আজেরবাইজানের আতিশগাহের অগ্নি মন্দির- যার ওপর সংস্কৃত শ্লোক খোদাই করা রয়েছে

0
695

( মূল লেখা টি প্রকাশিত হয় 18 ই মে 2017 সালে live historyindia.com নামক সাইটে। লেখক Lhi Team।)

অনুবাদ : সূর্য শেখর হালদার

ককেসাস অঞ্চলের ঠিক যেখানে ইউরোপ মহাদেশ শেষ আর এশিয়া মহাদেশ আরম্ভ হয়েছে, সেখানে আবসেরন উপদ্বীপ অবস্থিত। এই উপদ্বীপ আজারবাইজানের সীমারেখার মধ্যে। তিনদিকে কাস্পিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত এই উপদ্বীপ সম্পদ তার সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য । বর্তমানে এটি একটি পরিত্যক্ত শিল্পাঞ্চল। সোভিয়েত আমলের তেল-গ্যাস শিল্পের ধূলি -ধূসারিত, পরিত্যক্ত কিছু নিদর্শন আজও এখানে অবশিষ্ট রয়েছে, কিন্তু এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অবস্থান করছে এক অদ্ভুত অগ্নি মন্দির যেটি পার্সি (জরাথ্রুস্টের অনুগামী )এবং সনাতন হিন্দু সম্প্রদায় – উভয়ের দ্বারাই পূজিত হত।
এই অগ্নি মন্দিরের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় 730 খ্রিস্টপূর্বাব্দে । সুরখানির ( Surkhani) আতিশগাহ এই অঞ্চলের সুপ্রাচীন সংস্কৃতির এক জ্বলন্ত ঐতিহ্য যা এই অঞ্চলের সংস্কৃতির সঙ্গে ভারতের সংযোগকে তুলে ধরে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, সোভিয়েত দেশ গঠনের পূর্ব থেকেই আজারবাইজান তার তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাসের অতুল ভান্ডারের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল । এই অঞ্চলের প্রাচুর্য এতটাই ছিল যে ভূমি থেকে আপনা- আপনি তেল উঠে আসত । তেল ও গ্যাসের উপস্থিতির কারণেই এখানে এক অনন্য সংস্কৃতি গড়ে ওঠে যার নাম ‘ ওদলার
ইয়ারদু’ ( Odlar Yardu) । আজারবাইজানের আঞ্চলিক ভাষায় তৈরি এই শব্দগুচ্ছের অর্থ হল ‘অগ্নির ভূমি ‘।এই শব্দ গুচ্ছ দ্বারা একটি সমগ্র সভ্যতা কে বোঝানো হত।

সুরখানি হলো আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর একটি মফস্বল শহর। এই শহর বর্তমানে খুবই হতশ্রী এবং ধুলা- ময়লা পূর্ণ। কিন্তু এই শহরেই দূর্গের মত একটি মন্দির রয়েছে যেটি জরাথ্রুস্ট অনুগামীরা অগ্নি দেবতার প্রাচীন মন্দির বলে মনে করে থাকেন। কিংবদন্তি অনুযায়ী আতিশগাহের পবিত্র অগ্নি দেবতা শত শত বছর ধরে জ্বলেছেন। এই অগ্নির উৎস ছিল একটি বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার থেকে আগত একটি নালি, যার অবস্থান ঠিক মন্দিরের নীচে । যদিও আতিশগাহের উল্লেখ আমরা পেয়ে থাকি 730 খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে, স্থানীয় ঐতিহাসিকরা বিশ্বাস করেন যে আসল মন্দিরটি আরো পুরনো ছিল এবং আজারবাইজানে ইসলামিক আগ্রাসনের ফলে এটি ধ্বংস হয়ে যায়।

এই মন্দিরের বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয় অষ্টাদশ শতকে, যখন একদল ইউরোপীয় পর্যটক এই স্থান পরিদর্শন করেন এবং এই মন্দির সনাতনী হিন্দুদের, নাকি জরাথ্রুস্টের অনুগামীদের, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। আকর্ষণীয়ভাবে এই সময়কালে একদল ভারতীয় এখানে বসবাস করতেন। ষোড়শ এবং সপ্তদশ
শতকেও আজারবাইজানে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন পাঞ্জাব ও সিন্ধের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এই মন্দিরে হিন্দুদের পবিত্র অগ্নি দেবতা- ‘জ্বালাজী ‘ – এর পূজা করতেন। মন্দিরে দেবনাগরী হরফে গণেশ, হনুমান এবং শিবের যে প্রার্থনা লেখা রয়েছে, তা এই সময়ে খোদিত বলে মনে করা যেতে পারে।

এই প্রাচীন মন্দিরের অস্তিত্বের সংবাদ সে সময়ে বোম্বে শহরে উৎসাহের সৃষ্টি করে। বহু পার্সি সেই সময় এই শহর পরিদর্শন করেন ,এমনকি পূজার জন্য একজন পার্সি পুরোহিতকে নিয়োগ করেন। এটি উনবিংশ শতকের ঘটনা।

দুঃখজনকভাবে, মন্দিরের মধ্যে যে অগ্নিশিখা অনন্ত কাল ধরে প্রজ্বলিত ছিল, তা সোভিয়েত জামানাতে তৈলকূপের আবিষ্কার ও তৈল উত্তোলন আরম্ভের কয়েক দশক পর নির্বাপিত হয়ে যায়। 1963 খ্রিস্টাব্দে এই অনল নির্বাপিত হয়।

বর্তমানে এই অগ্নি মন্দির Ateshgah Temple State Historical Architectural Reserve এর অংশ এবং এটি একটি সুরক্ষিত সৌধ। এই অগ্নি মন্দির প্রাচীনকালে আজারবাইজান আর ভারতের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের ইতিহাসের এক অপূর্ব নিদর্শন।

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here