বাংলাদেশে হিন্দু বিদ্বেষ আজও অব্যাহত

0
671

© পবিত্র রায়

কুমিল্লাতে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাতটি, মতান্তরে দশটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করা হয়েছে বলে খবর। বাংলাদেশের শীর্ষ মৌলবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আলটিমেটাম দিয়ে বলেছে, ঢাকায় ফ্রান্সের দূতাবাস বন্ধ করতে হবে ২৪ ঘন্টার মধ্যে। এই হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সবচাইতে বড় মৌলবাদী ইসলামি সংগঠন।

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার খবরে জানা যায় খুলনা জেলায় কোরাণ পুড়িয়ে ব্যাপক হিন্দু হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এই হেফাজত নামক মৌলবাদী সংগঠন।দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা অফিসে ওই বছরের ১১ মার্চ তারিখে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের সাথে এক গোপন বৈঠক করে হেফাজত।পরে সরকার জানতে পারায় পরিকল্পনা ভেস্তে যায় ও পত্রিকা সম্পাদক গ্রেফতার হয়।প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে খুলনা জেলা খুব সম্ভবতঃ সবচাইতে হিন্দু প্রধান জেলা।

২০১৩ সালের মার্চ মাসের একটি সংবাদে জানা যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে আরতির সময় মন্দিরে ঢুকে পূজারিকে হত্যা করা হয়।কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি বাজারে হিন্দুদের সমস্ত দোকান লুট করে মুসলমানরা।সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও সদর উপজেলার গোপালপুর সার্বজনীন পূজা মন্ডপে হামলা চালায় মুসলিমরা।এই সময় বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক হামলা চলতে থাকে।২৯.০৩.২০১৩ তারিখে হামলা চালানো হয় ঠাকুরগাঁও শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রমে। মোহাম্মদপুর গ্রামে লুটপাট চালানোর পর গোটা হিন্দু পাড়া আগুন লাগিয়ে ভস্মীভূত করে দেওয়া হয়।এতে করে  ২৮ টি হিন্দুবাড়ি একেবারেই শেষ হয়ে যায়। এই ঘটনার পর বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলতে বাধ্য হন, ‘আগামী ২০ বছরে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু থাকবে না।হিন্দুদের অভয়দান ও রক্ষার্থে নাগরিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে।’  

 ২০১৪ সালের আগস্ট মাসের একটি খবরে জানা যায়, জুলাই মাসের ২৫ তারিখে ষোল বছর বয়সী ফুটফুটে সুন্দর মেয়ে মালবিকাকে ধর্ষণ করে খুন করেছে প্রতিবেশি আব্দুর রাজ্জাক।কে এই মালবিকা?২০০৮ সালে নোবেল বিজয়ী মো.ইউনুস’ এর আমন্ত্রণে রাহুল গান্ধী যখন বাংলাদেশ সফরে যান,তখন মানিকগঞ্জ ক্ষুদ্র ঋণের স্বাবলম্বী নীলটেক গ্রাম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।সেদিন এই মালবিকা মানিকগঞ্জ বাসির পক্ষ থেকে মালা পরিয়ে প্রথমে রাহুল গান্ধীকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিল।                   

  নোয়াখালি জেলার  সোনাইমুড়ি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ধন্যপুর গ্রামে কর্মকার বাড়িতে দুর্গা ও রামমন্দির ধ্বংস করা হয় এই বলে যে এই গ্রামে কোনও মন্দির থাকা চলবে না।২০১৫ সালের মে মাসে ঢাকা থেকে প্রেরিত এক খবরে জানা যায় ‘বাংলাদেশে মূর্তি ভাঙা চলছে’।     

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসির নগরের কথা কেউই এখনো ভোলেননি বোধকরি। ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসির নগরে জেলে বস্তিতে রসরাজ নামের এক অশিক্ষিত ছেলের উপর দোষ চাপানো হয় যে সে ইসলাম বিরোধী পোস্ট করেছে।এরপর ৩০০ হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ২০ জনকে মারাত্মক ভাবে জখম করে।এই ঘটনা নিয়ে ঢাকা, নয়াদিল্লি, এমনকি নিউইয়র্ক শহরেও প্রতিবাদ মিছিল হয়।এরপর তদন্ত করার ফলে নভেম্বর মাসে দেখা যায় হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের এক কম্পিউটার দোকান থেকে ফটোসপের মাধ্যমে বিকৃত ছবি তৈরি করা হয় ও যাঁরা একাজ করে তাঁরা সবাই মুসলমান।তবে হিন্দু পাড়ায় ওই দিনের হামলায় স্থানীয় আওয়ামীলিগ, বি এন পি,জামাত ও হেফাজত- সবাই অংশগ্রহণ করে ।এই ঘটনার পর।সংবাদ মাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা প্রশাসনের দিকে আঙুল তুললে হাসিনা সরকারের প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী সায়েদুল হক বলেছিলেন,’মালাউনের বাচ্চারা বড্ড বাড়াবাড়ি করতাছে’।   

 বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের সামান্য নমুনা তুলে ধরা হল,যেটা হিমশৈলের চুড়া মাত্র।পাকিস্তানের জন্মলগ্নেরও আগে হতে হিন্দু- বিদ্বেষ ভালরকম ভাবেই ছিল মুসলিমদের মধ্যে এমন কোনও বছর ছিল না যে ঢাকা শহরে ছোট বা বড়, যা হোক না কেন দাঙ্গা ঘটাত না মুসলমানরা।পাকিস্তান পাওয়ার পর সেই হিংসা তুঙ্গে ওঠে।পাকিস্তান আমলের ক্লোজড ডোর অপারেশনের অনুকরণে বর্তমানে হাসিনার নেতৃত্বে চলছে হিন্দু নিপীড়ন।মন্ত্রী সায়েদুল হকের মন্তব্যে বুঝতে পারা যায় আওয়ামীলীগের মনোবৃত্তি।   

 প্রশ্ন হলো, এর থেকে হিন্দুরা কি কোনওদিনই নিষ্কৃতি পাবে না ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবুল বারকাত গবেষণায় দেখিয়ে দিয়েছেন।অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে হিন্দু থাকবে না।এবার বাংলাদেশের এইমত হিন্দুবিদ্বেষী হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিদেশিদের দিকে একবার চোখ বোলান যেতে পারে জার্মানির গ্রিন পার্টির রাজনীতিক তথা বৈদেশিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ চেম ওজডেমি বলেছেন,তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ফ্রান্স ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপে ইসলামি সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছেন- নিয়মিত আগুনে ঘি ঢেলে চলেছেন। ২০১৫ সালের মে মাসে আবুবকর আল বাগদাদির এক রেডিও বার্তায় জানা যায়, তিনি বলেছেন ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম নয়,ইসলাম যুদ্ধের ধর্ম ‘।   

 ধর্মীয় সূত্রে যতই বিধর্মী সংহারের নির্দেশ থাকুক না কেন, ইসলামী বিশ্বে সদা সর্বদা সেই বিদ্বেষে আগুন ধরানোর কেউ না কেউ বর্তমান থাকেন। বর্তমান যুগে আমরা গামাল আব্দেল নাসেরকে দেখেছি, ইদি আমিনকে দেখেছি, লাদেন ও আবু বকর আল বাগদাদিও ছিলেন বর্তমানে দেখছি খামেয়নি,মাহাথির, এরদোগানকে। ইসলামী বিশ্ব এদের থেকে অনুপ্রেরণা পায়।আবুবকর আল বাগদাদির  স্বপ্নের যুদ্ধ ধর্মকে যুদ্ধ শখ চির জীবনের জন্য না মেটালে এইমত হিংসা চলতেই থাকবে। শুধু হিন্দু নয়, সারা পৃথিবীর কোনও অমুসলিম নিস্তার পাবে না। তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি ফ্রান্স,কানাডা,ভিয়েনা প্রভৃতির ঘটনা দেখে বাংলাদেশের মৌলবাদীরা ফ্রান্সের ঘটনারপরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু হত্যা ও উৎপীড়নের একটা সুযোগ পেয়ে গিয়েছে।   

 ভারত নামক দেশটার কি কোনও দায়িত্ব নেই বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দেওয়া হোক কিছুতেই কিছু না হলে রাষ্ট্রসংঘে হিন্দুদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তোলা হোক কোনওটাই না হলে শুধু পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে জোর করে জন বিনিময় করে নেওয়া হোক।মুসলমানদের নিজেদের মত করে থাকার ব্যবস্থা করা হোক-ভারত তথা বাংলাদেশের হিন্দুরা একটু নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচতে পারুক।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.