কোন হিন্দু মেয়ের পক্ষে কোন মুসলমান ছেলেকে বিয়ে করা কখনই উচিত নয়- (১)

0
309

© ডঃ রাধেশ্যাম ব্রহ্মচারী

(প্রথম পর্ব)

ভারতের সংবিধান একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে এই অধিকার দিয়েছে যে, সে তাঁর নিজের পছন্দমতো জীবনসঙ্গী বেছে নিতে পারে। তাই ১৮ বছর বা তার থেকে বেশি বয়সের কোনো হিন্দু মেয়ে যদি ২১ বছর বা তার থেকে বেশি বয়সের কোনো মুসলমান যুবককে বিয়ে করে, তবে আইনের দিক থেকে তাকে বাধা দেওয়া সম্ভব নয়। অন্য দিক দিয়ে বিচার করলেও, কোনো হিন্দু মেয়ে যখন কোনো মুসলমান ছেলেকে বিয়ে করে, তখন ওই হিন্দু মেয়েটিকে কোনোভাবেই দোষ দেওয়া চলে না। ছোটবেলা থেকেই মেয়েটি শুনে আসছে যে সব ধর্মই সমান। সব ধর্মের মধ্য দিয়েই ঈশ্বরকে পাওয়া যায়। সর্বোপরি, শ্রী রামকৃষ্ণ নাকি বলে গিয়েছেন, সব ধর্মই এক বা যত মত তত পথ। কাজেই এইসব ভুল কথা শুনে শুনে কোনো হিন্দু মেয়ে যদি কোনো মুসলমান ছেলেকে বিয়ে করে, তবে তাকে কোনোভাবেই দোষ দেওয়া চলে না। দোষ দিতে হবে তাদের, যারা ওই সব ভুল কথা এবং মিথ্যে কথা প্রচার করে চলেছেন।

 এই প্রসঙ্গে বলা উচিত হবে যে, শ্রীরামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠ, ১৯-এ রাজা রাজকৃষ্ণ স্ট্রিট, কলকাতা-৬ থেকে স্বামী অভেদানন্দের লেখা মহাত্মা মহম্মদ ও তাঁর উপদেশ  নামক একটি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে, যা পড়লে পাঠকের মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, ধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্ম হিন্দু ধর্ম অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। তাতে লেখা হয়েছে যে, শিশু বয়স থেকেই মহম্মদ অত্যন্ত আধ্যাত্মিক জগতের মানুষ ছিলেন এবং সেই বাল্যকাল থেকেই তিনি সমাধিতে নিমগ্ন হতেন। বাল্যবয়সে মেষ চরাতে চরাতে নাকি তাঁর জ্যোতিদর্শন হতো। আরবের নিষ্ঠূর পশুপালক সমাজের একজন মানুষ সমাধিতে নিমগ্ন হতেন, এই সমস্ত সংবাদ লেখক কোথা  থেকে পেলেন তা এক আশ্চর্যের ব্যাপার। 

সকলেরই স্মরণ আছে যে গত কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত পন্ডিত মহানামব্রত ব্রম্ভচারী   মহাশয়ের জন্মশতাব্দী মহা ধুমধামের সঙ্গে পালিত হয়েছে। সেই পন্ডিতপ্রবর তাঁর একটি রচনায় লিখেছেন Islam কথার অর্থ হলো, I shall love all men ( বা আমি সব মানুষকে ভালোবাসবো)। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, ইসলাম কখনও সব মানুষকে ভালোবাসার কথা বলে না। ইসলামী মতে মানুষ দু-রকমের, মুসলমান ও অ-মুসলমান কাফের। ইসলাম এই কাফেরদেরকে ভালোবাসার কথা বলে না। কোরান মতে একজন মুসলমানের পক্ষে সব থেকে পুণ্যের কাজ হলো, কাফেরদের হত্যা করা। তাই কোরানের নির্দেশ হলো, কাফেরদের যেখানেই পাও,সেখানেই হত্যা করো, তাদের ঘর-বাড়িতে আগুন দাও, তাদের যথা সর্বস্ব লুট করো, তাদের মহিলাদের ধর্ষণ করো, তাদের শিশুদের আছাড় দিয়ে মেরে ফেল ইত্যাদি ইত্যাদি। কাজেই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, ইসলাম সম্বন্ধে এই সব ডাহা মিথ্যে কথা তিনি লিখলেন কেন? তাঁর এই মিথ্যে কোথায় বিশ্বাস করে হিন্দু ঘরের কত মেয়ে যে মুসলমান ছেলেকে বিয়ে করে নরকযন্ত্রণা ভোগ করছে তার খবর কে রাখে?

(ক্রমশঃ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here