকুশ  পার হয়ে কম্বোজ,গান্ধার,পঞ্চনদ অঞ্চল দখল করে মগধ আক্রমণে এগিয়ে এলেন এবং ভাবলেন পাটলিপূত্র জয় করে আলেকজান্ডারের স্বপ্ন পূরণ করবেন ভাবলেন।সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ২০০ অব্দ।মগধের সিংহাসনে আসীন বৃহদ্রথ দেশ রক্ষা ও ডেমেট্রিয়সের মোকাবিলায় এক পা’ও এগোলেন না।এগোনোর মত ক্ষমতাও ছিল না।চিন্তাধারাটাও গ্রাস করে নিয়েছিল বৌদ্ধিক মতবাদ।এত কিছু সত্ত্বেও তখনও কিন্তু ভারতের ক্ষাত্র তেজ একেবারে শেষ না হয়ে কিছুটা হলেও বর্তমান ছিল।
      উল্লেখ্য, অশোকের মৃত্যুর দশ বছরের মধ্যে।কলিঙ্গ এবং অন্ধ্র বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মৌর্য্যদের থেকে।নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে বৈদিক মত চালু করে স্বাধীন রাজ্য গঠন করে এক শক্তিশালী।সৈন্যদল গঠন করে।কলিঙ্গের শক্তিশালী রাজা হলেন খারভেল।এই খারভেল প্রথমেই মগধ অধিকার করলেন।এরপর অযোধ্যার কাছাকাছি এলাকায় গ্রিকদের মুখোমুখি হয়ে যুদ্ধ করে ওদের তাড়িয়ে পঞ্চনদ পার করে দিলেন।এরপর অশ্বমেধ যজ্ঞ করে প্রয়াত অশোকের মুখে বিরাশি সিক্কার এক থাপ্পড় মারলেন।বুঝা গেল হিন্দুর ক্ষাত্রতেজ এখনও শেষ হয়ে যায়নি।এরপর আবার আক্রমণ করতে এলেন আরও এক গ্রিক-যাঁর নাম মেনেন্দার। যে খারভেল গ্রিক ডেমেট্রিয়সের হাত থেকে বৃহদ্রথকে বাঁচালেন, সেই খারভেল তথা হিন্দু জাতিকে বৌদ্ধরা শত্রু ভাবতে থাকল।ফলতঃ বৌদ্ধরা মেনেন্দারকে সাহায্য করতে থাকল,আর ভাবতে থাকল যে মেনেন্দার হিন্দুশক্তি থেকে তাঁদের উদ্ধারকর্তা।মেনেন্দার কিন্তু বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে বসলেন। 
    এবার উদ্ধারকর্তা হয়ে দেখা দিলেন এক।ব্রাহ্মণ,যাঁর নাম পূষ্যমিত্র।পারিবারিক উপাধি ছিল শূঙ্গ,শিব ভক্ত তথা বৈদিক ধর্মের অনুরাগী বৃহদ্রথের প্রধান সেনাপতি ছিলেন। ইনিই অভ্যুত্থান ঘটিয়ে মগধের সিংহাসন দখল করেন এবং বৃহদ্রথের শিরোচ্ছেদ করেন- সময়কাল খ্রিষ্ট পূর্ব ১৮৪ অব্দ।এমনই এক ক্লীব নীতি অশোক গ্রহণ করেছিলেন যে মাত্র পঞ্চাশ বছরের মধ্যেই মৌর্য্য বংশের রাজত্বের পরিসমাপ্তি ঘটে যায়। বৃহদ্রথকে হত্যার পর এমন একজন মানুষও খুঁজে পাওয়া যায়নি যিনি বৃহদ্রথের পক্ষে কথা বললেন।এরপর শক্তিশালী সেনাবাহিনী নিয়ে মেনেন্দারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে বাঁচালেন পূষ্যমিত্র। এই মেনেন্দার হলেন শেষ ভারত আক্রমণকারী গ্রিক।
   শূঙ্গ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা এই পূষ্যমিত্র। পূষ্যমিত্র এরপর এক অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেন।জানা যায়, বিশ্বশ্রুত পন্ডিত পতঞ্জলি সেই অশ্বমেধ যজ্ঞে হাজির হয়েছিলেন।পূষ্যমিত্রের আমল থেকেই বৈদিক হিন্দুরা তাঁদের ধর্মাচরণের অধিকার ফিরে পায়। পূষ্যমিত্র বহু বৌদ্ধ বিহার ও মঠ ধ্বংস করেন,রাষ্ট্রদ্রোহী বহু বৌদ্ধকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ৩৬ বছর রাজত্ব করে খ্রিস্ট পূর্ব ১৪৯ অব্দে মৃত্যুবরণ করেন পূষ্যমিত্র, রেখে যান তাঁরই মত তেজবীর্যপূর্ণ এক বংশের।হ্যাঁ, শত প্রকার বাধা বারে বারে আসার পরও জাতিকে অবক্ষয়ের হাত থেকে কেউ না কেউ এসে রক্ষা করেছেন হিন্দু ক্ষাত্রশক্তির জোরে। 
      এরপর এলো শক-হুনদের আক্রমণ। তাঁরা।স্বকীয়তা ধরে রাখতে পারল না।বৈদিক হিন্দুদের আচরণের কাছে তাঁরা আত্মসমর্পণ করে বৈদিক ধর্ম গ্রহণ করল,আদি নাম ত্যাগ করে ভারতীয় নাম গ্রহণ করতে থাকল।কুষাণ আক্রমণে বিপর্যস্ত হতে থাকা ভারত এবার শাসক হিসেবে পেল এক কুষাণকে।এই কুষাণ হলেন কণিস্ক- সময়কাল খ্রিষ্ট পূর্ব ৭৮ অব্দ।কণিস্ক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে খানিকটা অহিংস হলে বৈদিকদের উপর চাপানো অত্যাচার খানিকটা হলেও কমে যায়। কণিস্কের আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়-মহাযান ও হীনযান।যে সভায় বৌদ্ধ ধর্ম দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়, সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বশ্রুত পন্ডিত পতঞ্জলি। কণিস্ক মহাযান সম্প্রদায়গত হলেন বৌদ্ধ হয়েও বেশ কিছু বেদাচার মান্য করে চলতেন বলে জানা যায়। বৌদ্ধ হয়েও মতবাদ অমান্য করে শস্ত্রবলকেই গ্রহণ করেছিলেন।ফলস্বরূপ চিন দেশেও বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করতে পেরেছিলেন।আর চিন দেশেই যুদ্ধ করার সময় মৃত্যুবরণ করেন। বৌদ্ধ মহাযান সম্প্রদায়গত কণিস্ক।এরপর সিংহাসনে আসীন হলেন বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন কণিস্ক  পূত্র হবিস্ক।হবিস্কের পর সিংহাসনে উপবেশন করেন কণিস্ক পৌত্র । আর সিংহাসনে উপবেশন করেই বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে সম্পূর্ণরূপে বৈদিক ধর্ম গ্রহণ করে শুদ্ধ সংস্কৃত নাম রেখে নিজেকে ‘সম্রাট বাসুদেব’ নামে অভিহিত করলেন।এযাত্রাতেও হিন্দুধর্ম ও জাতি বেঁচে গেল।

(ক্রমশঃ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.