২৩টি বর্বর হিন্দু হত্যা, যা সেক্যুলার সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে গিয়েছিল- (৩)

0
662

(তৃতীয় পর্ব)

© সূর্য শেখর হালদার

৯. উত্তরপ্রদেশের গোন্ডাতে বিষ্ণু গোস্বামীকে পুড়িয়ে হত্যা :-

আমর উজালা সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বিষ্ণু কুমার গোস্বামী নামক এক যুবককে গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় । ঘটনাটি ঘটে উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলার চিশতী পুর এলাকাতে। একটি সামান্য কলহের কারণে এই ঘটনা ঘটে । বিষ্ণু তার বাবা রামদি গোস্বামীকে যমুনিয়া বাগ থেকে আনতে গিয়েছিল। ফেরার পথে বাবা এবং ছেলে দুজনেই জল পান করতে গোন্ডা -অযোধ্যা হাইওয়ের পাশে দাঁড়ায়। সেখানে একটি পেট্রোল ট্যাঙ্কারের চালক আর কয়েকজনের সঙ্গে বিষ্ণুর তর্কাতর্কি আরম্ভ হয়। তর্কাতর্কির তীব্রতা বাড়ে এবং চার জন অভিযুক্ত – ইমরান, তোফেল, রমজান ও নিজাম পেট্রোল ঢেলে বিষ্ণুর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

১০.কন্যার নিগ্রহের প্রতিবাদ করায় দিল্লির ব্যবসায়ী ধ্রুব ত্যাগীকে ছুরি মেরে হত্যা :-

2019 সালের মে মাসে ব্যবসায়ী ধ্রুব ত্যাগীকে কন্যার নিগ্রহের প্রতিবাদ করায় ছুরি মেরে হত্যা করা হয়। 2019 সালের মে মাসে ব্যবসায়ী ধ্রুব ত্যাগীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গীর খান এবং তার ছেলে মোহাম্মদ আলমের বিরুদ্ধে। ধ্রুব ত্যাগী দিল্লির মতিনগরের বাসাই দারাপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি এবং দোকান ঘরের মালিক।

51 বছর বয়সী ধ্রুব ত্যাগীকে বাবা, ছেলে মিলে ছুরির কোপ দিয়ে হত্যা করে । যেহেতু সেই ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের কাছে এই অভিযোগ জানাতে গিয়েছিল, যে জাহাঙ্গীরের ছেলে তার মেয়ের শ্লীলতাহানি করেছে । যে অস্ত্র দিয়ে ত্যাগীর হত্যাকাণ্ড সমাধা হয় সেই অস্ত্রটি ছিল একটি কসাইয়ের ছুরি। এই ছুরিটি এগিয়ে দেয় জাহাঙ্গীর খানের বউ ও মেয়ে। ত্যাগিকে শুধু হত্যা করা হয় নি , তার দেহকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়; নখ ভেঙে ফেলা হয় ; দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়।

১১. তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক কর্মী রামলিঙ্গমের নৃশংস হত্যাকাণ্ড :-

2019 সালের 6 ফেব্রুয়ারি তামিলনাড়ুর পি.এম.কে ( পাট্টালি মাক্কালা কাচি) দলের এক জননেতা
রামলিঙ্গমকে একদল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক বর্বর ভাবে হত্যা করে কারণ তিনি ধর্ম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেন এই ঘটনাটি ঘটে তামিলনাড়ুর থাঞ্জাভুর জেলার কুম্ভ কোনমে। তিনি যখন বাড়ি ফিরছিলেন, তখন একদল অচেনা লোক তাকে আক্রমণ করে এবং তার হাত কেটে নেয় । অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে হসপিটাল নিয়ে যাবার পথে রামলিঙ্গমের মৃত্যু হয়।

১২. বুলন্দ শহরে বেআইনি কসাইখানা ভাঙার দাবিতে বিক্ষোভের সময় সুবোধ সিংয়ের হত্যা :-

2018 সালের ডিসেম্বর মাসে সুবোধ সিং নামে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর বুলন্দ শহরে বেআইনি কসাইখানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় নিহত হয়। বেআইনি কসাইখানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়। সংবাদে প্রকাশ বিক্ষোভকারীরা পুলিশ থানার বাইরে সমবেত হয়ে দাবী করতে থাকে, যে তাদের স্থানীয় অঞ্চলে তারা গোমাতার মৃতদেহ দেখতে পেয়েছে। পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে পুলিশের সঙ্গে তাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংবাদ সংস্থা অনুযায়ী পুলিশ তখন বিক্ষোভকারীদের উপর গুলিবর্ষণ করে ।এটাও জানা গেছে যে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়, যখন বিক্ষোভকারীরা পুলিশদের পাথর ছুড়ে আক্রমণ করে। এই বিশৃংখলার মধ্যে ইন্সপেক্টর সুবোধ সিং নিহত হয়। সুমিত নামে এক তরুণও আহত হয় ও পরে প্রাণ হারায়।

১৩. গাড়ির ব্যাটারি চুরির অভিযোগে দিল্লিতে অটোচালক অবিনাশ সক্সেনাকে পিটিয়ে হত্যা :-

2018 সালের 26 নভেম্বর পশ্চিম দিল্লির মোহন গার্ডেনের একটি ঘটনায় এক 26 বছরের অটো চালকের মৃত্যু হয়। এবং আরও দুজন হসপিটালে ভর্তি হয়। একদল উত্তেজিত জনতা তাদের একটি ইলেকট্রিক পোল এর সঙ্গে বেঁধে রেখে প্রহার করে এবং তাদের নগর ভ্রমণ করায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তারা গাড়ির ব্যাটারি চুরি করেছে।

সাক্সেনা তার বাবা-মা স্ত্রী এবং দুই বাচ্চাকে নিয়ে মোহন গার্ডেনের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকত। সাধারণত সে রাতে কাজ করত । পিপল চকের কাছে তার বাড়ি থেকে দু কিলোমিটারের মধ্যে ভোর 3:30 থেকে সকাল 7:30 এর মধ্যে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ।

অটোচালকের বাবা এবং মা সংবাদ পাওয়া মাত্র সেই স্থানে ছুটে যায় এবং দেখে তাদের ছেলেকে একটি ইলেকট্রিক পোলে বেঁধে রাখা হয়েছে , কিন্তু দম্পতি তাকে ছাড়াবার মরিয়া চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।শেষে পুলিশ ডাকতে সচেষ্ট হয় । শেষে তারা বাড়ি ফিরে আসে এবং তাদের ছেলেকে সেখানেই বাঁধা অবস্থায় রেখে চলে আসতে বাধ্য হয়।

১৪. বাইকের স্টান্ট বন্ধ করতে বলায় ভবেশ কোলির ছুরিকাঘাতে মৃত্যু :-

সাতজন বাইক চালক মিলে 24 বছরের হিন্দু যুবক কোলিকে ছুরি মেরে হত্যা করে। কারণ সে তাদের মুম্বাইয়ের ই. এস. পাটনা ওয়ালা মার্গের
রাস্তায় বাইকের স্টান্ট দেখানোর প্রতিবাদ করেছিল। ঘটনাটি 2018 সালের 5 জুলাই ঘটে। যাদের এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় তাদের নাম হল – শাহজাদা ওসমান শেখ এবং আনুস শেখ।

১৫. উপজাতীয় তরুণ মধু চিন্দকীর হত্যা ও অভিযুক্তের হত্যার পূর্বে সেলফি তোলার ঘটনা :-

2018 সালের 22 ফেব্রুয়ারি একটি উপজাতীয় তরুণকে কেরালার আটাপ্পাডিতে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তরুণটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে সে খাবার চুরি করেছে। তরুণের বয়স ছিল 27 বছর এবং খবরে প্রকাশ, সে ছিল মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন । আটাপ্পাডির জঙ্গলের নিকট উত্তেজিত জনতা তাকে তাড়া করে ধরে ফেলে, কিন্তু পুলিশে দেবার পরিবর্তে তাকে পিটিয়ে আহত করে। এই আঘাতের ফলে খুব দ্রুত সে প্রাণ ত্যাগ করে।

১৬. দিল্লিতে মুসলিম মেয়েকে ভালোবাসার অপরাধে অঙ্কিত সক্সেনার হত্যা :

2018 সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে অঙ্কিত সাক্সেনা নামক এক হিন্দু তরুণের নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটে ।এই হত্যার কারণ ছিল শাহজাদী নামক একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেয়ের সঙ্গে অঙ্কিতের ভালোবাসার সম্পর্ক। হত্যাকারীরা ছিল মেয়েটির পিতা ,মাতা এবং আত্মীয়। অঙ্কিতকে চাপ দেওয়া হয়েছিল যাতে এই সম্পর্ক ভেঙে দেয়, কিন্তু সে রাজি হয়নি তার ফলে ঘাড় চিরে তাকে হত্যা করা হয়।

তথ্যসূত্র :- OpIndia.com

(ক্রমশঃ)

We are not big media organisation. Your support is what keeps us moving. Don't hesitate to contribute because, work, for society needs society's support. Jai Hind.