হিন্দু জাতির অধঃপতনের নেপথ্য চিত্র- প্রথম পর্ব

0
756

© পবিত্র রায়


বর্তমানে ভারতের হিন্দু জনমানসে একটা কথা বারে বারেই প্রতিধ্বনিত হয়।কথাটা হলো জাতি হিসেবে আমাদের এই অধঃপতন কেন ? খুবই সঙ্গত প্রশ্ন।পৌরাণিক যুগের দু’টি বড় যুদ্ধের হোতা এই হিন্দু জাতি।আর সেই জাতিই আজ কি’না সব চাইতে ধৈর্যহীন জাতিতে পরিণত হয়ে সারা পৃথিবীর ক্ষাত্রতেজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ! যে জাতি সারা পৃথিবীতে সভ্যতার আলো বিলিয়েছে, তাঁদেরই কি’না সভ্যতার পাঠ নিতে যেতে হচ্ছে! পশ্চিমাদের কাছে !বর্বর আরব জাতির অনুগামীরা হিন্দুদের উদ্দেশ্য করে বলছে,হিন্দুরা না’কি কিছুই জানত না,সবই শিখেছে আরব তথা মুসলমানদের কাছ থেকে।আমাদের এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চলে যেতে হবে ইতিহাসের পাতায়।
   

 প্রথমেই জানতে হবে আমাদের হিন্দু সভ্যতার বয়স কত ?সঠিকভাবে এই সভ্যতার কোনও মূল বা বয়স সংক্রান্ত তথ্য দিতে কেউই সক্ষম নয়।এক একজন তাঁদের নিজের মত করে মতামত দেয়, পরবর্তীকালে অন্যজন এসে সেই মতবাদ তথ্য সহকারে নস্যাৎ করে দিয়ে চলে যান আরও পুরণো অবস্থানে।আমাদের দেশের বামপন্থীরা তো হিন্দু সভ্যতা স্বীকার করতেই চান না। নমঃ নমঃ করে কেউ কেউ স্বীকার করেন এই বলে যে রামায়ণের যদি কোনও অস্তিত্ব থেকেই থাকে, তাহলে সেটা ৬/৭ হাজার বছরের বেশি নয়।এঁরা মহাভারতের যুদ্ধকে স্বীকার করতে চান না। এর কারণও আছে এগুলো যদি স্বীকার করে নেওয়া হয়,তাহলে হিন্দু সভ্যতাকেও স্বীকার করে নিতে হয়।সুতরাং সাপের ছুঁচো  গেলার মত অবস্থা হওয়ার চাইতে এই বিষয়টিকে পরিহার করাই শ্রেয় বলে মনে করে এঁরা ।আরও একটা পথ এঁরা নিয়ে চলে।পথটা হল ইতিহাস বিকৃত করে মানুষকে পরিবেশন করা ও ভুল পথে চালিত করা।আমরা বরং এদের পরিহার করে হিন্দু জাতির এই অধঃপতন নিয়েই আলোচনা তথা তত্ত্ব তালাশ করব। 
   

প্রথমেই এই জাতির একটা কথা আলোচনা করা দরকার।কথাটা হলো,এই জাতিই পৃথিবীকে প্রথম যুদ্ধবিদ্যা শিখিয়েছে,এটা মানতে হবে।অবশ্য পরবর্তীতে সেই যুদ্ধ বিদ্যা উন্নত হতে হতে অদ্যকার অবস্থানে পৌঁছেছে।এখনকার দিনে আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন দেশ মিলে যুদ্ধ-মহড়া চালায়।পুরাকালে হিন্দু রাজাগণ এইমত মহড়া চালাতেন।পার্শ্ববর্তী রাজার সাথে যুদ্ধ মহড়া চলত সহমত হয়েই-ভূমি দখলের কোনও প্রশ্ন ছিল না সেইসব যুদ্ধ দেখার জন্য বহু লোক সমাগমও হত নির্দিষ্ট যুদ্ধনীতি মেনেই যুদ্ধ করা হত।স্রেফ রণকৌশল ও সক্ষমতা যাচাই ও বৃদ্ধিকরণের জন্যই  চলত সেই সব মহড়া।কি ছিল সেই যুদ্ধনীতি ? তখন যে যুদ্ধনীতি মেনে যুদ্ধ হতো,তার প্রমাণ পাওয়া যায় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে দু’পক্ষ মিলে নীতিমালা ঠিক করে নেওয়ায়।সব যুদ্ধেই নীতিমালা মানা হত।কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের নীতি মালাই খুব সম্ভবতঃ সেই সব নীতিমালার সার বা সংক্ষেপিত অবস্থা বলে ধরা যেতে পারে। 
     

রামায়ণে বর্ণিত যুদ্ধকে সার্বিকভাবে খুব বড় যুদ্ধ বলা চলে না । খুব বড় এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনীর মালিকও শ্রীরামচন্দ্র ছিলেন না।যদি থাকতেন তাহলে ছোট্ট একটা দ্বীপরাষ্ট্রের রাজা রাবণকে পরাজিত একাই করতে সক্ষম হতেন, দক্ষিণ ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ ও সৈন্যদের সাহায্য নেওয়ার দরকার পড়ত না।ছোটখাট যুদ্ধ হলেও রামায়ণে বর্ণিত যুদ্ধ এক মাইল ফলক হয়ে আছে সম্পূর্ণ  অন্য এক কারণে।কারণটা হলো মনূষ্যদ্বারা এই প্রথম সমুদ্রের বুকে বাঁধ দেওয়া হল ও যুদ্ধের অছিলায় শ্রীরামচন্দ্র দক্ষিণ ভারতীয়দেরও এক ছাতার তলায় এনে সার্বভৌম এক অখণ্ড হিন্দুজাতি ও রাষ্ট্রের জন্ম দিলেন- যেটা নিয়ে আমরা আজও গর্ব করি।শ্রীরামচন্দ্রের সমুদ্র সেতু বন্ধন সম্পর্কে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেন ও করতেন।আমেরিকার N A S A’এর জেমিনি-১১ উপগ্রহের মাধ্যমে ৪১০ মাইল ওপর থেকে ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের ১২,৫০,০০০ বর্গমাইল এলাকার ছবি তোলা হয়।তাতে ভারত-শ্রীলঙ্কা সহ অ্যাডামস ব্রিজ নামে পরিচিত রামসেতুর ছবি তোলা হয়।সেই ছবি বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে এই সেতু মানুষের তৈরি এবং তা ১৭,৫০,০০০ হাজার বছরের পুরণো।এক ধাক্কায় রামায়ণে বর্ণিত যুদ্ধের বয়স ১৭,৫০,০০০ হাজার বছরে পিছিয়ে গেল! বা সোজা কথায় বলা যায় হিন্দু সভ্যতার বয়স তত্ত্বটাই  এক ধাক্কায় পিছিয়ে গেল। 
   

এবার দেখা যাক ভারতের তথা হিন্দু জাতির জাতীয় প্রতীক ‘স্বস্তিক’ এর বর্তমান অবস্থান কোথায়? ০৭/০৭/২০১৬ তারিখের একটি খবরে জানা যায়,খড়গপুর আই আই টি’র এক গবেষক দল গবেষণার পর জানিয়েছেন,ইউক্রেনে যে স্বস্তিকা চিহ্নটা পাওয়া গিয়েছে,সেটা বার হাজার বছরের পুরণো।এই গবেষক দলের সাথে গবেষণায় অংশ গ্রহণ করেছিল খড়গপুর আই আই টি, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল প্লানিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আমেদাবাদ),স্কুল অব প্লানিং অ্যান্ড আর্কিটেকচার (ভোপাল) ও যাদবপুর।বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।স্বস্তিকা চিহ্ন ভারত থেকে টারটার মঙ্গোলিয়া হয়ে কামচাটকা,সেখান থেকে আমেরিকা পৌঁছয় বলে জানায় গবেষক দলটি।পরবর্তীতে অ্যাজটেক ও মায়া সভ্যতায় স্বস্তিকা চিহ্ন দেখা গিয়েছে।আমেরিকা থেকে ধীরে ধীরে এই চিহ্ন ফিনল্যান্ড,স্ক্যান্ডেনেভিয়া,ব্রিটিশ হাইল্যান্ড ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।বিশ্বের বহু এলাকাতেই স্বস্তিকা চিহ্নের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। ইউরোপে ক্রুশবিদ্ধ করার আকারে স্বস্তিকা চিহ্নের উপস্থিতি পাওয়া যায় ।এইভাবে প্রাচীন সিলমোহর,পাণ্ডুলিপিসহ একাধিক ধর্মীয় স্থানে স্বস্তিকা চিহ্নের অস্তিত্বের যাবতীয় প্রমাণ গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।অনেকেই হয়ত ভাবতে পারেন, জাতির অধঃপতন নিয়ে লিখতে গিয়ে এসব কথা লেখার অর্থ কি ? অর্থ হলো,জাতির প্রতিষ্ঠাকাল একটা সঠিক দিশায় না আনতে পারলে অধঃপতন হিসেবে কোনও কিছুই ধার্য করা উচিত হয়না। 
     

প্রমাণিত হয়,হিন্দু সভ্যতা আধুনিক প্রগতিশীল মানুষজন যতদিনের বলে ভাবেন ও বলেন,তার চাইতে আরও  অনেক বেশি পুরণো।মহাভারতের যুদ্ধ ছিল হিন্দু ইতিহাসের সবচাইতে মারাত্মক বিপর্যয়কর এক বিশেষ ‘ক্ষণ’ বা সময়।হিন্দু শৌর্যের বিশেষ প্রকাশ দেখা যায় এই যুদ্ধক্ষেত্রে এই যুদ্ধক্ষেত্র থেকেই আমরা ভবিষ্যৎ জীবনে চলার জন্য মহামূল্যবান দর্শন ‘গীতা’ পেয়েছি অর্থাৎ এই যুদ্ধ নিছকই এক যুদ্ধ ছিল না,ছিল শৌর্যের উৎকর্ষতার স্থল তথা গীতা নামক দর্শনের মাতৃভূমি শুধু নয়,শক্তি ও মেধার এক অপূর্ব মিলনমেলা আর তার জন্যই ধর্ম যুদ্ধের এক অত্যুজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে আছে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ।
   

হিন্দু জাতির চরম উৎকর্ষতার উদাহরণ যদি।হয়ে থাকে কুরুক্ষেত্র নামক ধর্মক্ষেত্র,তাহলে হিন্দু জাতির চরম অধঃপতনের জন্যেও দায়ী ওই একই ধর্মক্ষেত্র।কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগের একটি বিষয়ে আলোকপাত করাটা এক্ষেত্রে বোধহয় অপ্রাসঙ্গিক হবে না।বিষয়টি বহুদিন আগের এক বিদ্বজনের লেখায় পড়েছিলাম,নামটাও এখন আর মনে নেই তবে লেখাটা হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল ও সেটা নিজের ভাষায় জানাতে পারছি।
     

একলব্যের কথা মনে পড়ে ?মহাভারতের যুগে এক নির্মম অবহেলিত শূদ্র চরিত্র এই একলব্য গুরু দ্রোণাচার্যের নিকট অস্ত্রবিদ্যা শিখতে গেলে শূদ্র হওয়ার কারণে দ্রোণাচার্য এই বিদ্যা শেখাতে অস্বীকার করেন।এতে ভেঙে না পড়ে একলব্য গুরু হিসেবে দ্রোণাচার্যকে মেনে নিয়ে অস্ত্রবিদ্যা তথা যুদ্ধ বিদ্যা অনুশীলন করতে করতে নিখুঁত এক যোদ্ধা হয়ে ওঠেন।গুরুদেব যখন জানতে পারলেন বিষয়টা,তখন একলব্যের কাছে এসে গুরুদক্ষিণা স্বরূপ একলব্যের ডান হাতের বুড়ো আঙুলটা কেটে নেন।একলব্য সানন্দেই সেটা প্রদান করেন। অনেক প্রগতিশীল ব্যক্তি ঘটনাটিতে উঁচু বর্ণ কর্তৃক শূদ্র দলন তথা শূদ্র হিংসা দেখতে পান।তাঁরা একবারও ভাবেন না,সত্যিকারের একজন ক্ষত্রিয়  ছিলেন একলব্য।জন্মগত ভাবে সবাই শূদ্র-এরপর এক এক জন ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র প্রভৃতিতে উন্নীত হন।একলব্যের ক্ষত্রিয় সত্তা সহজেই যুদ্ধ বিদ্যা আয়ত্ত করে নিতে পেরেছিল একবারও কেউ ভেবে দেখেছেন বা নিজের কাছে প্রশ্ন করেছেন যে দ্রোণাচার্যর সাথে একলব্যের ক’বার দেখা হয়েছিল ?এবার আমার পুরণো পাঠ করা সেই ব্যাখ্যা থেকে নিজের ভাষায় কিছু উদ্ধৃতি দিচ্ছি।
   

দ্রোণাচার্য শুধুমাত্র একজন যুদ্ধ বিদ্যা প্রশিক্ষক ছিলেন না,তার সাথে ছিলেন একজন দার্শনিক তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে দেখতে পেয়েছিলেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ও তার ফলাফল,যখন যুদ্ধের কোনও প্রকার সম্ভাবনাই সৃষ্টি হয়নি।একদিন তিনি শিষ্য একলব্যের বাড়িতে হাজির হলেন।একলব্য গুরুর প্রতি উপযুক্ত সম্মান ও আবাহন করলেন একটা সময় বিদায় পর্ব এগিয়ে এলো। দ্রোণাচার্য একলব্যকে একান্তে ডেকে নিয়ে বললেন,’বৎস! আজ তোমাকে কিছু জবাব ও দায়িত্ব দিতে এসেছি-মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো।’
   

তোমার হাতের আঙুল কেটে নেওয়ায় তোমার মনের বেদনা দূর করতে চাই।আমি জানতাম তোমার একটা আঙুল তো দূরের কথা,চারটে আঙুল কেটে নিলেও কিছুতেই তোমাকে রোখা যাবে না।একটা আঙুল তোমার থাকলেই চলত। তোমার একটা আঙুল কেটে নিয়ে দেখাতে চেয়েছি ‘একাগ্রতা থাকলে সামাণ্য অঙ্গহানি কোনও কাজে বাধা হয়ে উঠতে পারে না।তুমি সার্থকভাবে সেটা প্রমাণ করেছ।এবার তোমাকে একটা নির্দেশ ও দায়িত্ব তোমার হাতে অর্পণ করে যাব।
     

সামনে মহান ধর্মযুদ্ধ আগত। তোমার মত যোদ্ধাকে যে কোনও পক্ষ চাইবে।তুমি একাই যুদ্ধে ফারাক গড়ে দিতে সক্ষম,এটাও আমি জানি আগত ওই ধর্মযুদ্ধের শেষে সভ্যতা একপ্রকার ধ্বংস হয়ে যাবে,এই উন্নত যুদ্ধ বিদ্যাও আর থাকবে না।আমার নির্দেশ হলো,ওই যুদ্ধে ধর্ম যুদ্ধে তুমি কোনও পক্ষেই অংশগ্রহণ করবে না,অজ্ঞাত স্থানে চলে যাবে।এরপর তোমাকে দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি এই বলে যে সভ্যতা ও যুদ্ধ বিদ্যা অবলুপ্তির পরও আবার নতুন সভ্যতা ও নতুন প্রজন্ম আসবে।তাঁদেরকে তুমি এই যুদ্ধ বিদ্যা শেখাবে- এটাই আমার শেষ উপদেশ।একলব্য কিন্তু সত্যিই কোনও পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি।মহান এক ক্ষত্রিয়বীর মহান এক দায়িত্ব দিলেন সামান্য এক শূদ্রের উপর!শূদ্র হিংসাই বটে ! বলা যেতে পারে, আমরা আজ যে পরিশীলিত যুদ্ধ বিদ্যা জানি,সেটা ওই শূদ্র একলব্যর বহন করে দিয়ে যাওয়া বিদ্যা মনে করলে ভুল হবেনা বোধকরি । 
     

 এবার মূল বিষয়ের অবতারণায় গমণ করা যেতে পারে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর পরিণতিতে কী ভয়ংকর বিপর্যয় হয়েছিল, সেটা আমরা বুঝতে পারি যুদ্ধ পরবর্তী অধ্যায়ের ঘটনাবলীতে। বিভিন্ন শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল,বলরাম সাপ হয়ে সমুদ্রে চলে গিয়েছিল। সম্ভব কি ? একেবারেই সম্ভব নয়। একটি জীবিত মানুষের হঠাৎ করে সাপ হয়ে সমুদ্রে চলে যাওয়া সম্ভব নয়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শেষে ভারতবর্ষে বসবাস করা সম্ভব নয় মনে করে শিষ্য সহযোগে বিশাল এক নৌবহর বানিয়ে গুজরাত উপকূল থেকে পশ্চিম দিকে চলে যান বলরাম। সেই বিশাল নৌবহরকে তীর থেকে আঁকাবাঁকা  সাপের মত দেখাচ্ছিল  বলে বর্ণনাকারীগণ বলরামকে সাপ বানিয়ে পশ্চিম সাগরে প্রেরণ করেন। প্রসঙ্গত, বর্তমানে যেটাকে আমরা আরব সাগর বলি, সেটা আমাদের কাছে পশ্চিম সাগর।এই সূত্র ধরে হিন্দুত্ববাদীরা আরব দেশে হজ করতে আসা শিখিধারী মুসলমানদের তাঁদের ‘শিখি’ নিয়ে প্রশ্ন করলে তাঁরা উত্তর দিয়েছিল, আমাদের পূর্ব পুরুষগণ ভারত থেকে এসেছিল।আমরা ইসলাম কবুল করলেও শিখি ত্যাগ করিনি। খুব সম্ভবতঃ বলরামের সাথে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের পরবর্তী প্রজন্ম এরা,এমন ধারণা করা যেতেই পারে।যাই হোক বলরামের মত দূরদর্শী মানুষও ভারতবর্ষকে বসবাসের উপযুক্ত মনে করেননি।মহাভারতের যুদ্ধ ছিল এমনই মহা বিপর্যয়কর ।

(ক্রমশঃ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.