হিন্দু জাতির অধঃপতনের নেপথ্য চিত্র- দ্বিতীয় পর্ব

0
337

    © পবিত্র রায়

এখান থেকেই হিন্দু জাতির বিপর্যয়ের শুরু অর্জুনের আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হলো। কি সেই আশঙ্কা ? আশঙ্কা ছিল কুলনারীগণ ব্যাভিচারিনী হয়ে বর্ণ সংকর উৎপাদন করবে। বর্ণ সংকলনের ভয় শ্রীকৃষ্ণ নিজেও পেতেন। এক্ষেত্রে সামান্য অপ্রাসঙ্গিক হলেও একটি প্রশ্ন কিন্তু এড়িয়ে যাওয়া  যায় না। বর্তমানে হিন্দু জনজাতির মধ্যে কায়স্থ বলে একটা শ্রেণী আমরা দেখতে পাই।এরা কারা ? কোনও পৌরাণিক কাহিনীতে বা শাস্ত্রে তো এদের কোনও উল্লেখ নেই ! আমি আমার ব্যক্তিগত চিন্তাধারায় যেটা বুঝেছি,সেটা হলো কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বহু সেনানীর মৃত্যু হয়েছিল,যাঁদের অনেকের স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন। পরবর্তী কালে এইসব সন্তান জন্মগ্রহণ করে।পিতার মৃত্যুর সময় ও পরে এঁদের ‘কায়া’ অন্তস্থঃ ছিল বলে পরবর্তীতে এঁদের ‘কায়স্থ’ বলে অভিহিত করা হয়।এঁরা বীর সেনানীদের বংশধর তথা উৎকৃষ্ট ক্ষত্রিয় শ্রেণীর হিন্দু জাতি তবে এর মধ্যেও ব্যতিক্রম কিছু আছে।বহু মানুষ তথা হিন্দু  সমাজের বেশ কিছু শ্রেণীর মধ্যে দেখা যায় গোত্র পরিচয় নেই বা গোত্রহীন।এঁরা ক্ষত্রিয় কন্যার সন্তান হলেও খুব সম্ভবতঃ বর্ণ সংকর।আর খুব সম্ভবতঃ  তারজন্যই এঁরা  গোত্রহীন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে দেখা যায়, ওই যুদ্ধের ফলে ভারতবর্ষে ভীষণ এক ভূতাত্ত্বিক ও সামাজিক বিপর্যয় ঘটে গিয়েছিল। 
 

এই মহাবিপর্যয়ের পর হিন্দু জনমানসে এক যুদ্ধ ভীতির জন্ম হয়েছিল-যুদ্ধ বিমুখতা গ্রাস করেছিল হিন্দু জনমানস।কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর পরীক্ষিতের রাজত্বকাল পর্যন্ত হিন্দু সমাজ তথা ভারতবর্ষের কিছু বর্ণনা পাওয়া গেলেও এরপর থেকে খুব বেশি কিছু ইতিহাস জানা যায় না।খ্রি.পূ ৫৬৩’তে গৌতম বুদ্ধের জন্মের পর হতে মোটামুটি ভারতীয় ইতিহাসের কিছুটা আভাস মেলে মহাভারতের যুদ্ধের পর হতে গৌতম বুদ্ধের জন্ম পর্যন্ত ২৫০০ বছরের ভারতীয় অর্থে হিন্দু জাতির স্পষ্ট কোনও ইতিহাস জানা যায় না।তবে এই সময়কালের মধ্যে চার্বাক,কপিল প্রভৃতির মত বহু নাস্তিক হিন্দু মনীষীর আগমণ ঘটেছিল,যাঁরা হিন্দু দর্শনটাকে যুক্তির পরাকাষ্ঠায় ফেলে বিচার করেন তবে সামগ্রিক অর্থে এই সময়কালটা হিন্দু জনজাতির কাছে এক মহা ডামাডোলের সময় দিশাহীন হিন্দু জাতি যুদ্ধভীতি নিয়ে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হওয়ার দিকে এগিয়েছে।তখন এঁদের না ছিল কোনও উপযুক্ত নেতৃত্ব, ছিল না সঠিক রাস্তা দেখানোর কোনও ব্যক্তিত্ব।ধর্ম  থেকে ধীরে ধীরে পদস্খলনের এই পর্বে আবির্ভাব হল গৌতম বুদ্ধের ক্ষাত্র তেজ ধীরে ধীরে স্তিমিত হতে থাকলেও হিন্দু জাতির মধ্যে তখনও ছিল  এক মহা উদ্দীপনা, সাথে ছিল যুদ্ধ ভীতি ও বিমূখতা।
   

এইমত আবহে গৌতম বুদ্ধের  অহিংসার বাণী স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণ করল ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষ তথা হিন্দু জনজাতিকে। সবাই ভাবতে শুরু করল, ‘বেশ তো’! আরও ভাবতে থাকল,হিংসা না থাকলে যুদ্ধ বা মারামারি থাকবে না,মৃত্যুও হবে না। বেশ কিছু মানুষ শান্তির পেছনে দৌঁড়তে শুরু করলেও সবাই কিন্তু সেটা করল না। হিন্দু জাতির মস্তিষ্ক ব্রাহ্মণগণ এই নীতির সারবত্তা মানুষকে বুঝাতে পারায় বৌদ্ধিক দর্শন ভাল মতোই  থেমে গেল।কিছু অন্ত্যজ শ্রেণীর মানুষ বুদ্ধ অনুগামী হলেও সেটা ধর্তব্যের মধ্যে এলো না তখনকার সময়ে ধর্তব্যের মধ্যে না এলেও,গৌতম বুদ্ধ কিন্তু একটা মোক্ষম কাজ করে গেলেন । সেই কাজটা হল হিন্দুদের ক্ষাত্রতেজে ডামাডোলের মধ্যে মোক্ষম এক পেরেক ঠুকে দিলেন ‘অহিংসা তত্ত্ব’ আমদানি করে। আত্মরক্ষার অধিকার টুকুও কেড়ে নেওয়া হল।পরবর্তীতে সেই তত্ত্ব গিয়ে উপনীত হল ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’ নামক ভ্রান্ত এক মন্ত্রে। হিন্দু জাতি তার অবক্ষয়ের প্রথম ধাপ উত্তীর্ণ হল সসম্মানে।
   

বুদ্ধের জন্মের তেইশ বছর বাদে খ্রিষ্ট পূর্ব ৫৪০’এ তাঁরই মত অহিংসা দর্শনে বিশ্বাসী এক মহাপুরুষ মহাবীর জৈন জন্মগ্রহণ করলেন বর্তমান বিহারের বৈশালী জেলায়। বুদ্ধ মতবাদধারীদের জীব হত্যা নিষেধ থাকলেও মাংস ভক্ষণে নিষেধ ছিল না বুদ্ধদেব নিজেই শিষ্যবাড়িতে শূকরের বাসী মাংস খেয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।মহাবীর জৈন এসে অহিংসার বাহাদুরি এমনভাবে দেখাতে শুরু করলেন যে মানুষকে মৃতবৎ বানাতে শুরু করলেন শরীরে মশা বসলেও সেটাকে থাপ্পড় মেরে মারা যাবে না,মাছ-মাংস খাওয়া যাবে না বলে মতবাদ শুরু করা হলো।খাদ্য গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে হিন্দু জাতিকে শারীরিকভাবে নিস্তেজ করা শুরু হল ।বুদ্ধদেবের সার্থক উত্তরসূরি হয়ে উঠলেন এই মহাবীর নামক ব্যক্তিটি। বিহারে জন্মগ্রহণ করলেও বিহারের মানুষ এঁর মতবাদ গ্রহণ করল না। যদুকূল যোদ্ধা জাতি হিসেবেই পরিচিত।বিহারে যদু বংশ তথা অন্যান্য ক্ষত্রিয় বংশের সাথে ব্রাহ্মণদের মিলিত হিন্দুসংঘ নির্বীজকরণের জৈন মন্ত্র গ্রহণ করল না। লক্ষণীয় বিষয় হল, যাঁরা  গ্রহণ করল, তাদের বেশিরভাগই  পশ্চিম সাগর উপকূলের, বর্তমান গুজরাত এলাকার মানুষ- যেখান থেকে বলরাম ভারতবর্ষ ত্যাগ করে পশ্চিম দিকে সমুদ্র পথ ধরে গমণ করেছিলেন। অস্বীকার করা যায় না যে এই মহাবীর জৈনই  হিন্দু কফিনে তৃতীয় পেরেকটি পুঁতলেন । প্রথম পেরেক কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ থেকে আহরিত যুদ্ধভীতি,দ্বিতীয় পেরেক গৌতম বুদ্ধের অহিংসা তত্ত্ব, আর তৃতীয় পেরেক হলো মহাবীর জৈন’এর অহিংসা নীতির উন্নত সংস্করণ।তৃতীয় পেরেক ঠোঁকার কৃতিত্ব থেকে মহাবীরকে কোনওভাবেই বঞ্চিত করা সম্ভব নয়। 
   

এঁরা অর্থাৎ বুদ্ধদেব এবং মহাবীর জৈন যতই অহিংসা তত্ত্ব আমদানি করুন না কেন,হাজার হাজার বছরের ক্ষাত্রতেজপূর্ণ হিন্দু জাতিকে সহজে আকর্ষণ করতে পারল না।গুটি কয়েক মানুষ এঁদের অনুগামী হলেও তেজবীর্যপূর্ণ হিন্দু মানস পাত্তাই দিল না,রীতিমত উপেক্ষা করল।তার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের ইতিহাস।ওই সময়কার ইতিহাস হিসেবে দেখা যায় পাঞ্জাব ও সিন্ধু নদীর দুপারে বহু প্রজাতন্ত্রী রাজ্য ছিল।এই প্রজাতন্ত্রগুলির ঐতিহ্য ছিল পুরুষদের সাথে স্ত্রীলোকদেরকেও অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা করতে হত।এমনই একটি রাজ্যের নাম ছিল যৌধেয় প্রজাতন্ত্র।অবস্থান ছিল পুরণো ব্যাস নদীর দক্ষিণ পার।অনেকেই হয়ত ব্যাস নদীর নাম নিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারেন। এই ব্যাস নদীর  নাম অপভ্রংশে হয়েছে বিয়াস, সেখান থেকে বর্তমান বিপাশা নামে পরিচিত। বিদেশিরা এই প্রজাতন্ত্রকে বলত ‘অস্ত্র সজ্জ রাষ্ট্র’।১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী প্রত্যেককেই অস্ত্রশিক্ষা করতে হত বাধ্যতামূলক ভাবে।আলেকজান্ডার খ্রিস্ট পূর্ব ৩৩১অব্দে  তাঁর গ্রিক বাহিনী নিয়ে যৌধেয়’র কাছে এলে তাঁর বাহিনী ভয় পেয়ে গেল।সেনাবাহিনীর  মধ্যে অসন্তোষ শুরু হল।আলেকজান্ডার তাঁর বাহিনীর উদ্দেশ্যে জ্বালাময়ী ভাষণ দিলেও কিছুতেই কিছু হল না।আরও দু’টি প্রজাতন্ত্র ছিল,যে দু’টির নাম ছিল মালব ও শূদ্রক।এই দু’টি দেশও ছিল উন্নত সমরবিদ্যার অধিকারী।তবে এই দু’টি রাজ্য ছিল একে অন্যের শত্রু । আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করে যখন একের পর এক রাষ্ট্র তছনছ করে চলেছে,তখন অবস্থার গুরুত্ব বুঝে এই দুই রাজ্য বিবাদ ভুলে এক জোট গঠন করে।এই প্রথম ভারতে এসে আলেকজান্ডারকে এক মিলিত শক্তির মুখোমুখি হতে হল।ভয়ংকর যুদ্ধের মধ্যে এক অনামী যোদ্ধার তীরে আলেকজান্ডার লুটিয়ে পড়লেন।যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আলেকজান্ডারকে সরিয়ে নিয়ে শুশ্রূষা করার ফলে এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গেলেন।এই ঘটনায় বহু জায়গায় খবর রটে গিয়েছিল যে যুদ্ধক্ষেত্রে আলেকজান্ডার মারা গিয়েছেন।বহু ইতিহাসবিদ তথা গ্রিক ও পশ্চিমা ইতিহাসবিদরা এই ঘটনা চেপে গেলেও আশ্চর্য রকমের সত্যি হল আলেকজান্ডার পরাজিত হয়ে সন্ধি করতে বাধ্য হন।বুঝা যায়, ক্ষাত্রতেজ তখনও শেষ হয়ে যায় নি।
               আলেকজান্ডার চেয়েছিলেন ভারতীয় এলাকাগুলি স্থায়ীভাবে তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হোক।কিন্তু  তিনি ক্লান্ত ও ভগ্ন হৃদয় হয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করার তিন বছরের মধ্যেই খ্রিস্ট পূর্ব ৩২৫ থেকে ৩২২’এর মধ্যে তাঁর প্রতিনিধিরা ভারত থেকে উচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর বাহিনী ধ্বংস হয়েছিল, তাঁর শাসনের সমস্ত চিহ্ন মুছে দেওয়া হয়েছিল।আলেকজান্ডারের ভারত অভিযান শেষমেষ একটা সফল হামলায় পরিণত হয় ইতিহাসবিদরা সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছেন আলেকজান্ডারের বিপর্যয়।ক্লান্ত ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ের আলেকজান্ডার মৃত্যুবরণ করেন খ্রিস্ট পূর্ব ৩২৩ অব্দে। 
     

এইমত সময়কালের দু’জন ব্যক্তিত্বের কথা।আলোচনা না করলে বিষয়টি প্রাসঙ্গিকতা হারায় আলেকজান্ডার যখন তক্ষশীলায় এসেছিলেন, তখন দ’জনের ভূমিকা ছিল উজ্জ্বল । পঞ্চনদ থেকে সিন্ধু পর্যন্ত এলাকা থেকে গ্রিক শাসনের উচ্ছেদের রাজনৈতিক নায়কদের মানুষ ভুলে গেলেও এই দু’জনকে মানুষ ভোলেনি।প্রথমজন তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী,সদ্য তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের  পাঠ শেষ করেছেন,নাম তাঁর চন্দ্রগুপ্ত। অন্যজন ছিলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক,পরবর্তীকালে চন্দ্রগুপ্তের রাজনৈতিক গুরু ও মন্ত্রণাদাতা ‘চাণক্য’-যাঁর আসল নাম বিষ্ণু গুপ্ত।অন্য আরও একটি নামেও তিনি পরিচিত, সেই নামটা হলো কৌটিল্য।এই চন্দ্রগুপ্তই মৌর্য বংশ তথা মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।মৌর্য সম্রাটদের  কুলদেবতা হল ময়ূর।                             এই সময়ে মগধের সিংহাসনে আসীন ছিলেন সম্রাট মহাপদ্মানন্দ। বিভিন্ন ধরণের বদনাম আছে এই মহাপদ্মানন্দের বিরুদ্ধে । একটা অভিমত আছে,এই মহাপদ্মানন্দের ঔরসে তাঁর চাকরানি মুরিয়া দেবীর গর্ভে চন্দ্রগুপ্তের জন্ম।অন্য একটি সূত্র বলে,চন্দ্রগুপ্তের পিতার ঔরসেই তাঁর জন্ম হয় মুরিয়া দেবীর গর্ভে। চন্দ্রগুপ্তের জনপ্রিয়তা দেখে মহাপদ্মানন্দ সামান্য অজুহাত দেখিয়ে মগধ সাম্রাজ্য থেকে তাঁকে বহিষ্কার করেন। এরপরই চন্দ্রগুপ্তকে আমরা দেখতে পাই তক্ষশীলায় পাঠরত। একটা সূত্র বলে চন্দ্রগুপ্তের সাথে আলেকজান্ডারের সাক্ষাৎ ও বৈঠক হয়েছিল ।  
     

বিষ্ণুগুপ্ত  বা চাণক্য মহাপদ্মানন্দের প্রাসাদে দানাধ্যক্ষ পদে আসীন ছিলেন।একদিন চাণক্যের দন্তবিহীন কুৎসিত চেহারা দেখে সম্রাট মহাপদ্মানন্দ হেসে ফেলেছিলেন।এতে চাণক্য বিশেষ অপমানিত বোধ করেন শুধু নয়,সম্রাটের সামনে নিজের ক্ষতি উগরে দিলে সম্রাট ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে পদচ্যুত করেন ও ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রাজ প্রাসাদ থেকে বের করে দেন। সেই তেজস্বী ব্রাহ্মণ বিষ্ণুগুপ্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ঘোষণা করলেন, ‘আমি এইভাবে তোমাকে সিংহাসন থেকে টেনে নামাব ও নন্দ বংশকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করব। যতদিন পর্যন্ত সেটা করতে না পারছি,ততদিন আমি শিখি বাঁধব না ।’ এরপর তিনি তক্ষশীলায় চলে যান সেখানেই চন্দ্রগুপ্ত আচার্য চাণক্যের সাথে যোগ দিলেন- ঘটে গেল ভারত ইতিহাসের এক মহামিলন পর্ব। ছোট ছোট ভারতীয়  রাজ্য থেকে এক অখণ্ড ভারতীয় সাম্রাজ্যের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইল এই যুগলবন্দি । অল্পদিনের মধ্যে মহাপদ্মানন্দ বুঝতে পারলেন যে চাণক্য শুধুমাত্র একজন পন্ডিত ব্যক্তি নন, একজন দক্ষ সংগঠকও। প্রসঙ্গত আলেকজান্ডারের ভারত থেকে প্রত্যাবর্তনের ছ’মাসের মধ্যে বিজিত ক্ষুদ্র  প্রজাতন্ত্রগুলি স্বাধীনতা ঘোষণা করে, যার মূল কারিগর ছিলেন চাণক্য শিষ্য চন্দ্রগুপ্ত, একথা বলেছেন ঐতিহাসিক জাস্টিন। এরপর চন্দ্রগুপ্ত ও চাণক্য মিলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে এক বৃহৎ শক্তিশালী  সামরিক বাহিনীর জন্ম দেওয়ার চেষ্টা চালাতে থাকলেন। 
     

এরপর চন্দ্রগুপ্ত ও চাণক্য মিলে পঞ্চনদ,পৌরব এবং অন্যান্য প্রজাতন্ত্রী রাজ্যের তরুণগণকে নিয়ে এক শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করে মগধের উপর আক্রমণ হানলেন।রাজা পুরুর সাথেও গোপণে চাণক্য সাক্ষাৎ করেন তাঁর সমর্থন পাওয়ার জন্য বলে একটা সূত্রে জানা যায় উল্লেখ্য,চাণক্যের একছত্র ও সংগঠিত সাম্রাজ্য নির্মাণের ডাকে সাড়া দিয়ে তখনকার সারা ভারতের বহু মানুষ চাণক্য ও চন্দ্রগুপ্তের সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন তথা লড়াইয়ের জন্য এগিয়ে যায়।এই বাহিনী মগধ জয় করে পাটলিপূত্র শহর যেটা মগধের রাজধানী,সেথায় প্রবেশ করল ও মহাপদ্মানন্দের শিরোচ্ছেদ করা হল।ভারতীয় ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়ের সমাপ্তি হল।  
    আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময় মগধরাজ মহাপদ্মানন্দ যদি ক্ষাত্র তেজ নিয়ে রুখে দাঁড়াতেন সবাইকে একসাথে নিয়ে, তাহলে ভারতে আলেকজান্ডারের ইতিহাস অন্যরকম লেখা হতে পারত। অথবা আলেকজান্ডারের ভারত ইতিহাস পশ্চিমারা হয়ত লিখতই না-উহ্য রেখে যেত,একথা হলফ করেই বলা যায় ।

(ক্রমশঃ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.