রামায়ণ কথা- (১)

1
192

🚩🚩!!জয় শ্রীরাম !!🚩🚩

© শ্রী সূর্য শেখর হালদার

দেবী সরস্বতী, আদি কবি মহর্ষি বাল্মীকি আর বাল্মীকি রামায়ণ এর বাংলা অনুবাদক শ্রী রাজশেখর বসু কে স্বশ্রদ্ধ প্রণাম জানিয়ে শুরু করছি বাল্মীকি রামায়ণের গদ্য রূপ !!

পর্ব : ১
কান্ড : বালকাণ্ড
সর্গ : প্রথম

💐💐💐

তপস্বী বাল্মীকি বেদজ্ঞ, পন্ডিতশ্রেষ্ঠ । তিনি সর্বদা তপস্যা আর অধ্যয়নে নিরত থাকেন । একদিন সেই মুনিপুঙ্গব বাল্মীকি নারদকে জিজ্ঞাসাকরলেন , “সাম্প্রতিক কালে কে এমন আছেন,যিনি গুণবান, 
বীর্যবান, ধর্মজ্ঞানী, কৃতজ্ঞ, 
সত্যবাদী এবং নিজের 
প্রতিজ্ঞায়  সুদৃঢ় ? এমন
একজন, যিনি চরিত্রবান, সর্বভূতের হিতসাধনকারী, বিদ্বান, যে 
কার্যে কেউ সমর্থ নয়,এমন কার্য করতেও সমর্থ এবং যাঁর দর্শনে মন আনন্দিত হয়ে ওঠে ?এমন কেউ কি আছেন,  যিনি আত্মনিয়ন্ত্রণে সক্ষম, ক্রোধকে জয় করেছেন? এমন একজন যিনি দ্যুতিমান, অসূয়া বা ঈর্ষা
থেকে মুক্ত, যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রোধিত হলে,দেবতারাও ভয় পান ? আমি কৌতূহলের সঙ্গেএইরকম একজন
গুণসম্পন্ন মানুষ সম্পর্কে 
শুনতে ইচ্ছা করি।”
 
বাল্মীকির দ্বারা নিমন্ত্রিত 
ত্রিলোকজ্ঞ  নারদ তাঁর প্রশ্ন 
শুনে হৃষ্ট চিত্তে বাল্মীকিকে তাঁর কথা শুনতে বললেন এবং বললেন ,
 “হে মুনি,  তুমি যেসব গুনের বর্ণনা দিলে, সেসব গুণসম্পন্ন কোন সাধারণ 
মানুষ অতি দুর্লভ ।আমি  নিশ্চিত করে এইসব 
গুণসম্পন্ন একজনের কথা
 বলব । তুমি তা শ্রবণ কর ।ইনি ইক্ষ্বাকু নামক রাজার 
বংশজাত, রাম নামে পরিচিত,  দৃঢ় প্রকৃতিসম্পন্ন, অতুল 
শক্তির অধিকারী, দ্যুতিমান,
ধৃতিমান, সমস্ত ইন্দ্রিয়কে 
নিজের অধীনে আনতে সক্ষম ।ইনি বুদ্ধিমান, নীতিবান, বাগ্নী, সুন্দর,শত্রুসংহারক, প্রশস্ত 
স্কন্দের ও সবল বাহুর
অধিকারী, এনার গ্রীবা 
শঙ্খের আকৃতি সদৃশ, 
হনুসম্মুখে প্রলম্বিত ।বপু বিশালাকৃতি, 
দেহবিরাটাকৃতি ধনু ধারণের উপযুক্ত, কন্ঠাস্থি মাংসল,শত্রু তথা পাপের সংহারক, বাহু আজানুলম্বিত,শিরে মহত্বের চিহ্ন, প্রশস্ত, সুন্দর ললাট 
আর ইনি অমিত বিক্রমের অধিকারী ।এনার সমস্ত অঙ্গ সুষম ও সুবিন্যস্ত ; বর্ণ উজ্জ্বল । ইনি প্রতাপশালী,প্রশস্ত 
বক্ষের অধিকারী, বিশাল নেত্রবিশিষ্ট,লক্ষীবান ও শুভলক্ষণ যুক্ত ।ইনি ধর্মজ্ঞ, প্রতিজ্ঞায় অটল, 
প্রজাগণের হিতসাধনে রত, 
যশস্বী, জ্ঞানী,শুদ্ধাচারি , 
গুরুজনের প্রতি বিনয়ী, 
শরণাগতকে রক্ষায় সদাসংকল্পবান ।ইনি প্রজাপতি ব্রহ্মাসমপবিত্র, সমস্ত জগতের পালক, অরিসংহারক,সকল জীবলোক, ন্যায়, নীতি ও ধর্মের রক্ষক ।ইনি ক্ষাত্রধর্মের রক্ষক, 
স্বজনবর্গের রক্ষক, বেদ,
বেদাঙ্গ ও তত্ত্বজ্ঞানী, 
ধনুর্বিদ্যাতে সুনিপুন ।তিনি সর্বশাস্ত্রবিদ, প্রতিভাবান, সর্বলোকের প্রিয়,সকলের 
প্রতি ভদ্র ব্যবহারকারী ( এমনকি যাঁরা তাঁর ক্ষতি করেছে তাঁদের 
প্রতিও ), স্থিরচিত্ত,বিচক্ষণ । ইনি  নদীদের নিকট সমুদ্র 
সদৃশ,গুনবানের নিকট 
অবারিত, প্রকৃত আর্য বা
গুণবান, সবার প্রতি তাঁর  সমব্যবহার, আর  শ্রীমুখসর্বদা আনন্দময় । তিনিই হলেন কৌশল্যার
আনন্দবর্ধনকারী, সর্বগুণ
সম্পন্ন রাম, যিনি গাম্ভীর্যে 
সমুদ্রসম, ধৈর্যে হিমালয়সম ।ভগবানবিষ্ণুর ন্যায় তাঁর বীরত্ব, চন্দ্র সদৃশ প্রিয় তাঁর দর্শন,ক্রোধে তিনি কালাগ্নিসম, 
 ক্ষমাশীলতায় ধরিত্রীসম, দানধ্যানে কুবের সদৃশ, 
সত্যবাদিতায় ধর্মরাজকল্প ।
এইসমস্ত গুণসম্পন্ন রাম 
সত্যই পরাক্রমী ।
 
ইনি পিতা দশরথের জ্যেষ্ঠ পুত্র,  শ্রেষ্ঠগুণসম্পন্নএবং প্রিয় ।  প্রকৃতিগত ভাবেই তিনি
হিতসাধনকারী কাজে যুক্ত, 
সকলের মঙ্গলকারী কাজে 
আগ্রহী ।রামের প্রতি প্রীত মহীপতি  (দশরথ ) তাঁকে যৌবরাজ্যে 
অভিষিক্ত করতেইচ্ছুক হলেন । তারপর ভার্যা কৈকেয়ী রামেররাজ্যাভিষেকের প্রস্তুতি 
দেখলেন । কৈকেয়ী দশরথের নিকট পূর্ব প্রতিশ্রুত বর চাইলেন – রামেরনির্বাসন আর ভরতের 
রাজ্যাভিষেক ।সত্যবচনাবদ্ধ, ধর্মপরায়ণ,  সংযত দশরথ তাঁর প্রিয় পুত্র রামকে নির্বাসনে 
বনে পাঠালেন ।পিতার নির্দেশ রক্ষা করতে, 
কৈকেয়ীকে সন্তুষ্ট করতে পরমবীর রাম বনে গেলেন 
আর কৈকেয়ীকে দেওয়া পিতার প্রতিজ্ঞা 
পালনে সাহায্য করলেন। রামের প্রিয়ভ্রাতা লক্ষণ ছিলেন
বিনয়সম্পন্ন ও সুমিত্রার 
আনন্দবর্ধক। তিনিও ভ্রাতৃস্নেহের পরশে
রামের অনুগামী হয়ে বনে
গেলেন।রামের প্রিয় ভার্যা সীতা তাঁর  প্রাণ বায়ুর ন্যায় 
নিত্য হিতসাধনকারী ছিলেন ।জনক কুলে জন্মগ্রহণকারিনী সীতা  
ছিলেন স্বয়ং 
দেবী মোহিনীর রূপ । তিনি ছিলেন সর্বগুণসম্পন্ন, নারীদের মধ্যে সর্বত্তমা পুত্রবধূ ।সীতাও রামের অনুগতা হলেন  অর্থাৎ 
বনগমন করলেন, ঠিক যেভাবে রোহিনী ( প্রজাপতি 
দক্ষের এক কন্যা তথা চন্দ্রের সঙ্গিনী ) চন্দ্রের অনুগমন করেছিলেন । পুরবাসীগণ এমনকি  পিতা 
দশরথও বহুদূরপর্যন্ত 
শ্রীরামের অনুগমন করলেন ।
 
 
শৃঙ্গিবেরপুরের গঙ্গাকূলে এসে রাম সারথীকে(সুমন্ত্র ) ফেরত পাঠালেন । তিনি ধর্মাত্মা,নিষাদাধিপতি প্রিয় গুহের দিকে এগিয়ে 
গেলেন ।
গুহের সহিত রাম লক্ষণ ও 
সীতা গভীর এবং বিশাল জলরাশি সম্পন্ন গঙ্গা নদী পার হয়ে এক বন থেকে আরেক বনে যাত্রা করলেন ।
ভরদ্বাজ মুনির নির্দেশে 
চিত্রকূটে পৌঁছে তাঁরা একটি রমণীয় পর্ণকুটির 
নির্মাণ করলেন এবংতিনজনে ( রাম, সীতা, লক্ষণ ) সুখে 
বনবাস করতে লাগলেন । দেব ও গন্ধর্বের ন্যায় তাঁরা 
সুখে বসবাস করতে লাগলেন ।
 যখন রাম চিত্রকূটের 
উদ্দেশ্যে গেলেন,  পিতা দশরথ পুত্র বিচ্ছেদের ব্যাথায় শোকাতুর হলেন ।পুত্রশোকে বিলাপরত রাজা 
দশরথ মৃত্যুপথযাত্রীহলেন, আর বশিষ্ঠ প্রমুখ দ্বিজগণ 
ভরতকে রাজ্যভার দিলেন ।রাজকার্যে নিযুক্ত হয়ে 
মহাবলী ভরত রাজ্যশাসন করতে 
অনিচ্ছুক হলেন । বীর ভরতের মনে কোন ঈর্ষা ও ঘৃণা ছিল না।  তিনি বনে গেলেন রামের 
পদবন্দনা করতে ।ভরত সম্মানীয়, মহাত্মা, সত্যবান ও পরাক্রমী রামের নিকট গেলেন এবং ভ্রাতা 
রামকে শ্রদ্ধাসহিত বন্দনাকরে তাঁর কাছে রাজ্যে ফিরে 
যাবার জন্য অনুনয় করলেন। রাম সবাইকে আনন্দ দেন, 
শরণাগতেরপ্রতি উদার, শ্রীমুখ সর্বদাই প্রফুল্ল এবং 
খ্যাতিমান । ভরতকে উদ্দেশ্য করে রাম 
বললেন, ‘তুমি ধর্মজ্ঞ,তুমিই রাজা।’
 
যাইহোক, মহাবলী রাম পিতার নির্দেশ মেনে রাজ্য নিতে অস্বীকার করলেন । রাজকর্তৃত্বের প্রতীকস্বরূপ 
তিনি তাঁর পাদুকা দান 
করলেন।
তিনি ভরতকে বোঝালেন 
রাজধানীতে ফিরে যেতে। ভরতের  মনোভিলাষ পূর্ণ না হওয়াতে তিনি রামের পাদুকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্পর্শ করলেন। ভরত রামের প্রত্যাগমনের 
আকাঙ্খা নিয়ে নন্দিগ্রাম 
থেকে রাজ্যশাসন করতে 
লাগলেন ।

 ভরত চলে গেলে শ্রীময়, 
সংকল্পে অটল, জিতেন্দ্রিয় 
রাম লক্ষ্য  করলেন যে অযোধ্যা নগরের বাসিন্দাগণ  সেখানে আসতে পারেন, তাই যাতে প্রতিজ্ঞা না ভঙ্গ হয়, তাই  তিনি দণ্ডকারণ্যে প্রবেশ করলেন ।
 
পদ্মলোচন রাম দণ্ডকারণ্যে 
প্রবেশ করে বিরাধ নামক 
রাক্ষসকে বধ করলেন।তিনি মহর্ষি শরভঙ্গের সাক্ষাৎ পেলেন ।মহর্ষি সুতীক্ষ্ণ,  অগস্ত্য ও 
অগস্ত্যর ভ্রাতার সঙ্গে  
শ্রীরামের  সাক্ষাৎ হল । অগস্ত্যের নির্দেশে ইন্দ্র রামকে শরাসন ( ধনুক )  প্রদান 
করলেন । তিনি খড়্গ , অক্ষয় শর ও 
তুনীর  পরম আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করলেন ।সব বনবাসী ঋষি এবং সাধুরা রামকে অনুরোধ করলেন যে তিনি যেন তাঁদের জীবন নষ্টকারী অসুর ও রাক্ষসদের বধ করে তাঁদের রক্ষা করেন । রাম রাক্ষস অধ্যুসিত বনে 
বসবাসকারী ঋষিদের রাক্ষস বধের প্রতিশ্রুতি দিলেন ।ঋষিদের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ 
রাম যুদ্ধে রাক্ষসদের  বধও করলেন ।
 
যখন দন্দকারণ্যের মধ্যে জনস্থাননিবাসী হয়ে রাম বসবাস করছেন, তখন লক্ষণের তরবারীর আঘাতে ছদ্মবেশী, মায়াবিনী শূর্পণখার  রূপ বিকৃতি ঘটলো। শূর্পণখার বাক্যে উত্তেজিত 
হয়ে খর, ত্রিশিরা এবং দূষণ সহ সমস্ত রাক্ষসরা রামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উদ্যত হলেন ।রাম তাঁদের ( খর, ত্রিশিরা, 
দূষণ ) এবং তাঁদের অনুগামীদের বনেই হত্যা করলেন । সেই বনে রাম জনস্থান 
নিবাসী হয়ে বাস করতে 
লাগলেন।  রামের দ্বারা  চতুর্দশ সহস্র 
রাক্ষস  নিহত হলেন।  

তারপর রাবণ তাঁর জ্ঞাতি 
রাক্ষসদের হত্যার সংবাদ 
শুনে ক্রোধে উন্মত্ত  হলেন।
রাবণ মারিচ নামক রাক্ষসের সহায়তা অন্বেষণ করলেন। মারিচ রাবণকে নানা উপায়ে বুঝিয়ে নিরস্ত করতে চেষ্টা 
করলেন।

(ক্রমশঃ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

1 COMMENT

  1. আচ্ছা আমাদের ধর্মগ্রন্থ হলো বেদ।।।।। যেটা হলো প্রধান গ্রন্থ।।।।। সেটাতেই তো লেখা আছে মুর্তিপুজা নিষেধ।।।। আমরা কেন এই মাটির তৈরি পুতুল পুজা করি বুঝতেছি না।।।।।। আমাদের পথভ্রষ্ট করা হচ্ছে।।।।। আমরা আসলেই পথ ভ্রষ্টতার মাঝে আছি।।।।।। ঈশ্বরের কোন প্রতিমা,, আকৃতি কেউ কি কল্পনা করতে পারবে। এক মাত্রই তিনিই জানেন তিনি কেমন।।।।আমরা আসলেই ভুল পথে আছি।।।। আমাদের সনাতন ধর্ম কখনো এই শিক্ষা দেয় না।।।

Comments are closed.